শিরোনাম :
ভবন আছে, হোস্টেল আছে-নেই শুধু ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা, আহত ৫ : থানায় মামলা কৃষিপণ্য পরিবহনে চাই নিরাপদ সড়ক জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব  ভোলা জেনারেল হাসপাতাল : ২৫০ শয্যার হাসপাতালে জনবল ১০০ শয্যার বিসিসির ১১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জনমত জরিপ : রানা পাল এগিয়ে ক্লু লেস ও চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন : পুরস্কৃত হলেন ঝালকাঠির ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান, মাদক উদ্ধার ওয়ারেন্ট তামিল করায় পুরস্কৃত হয়েছেন এএসআই বাপ্পি দে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা, উপকূলে তেল-গ্যাসে বিনিয়োগ চান স্পিকার ভোলায় ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক এমপিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট বিএমজেপি’র বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন 

ভবন আছে, হোস্টেল আছে-নেই শুধু ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম

প্রতীম গাঙ্গুলি
  • আপডেট সময় : Sunday, October 11, 2026
  • 30 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা ::

৩০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ভোলায় গড়ে তোলা হয়েছে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। আধুনিক অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেলসহ রয়েছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। জনবল সংকটে পড়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

ভোলার দৌলতখানের খায়েরহাটে নির্মাণ করা হয় মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের অবকাঠামো। এতে রয়েছে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেল, অধ্যক্ষের বাসভবনসহ নিরাপত্তাকর্মীদের কোয়ার্টার। কিন্তু অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও এখনো নিয়োগ হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নাই, টিচার নাই, কেউই নাই। এখানে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।’

ভোলা সদর হাসপাতালের একজন নার্স বলেন, ‘ভোলায় যদি এটা চালু হয় ম্যাটসের, তো এখানে যে শিক্ষার্থীরা তারা উপকৃত হবে। আমাদের হসপিটাল, ভোলাবাসীর জন্য এটা খুবই ভালো হবে।’

অন্য একজন বলেন, ‘সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি যাতে আমাদের এই ট্রেনিং সেন্টারটা দ্রুততম সময়ের ভেতরে চালু হয়।’

দৌলতখান খায়ের হাট ৩০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. বখতিয়ার আল-মামুন বলেন, ‘একচুয়ালি এটার এখন পর্যন্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচারগুলি কমপ্লিট হয়েছে, কার্যক্রম শুরু হয়নি। কিন্তু আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং উনারা আশ্বাস দিয়েছেন যে এগুলি মন্ত্রণালয়ে লিখেছেন এবং অতিসত্বর এটা চালু করবেন।’

২০১৯ সালে বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় ম্যাটসের নির্মাণকাজ। ব্যয় হয় ৩০ কোটি ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ২০২২ সালের মে মাসে নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবছর অন্তত ৫০ জন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পাস করে বের হওয়ার কথা, কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ হলেও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সেটি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলেও বরিশাল বিভাগে তাদের নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় নিয়মিত তদারকিতেও সীমাবদ্ধতার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ভোলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘পরবর্তীতে সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তরের পরে এখন পরবর্তী কার্যক্রম সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ বলতে পারবে যে এর পরবর্তীতে কবে থেকে স্টুডেন্ট ভর্তি বা পরবর্তী কার্যক্রম হবে এ ব্যাপারে উনারা বলতে পারবে ভালোভাবে।’

বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসদুল আলম বলেন, ‘এটা এখনো প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় নাই। এরকম জানা যায় যে, এটা জনবল তৈরি হয় নাই এখনো এবং ভর্তি কার্যক্রম এখনো শুরু হয় নাই।’

ভোলার সিভিল সার্জন জানান, ম্যাটসের জন্য নির্মিত ভবনে নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার করা যায় কি না এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এসেছে। একটি প্রতিনিধি দল ভবনটি পরিদর্শনও করেছে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনিং সেন্টারও যদি হয়, তাহলে এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ হবে। বিশেষ করে নতুন নার্স নিয়োগ হইলে তাদের যেমন একটা বেসিক ট্রেনিং হয় ১৫ দিনের বা অন্যান্য ট্রেনিং সেশন এখান থেকে নেয়া হবে। আমার জিনিসটা অকেজো পইড়া থাকার চেয়ে একটা ইন্সটিটিউট হিসেবে এটা ব্যবহার করা যেতে পারে।’

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো দ্রুত চালু করে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুর দাবি স্থানীয়দের।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ