ত্যাগী কর্মীকে কোনঠাসা করলে আওয়ামীলীগ বাঁচবে না:বরিশাল মহানগর আ.লীগ’র ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কাদের

পি.সি মজুমদার শিশির
  • আপডেট সময় : Monday, December 9, 2019
  • 1030 বার দেখা হয়েছে

পি.সি মজুমদার শিশিরঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অবাক হওয়ার কিছু নেই শেখ হাসিনা আছেন বলে আজকের বাংলাদেশ জিডিপিতে এশিয়ার সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই আজকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, আর বেশিদিন নয় যেদিন বরিশালের মানুষ পদ্মাসেতু দিয়ে যাতায়াত করবে। বিশ্বব্যাংক যখন সরে গিয়েছিলো, বঙ্গবন্ধুর বীর কন্যা ঘোষনা দিয়েছিলেন কেউ না করলে আমরা আমাদের নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু করবো। আজ পদ্মা সেতু হচ্ছে, ফ্লাইওভার হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে, ফোরলেন হচ্ছে।

কাদের বলেন, বরিশাল একটি ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টার এখানে অবশ্যই ফোরলেন যুক্ত হবে, বরিশাল থেকে ফরিদপুর এডিবির অর্থায়নে আমরা ফোরলেন করবো। বরিশাল ভোলা সেতু নির্মানের ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কাজ আমরা শেষ করেছি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের রাস্তাঘাটসহ সড়ক সেতুর কোন অভাব, ঘাটতি না থাকে। শেখ হাসিনা আছেন আপনারা সব পাবেন। কি দিয়েছে বিএনপি? দেখান কেউ।আমি চ্যালেঞ্জ করছি এই বরিশালে বিএনপির এমন কোন কাজ আছে যেটা দৃশ্যমান? যে কাজ দেখিয়ে মানুষকে বলতে পারে আমাদের পক্ষে রায় দেও। একটা রাস্তা, একটা ব্রীজ কিছুই করেনি, কোথাও কোন উন্নয়ন নেই। বিএনপির আছে সন্ত্রাস, দিয়েছে দূর্নীতি, লুটপাট, হাওয়া ভবন। হাওয়া ভবন মানে খাওয়া ভবন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কোন হাওয়া ভবন বা খাওয়া ভবন নেই। বিএনপির সময়ে ৫ বার দূর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয়েছে, কিন্তু তাঁরা যখন দুর্নিতীর বিরুদ্ধে বলে, তখন ভূতের মুখে রাম নাম ধ্বনির মতো শোনায়। বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি করতে করতে আজকে জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছে। আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনেও ব্যর্থ এখন বিএনপি আন্দোলনের দল নয়, নির্বাচনেরও দল নয়, তাদের অপর নাম নালিশদল। নয়াপল্টনে তাদের আবাসিক এক প্রতিনিধি আছে, সেখানে বসে বসে প্রেস ব্রিংফিং করে, গলাবাজি করে। তারা আন্দোলন ডাকে লোকে সারা দেয় না। বিএনপির আন্দোলনে মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসেনা। নেতা এখানেও (বরিশালে) আছে বিএনপির। দুই বছরে দুই মিনিটও একটা আন্দোলন করতে পেরেছে তারা? নালিশ, এখন দেশ ছেড়ে বিদেশীদের কাছেও নালিশ করে তারা, কথায় কথায় নালিশ। এজন্য বলি এটা এখন বাংলাদেশের নালিশ পার্টি। বিএনপির নেতা নেই, নেতা কোথা থেকে আসবে? সবাই কারাদন্ডে দন্ডিত।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন টেমস নদীর ওপার থেকে অর্ডার দেন, আর পুতুল ফকরুল নাচে। টেমস নদীর ওপারে থেকে নির্দেশ আসে আর যেমনি নাঁচাও তেমনি নাঁচে পুতুলের কি দোষ। ফকরুলও তেমনি নাঁচে, নাঁচে আর নাঁচে। কোন রেজাল্ট নেই, আন্দোলন করে সরকার হটাবে কিন্তু আপনাদের নিজেদের অস্তিত্ব কোথায়?/ উইকেট দুটি চলে গেছে। জেনারেল মাহাবুবের উইকেটের পতন, তারপর মোর্শেদ খান আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতো বড় উইকেট এটাও গেছে। আরো উইকেট যাবে, যার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্ব এখন অস্তিত্বের সংকটে আছে।

তিনি আরো বলেন, এই বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতির জন্য এদেশে মুসলীমলীগের পরিণতি ভোগ করবে। কাজেই বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হবেন না, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখবেন। দলের মধ্যে বিভেদ, কলহ করবেন না। ঘরের মধ্যে ঘর, মশারির মধ্যে মশারি খাটাবেন না।
লোকের অভাব নেই, বরিশাল একটি ছোট্ট শহর সেই সিটিতে সম্মেলনে আমাদের কতো কর্মী। এটাতো জনসমুদ্রে পরিণতো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বার বার বলি, এখনো বলছি পোষ্টার-ব্যানার দিয়ে নেতা হওয়া যাবে না, বিলবোর্ডে সুন্দর ছবি দিয়ে নেতা হওয়া যাবে না। নেতা হতে হলে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে, মানুষকে ভালোবাসতে হবে, ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। আমাদের সুবিধাবাদী, খারাপ লোকের দরকার নেই, খারাপ লোকেরা এসে সব উন্নয়ন অর্জন উঁই পোকার মতো খেয়ে ফেলবে। সাচ্চা, ত্যাগী কর্মীদের কোনঠাসা করলে আওয়ামীলীগ বাঁচবে না, বাংলাদেশকে, মুক্তিযুদ্ধকে, গনতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে আওয়ামীলীগকে বাঁচাতে হবে। বাংলদেশের উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতার মঞ্চে বার বার দরকার।

রোববার দুপুরে বরিশাল মহানগরীর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

এসময় সম্মেলনের উদ্বোধক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রধান বক্তা জাতীয় নির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বিশেষ অতিথি দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, আইন বিষয়ক সম্পাদক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহান আরা আব্দুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালের সভাপতিত্বে সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বরিশাল সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। সম্মেলনে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মোঃ ইউনুসসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরণ এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আফজালুল করিম নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পরে শওকত হোসেন হিরণ মৃত্যুবরন করলে গে ২০১৬ সালে ২০ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটিতে অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালকে সভাপতি, অ্যাড. জাহাঙ্গীর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ