করোনার গুজব ছড়িয়ে অটোরিক্সা চালকের হাতে পিটুনি খেলেন ভূতুরে পত্রিকার সম্পাদক পরিচয়দানকারী ঝালকাঠির বিতর্কিত সেই শাহআলম

শিশির মজুমদার, অনুসন্ধান ডেস্ক
  • আপডেট সময় : Tuesday, April 21, 2020
  • 1056 বার দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসে আক্রান্তের গুজব ছড়াতে গিয়ে অবশেষে অটোরিকশা চালকের হাতে পিটুনি খেলেন ভূতুরে পত্রিকার সম্পাদক ও অস্তিত্বহীন টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ বিভিন্ন কাল্পনিক পদ-পদবী পরিচয়দানকারী দক্ষিণ জনপদের বিতর্কিত সেই প্রতারকসম্রাট চাঁদাবাজ শাহআলম। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি এসে কোয়ারেন্টাইন না মেনে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করলে অটোরিকশা চালক মোঃ ইউনুচ মোল্লা শাহআলমকে ধরে উত্তম-মধ্যম দেন। এর প্রতিশোধ নিতে শাহআলম স্বপরিবারে গভীর রাতে পুলিশ নিয়ে ইউনুচের বাড়িতে হানা দেন তার বিরূদ্ধে পুলিশী এ্যাকশন নিতে। কিন্তু এতে ব্যার্থ হয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজনও করেন শাহআলম। এ ঘটনায় এলাকায় চলছে ব্যাপক তোলপাড় ও চাপা উত্তেজনা। যে কোন মূহুর্তে ঘটে যেতে পারে প্রাণহানিকর কোনো ঘটনা।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার(১৯ এপ্রিল) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় দপদপিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডে বীর নারায়ন এলাকায়। শাহআলম পার্শ্ববর্তী পশ্চিম কয়া গ্রামের মৃত আঃ রহমান হাওলাদারের ছেলে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার দিন শাহআলম স্থানীয় বরিশাল-পটুয়াখালী হাইওয়ের কাঠেরঘর বাস স্ট্যান্ডে পার্শ্ববর্তী বীর নারায়ন গ্রামের ঘোপেরবাড়ির মৃত জয়নাল মোল্লার ছেলে ইউনুচ মোল্লা তার অটোরিকশা নিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তার কাছে শাহআলম জানতে চান তাদের এলাকায় ঢাকা থেকে কেউ এসেছে কী না। জবাবে ইউনুচ বলেন, কত মানুষইতো বাড়িঘরে আসে যায় কে কার খবর রাখে? কিন্তু শাহআলম ইউনুচের বরাত দিয়ে তাদের এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ঢাকা থেকে এসেছে এবং কোয়ারান্টাইন না মেনে এলাকায় অবাধ ঘুরাঘুরির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াচ্ছে। এমন গুজব ছড়িয়ে দিলে ইউনুচের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এলাকার লোকজন। এতে মূহুর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যায় গোটা এলাকায় মারমুখী পরিস্থিতি ও গ্রুপিং। পরবর্তী দিন সোমবার সন্ধ্যে ৭ টার দিকে শাহআলম ইউনুচের এলাকায় গিয়ে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ও নানা প্রভাকান্ড ঘটাতে থাকলে তা টের পেয়ে ইউনুচ শাহআলমকে ধরে তুলোধুনো করেন।

এ ঘটনার জেরে শাহআলম করোনাভাইরাস গুজবের খবর দিয়ে নলছিটি থানার এসআই মোঃ নাঈম এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য এনে তার ১ম স্ত্রী পারুল, ২ ছেলে-মেয়ে এবং ভাই মজিবরকে নিয়ে রাত ১২ টার দিকে ইউনুচের বাড়িতে হানা দেন। ঘটনার আদ্যাপান্ত জেনে অবশ্য পুলিশ ফিরে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহআলম এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের মাধ্যমে সালিশের আয়োজন করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাতেও তিনি সফল হতে পারেননি। ইউনুচ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান শাহআলমের মূলত: উদ্দেশ্য ছিল করোনা ট্রাজেডি সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করা। কিন্তু ব্যার্থ হওয়ায় তিনি এসব প্রভাকান্ড তৈরি করেছেন। মোঃ কামরুজ্জামান, মীর মাসুদ এবং ইউনুস দারোগাসহ এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

শাহআলমের বিরুদ্ধে তার নিজ এলাকাসহ গোটা দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অসংখ্য মামলা এবং জিডি। দক্ষিণাঞ্চলের বহু প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের ফিরিস্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য। তার পরিচয়ের ঝুড়িতে রয়েছে, তিনি একাধারে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক(প্রশাসন) আবার একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, টিভি চ্যানেলের ম্যানেজিং ডিরেক্ট ইত্যাদি। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ভিজিটিং কার্ডসর্বস্ব তার এসব আজগুবি পদ-পদবীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো পেশাগত পরিচয় কিংবা যোগ্যতার সনদ না থাকলেও অলৌকিক শক্তির জোরে ভূয়া কাগজপত্রের ওপর ভর করে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে ঠিকই ফসকে বেরিয়ে আসেন দুর্দান্ত প্রতারক সম্রাট ও চাঁদাবাজ এই শাহআলম।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ