প্রশাসন-আইন-আদালতও লাগাম টেনে ধরতে পারছে না কুখ্যাত চাঁদাবাজ শাহআলম’র : খুঁটির জোর কোথায়? নতুন দোকান ণীতিমালাহীন বিভাগীয় প্রেসক্লাব!

অনুসন্ধান ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : Monday, September 7, 2020
  • 1386 বার দেখা হয়েছে
  • শিশির মজুমদার:  পরিচয় দেন সাংবাদিক, সম্পাদক, মানবাধিকার সংস্থার জাতীয় পর্যায়ের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কখনো কখনো সরকারের পরিবেশ, স্বাস্থ্য কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর কোনো ভিজটিং টিমের চীফ অধিকর্তা। আসলে তিনি কোনোটিই নন, তিনি একজন কুখ্যাত চিটার ও চাঁদাবাজ।
স্ব-সৃষ্ট নানা পদ-পদবীর বাহারে নিজ নামে ভিজিটিং কার্ড তৈরিতেও তার জুড়ি মেলা ভার! আর এ সব ভিজিটিং কার্ড এবং সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসনদ ও আইডিকার্ড বিক্রয় ভিত্তিক একটি নামসর্বস্ব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার পাঁচ-দশটি কপি (তিন-চার মাস অন্তর ১ সংখ্যা) ছাপিয়ে চাঁদাবাজি করতে ঘুরে বেড়ান এ মাঠ থেকে ও মাঠে, এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে, এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, দখিনা জনপদে বরিশাল বিভাগের সর্বত্র। স্কুল, মাদ্রাসা, গ্রাম্য হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসী, ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরহকারী প্রতিষ্ঠান, বেকারী, ইটের ভাটা, আবাসিক ও খাবার হোটেল, মাদকসেবী ও কারবারী, হাট-বাজারসহ প্রতিটি সেক্টরে তার নিরবচ্ছিন্ন বিচরণ। আর এ সবের দূর্বল জায়গায়ই তার চাঁদাবাজির মূল টার্গেট।
এ সব কাজ করতে গিয়ে তিনি অসংখ্যবার গণপিটুনি খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পর্যন্ত নিয়েছিলেন। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার আদালত ও থানায় রয়েছে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগে অসংখ্য মামলা ও জিডি। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চিহ্নিত কর্মচারীদের মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ভূয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদের মাধ্যমে ভূয়া ঠিকানায় ‘দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’ নামে একটি নামসর্বস্ব পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন নিয়ে রাতরাতি বনে যান সম্পাদক ও প্রকাশক!
তিনি হলেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নস্থ পশ্চিম কয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মোঃ শাহআলম হাওলাদার ওরফে এইচ এম শাহআলম শাহ। এলাকার মানুষ তাকে চেনে মসজিদের মুয়াজ্জিন, ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ বিক্রেতা শাহআলম ফকির, গনপিটুনী খাওয়া
আনসার সদস্য, প্রতারক ও চাঁদাবাজ হিসেবে। তার বিচিত্র চরিত্রের কাহিনী নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বরিশাল বিভাগীয় শহর থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশিত হয়। তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সর্বক্ষেত্রে বিতারিত হয়ে অবশেষে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার কাজে জনসমর্থন পাওয়ার আশায় বিভাগীয়
প্রেসক্লাব নামে একটি নতুন দোকান চালু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, তার ক্যাটাগরির লোকজনকেই ওই দোকানে ভেড়াতে চেষ্টা করছেন হিযবুত তাওহীদ আদর্শের অনুসারী আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সম্পাদক
সেই শাহআলম। যতদূর জানা গেছে, এই ক্যাটাগরির প্রেসক্লাব
বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি আর নেই। জয়েন্ট স্টক কোম্পানী থেকে, বরিশাল মিডিয়া লিঃ নামে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে “বরিশাল(মিডিয়া) বিভাগীয় প্রেসক্লাব লিঃ” নামে প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতেছেন শাহআলম। ইতোপূর্বে,  এ কমিটির নামে অধ্যক্ষ(অবঃ) প্রফেসর ড. গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস, মোঃ হেমায়েত হোসেনসহ অনেক মানুষকে ভাঙ্গিয়ে মোটা অংকের চাঁদা তুলেছেন এই প্রতারক। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, শর্তভঙ্গের কারণে সিভিল আদালতে খুব শীঘ্রই শাহআলমের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে চাঁদাবাজি ও প্রতাণার মামলা হচ্ছে।
সূত্রে প্রকাশ, গত বছরের ৬ মার্চ বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শাহআলমের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে, দন্ড বিধি আইনের ৪০৬/৪২০ ধারায়  দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুগন্ধা মজুমদারের দায়ের করা সিআর-৪৬/২০১৯(সদর) নম্বর মামলায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি ১৫ জুলাই অভিযোগের সত্যতা আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিজ্ঞ বিচারক ওই তদন্ত রিপোর্ট ১৮ জুলাই গ্রহন করে তা পর্যালোচনার জন্য সময় নির্ধারন করেন এবং ওই অবস্থায় মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। রিপোর্টটি পর্যালোচনান্তে পরবর্তী আদেশদানের মধ্যবর্তী প্রায় ৮ মাস পর শুরু হয়ে যায় প্রাণঘাতী বিশ্ব করোনা পরিস্থিতি। এ কারণে আদেশদানের সময়সীমা ইতেমধ্যেই বছরাধিকাল অতিক্রম করে। আর এ সুযোগেই শাহআলম আবার গণহারে শুরু করে দেন প্রতারণা ও চাঁদাবাজি। এ ঘটনায় জিডি মামলাও হয় একাধিক থানায়, জেলও খাটেন ইতোমধ্যে। বিভিন্ন মিডিয়ায় তা ব্যাপক ভাইরাল হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরে ১৩ জুলাই শাহআলম মহিলাসহ একদল চাঁদাবাজ গ্রুপের সদস্য নিয়ে বরিশালের উজিরপুর মালিকান্দা মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ভিজিটিং টিমের পরিচয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টাকালে গণপিটুনি এড়াতে কৌশলে দলবলসহ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান কামাল ওই দিন উজিরপুর থানায়  ৫৩২ নম্বরের একটি জিডি করেন। পরদিন বরিশালের অধিকাংশ পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর শাহআলম পরিবেশ  অধিদপ্তরের পরিচালক পরিচয়ে বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়ার ইব্রাহীমপুরে একটি ইটের ভাটায় চাঁদাবজি করা কালে এলাকাবাসী গনপিটুনী দিয়ে আমতলী থানায় সোপর্দ করে। এ ঘটনায় মোঃ মাসুদ হাসানের দায়ের করা আমতলী থানার ১৫/২৪৯ নম্বর মামলায় মাসাধিককাল জেলহাজত খাটেন। ওই মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
চলতি বছরের করোনা মহামারীতেও তার চাঁদাবাজি অব্যহত রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, স্বাধীন বাংলাদেশ নামে একটি ভুয়া পত্রিকা নিজ নামে সম্পাদক পরিচয়ে ছেপে তা নিয়ে চাঁদাবাজি করতে প্রত্যন্ত
এলাকায় ঘুরে বেড়ান বরিশালের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ডখ্যাত ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয়(বিএম কলেজ) এর ভূয়া ছাত্র পরিচয়দানকারী ও বাংলাদেশ  সময় টিভি নামে একটি অস্তিত্বহীন
চ্যানেলের মালিক এই প্রতারক শাহআলম। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই শিরোনামে একটি পত্রিকা মোঃ কামাল প্রধানের সম্পাদনায় ঢাকা থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে, প্রতারক শাহআলমের অপকর্মের ইতিকথা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদের ধারাবাহিক তথ্য নিম্ন পূন: তুলে ধরা হলো:
★ পূর্ব প্রকাশিত পর্ব: ১

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক পরিচয়ে ইটের ভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার : প্রতারণার দায়ে দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র সম্পাদক শাহআলম শ্রীঘরে

আপডেট সময় : Friday, December 27, 2019
222 বার দেখা হয়েছে

শিশির মজুমদার:  বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক পরিচয়ে প্রতারণা করে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ

করা হয়েছে শাহ আলম শাহ্ (৪০) নামে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র বিতর্কিত  সম্পাদক-প্রকাশক কুখ্যাত এক চাঁদাবাজকে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আমতলী পৌরসভার নতুন বাজার বাঁধঘাট বটতলা এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি মোটর সাইকেলযোগে আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামে জেবিবি ব্রিকসে গিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক পরিচয় দিয়ে ভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার অজুহাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২৫০০ টাকা আদায় করেন।

সন্ধ্যায় তিনি পার্শ্ববর্তী চালিতাবুনিয়া ইব্রাহীমপুর গ্রামের এমএসবি ব্রিকসে গিয়ে একই পরিচয়ে ও অজুহাতে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানার ভয় দেখিয়ে ভাটার ম্যানেজার মাসুদ হাসানের কাছে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু মাসুদের কাছে মাত্র আড়াই হাজার টাকা আছে জানিয়ে তিনি তা পরিচালককে দিয়ে দেন। তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি পরিচালক শাহআলম। তিনি মাসুদকে তার মালিকের সাথে যোগাযোগ করে অবশিষ্ট টাকা আনার জন্য চাপ দেন। মাসুদ ভাটার মালিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানালে তিনি ওই পরিচালককে নিয়ে সন্ধ্যার পরে আমতলী নতুন বাজার বটতলা এলাকায় তার সাথে দেখা করতে বলেন। যথাসময়ে মাসুদ  পরিচালক শাহআলমকে নিয়ে ভাটা মালিকের সাথে দেখা করতে যান। এর আগেই ভাটার মালিক মোঃ সাইদুর রহমান মন্টু পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক সুকুমার দাসকে সাথে নিয়ে ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শাহ আলম শাহ্ সুকুমার দাসকে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে ধরে গনপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতে এমএসবি ব্রিকসের ম্যানেজার মোঃ মাসুদ হাসান বাদী হয়ে এইচএম শাহআলম শাহর বিরুদ্ধে  আমতলী থানায় ভুয়া পরিচয়ে চাঁদাবাজির কারণে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৫। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) শাহআলমকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে বরগুনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলম শাহ্ ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পশ্চিম কয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছেলে। দৈনিক বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার সম্পাদক ও মানবাধিকার সংস্থার জাতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।

এমএসবি ব্রিকস এর মালিক মোঃ সাইদুর রহমান মন্টু বলেন, আমার ইটভাটায় শাহ আলম নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভুয়া পরিচালক পরিচয়ে চাঁদা দাবী করে প্রতারণা করার কারণে তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছি।

জেবিবি ব্রিকস মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ভুয়া পরিচয় দিয়ে আমার ইটভাটা থেকেও প্রতারণা করে ওই দিন ২৫ শ’ টাকা নিয়ে গেছেন প্রতারক শাহআলম।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ভুয়া পরিচালক পরিচয়ে প্রতারণা করার অভিযোগের মামলায় শাহ আলম শাহ্ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে  আদালতের মাধ্যমে বরগুনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শাহআলম শাহ্’র নেতৃত্বে সুন্দরী নারীসহ ৫ জনের একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ গত ১৩ অক্টোবর বরিশালের উজিরপুর মালিকান্দা মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসায় মন্ত্রণালয়ের ভিজিটর টিম পরিচয়ে হানা দিলে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও স্থানীয় বড়াকোঠা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি মোঃ মিজানুর রহমান কামালের চ্যালেঞ্জের মুখে অবস্থা বেগতিক টের পেয়ে হাত পা ধরে ক্ষমা চেয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করে চলে আসেন এবং নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধায় মিজানুর রহমান কামাল উজিরপুর থানায় শাহআলমের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। জিডি নং-৫৩২। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর বরিশাল থেকে প্রকাশিত প্রথম সারির প্রায় সবকয়টি’ পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও শাহআলমের বিভিন্ন কুকর্ম ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে অনুসন্ধান টিভিনিউজ পোর্টালে গত ২৯ নভেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যা মিডিয়াঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।

 

★ পর্ব: ২

চাঁদাবাজি মামলায় আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সম্পাদক শাহআলম শ্রীঘরে : জালিয়াতির অভিযোগে পত্রিকার ছাড়পত্র বাতিলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

আপডেট সময় : Tuesday, January 14, 2020
230 বার দেখা হয়েছে

নবরাজ বিশ্বাসস, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:  পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক পরিচয়ে বরগুনার আমতলীতে ইটেরভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা দৈনিক ‘বরিশাল

ক্রাইম’ এর কথিত সম্পাদক-প্রকাশক এইচ এম শাহআলম শাহ জেল-হাজতের ঘানি টানছেন। অপরদিকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ডিক্লেয়ারেশন নেয়া ওই পত্রিকার ছাড়পত্র বাতিল চেয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরসমূহে অনুলিপি দিয়েছেন ওই পত্রিকারই ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুগন্ধা মজুমদারের স্বামী পরিমল মজুমদার শিশির।

সূ্ত্রে প্রকাশ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (নিবন্ধন) বরাবরে ১৩ জানুয়ারি রেজিঃ ডাকযোগে পাঠানো শিশির মজুমদারের ওই দরখাস্তে স্থায়ী ঠিকানা গোপন রেখে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা এবং একাডেমিক ও অভিজ্ঞতার জাল সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে পত্রিকার ছাড়পত্র প্রাপ্তিসহ আঠারোটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ওই অভিযোগলিপি ও গত ২৯ নভেম্বরের অনুসন্ধান টিভিনিউজ পোর্টালে প্রকাশিত তথ্যমতে, অভিযোগের মধ্যে দক্ষিনাঞ্চলের মিডিয়াঙ্গনে সময়ের সবচে’ সমালোচিত ওই শাহআলমের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কিত বৈশিষ্ট্য ও কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়েছে। দৈনিক বরিশাল ক্রাইম ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর থেকে এ যাবৎ একটি সংখ্যাও উহার প্রকাশক-সম্পাদকের নিজস্ব অর্থায়ন কিংবা তত্বাবধানে প্রকাশিত হয়নি। বিগত ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল ছাড়পত্র প্রদানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ বার সম্পাদকীয় ক্ষমতা হস্তান্তরসহ হাত বদল হয়েছে। শাহআলমের প্রতারণার কারণে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দু’জন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সম্পাদনায় একযোগে দু’টি সংখ্যায় ওই পত্রিকা প্রকাশিত হতে থাকলে বরিশাল সহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলজুড়ে মিডিয়াঙ্গনে হাস্যরস ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ কারণে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুগন্ধা মজুমদার তার সম্পাদনায় পত্রিকার প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে শাহআলমের বিরুদ্ধে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪০৬/৪২০দঃ বিঃ ধারায় সিআর-৪৬/২০১৯ নং প্রতারণার মামলা করেন। আদালতের নির্দেশ কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করায় বিজ্ঞ বিচারকের পর্যালোচনাধীন রয়েছে মামলাটি।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একমাত্র চাঁদাবাজি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহারের জন্য পত্রিকাটি টিকিয়ে রাখতে প্রকাশনাবিধি লঙ্ঘন করে দু’তিন মাস অন্তর একটি করে সিরিয়াল সংখ্যা পত্রিকা বের করেন প্রকাশক শাহআলম শাহ। অপরদিকে ভুয়া ডিক্লেয়ারেশন নম্বর ব্যবহার করে স্বাধীন বাংলাদেশ নামে অপর একটি জাতীয় পত্রিকা মাঝে মধ্যে ছেপে চাঁদাবাজির কাজে বেড়িয়ে পড়েন প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

অনুরূপ জাতীয় অপরাধ বার্তা, সময় টিভি, মানবাধিকার সংস্থা(বাসক) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদ-পদবী ব্যবহারের ভিজিটিং কার্ড তৈরি করেও জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। তার বিরুদ্ধে আদালত ও বিভিন্ন থানায় রয়েছে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অসংখ্য অভিযোগ। সাংবাদিক-সম্পাদক, মানবাধিকার কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে ইটেরভাটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, আবাসিক হোটেল, খাদ্যপ্রস্তুত ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেক্টরে হানা দিয়েও চাঁদাবাজি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দুটি’ স্থানে তার দু’স্ত্রী-সংসার পরিচালনা করেন রাজার হালে। বর্তমানে শাহআলম বরগুনার আমতলী থানায় মেসার্স এমএসবি ব্রিকস এর ম্যানেজার মোঃ মাসুদ হাসান কর্তৃক দঃবিঃ আইনের ৪০৬/৪১৯/৪২০ ধারায় গত ২৬ ডিসেম্বরে দায়েরকৃত ১৫ নং মোকদ্দমায় বরগুনা জেলহাজতে রয়েছেন।

 

★ পর্ব: ৩

ভুয়া ঠিকানার কারণে আইন ও প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে প্রতারক সম্রাট নলছিটির শাহআলম : অন্ত:রালে লাখ টাকার মিশন

আপডেট সময় : Wednesday, January 29, 2020
289 বার দেখা হয়েছে

শিশির মজুমদার:  পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)পরিচয়ে ইটের ভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে বরগুনার জেল-হাজতে ঠাঁই হওয়া

কুখ্যাত চাঁদাবাজ সেই শাহআলমকে রক্ষা করতে অবশেষে একটি সুবিধাভোগী মিশন ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মগোপনের সুযোগ করে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এর অন্ত:রালে রয়েছে লক্ষ টাকা দেনদরবারের গোপন রহস্য। সোমবার(২৭ জানুয়ারি) জেল-হাজত থেকে জামিনে বের হয়েই ফের ওই সিন্ডিকেটটিকে প্রভাবিত করে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান প্রতারণার মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় নানা দেনদরবার শুরু করে দিয়েছেন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মিডিয়াঙ্গনে বর্তমান সময়ের সবচে’ বিতর্কিত ও সমালোচিত, ঠিকানা ও সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে ডিক্লেয়ারেশনপ্রাপ্ত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র কথিত সম্পাদক-প্রকাশক এইচ এম শাহআল শাহ্।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নে চালিতাবুনিয়া ইব্রাহীমপুর মেসার্স এমএসবি ব্রিকস এ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক(প্রশাসন) পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতে গেলে স্থানীয় জনতা শাহআলমকে আটক করে গনপিটুনি দিয়ে আমতলী থানায় সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ভাটার ম্যানেজার মোঃ মাসুদ হাসান বাদী হয়ে ওই দিন শাহআলমের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪০৬/৪১৯/৪২০ দঃ বিঃ আইনে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করলে আসামীকে বরগুনা জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

বিবরণে প্রকাশ, শাহআলম ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার ৯ নং দপদপিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড পশ্চিম কয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুর রহমান হাওলাদারের পুত্র। ওই ঠিকানার ভোটার তালিকায়ই শাহআলমের নাম অন্তর্ভুক্ত এবং জাতীয় পরিচয়পত্র। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া নিজ বাড়িতেই স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন শাহআলম। কিন্তু তিনি তার প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা গোপন রেখে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৫ ওয়ার্ডে রূপাতলী হাউজিং এলাকার খানবাড়ি নামের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দৈনিক বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন নেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল বরিশাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে “ফরম-বি”-তে দেয়া এক হলফনামায় শাহআলম ওই ভুয়া ঠিকানার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী বরিশাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (নিবন্ধন) বরাবরে নির্ধারিত ছকপত্রে শাহআলমের দাখিলকৃত আবেদনেও ওই ভুয়া ঠিকানার কথা উল্লেখ করেছেন। ছকপত্রের ওই আবেদন দু’টিতে ভুয়া ঠিকানা ছাড়াও তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ দেখিয়েছেন। অনুসন্ধান করতে গিয়ে যে সব তথ্য-উপাত্তে মিলেছে তাতে জানা যায়, শাহআলম জুনিয়র মাধ্যমিকের গন্ডিও অতিক্রম করতে পারেননি। একই আবেদনে তিনি ১২ বছরের সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র প্রকাশণা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সংগৃহিত সনদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মিডিয়ামহলে। তবে সংবাদ লেখার প্রতিযোগিতায়ও তার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা টিকবে কী না তীব্র সন্দেহ পোষণ করছেন বরিশালের মিডিয়া পার্সনরা। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে শাহআলমের বিরুদ্ধে বিষাদাগারে ফুঁসে উঠছে মিডিয়াঙ্গন। এ কারণে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনি বারবার গনপিটুনী খেলেও মিডিয়াপক্ষ থেকে কেউ টু-শব্দটি পর্যন্ত করেন না।

অপরদিকে, প্রতারনা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারাধীন জি.আর.ও-২৪৯/১৯ (আমতলী থানার মামলা নং-১৫) নম্বর মামলায় শাহআলম তার ঠিকানা উল্লেখ করেছেন বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড আজিমপুর গ্রাম। উল্লেখ্য, ওই ঠিকানায় শাহআলমের দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা বেগম তার সাবেক স্বামীর ঔড়সজাত সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন এবং এটি আনোয়ারা বেগমের পৈত্রিক সম্পত্তি। প্রৌঢ় শাহআলম-আনোয়ারা দম্পত্তির কোন সন্তানাদি নেই। আইনের গ্যারাকল থেকে এড়াতে শাহআলম মাঝমধ্যে এ ঠিকানায় আত্মগোপন করেন।

জানা গেছে, আমতলী থানার মামলার বিষয়ে শাহআলমের ঠিকানার তথ্য সংগ্রহে ‘ইনকোয়ারী-স্লিপ’ পাঠালে নলছিটি এবং বাকেরগঞ্জ উভয় থানা থেকেই তার ঠিকানা সঠিক বলে রিপোর্ট দিয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার এএসআই নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, শাহআলম এখানকার ভোটার তো ঠিকানা লিখতে সমস্যা কী? স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নাসির উদ্দীন নান্নু বলেন, শাহআলমের বাড়ি কয়া গ্রামে তা আমি জানি, তবে তিনি এখানে বিয়ে করেছেন বহু বছর আগে। তাছাড়া শাহআলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার। সে হিসেবে তিনি একটা বাসিন্দা সনদ চাইলে না দিয়ে পারা যায় না। অবশ্য সেক্ষেত্রে অস্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সনদ প্রাপ্য কিন্তু আমি কোনো সনদ দিয়েছি কী না আমার মনে নেই।

অপরদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহআলম অত্যন্ত ধূরন্ধর ও বিচিত্র চরিত্রের একজন ব্যক্তি। তার বিরূদ্ধে অনেক থানায় মামলা-অভিযোগ রয়েছে কিন্তু সুচতুর শাহআলমের ব্যবহৃত একাধিক ও ভুয়া ঠিকানার কারণে আইন ও প্রশাসন তাকে ছুঁতেও পারে না। তাই কোনো থানার পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না। আর এ কারণে কোনো থানার পুলিশ হানা দিলে তাকে সহজে খুঁজে বের করতে পারে না। সূত্রটির দাবি, চলমান মামলা থেকে আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে শাহআলম কোনোভাবে বেরিয়ে গেলে তিনি হবেন একজন সফল ও সার্টিফাইড চিটার।

উল্লেখ্য, শাহআলমের বিরুদ্ধে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪০৬/৪২০ দঃবিঃ আইনে প্রতারণার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভিজিটর পরিচয়ে একটি মাদ্রাসায় হানা দিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টাকালে আটক হলে আওয়ামী ঘরানার নেতাদের সুপারিশে ছাড়া পেলেও উজিরপুর থানায় একটি জিডি হয়। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন থানায় অসংখ্য জিডি ও অভিযোগ।

 

★ পর্ব: ৪

নলছিটিতে বাল্যবিয়ের ভূয়া খবরে তুলকালাম কান্ড : গণপিটুনির শিকার কথিত সাংবাদিক

আপডেট সময় : Saturday, March 7, 2020
265 বার দেখা হয়েছে

আপণ মন্ডল: বাল্যবিয়ের একটি মিথ্যা খবরের ভিত্তিতে অবশেষে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের

 

কারণে আবারও গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বিভিন্ন অপরাধে বারংবার গণপিটুনি খাওয়া দেশের দক্ষিনাঞ্চলের মিডিয়াঙ্গনে সবচেয়ে কলঙ্কিত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কথিত সেই সম্পাদক এইচ.এম শাহআলম শাহ্। ঘটনাটি ঘটেছে ৬ মার্চ (শুক্রবার) বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের চরকয়া গ্রামে বিতর্কিত ওই সম্পাদকের নিজ বাড়িতে।নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিলুপ্তপ্রায় আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা

দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র তথাকথিত সম্পাদক এইচ এম শাহআলম শাহ ‘বাংলাদেশ সময়’ নামে তার একটি ভুয়া টিভি চ্যানেলের পরিচালক পরিচয় দানকারী এইচএম রানাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান যে, তাদের(শাহআলম) বাড়ির মধ্যে একটি নাবালিকা কিশোরী মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। তাকে কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে যাওয়ার জন্যও বলা হয়। শাহআলমের নির্দেশনা অনুযায়ী রানার নেতৃত্বে দু’টি মোটর সাইকেলে ৬ জনের একটি সাংবাদিক টিম তাদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের আসরে উঠে। এ সময়ে ওই বাড়ির আনোয়ার বিশ্বাসের(হাওলাদার) মেয়ে সুমির(১৮) বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। সাংবাদিকেরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন সুমির বয়স ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। তাদের আগেও ঝালকাঠির একটি সাংবাদিক টিম  শাহআলম খবর দিয়ে এনেছিলেন। এতে ওই বাড়ির মানসম্মানের হানি ঘটে এ দাবী করে বিয়ে বাড়ি সহ পার্শ্ববর্তী বাড়ির মহিলারা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন এবং শাহআলমকে ধরে তুলোধুনো দেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে সুমির বড় ভগ্নিপতি মোঃ মাইনুল ইসলাম এবং একই বাড়ির পার্শ্ববর্তী ঘড়ের মোঃ ইউনুস আলী ফকির (ইউনুস দারোগা) এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সাংবাদিকেরা শাহআলমের কথামতো পানি ঘোলাটে না করার কারণে শাহআলম নলছিটি থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসেও জাগজপত্র ঘেটে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ফিরে যায়। এলাকার লোকজন এ ঘটনায় শাহআলমের ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, পূর্ব শত্রুতার জের মেটাতে শাহ আলম এ কান্ড ঘটিয়েছেন। এ প্রতিনিধি সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন।


এর আগে বিগত ২৬ ডিসেম্বর শাহআলম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পরিচয়ে বরগুনার আমতলী এলাকায় ইটের ভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের পর ৪০৬, ৪১৯, ৪২০ দঃবিঃ ধারায় আমতলী থানার ১৫ নং মামলায় মাসাধিককাল বরগুনায় জেলহাজত খেটে জামিনে মুক্ত আছেন। তার বিরুদ্ধে আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রী ২৯ জানুয়ারী ঘটনার সত্যতা আছে মর্মে চার্জশীট দাখিল করেছেন। এ ছাড়াও শাহআলমের বিরুদ্ধে রয়েছে আদালত ও বিভিন্ন থানায় অসংখ্য জিডি ও মামলা।

 

★ পর্ব: ৫

করোনার গুজব ছড়িয়ে অটোরিক্সা চালকের হাতে পিটুনি খেলেন ভূতুরে পত্রিকার সম্পাদক পরিচয়দানকারী ঝালকাঠির বিতর্কিত সেই শাহআলম

আপডেট সময় : Tuesday, April 21, 2020
381 বার দেখা হয়েছে

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির :  করোনাভাইরাসে আক্রান্তের গুজব ছড়াতে গিয়ে অবশেষেঅটোরিকশা চালকের হাতে পিটুনি

খেলেন ভূতুরে পত্রিকার সম্পাদক ও অস্তিত্বহীন সময় টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন কাল্পনিক পদ-পদবী পরিচয়দানকারী দক্ষিণ জনপদের বিতর্কিত সেই প্রতারকসম্রাট চাঁদাবাজ শাহআলম। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি এসে কোয়ারেন্টাইন না মেনে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করলে অটোরিকশা চালক মোঃ ইউনুচ মোল্লা শাহআলমকে ধরে উত্তম-মধ্যম দেন। এর প্রতিশোধ নিতে শাহআলম স্বপরিবারে গভীর রাতে পুলিশ নিয়ে ইউনুচের বাড়িতে হানা দেন তার বিরূদ্ধে পুলিশী এ্যাকশন নিতে। কিন্তু এতে ব্যার্থ হয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজনও করেন শাহআলম। এ ঘটনায় এলাকায় চলছে ব্যাপক তোলপাড় ও চাপা উত্তেজনা। যে কোন মূহুর্তে ঘটে যেতে পারে প্রাণহানিকর কোনো ঘটনা।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার(১৯ এপ্রিল) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় দপদপিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডে বীর নারায়ন এলাকায়। শাহআলম পার্শ্ববর্তী পশ্চিম কয়া গ্রামের মৃত আঃ রহমান হাওলাদারের ছেলে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার দিন শাহআলম স্থানীয় বরিশাল-পটুয়াখালী হাইওয়ের কাঠেরঘর বাস স্ট্যান্ডে পার্শ্ববর্তী বীর নারায়ন গ্রামের ঘোপেরবাড়ির মৃত জয়নাল মোল্লার ছেলে ইউনুচ মোল্লা তার অটোরিকশা নিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তার কাছে শাহআলম জানতে চান তাদের এলাকায় ঢাকা থেকে কেউ এসেছে কী না। জবাবে ইউনুচ বলেন, কত মানুষইতো বাড়িঘরে আসে যায় কে কার খবর রাখে? কিন্তু শাহআলম ইউনুচের বরাত দিয়ে তাদের এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ঢাকা থেকে এসেছে এবং কোয়ারান্টাইন না মেনে এলাকায় অবাধ ঘুরাঘুরির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াচ্ছে। এমন গুজব ছড়িয়ে দিলে ইউনুচের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এলাকার লোকজন। এতে মূহুর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যায় গোটা এলাকায় মারমুখী পরিস্থিতি ও গ্রুপিং। পরবর্তী দিন সোমবার সন্ধ্যে ৭ টার দিকে শাহআলম ইউনুচের এলাকায় গিয়ে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ও নানা প্রভাকান্ড ঘটাতে থাকলে তা টের পেয়ে ইউনুচ শাহআলমকে ধরে তুলোধুনো করেন।

এ ঘটনার জেরে শাহআলম করোনাভাইরাস গুজবের খবর দিয়ে নলছিটি থানার এসআই মোঃ নাঈম এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য এনে তার ১ম স্ত্রী পারুল, ২ ছেলে-মেয়ে এবং ভাই মজিবরকে নিয়ে রাত ১২ টার দিকে ইউনুচের বাড়িতে হানা দেন। ঘটনার আদ্যাপান্ত জেনে অবশ্য পুলিশ ফিরে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহআলম এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের মাধ্যমে সালিশের আয়োজন করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাতেও তিনি সফল হতে পারেননি। ইউনুচ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান শাহআলমের মূলত: উদ্দেশ্য ছিল করোনা ট্রাজেডি সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করা। কিন্তু ব্যার্থ হওয়ায় তিনি এসব প্রভাকান্ড তৈরি করেছেন। মোঃ কামরুজ্জামান, মীর মাসুদ এবং ইউনুস দারোগাসহ এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

শাহআলমের বিরুদ্ধে তার নিজ এলাকাসহ গোটা দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অসংখ্য মামলা এবং জিডি। দক্ষিণাঞ্চলের বহু প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের ফিরিস্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য। তার পরিচয়ের ঝুড়িতে রয়েছে, তিনি একাধারে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক(প্রশাসন) আবার একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, টিভি চ্যানেলের ম্যানেজিং ডিরেক্ট ইত্যাদি। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ভিজিটিং কার্ডসর্বস্ব তার এসব আজগুবি পদ-পদবীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো পেশাগত পরিচয় কিংবা যোগ্যতার সনদ না থাকলেও অলৌকিক শক্তির জোরে ভূয়া কাগজপত্রের ওপর ভর করে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে ঠিকই ফসকে বেরিয়ে আসেন দুর্দান্ত প্রতারক সম্রাট ও চাঁদাবাজ এই শাহআলম।

 

★ পর্ব: ৬

দৈনিক বরিশাল ক্রাইম পত্রিকা হস্তান্তরে রেড এলার্ট জারি : তৃতীয় পক্ষের উপরও বর্তাবে ক্ষতিপূরণের দায়ভার

আপডেট সময় : Thursday, April 30, 2020
328 বার দেখা হয়েছে
আপন মন্ডল: দেশের দক্ষিনাঞ্চলের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুগন্ধা মজুমদার। বরিশাল বিভাগীয় শহর থেকে প্রকাশিত ওই পত্রিকা ডিক্লায়ারেশনের আড়ালে বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়া সকল কাগজপত্র ভূয়া বলে ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে একাধিক মহল থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও তা চাঁপা পড়ে রয়েছে।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এরপরে বহুবার অভিযোগ দায়ের হলেও তাতে জেলা প্রশাসনের টনক নড়েনি দূর্ণীতিপরায়ন ওইসব কর্মচারীদের তদবিরের দাপটে। বিতর্কিত ওই পত্রিকা এবং উহার প্রকাশক ও সম্পাদক এখন বরিশাল সহ গোটা দক্ষিনাঞ্চজুড়ে মিডিয়াজগতে কালো তালিকাভূক্ত। পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক এইচ এম শাহআলম শাহ’র বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ নানাবিধ অসংখ্য অভিযোগ।

বিভিন্ন জেলার আদালত ও থানায় রয়েছে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি। নানা অপকর্মের কারণে গণপিটুনিও খেয়েছেন অসংখ্যবার। তার বিরুদ্ধে জারি করা নোটিসটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো।

 

[‘দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’ পত্রিকা ক্রয়-বিক্রয়-ভাড়া-হস্তান্তর সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি]

বিশ্বস্তসূত্রে অবগত হতে পেরেছি যে, বরিশাল জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয় থেকে ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত ‘দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’ পত্রিকা ক্রয়-বিক্রয়-হস্তান্তরে একটি মহল তৎপর রয়েছে।

 

তৎ পরিপ্রেক্ষিতে, এতদ্বারা সাংবাদিকবৃন্দ সহ সর্বমহলের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, বিগত ১২.৯.২০১৮ খ্রিঃ তারিখে বরিশালের বিজ্ঞ নোটারীষ্ট এ্যাড. সুফিয়া আক্তার এর কার্যালয়ের সিরিয়াল নম্বর ৪৫০৪ মূলে সম্পাদিত “চুক্তিপত্র”

 

অনুযায়ী ওই পত্রিকাটির নির্বাহী ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ সম্পাদক হিসেবে আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী এখনো পূর্ণ দায়িত্বে বলবৎ আছি। পত্রিকাটির প্রকাশক এইচ এম শাহআলম শাহক কর্তৃক, সম্পাদিত চুক্তি ভংগ ও প্রতারণার কারণে বরিশালের বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।

বিজ্ঞ আদালতের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় অপেক্ষমান, সম্পাদিত চুক্তিপত্রের ১২ নম্বর শর্তমর্মে নূন্যপক্ষে ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের মোকদ্দমা বিচার্যের বিষয়।

এমতাবস্থায়, বিজ্ঞ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যাতিরেকে উক্ত পত্রিকা কোনো প্রকার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের ওপর উক্ত ক্ষতিপূরণের দায়ভার বর্তাবে।
ধন্যবাদান্তে–

সুগন্ধা মজুমদার
অবনিল(২য় তলা), ঝাউতলা ২য় গলি
হাসপাতাল রোড, বরিশাল।
ফোনঃ ২১৭৬৭৮৬
মোবাঃ ০১৭৫৮৯৪৯৫৯৮
ই-মেইলঃ atvbdnews24@gmail.com
অথবা anusandhantv24@gmail.com

 

★ পর্ব: ৭

ক্রাইম করতে গিয়ে বরিশাল ক্রাইম’র কথিত সম্পাদক গ্রেফতার : শাহিনসহ ৪ ডায়াগনষ্টিক মালিক-কর্মচারীর কারাদন্ড

 আপডেট সময় : Saturday, July 25, 2020
118 বার দেখা হয়েছে
 আপন মন্ডল: 
রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকলেও তাদের স্বাক্ষর ব্যবহার ও নকল সামগ্রী দিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষার রিপোর্ট করে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে আসছিলো বরিশাল নগরীর আগরপুর রোডের দি মুন মেডিকেল সার্ভিসেস নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এটির রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদও উত্তীর্ন।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে নগর গোয়েন্দা পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ে এ প্রতারনা। এ সময় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করার পাশাপাশি এর দুই মালিককে ৬ মাস করে এবং দুই কর্মচারীকে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দন্ড ঘোষনার পরপরই তাদের ৪ জনকে কারাগারে প্রেরন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান জানান, আগরপুর রোডের দি মুন মেডিকেল সার্ভিসেস নামে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক মো. জাকির হোসেন খন্দকার ও শের-ই বাংলা মেডিকেলের টেকনোলজিস্ট মো. মজিবর রহমানের সীল-স্বাক্ষর এবং নকল সামগ্রী ব্যবহার করে রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে আসছিলো। তাদের রেজিস্ট্রেশেনের মেয়াদও অনেক আগেই উত্তীর্ন হয়ে গেছে। এ কারনে ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। একই সাথে মুন মেডিকেল সার্ভিসের দুই মালিক মোঃ হোসেন শাহিন ও শ্যামল মজুমদারকে ৬ মাস করে এবং দুই কর্মচারী ইব্রাহীম রানা ও শ্যাম সাহাকে ৩ মাস করে কারাদন্ড দেয়া হয়।
জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই হোসেন শাহিনই তার কালোবাজারি এসব ব্যবসা আড়াল করতে, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ডিক্লেয়ারেশন নেয়া আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা ‘দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র সম্পাদক দক্ষিণাঞ্চলের মিডিয়াঙ্গনে সবচে’ সমালোচিত, ঘৃনিত, চাঁদাবাজ ও মহাটাউটখ্যাত এইচএম শাহআলম শাহ এর নিকট থেকে মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে চলমান ওই পত্রিকাটির চুক্তিপত্রের শর্ত ভেঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে মোঃ হোসেন নামে রাতারাতি সম্পাদক বনে যান।
একই সাথে ‘সুগন্ধা মজুমদার’ এবং ‘মোঃ হোসেন’ এর সম্পাদনায় ভিন্ন ভিন্ন দু’ সংখ্যা করে প্রতিদিন ওই পত্রিকাটি প্রকাশিত হতে থাকলে বরিশাল সহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলজুড়ে সমালোচনা ও হাস্যরস ভাইরাল হয়ে পড়ে। ঝাড়ুদার শাহিন এখন বরিশাল ক্রাইম এর সম্পাদক! শিরোনামে দৈনিক আমাদের বরিশাল সহ বরিশাল থেকে প্রকাশিত প্রথম সারির অধিকাংশ পত্রিকায়ই এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে মিডিয়ার তোপের মুখে শাহিন তার প্রকাশণা বন্ধ করে দেন। অত:পর সুগন্ধা মজুমদার ওই পত্রিকার সম্পাদক শাহআলমের বিরুদ্ধে বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণার অভিযোগ এনে একটি মামলা করলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি অভিযোগের সত্যতা আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এ ছাড়াও গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ওই শাহআলম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক পরিচয়ে বরগুনার আমতলীতে ইটের ভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়ে ২৬ দিন বরগুনার জেলহাজত খেটে জামিনে বেড়িয়েছেন। ওই মামলাটিও বর্তমানে বিচারধীন আছে। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে গনপিটুনিসহ জিডি ও মামলার অগনিত নজির রয়েছে।  পার্টনারে প্রতারণার ব্যবসায়ের সম্পর্কও তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের।
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ