রক্তের প্রয়োজন হয়েছে কারও—এমন তথ্য পাওয়ার পর থেকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দুটি সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা লেগে যায়। রোগীর স্বজনদের কাছে কে কার আগে রক্ত পৌঁছে দেবেন শুরু হয় তার তোড়জোড়। বাঘারপাড়ায় এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দু’টি হলো “আমি নই আমরাই সেবা সংঘ” এবং “বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক”
। দুস্থ মানুষের সেবায় এই দু’ সংগঠনের কর্মীরা নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন।
রক্তের প্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রক্তদাতা এবং রক্তের খোঁজে পোস্ট দেন দু’ সংগঠনের কর্মীরা। আর রক্তদাতার খোঁজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এরপর হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা রোগীর স্বজনের হাতে রক্তের ব্যাগ তুলে দেন।
শুধু রক্ত বা রক্তদাতার খোঁজই নয়, সংগঠন দুটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সচেতনতামূলক মানববন্ধন, শীতবস্ত্র বিতরণ ও শিক্ষা উপকরণের মতো নানা ধরনের সেবা ও প্রচারণামূলক কাজ করছে।
দু’টি সংগঠনেরই বেশির ভাগ সদস্য শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী। “আমি নই আমরাই সেবা সংঘ”র অর্থ সম্পাদক সুফল বিশ্বাস জানান, জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জীবন বাঁচাতে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে কিছু তরুণ ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার আজমেহেরপুর গ্রামের পরিমল বিশ্বাস অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবক ওই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে দেন। এ পর্যন্ত উল্লখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন রোগীকে রক্ত জোগাড় করে দিয়েছে সংগঠনটি। ওই সংগঠন ইতোমধ্যে বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও গরীব অসহায় রোগীদের বিনামূল্য ঔষধ বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে। ‘আমি নই আমরাই সেবা সংঘ’ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন পরিচালনায় রয়েছেন ২৫ জন সদস্য।
সংঘের সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ তরফদার বলেন, একজন রোগীও যেন রক্তের অভাবে মারা না যায় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।
‘আমি নই আমরাই সেবা সংঘ’ ও ‘বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক’ এর কর্মীরা দুস্থ মানুষের পাশে থাকছে সব সময়। বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক তারুণ্যনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। জরুরি রক্তের প্রয়োজনে তাঁরা রোগীদের পাশে দাঁড়ান। সংগঠনের তরুণদের অনলাইনে বা মুঠোফোনে বার্তা পেয়ে প্রতিদিন ৪-৫ জন, সপ্তাহে ১৫-২০ জনের মতো রক্তদাতা রক্ত দেন। সংঘটির তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত রক্ত দিয়েছেন ২ হাজারেরও অধিক মানুষ।
ইতোমধ্যে ২০ টির মতো প্রচারণা কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। এর বাইরে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতায় সক্রিয় রয়েছেন তাঁরা। রক্তের গ্রুপ নির্ণয় শেষে বিনা মূল্যে গাছের চারা বিতরণ, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, বিনা মূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো কাজ করছে বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক গ্রুপের সদস্যরা। বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংকের পরিচালক সৈয়দ হাসিবুল ইসলাম বলেন, মানবতার জন্য কাজ করছে বাঘারপাড়া ব্লাড ব্যাংক। ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি পালন করা হবে।
বাঘারপাড়া উপজেলার প্রথমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, বাঘারপাড়ায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির লক্ষ্যে দু’টি সংগঠন প্রতিযোগিতা দিয়ে কাজ করছে। এটা সমাজের জন্য বিশাল ইতিবাচক দিক।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন