বিয়ের পর দীর্ঘ ৫ বছর শশুরের ভাড়া বাসায় ঘরজামাই থেকে সূচ পরিমান খরচ বহন না করেও শশুর-শাশুড়ীর ঘাড়ে বসে খেয়ে পড়ে উপরন্তু ১০ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে সোলায়মানস সু হাউজ নামে জাঁকজমকপূর্ণ জুতার দোকান দিয়ে ব্যবসায়ের টাকা বাপ-মা, ভাই-বোনদের পিছনে দুহাতে খরচ করে অবশেষে সে দোকানটিকেও ভাইয়ের নামে হস্তান্তরপূর্বক স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তালাকের কথা গোপণ রেখে প্রতারক স্বামী টানা ৯৯ দিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একই সাথে থেকে পৈতৃক বাড়িতে ঘর সংসার করায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে সাবেক স্ত্রী মামলা করলে বরিশাল নগরীর দক্ষিন চকবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে স্ত্রীকে পেটানো ভাইরাল হওয়া সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলায়মান সু হাউজ‘র কর্নধার মোঃ সোলাইমান ফরাজী ও তার বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজত পাঠানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে লোকমানের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে ডাকাতি মামলা করেন। ওই মামলার জবাবে বিতর্কিত সাজানো ডাকাতির মামলার পাতানো স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে আসামী ছিনতাইয়ের চেষ্টা, হামলা ও নগদ টাকাসহ স্বর্নলংকার লুটের অভিযোগে ধর্ষন মামলার বাদী আখি আক্তারের মামা ভিকটিম ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে পাল্টা মামলা করেন।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ৩০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামী সোলাইমান ও লোকমানকে নগরীর দক্ষিণ চকবাজারের জেলা পুলিশের বরাদ্দকৃত স্টল লোকমান সু হাউজ থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এসময়ে আসামীদের দোকান কর্মচারী ও লালিত সন্ত্রাসীরা হ্যান্ডকাপসহ আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে
আসামীদের সনাক্তকরণে সহযোগিতার জন্য পুলিশের সাথে থাকা ধর্ষণ মামলার বাদীনি আখি আক্তারের মামা মোঃ ফয়সাল বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর সহিংস হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অত:পর ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা ফয়সালের ওপর অতর্কিত হামলা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার ফয়সাল(৪২) মারাত্মক ফুলাজখম আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সাথে থাকা বন্ধুরা ফয়সালকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দেন।
এ সহিংস ঘটনাটিকে ডাকাতি মামলা সাজিয়ে গত ২ ডিসেম্বর ২ নম্বর আসামী মোঃ লোকমান হোসেনের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার ৬ জন স্বাক্ষীকে আসামী করে দন্ড বিধি আইনের ৩৯৫/৩৯৭/১০৯ ধারায় বরিশালের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপি নং-২৬১৫/২০২৫(কোতয়ালী) মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক নুরুন নাজনীন অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিএমপি কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। ওই মামলার আসামীরা হলেন, আখির বাবা চটজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর হেসেন(৪৫), আখি ভগ্নপতি মোঃ ফিরোজ(৩২), অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক পরিমল মজুমদার শিশির(৬২), আখির মামা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ফয়সাল(৪২), আখির নানা মোঃ শাহআলম হাওলাদার(৭০) এবং শেবাচিম স্টাফ মোঃ বাহাদুর(৩৫)।
উল্লেখ্য, আখি আক্তার সোলাইমান সহ তাদের পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ ডিসেম্বর বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় এমপি কেস নং- ৪৮৭/২০২৫ মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ রকিবুল ইসলাম এর নির্দেশে বিএমপি কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ ইসমাইল হোসেন এজাহার হিসেবে গণ্য করে ৩০ নভেম্বর থানার মামলা নম্বর ২৭ নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে উপ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জল ভক্তকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
অপরদিকে, ভিকটিম ফয়সাল প্রতারক সোলাইমান ফরাজীকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে ১০ ডিসেম্বর বরিশালের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দন্ড বিধি আইনের ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৩৫৫/৫০৬(২) ধারায় এমপি মোকদ্দমা নং-২৭০৯/২০২৫ (কেতয়ালী) দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক নুরুন নাজনীন মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য বিএমপি কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন মোঃ লোকমান ফরাজী, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মাদারকাঠী গ্রামের রুস্তম আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ মেহেদী, রাজ্জাকপুর গ্রামের মৃত আশ্রাফ আলীর ছেলে মোঃ বায়েজিদ মিয়া, নগরীর দক্ষিণ চকবাজার স্বপন সু স্টোরের জামাল এবং ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের মৃত মোফাজ্জল হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ঈমান আলী ব্যাপারী।
মোকদ্দমার আরজিতে বলা হয় “বাদীর আপন ভাগ্নী মোসাঃ আখি আক্তারের সহিত ১ নং আসামীর বিগত ইং ২৩/৩/২০২০ তারিখে ইসলামী শরা শরীয়া আইন অনুযায়ী উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে রেজি: কাবিনমূলে বিবাহ হয়।তাহাতে বিবাহের কিছুদিন পর হইতেই যৌতুক লেনদেনের ঘটনা নিয়া তাহাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হইলে ১/২ নং আসামীসহ তাহাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ১। বরিশালের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ফৌ: কা: বি: ১০৭/১১৭(গ) ধারায় এমপি মোকদ্দমা নং-৬৪২/২০২৪ (কাউনিয়া) এবং এমপি নং -৮০২/২০২৪ (কোতয়ালী), ২। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা নং-৩৬৪/২০২৫, ৩। বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর কেস নং-৫৮/২০২৫ (কাউনিয়া), ৪। কোতয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ এবং ৫। কাউনিয়া থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫ রেকর্ডভূক্ত ও বিচারাধীন আছে।
অত:পর ১ নং আসামী বাদীর ভাগ্নী ১ নং স্বাক্ষীর মেয়ে মোসাঃ আখি আক্তারকে তালাক প্রদান করিয়া তাহাকাবিননামায় বর্নিত ঠিকানা তথা তাহার পিতার স্থায়ী ঠিকানায় কিংবা ১ নং আসামী দম্পতি ঘরজামাই হিসাবে বসবাসের ঠিকানায়ও না পাঠাইয়া কিংবা বিগত ১৩/১০/২০২৪ তারিখে পারিবারিক মিমাংসা বৈঠকে কিংবা ১৪/১০/২০২৪ তারিখে আইনজীবী সমিতি ভবনে আপোষ মিমাংসাপত্র তৈরির বৈঠকে কিংবা ১/২ নং আসামীগংদের পক্ষের আইনজীবীর বিজ্ঞ আদালতে ১০/১১/২০২৪ খ্রি: তারিখে দাখিলকৃত লিখিত বর্ননায় কিংবা ১৫/৩/২০২৫ তারিখের কোতয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ তদন্তকালীন সময়েও প্রকাশ না করিয়া প্রকারান্তরে গোপন করিয়া বিগত ০৬/৯/২০২৪ তারিখ হইতে ১৩/১২/২০২৪ খ্রি: তারিখ পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন অন্যান্য আসামীগনের কুপরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দু:সাহসিকভাবে বাদীনির সহিত একই সাথে স্বামী-স্ত্রী রূপে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করণের মাধ্যমে নিয়মিত দৈহিক মিলন ঘটাইয়া ধর্ষণের শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করায় কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নং-২২/২০২৫ এর তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তালাকের বিষয় নিশ্চিত হইয়া এবং বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর কেস নং-৫৮/২০২৫ (কাউনিয়া) বিচারাধীন মোকদ্দমায় বিগত ২১/১০/২০২৫ তারিখে তালাকের বিষয়টি স্বীকৃত হওয়ায়অত:পর মোসাঃ আখি আক্তার বাদী হইয়া বিগত ২৭/১১/২০২৫ তারিখে ১/২ নং আসামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় এমপি কেস নং-৪৮৭/২০২৫ মামলা দায়ের করিলে বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে বিএমপি কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এজাহার হিসাবে গণ্য করিয়া ৩০/১১/২০২৫ তারিখে থানার মামলা নম্বর ২৭ নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করিয়া এসআই উজ্জল ভক্তকে তদন্তের দায়িত্বভার অর্পণ করায় ঘটনার দিন ও সময়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল হইতে ১/২ নং আসামীকে গ্রেতার করিলে ১/২ নং আসামীর ইঙ্গিতে ও নির্দেশে ৩-৬ নং আসামী ওঅন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামীরা সংক্ষুব্ধ ও সংগঠিত হইয়া পুলিশের নিকট হইতে হ্যান্ডকাপ পরিহিত আসামীদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করিলে আসামীদের সনাক্তকরণে সহযোগিতার জন্য পুলিশের সাথে থাকা বাদী ও ১ নং স্বাক্ষী বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর সহিংস হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখিয়া আসামী ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অত:পর সংক্ষুব্ধ আসামীরা বাদী ও ১ নং স্বাক্ষীর ওপর অতর্কিত হামলা করিলে ৩ নং আসামী বাটযুক্ত একটি ঝাড়ুর কাঠের অংশ দিয়া বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে মাথায় আঘাত করিলে বাদী উক্ত লাঠি তৎক্ষনাৎ আসামীর হাত হইতে কাড়িয়া নিয়া অন্যত্র সরিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে ৪ নং আসামী দোকানে থাকা অন্য একটি ঝাড়ুর কাঠের বাট দিয়া বাদীর মাথা লক্ষ্য করিয়া আঘাতের চেষ্টা করিলে তাহা ফসকাইয়া বাদীর শরীরের বিভিন্ন অংশসহ ডান চোখের পাশে গালের উপরের অংশে লাগিয়া মারাত্মক বেদনাদায়ক নীলা ফুলা ফাটা রক্তজমাট জখম হয়।
সহিংস সংঘর্ষের সময়ে ৩ নং আসামী বাদীর গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্নের চেইন যাহার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা, ৪ নং আসামী বাদীর পকেটে থাকা দোকানের মালামাল কেনাবেচার নগদ ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৫/৬ নং আসামী ১ নং স্বাক্ষীর পকেটে থাকা দোকানের মালামাল বিক্রির নগদ ৮৫ হাজার টাকাসহ সাকূল্যে প্রায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ ছিনাইয়া নিয়া পালাইয়া যায়। ৩-৬ নং আসামীরা স্বাক্ষীগনকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারিয়া আহত করিয়া চলিয়া যাওয়ার সময় বাদী ও স্বাক্ষীগনকে এই বলিয়া হুমকি দেয় যে আদালতে চলমান মামলা তুলিয়া না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হইতে হইবে।
অত:পর স্বাক্ষীরা বাদীকে উদ্ধার করিয়া শেবাচিম হাসপাতালে নিয়া MSU-।।। ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়া সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।চিকিৎসা শেষে বাদী কিছুটা সুস্থ হইলে পর্যাপ্ত স্বাক্ষী প্রমান সংগ্রহত্তোর ০৯/১২/২০২৫ তারিখে বেলা ১১ টায় কেতয়ালী থানায় মামলা করিতে গেলে থানা পুলিশ মামলা না নিয়া বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দেওয়ায় অত্র আদালতে মোকদ্দমা আনায়নে কিছুটা বিলম্ব হইল।”
প্রকাশ্য যে, মোঃ লোকমান হোসেন কোতয়ালী থানার মামলা নম্বর জিআর-২২/২০২৫ এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ কুদ্দুস মোল্লাকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে মামলাটির দফারফা ও চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের তথ্য লোকমানের স্ত্রী বিতর্কিত ডাকাতি মামলার বাদী মিম আক্তার প্রকাশ করে দিলে তা ওই মামলার বাদী আখি আক্তারের বাবা আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার ঘটনা নিয়েও তাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এসি প্রনয়ের বদলীর জন্য তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কুদ্দুস মোল্লা দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস অপেক্ষা করেছিলেন প্রতিবেদন দিতে। এসব বিষয়ে বাদী আখি লিখিতভাবে বিএমপি কমিশনারের কাছে জানালে ওই দিনই ফাইনাল রিপোর্ট দেন কুদ্দুস মোল্লা।
এদিকে ধর্ষণ মামলার বাদীপক্ষের আশঙ্কা, গ্রেফতারকৃত ওই দুধর্ষ আসামীরা জেলহাজত থেকে জামিনে ছাড়া পেলে চলমান মামলার তদন্তকার্যে বিভিন্ন মহল থেকে প্রভাব খাটাবে। বাদীর জীবনের ওপরও রয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতা। ইতোপূর্বেও আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় আদালতের গ্রেফতার আদেশ থাকলেও আসামীরা দীর্ঘদিন পলাতক থাকার অজুহাতে কাউনিয়া থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৬) ও মোঃ লোকমান ফরাজী(৩৮) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র, মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের বেলতলা এলাকার চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা এবং মোঃ ফয়সাল(৪২) চর আবদানীর মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর পুত্র।
ইতোপূর্বেও এসব ঘটনার আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর, ৩০ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন