ডেস্ক রিপোর্ট : নোবেল করোনাভাইরাস নামক মহামারীতে যখন গোটা বিশ্ব কাপছে, আতঙ্কে মানুষ মূহ্যমান, সারা পৃথিবী ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে; ঠিক তখনই একশ্রেণির মানুষরূপী প্রতারক তামাশা নিয়ে ব্যাস্ত। আর এ তামাশা হতে পারে কারো জন্যে ভয়ঙ্কর ক্ষতির কারণ। এমন একটি ঘটনায় পুরো এলাকায় চলছে ব্যাপক তোলপাড়। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর উত্তর বগুড়া রোডের শীতলাখোলা এলাকায়।
অভিযোগের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ শুকবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে মো: শহিদুল ইসলাম নামে ডা. রনজিৎ খাঁ’র বাসার এক কর্মচারী বাজার সদায় নিয়ে নতুন বাজার থেকে ডাক্তার কলোনি হিসেবে পরিচিত শীতলাখোলার অভিজাত এলাকায় ‘সোনারতরী’ ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু যাওয়ার পথে স্থানীয় ফরেষ্ট অফিসের সাথে নির্মানাধীন মামুন মোল্লার ১০ তলা ভবনের (ইসলাম প্লাজা-২) রয়েল ষ্টেজ রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন কলি’র চায়ের দোকানে লকডাউন ভেঙ্গে আড্ডারত দশ-বারোজন লোক শহিদুলের পথ রোধ করে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, তুই যে বাসায় কাজ করো সে বাসার ডা. জি.কে চক্রবর্তী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তোর শরীরেও ওই ভাইরাস রয়েছে, তাই এ পথ দিয়ে তুই চলাফেরা করতে পারবি না, এ পথে চলাফেরা করতে হলে তোকে ওই বাসার কাজ বন্ধ করে দিতে হবে।
নগরীর স্বনামধন্য একটি হাসপাতালে কর্মরত ‘স’ আদ্যাক্ষরযুক্ত নামে জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দক্ষিনাঞ্চলের স্বনামধন্য একজন অধ্যাপক গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন আচরন ও অপপ্রচার সহ্য করতে না পেরে শহিদুল প্রতিবাদী জবাব দিতে গিয়ে ওই বখাটেদের আক্রোশের মুখে পড়েন। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মো: মোতালেব নামে একজন মারমুখী হয়ে শহিদুলকে মারার জন্য এগিয়ে আসলে, ওর শরীরে করোনাভাইরাস আছে এমন উক্তি করে অন্যরা মোতালেবকে প্রতিহত করে। মো: শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি আমার মালিক ডা. রনজিৎ স্যারের স্ত্রীর কাছে সব জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন।
এ বিষয়ে প্রখ্যাত সার্জারী বিশেষজ্ঞ শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রনজিৎ খাঁ’র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ফোনটি তাঁর স্ত্রী অপর্না খাঁ (মুখার্জী) রিসিভ করে বলেন, ডা. জি.কে চক্রবর্তী আর আমরা একই ভবনে পাশাপাশি বসবাস করি। করোনাভাইরাস নিয়ে সারা দেশের ন্যায় বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলেও যখন তোলপাড় তখন সচেতনতা অবলম্বনে ডা. জি.কে চক্রবর্তী পুরো পরিবারসহ স্বেচ্ছায় ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ এ অবস্থান করছিলেন। এ সময়ে তাঁর বাসায় কারো প্রবেশে বারন ছিল। সে কারনেই কোনো মহল এ বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে অপপ্রচার করতে শুরু করে। আমাদের সুনাম নষ্ট করতেই মূলত: এ অপপ্রচার।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন