অতিথি পাখির কলতানেে মুখরিত টাংগুয়ার হাওড়:পযটন কেন্দ্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

অনুসন্ধান ডেস্ক
  • আপডেট সময় : Saturday, January 25, 2020
  • 1274 বার দেখা হয়েছে

শাবজল হোসাইন,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)★ তাহিরপুরের ঐতিহ্যবাহী টাংগুয়ার হাওড়ে এখন পরিযায়ী (অতিথি) পাখির কলতানে মুখরিত। ২০২০ সালের শুরু থেকে সুদুর রশিয়া, সাইবেরিয়া সহ বিশ্বের শীত প্রধান দেশ হতে হাজার হাজার পাখি বিলে এসে সৌন্দর্য্যের বিকাশ ঘটাচ্ছে।

সরেজমিনে হাওড় এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। বিদেশ হতে আগত পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতি কূট সহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ী, ছন্নি হাঁস হাওড় এলাকা মুখরিত করে তুলছে। তবে এখনো মন্দিয়াতা গ্রামের শাহ আলমসহ আরো কয়েকজন পাষন্ড ব্যক্তি রাতের আঁধারে অবাধে বিল হতে এসব অতিথি পাখি শিকার করে হাটবাজারে বিক্রি করে আসছে।

গত বছরও এলাকার কতিপয় ব্যক্তি এ বিল হতে বেশ কিছু পাতি সরালি হাঁস ফাঁদ পেতে ধরে বিক্রয় করার সময় টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সদস্যগন তাদের হাতে নাতে অনেকবারই ধরেছেন। পরে ওই পাখি শিকারীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের শাস্তি প্রদান করে থাকেন। এর পর হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কঠোরতা ও টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সদস্যদের জোরালো নজরদারি থাকলেও বিল এলাকায় বন্ধ হচ্ছে না পাখি শিকার।

বর্তমানে দেশ বিদেশ হতে হরেক রকম পাখির আগমনে পুরো বিল এলাকা এখন পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠছে। বিলে অতিতের মত কচুরি পানা না থাকা ও এলাকার মানুষ হিংস্র স্বভাবের হওয়ায় ধিরে ধিরে এক সময় বিলে পাখি আসাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার কিছু উৎসাহী যুবক ট্যাংগুয়ার হাওড় কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামে একটি সংগঠন বিলে অতিথি পাখি সহ সব ধরনের পাখি শিকার বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এছাড়া বিলে কোন কচুরিপানা না থাকলেও সরকারী ও বে-সরকারী ভাবে মৎস্যজীবিগন খরা মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে মা-মাছ রক্ষায় বিলের মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বাঁশ কাঠ ও কিছু কচুরিপানা দিয়ে কাঠা নামের একটি করে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলে, খরা মৌসুমে মা মাছগুলি যাতে ওই স্থানে লুকিয়ে থাকতে পারে। ওই সমিতির সদস্যদের প্রচেষ্টা ও মৎসজীবিদের তৈরী কচুরিপানার কাঠা থাকায় অতিতের মত আবারো ধিরে ধিরে শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশী পাখিরা অবাধে বিলে আসতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে বিলের বিশাল অংশে কচুরিপানা দিয়ে মাছ সহ পাখিদের বড় ধরণের অভয়াশ্রম এবং বিলের বিভিন্ন দ্বীপগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল তৈরী করলে সারা বছর বিল এলাকায় পাখিদের আনাগোনায় টাংগুয়ার হাওড় আবারো তার হারানো ঐতিহ্য ও নাব্যতা ফিরে পেত বলে জানিয়েছেন টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি।

ইতোমধ্যে অনেক পাখি প্রেমিক ব্যক্তিরা পাখির সৌন্দর্য্য দেখতে বিল এলাকায় এসে ভিড় জমাচ্ছেন। বিলপাড়ে পর্যাটকদের জন্য ঘোরা ফেরা ও বসার পর্যাপ্ত ব্যাস্থা নেয়া হলে ভবিষ্যতে টটাংগুয়ার হাওড়টি ওই এলাকার একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে বলেও বিলে আগত পর্যাটকবৃন্দ জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ