ভারত মহাসাগর ও ওমান উপসাগরে গতকাল চার দিনব্যাপী যৌথ নৌমহড়া শুরু করেছে ইরান, চীন ও রাশিয়া।
ইরানি বহরের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলামরেজা তাহানি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা জানান।
মহড়াটিকে নৌ-সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে মস্কো।
খবর রয়টার্স ও এএফপি।
তাহানি বলেন, আমাদের যৌথ নৌমহড়ার উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। এটি দেশ তিনটির বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও একতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্কের স্মারক। আমাদের যৌথ মহড়ার আরেক উদ্দেশ্য হলো, বিশ্ব শক্তিগুলোকে এ বার্তা দেয়া যে তেহরান একা নয়।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব ছয় শক্তির সঙ্গে দেশটির করা ঐতিহাসিক ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ বা সংক্ষেপে ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর একতরফাভাবে সরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দেশটির ওপর পুনরায় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। অনেক নিষেধাজ্ঞার মুখে দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে।
এদিকে মহড়ায় বেশকিছু উদ্ধারকারী জাহাজ অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাহানি। এসব জাহাজ আগুন বা দস্যুদের কবলে পড়া জাহাজকে উদ্ধার করতে পারবে। এছাড়া ‘শুটিং চর্চা’ও মহড়ার অন্যতম অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে একই সংবাদে।
ইরানের চারদিকে জলসীমা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় ওমান উপসাগর আরো বেশি স্পর্শকাতর। এ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা আরামকোর স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করলেও হামলার জন্য তেহরানকেই দায়ী করে আসছে ওয়াশিংটন। যথারীতি অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। উল্লেখ্য, হামলার পর কোম্পানিটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন অর্ধেকে নেমে আসে।
অন্যদিকে অঞ্চলটিতে চলতি বছরের মে ও জুনে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হামলা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে নিজেদের নেতৃত্বে মিত্রদের নিয়ে একটি যৌথ নৌমহড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। বিশেষত সৌদি একটি ট্যাংকারের ওপর হামলা ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছিল সবচেয়ে বেশি। এ হামলার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান।
তবে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দোটানা সৃষ্টি হওয়ায় যে অঞ্চলটির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, বিষয়টি এমন নয় বলে মনে করেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। বিশেষত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশটির সম্পর্কের ফাটল আরো গভীর হওয়ায় এমনটি মনে করেন তারা।
যৌথ মহড়ায় একটি ‘গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী’ জাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। মহড়াটিকে তিন দেশের নৌবাহিনীর একটি সাধারণ সামরিক বিনিময় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চীনা মুখপাত্র বলেন, আমাদের যৌথ সামরিক মহড়ার সঙ্গে এ অঞ্চলের বিরাজমান পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।
স্মরণীয়, ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গে তেহরানের রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ উষ্ণ সম্পর্ক।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন