কৃষি ডেস্ক ::
সুস্থ জীবনযাপনে প্রাকৃতিক পুষ্টির নির্ভরযোগ্য সঙ্গীসুস্থ থাকা এখন আর শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।
বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাবার ও কর্মব্যস্ততার মাঝে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় অল্প পরিমাণে বেশি পুষ্টি পাওয়ার সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে বাদাম।
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত পরিমিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। প্রোটিন, ভালো চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সমন্বয়ে বাদাম এক ধরনের ‘প্রাকৃতিক শক্তিভাণ্ডার’। গ্রামবাংলার কৃষক থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী মানুষ-সবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বাদাম সহজেই যুক্ত করা সম্ভব।
🔳চিনাবাদাম: সাশ্রয়ী কিন্তু শক্তিশালী সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের হলেও চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ মোটেও কম নয়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও শক্তিদায়ক উপাদান, যা শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত চিনাবাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং পেশি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন।
🔳কাঠবাদাম: স্মৃতি ও সৌন্দর্যের সহায়ক কাঠবাদামকে বলা হয় মস্তিষ্কের খাবার। এতে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বক উজ্জ্বল রাখে, চুল মজবুত করে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতেও কাঠবাদামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
🔳কাজুবাদাম: শক্তি ও স্নায়ুর যত্নে কাজুবাদাম শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। এতে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক। চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি কাজুবাদাম স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা কর্মজীবী ও পরিশ্রমী মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
🔳আখরোট: হৃদয় ও মস্তিষ্কের বন্ধু আখরোটে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আখরোট খেলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে এবং শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যা হ্রাস পায়। তাই মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় আখরোটের গুরুত্ব অপরিসীম।
🔳পেস্তা বাদাম: সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পেস্তা বাদাম স্বাদে যেমন ভালো, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে পেস্তা বাদাম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳কতটা ও কীভাবে খাবেন :
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম বা এক মুঠো বাদাম শরীরের জন্য যথেষ্ট। কাঁচা বা সারারাত ভিজিয়ে খেলে বাদামের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা অতিরিক্ত ভাজা বাদাম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
বাদাম কোনো বিলাসী খাবার নয়; এটি সুস্থ জীবনের একটি সহজ উপাদান। অল্প পরিমাণে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর থাকে সবল, মন থাকে সতেজ এবং রোগব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। তাই সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আজ থেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
লেখক:
★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠসাধারণ★সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা
আপনার মতামত কমেন্টস করুন