শিরোনাম :
সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা : রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ডিবির আলাদা অভিযানে ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গোল্লাছুট ও কানামাছি খেলা জিজেইউএস এন্টারপ্রাইজ পেয়েছে নিরাপদ ট্রেডমার্ক নিবন্ধন মর্যাদা বৃদ্ধিকরণে নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের স্বত্ত্বাধীকারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা লালমোহন পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো যেন ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগে ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা বরিশালে জামিন পেলেন ৩ আওয়ামীলীগ নেতা মন্ত্রীসভায় নেই আন্দালিব রহমান পার্থ, হতাশ ভোলাবাসী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা : রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

সুগন্ধা মজুমদার, রোববার,৮ মার্চ
  • আপডেট সময় : Monday, March 9, 2026
  • 58 বার দেখা হয়েছে

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে “সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল রবিবার (০৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ-এর ভিআইপি সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)’র সভাপতি আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান গ্রামসি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ।

উদ্বোধক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও বেগবান করতে পেশাজীবী সমাজকে দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান গ্রামসি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক অগ্রগতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ অতিথি- জীবন বীমা কর্পোরেশনের পরামর্শক(অব: অতিরিক্ত সচিব) শ্রী অসিত কুমার মুকুটমণি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, সততা ও দায়বদ্ধতার সমন্বয়ই একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে পেশাজীবীদের নৈতিক নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কাজ করে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক, জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তা, মাহফুজুর রহমান খান, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমাজ বিশ্লেষক; বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক; এবং মুফতি মাওলানা মূর্তাজা ইবনে মোস্তফা সালেহী, বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক (বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতার) এফ রহমান রূপক, সভাপতি, বাংলাদেশ মডেল প্রেস ক্লাব; মো: ইমাম হোসেন, সহ সম্পাদক, দৈনিক সকালের সময়,  মো. মফিজ উদ্দিন খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকা,  মোহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ জীবন, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  মো. আব্দুল করিম খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, ডিপিডিসি প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, মো. সানোয়ার হোসাইন, উপদেষ্টা, ঢাকা দক্ষিণ সাংবাদিক ফোরাম, লায়ন মোস্তাফিজুল আজম মামুন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, খোন্দকার আবিদ আহম্মেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, পদ্মা সমিতি, মো. শাফিউর রহমান কাজী, সহ-সম্পাদক, দৈনিক ঘোষণা এবং জনাব মানস কুমার আচার্য অপু, বিশিষ্ট বীমা উন্নয়ন কর্মী।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থি সকলকে ছাদে চাষাবাদের জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে “সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল রবিবার (০৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ-এর ভিআইপি সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)’র সভাপতি আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান গ্রামসি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ।

উদ্বোধক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও বেগবান করতে পেশাজীবী সমাজকে দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান গ্রামসি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক অগ্রগতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ অতিথি- জীবন বীমা কর্পোরেশনের পরামর্শক(অব: অতিরিক্ত সচিব) শ্রী অসিত কুমার মুকুটমণি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, সততা ও দায়বদ্ধতার সমন্বয়ই একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে পেশাজীবীদের নৈতিক নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কাজ করে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক, জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তা, মাহফুজুর রহমান খান, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমাজ বিশ্লেষক; বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক; এবং মুফতি মাওলানা মূর্তাজা ইবনে মোস্তফা সালেহী, বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক (বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতার) এফ রহমান রূপক, সভাপতি, বাংলাদেশ মডেল প্রেস ক্লাব; মো: ইমাম হোসেন, সহ সম্পাদক, দৈনিক সকালের সময়,  মো. মফিজ উদ্দিন খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকা,  মোহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ জীবন, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  মো. আব্দুল করিম খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, ডিপিডিসি প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, মো. সানোয়ার হোসাইন, উপদেষ্টা, ঢাকা দক্ষিণ সাংবাদিক ফোরাম, লায়ন মোস্তাফিজুল আজম মামুন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, খোন্দকার আবিদ আহম্মেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, পদ্মা সমিতি, মো. শাফিউর রহমান কাজী, সহ-সম্পাদক, দৈনিক ঘোষণা এবং জনাব মানস কুমার আচার্য অপু, বিশিষ্ট বীমা উন্নয়ন কর্মী।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থি সকলকে ছাদে চাষাবাদের জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা : রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঝালকাঠিতে আলাদা অভিযানে ইয়াবাসহ দুই কারবারি যথাক্রমে মোঃ রিপন খলিফা (৩৯) ও রনি মুন্সি (৩৮) নামের দুই জনকে আটক করেছে ঝালকাঠি ডিবির এস আই হারুনার রসিদ। আটককৃত রিপন খলিফা নলছিটি পৌরসভার সিকদার পাড়া এলাকার মৃত মহরম খলিফার ছেলে ও রনি মুন্সি বরিশাল ২৬ নং ওয়ার্ডের কালিজিরা বাজারের প্রাণ আরএফএল এর মোড়ের শাহিন মুন্সির ছেলে। গত ৫ মার্চ রাত পৌনে ১০ টার সময় ২৫ পিচ ইয়াবাসহ নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের শিমুল তলা স্ট্যান্ড থেকে ও রনি মুন্সিকে ৬ মার্চ রাত প্রায় ১০ টার সময় নলছিটি উপজেলার রায়াপুর বটতলা স্ট্যান্ড এর নিকটে ২২ পিচ ইয়াবাসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে নলছিটি থানায় ডিবি বাদি হয়ে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবি ওসি তৌহিদ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ঝালকাঠিতে ডিবির আলাদা অভিযানে ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোলা::

একসময় বিকেল হলেই ভোলার বিভিন্ন গ্রামের খোলা মাঠ, স্কুলের প্রাঙ্গণ কিংবা বাড়ির উঠান ভরে উঠত শিশু-কিশোরদের কোলাহলে। দল বেঁধে চলত দৌড়ঝাঁপ, হাসি-ঠাট্টা আর প্রতিযোগিতা। সেই সময়ের দুই জনপ্রিয় খেলা ‘গোল্লাছুট’ ও ‘কানামাছি’ এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। ভোলা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ গ্রামে নিয়মিত গোল্লাছুট খেলার চর্চা নেই, স্কুলের মাঠে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিক্য, উঠানভিত্তিক খেলাধুলা প্রায় বন্ধ।

ভোলা সদরের চর জাংগালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আবি আবদুল্লাহ বলেন, সাত-আট বছর আগেও টিফিনের ছুটির সময়ে বাচ্চারা ‘গোল্লাছুট’ ও ‘কানামাছি’ খেলত। এখন বেশিরভাগই মোবাইল গেম নিয়ে ব্যস্ত। গোল্লাছুট ছিল সম্পূর্ণ দলীয় খেলা। এতে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি কৌশল ও সমন্বয় প্রয়োজন হতো।

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, এই খেলায় শিশুদের নেতৃত্বগুণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, দলগত চেতনা গড়ে উঠত স্বাভাবিকভাবেই। কানামাছিতে একজনের চোখ বেঁধে দেওয়া হতো, আর অন্যরা শব্দ করে তাকে বিভ্রান্ত করত। এই খেলায় মনোযোগ বৃদ্ধি পেত, শ্রবণশক্তি ও প্রতিক্রিয়া দক্ষতা বাড়ত, পারস্পরিক আস্থা তৈরি হতো।

ভেলুমিয়ার এক প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল খালেক মিয়া জানান, আমাদের সময় আমরা প্রত্যেকদিন বিকালে বাড়ির উঠানে কানামাছি খেলতাম আর এখনকার বাচ্চারা নামই জানে না। এ বিষয়ে কথা হয় ভোলা জেলার একাধিক ক্রীড়া সংগঠক এর সাথে তাঁরা বলেন, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা শিশুদের সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঠের খেলায় শারীরিক সুস্থতা যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি মানসিক বিকাশও ঘটে। স্ক্রিননির্ভর জীবনে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে বলে অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গ্রামীণ খেলাধুলা উৎসব আয়োজন না করলে এই ঐতিহ্য টিকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে স্মার্টফোন ও অনলাইন গেমের বিস্তার, খেলার মাঠ কমে যাওয়া, শিক্ষার অতিরিক্ত চাপ, অভিভাবকদের নিরাপত্তা উদ্বেগসহ বিভিন্ন কারণে আমাদের গ্রামবাংলা থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এসব ঐতিহ্যবাহী খেলা।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব খেলাগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী খেলা অন্তর্ভুক্ত করা, উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে খেলাধুলা উৎসব পালন, অভিভাবক সচেতনতা কার্যক্রমসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলেও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। গোল্লাছুট ও কানামাছি শুধু খেলা নয় এগুলো ছিল গ্রাম বাংলার শৈশবের প্রাণ। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে ঠিকই, তবে শিকড়কে ভুলে নয়। এখনই উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতায়ই কেবল এসব খেলার নাম পড়বে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গোল্লাছুট ও কানামাছি খেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার জিজেইউএস এন্টারপ্রাইজ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘জিজেইউএস নিরাপদ’ ব্র্যান্ড ট্রেডমার্ক নিবন্ধন পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সনদ প্রদান করেছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘GJUS NIRAPOD’ নাম ও লোগো সংবলিত ট্রেডমার্কটির জন্য ২০২২ সালের ৬ জুন আবেদন করা হয়। নির্ধারিত সকল প্রক্রিয়া শেষে এটি ট্রেডমার্ক নম্বর ইউ-ঐ-১-২৭৭১৬৬ এবং টিএম নম্বর ২৭৭১৬৬ হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। ট্রেডমার্কটি শ্রেণি ২৯-এ নিবন্ধন পেয়েছে, যা সাধারণত খাদ্যপণ্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাট রোডে অবস্থিত জিজেইউএস এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন মহিন এই ট্রেডমার্কের নিবন্ধন লাভ করেছেন। ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির স্বত্বাধিকার আইনি সুরক্ষা পাবে এবং বাজারে পণ্যের স্বকীয়তা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

জিজেইউএস এন্টারপ্রাইজ পেয়েছে নিরাপদ ট্রেডমার্ক নিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নারীদের মর্যাদা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের স্বত্বাধিকার নারীদের নামে প্রদান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে বিশিষ্ট নারীদের সম্মানে তাঁর নিজ উদ্যোগে নগরীর কিং ফিশার রেস্ট্রুরেন্টে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রহমাতুল্লাহ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন নারীদের বাদ দিয়ে কল্পনাও করা যায় না। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী-তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে এলে দেশ সামগ্রিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল নারীদের পিছিয়ে রাখতে চায়। যারা নারীদের অধিকার ও মর্যাদা অস্বীকার করে, তাদের পক্ষে দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষা করা সম্ভব নয়, বলেন তিনি।

রহমাতুল্লাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের উন্নয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন জনমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড নারীদের নামে হওয়ায় পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়বে এবং আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নারীরা যখন অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম ও স্বাবলম্বী হবেন, তখন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে নারী সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে রহমাতুল্লাহ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় নারীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি নারী নেত্রী ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কর্মসুচীতে আরও উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহেদা তালুকদার, মহিলা পরিষদের সভাপতি পুস্প চক্রবর্তী, মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি, জেলা মহিলাদল সভাপতি ফাতেমা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রেশমা রহমান, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি ফারহানা তিথী, সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া পারভীন, প্রফেসর ডাঃ সেলিনা পারভীন, চন্দ্রদ্বীপ ডেভলপমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী
সামিয়া আলীসহ ডাক্তার, শিক্ষিকা, আইনজীবিসহ বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিশিষ্ট নারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন নারী নেত্রী আফরোজা খান।
এদিকে ইফতার শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মর্যাদা বৃদ্ধিকরণে নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের স্বত্ত্বাধীকারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষি ডেস্ক ::

রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে দেশের কৃষক সমাজ রোজা রেখেই মাঠে-ঘাটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে রোজার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে কৃষি কাজ করলে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রমজান মাসে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

রমজানে কৃষি কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাহরির পর ভোরের সময় ভারী কৃষি কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ এড়িয়ে চলা এবং বিকেলে হালকা কাজ করাই উত্তম। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।
সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, শরবত ও লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি উপকারী। পাশাপাশি সাহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া কম এবং ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সকাল বা সন্ধ্যায় করা উচিত। কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। এ ছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ যান্ত্রিক কৃষি উপকরণ ব্যবহার করলে শ্রম ও শক্তি সাশ্রয় হয়।
ফসলভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও রমজানে গুরুত্বপূর্ণ।

বোরো ধানে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সবজি ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং ফলের বাগানে মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মাথা ঢেকে কাজ করা এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

রমজানে সুস্থ কৃষকই সফল কৃষির মূল শক্তি। কৃষক সুস্থ থাকলে কৃষি টেকসই হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক:
 সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  অগ্নিবার্তা।
★EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)।
★কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন পৌরসভা হচ্ছে প্রথম শ্রেণির। কাগজে কলমে এবং নামেই শুধু প্রথম শ্রেণি, এই পৌরসভার নাগরিকরা পাচ্ছেন না নাগরিক সেবা। বর্তমান পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ শুধু হাসি মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ, কাজের কাজ কিছুই করেননি তিনি। প্রায় দেড় বছরের উপরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে তিনি গতানুগতিক কাজ ব্যতিত ভালো কিছুই দেখাতে পারেননি। নির্দিষ্ট স্থানে লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ময়লা ফেলার জন্য নেই নিজস্ব ডাম্পিং। গত বছর ময়লা ফেলেছে পৌরসভার স্টেডিয়ামে। এ নিয়ে কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌরসভার ময়লা ফেলেছে লালমোহন ডিগ্রি কলেজের সামনে ভোলা চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশে এবং সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে। এরপর লালমোহন হেলিপ্যাড সংলগ্ন ব্যস্ততম মহাসড়কের উপর ও পাশে ফেলছিলো ময়লা। এসব ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ওই এলাকাবাসী ও পথচারীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কয়েকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি পৌর প্রশাসকের। বর্তমান পৌর প্রশাসক দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম পৌর করমেলায় বলেছিলেন ময়লা ফেলার জন্য জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

লালমোহন বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন এভিনিউ, মিঠাই পট্টি, সুটকি পট্টি, বিনোদন সিনেমা হল পট্রি, চৌরাস্তার মোড়, দত্তপাড়া, পৌর গোলচত্বর মার্কেট, হাইস্কুল মার্কেট, খাদ্যগুদাম এলাকা, থানার মোড় এবং উত্তর বাজারের রাস্তার মাঝখানে প্রতিদিনই হরেক রকমের ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে। পৌর প্রশাসক এই ময়লা অপসারণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসের ভবনের উত্তর পাশে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে স্তূপ হয়ে পড়েছে ময়লা। একটি টিনের ঘরের চালার উপরও জমেছে ময়লার স্তুপ।

পৌরসভার বাসিন্দা নাইমুর হাসান বলেন, বিগত সরকারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম, পৌর প্রশাসক বাজারের ময়লার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ওনার অফিসের পাশেই যে পরিমাণ ময়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে, তা ওনার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এসব ময়লার স্তূপ দেখে মনে হয় ওনি একটা গিদর। ঠিকমতো কর্মচারীদের দিয়ে তাদের সঠিক কাজ করাতে পারেন না। দেড় বছর পার হয়ে গেল, ওনার হাসিমুখ ছাড়া ময়লার ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

মাহাজনপট্টির ব্যবসায়ী ফরুক জানান, আমরা এখানকার ব্যবসায়ী সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৮টায় দোকান খুলি। কিন্তু বাজারের সব ময়লা মহাজনপট্টি এই চার রাস্তার মোড়ে ফেলে রাখা হয়। পৌরসভার গাড়ি কখনও সকাল ১০টায়, কখনও ১১টায়, আবার কখনও দুপুরে এসে ময়লা নিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্গন্ধের মধ্যে ব্যবসা চালাতে হয়। সবচেয়ে খারাপ হলো, শুক্রবার ও শনিবার ময়লা তোলা হয় না। রবিবার পর্যন্ত ময়লা পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন দোকানে বসাও দায় হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও ময়লার দৃশ্য দেখে দাঁড়াতে চান না, ফলে বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মিঠাইপট্টির ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, অনেকবার অভিযোগ করা হয়েছে, সংবাদ হয়েছে। তবুও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদেরকে কষ্ট দেয়া এবং ময়লার মধ্যে দোকানপাট করার জন্যই মনে হয় ময়লাগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করছে না। এই নোংরা পরিবেশেই আমাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, দেখার বিষয়, কোনো পরিবর্তন আসে কি না।

বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা আরও জানান, সরকারের পরিবর্তনের পর তারা আশা করেছিলেন পৌর প্রশাসন অন্তত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার রাখবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের দেখা মিলছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ বলেন, আমাদের একটা গাড়ি নষ্ট ছিল, তাই মাঝে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে অন্য কোথাও কোনো সমস্যা আছে বলে আমরা দেখছি না। নিয়মিত পৌর সভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছে। তারপরও যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমাদের জানালে আমরা তা সমাধান করবো।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

লালমোহন পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো যেন ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগে ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: 

গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একই সঙ্গে জামিন দেয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ দু’জনকে।

মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন-মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন।

বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে বরিশালের অন্তত ৬টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বরিশালে জামিন পেলেন ৩ আওয়ামীলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ত্রোয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠন করছে বিএনপি। বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হলেও এবার মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই হয়নি বাংলাদেশের বহুল জনপ্রিয় সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ।

মন্ত্রীপদ না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। এনিয়ে সাধারন ভোলাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দালিভ রহমান পার্থর ত্যাগ মূল্যায়নের দাবি জানান ভোলাবাসি। দ্বিতীয় বারের মতো ভোলা সদর আসন থেকে বিপুল ভোটে এমপি হয়েছেন পার্থ।

মঙ্গলবার বিকেলে ঘোষিত এ মন্ত্রীসভায় ভোলা জেলা থেকে ১ জন স্থান পাওয়ায় হতাশ ভোলাবাসী। ভোলাবাসীর ধারনা ছিলো যেগ্যতার ভিত্তিতে ভোলা থেকে দুইজন মন্ত্রী পাবেন। গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব দেখা যাচ্ছিলো পার্থর নাম। তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলো ভোলার মানুষ। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে যখন আন্দালিভ রহমান পার্থর নাম না দেখে হতাশ হয়েছে সবাই।

ভোলার সাধারণ ভোটার রাকিব উদ্দিন অমি বলেন, আন্দালিভ রহমান পার্থ সারা বাংলাদেশর তারুণ্যের আইকন একজন রাজনীতিবিদ। তাকে দেখে তরুণরা রাজনীতি আশার উৎসাহ পায়।

সংসদে তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য তরুন প্রজন্ম এখনও শেনে। তার মতো মেধাবী সংসদ সদস্য মন্ত্রী পরিষদ বড্ড বেশি প্রয়োজন। তিনি মন্ত্রী হলে ভোলাবাসীর যেমন উপকার হবে। তেমনি রাষ্ট্র একজন মেধাবী যোগ্য একজন মন্ত্রী পাবেন। আমরা আশাকরি তারেক রহমানের ভাবনায় আন্দালিভ রহমান পার্থ অবশ্যই বিবেচনায় থাকবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিনা আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রীসভায় নেই। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাকে মন্ত্রী সভায় রাখা উচিত ছিল। আমরা ভোলাবাসী হতাশ হয়েছি।

ভোলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মোবাশ্বের উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নবগঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ভোলা জেলা থেকে অন্তত দু’জন মন্ত্রী থাকবেন। সে জায়গায় আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম না থাকা ভোলাবাসীর জন্য সত্যিই হতাশাজনক।

তবে তিনি একজন মেধাবী ও পরিচিত সংসদ সদস্য। সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে চেনেন। আমরা আশা করি, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের ন্যায্য দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপির ভোলা জেলার সাধারণ সম্পাদক মোতাসিন বিল্লাহ বলেন, আন্দালিভ রহমান পার্থ দীর্ঘ ১৭ বছর শৈরশাসকদের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলে গেছেন।

টকশোতে বলিষ্ঠ কন্ঠে দুঃশাসনের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি সৎ, যোগ্য একজন মেধাবী রাজনৈতিকিবিদ বলে আমরা মনে করি। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে পার্থ সাহেবের মতো যোগ্য সংসদ মন্ত্রী পরিষদে খুব প্রয়োজন। আমরা আশাকরি দেশের স্বার্থে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গড়তে তাকে পাশে রাখবেন।

আন্দালিব রহমান পার্থের বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে তার বাবার মৃত্যু হলে আন্দালিব বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার দল বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচন বয়কট করে। ভোলা-১ (সদর) আসনে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৩৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২৫ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়েছেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মন্ত্রীসভায় নেই আন্দালিব রহমান পার্থ, হতাশ ভোলাবাসী

ঢাক থেকে ভোলা প্রতিনিধি ::
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ