মনজু বিজয় চৌধুরী,মৌলভীবাজার: সরকারী মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানীর ওই বাগানে ১২ নম্বর সেকশনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ শনিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চার দিন যাবত কর্তন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আকাশমনিসহ নানা প্রজাতের বিশাল গাছগুলো বাগান উদ্ধারের নামে কর্তন করছেন বাগান ব্যবস্থাপক বাহউদ্দীন লিটন। তবে এ গাছ বাগানটি কার দখলে ছিল বা কাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সে ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি বাগান ব্যবস্থাপক। দখলের বিষয়টি পরিস্কার না করে তিনি বললেন, গাছ কর্তন শেষ হলে এখানে চা প্ল্যান্টেশন তৈরা করা হবে।
সরজমিনে দেখা যায়, বাগানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে বাগানের একপাশে পায়চারি করছেন বাগান ব্যবস্থাপক বাহাউদ্দীন লিটন। আর পুরুষ-মহিলা চা শ্রমিক মিলে গাছ কাটছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বাগান কর্তৃপক্ষের বনায়নকৃত বিশাল বন জুড়ে এ গাছ বাগানটি চা বাগানেরই। এটা কেউ কখনো দখল করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক চা শ্রমিক নেতা জানান, সরকারী মালিকানাধীন প্রেমনগর চা বাগানে বন উদ্ধারের নামে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বৃক্ষ লুটের মহোৎসব চলছে।
এ বিষয়ে এনটিসি বাগানের এমডি আউয়াল সাহেব মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার জানা মতে বাগানের জায়গা পতিত থাকলে চা শ্রমিকেরা সেখানে গাছের চারা বা গাছ লাগায়। আবার শ্রমিকরা প্ল্যান্টেশনের সময় জায়গা বাগানকে দিয়ে দেয়।
প্রেমনগর চা বানের ব্যবস্থাপক বাহাউদ্দীন লিটন একটা ভিডিওতে বলেছেন, র্দীঘ ১২ বছর পর এই জায়গা উদ্ধার করেছেন। তার এমন দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাগানের এমডি বলেন, উদ্ধারের বিষয়টি আমার জানা নাই।
জমি উদ্ধারের বিষয়টি খোদ এমডিই যেখানে জানেন না সেখানে বাগান ব্যবস্থাপকের জমি উদ্ধারের গল্প শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো, এমনটাই মনে করছেন চা শ্রমিকরা।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন