শিরোনাম :
বরিশাল নগরীতে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ  ভোলায় ৭০’র ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে নির্মিত হচ্ছে প্রামান্যচিত্র “অস্তিত্বের লড়াই” মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বনাম গুজব সাংবাদিকতা : বিভ্রান্তির আড়ালে সত্যের লড়াই শিশু রামিসা হত্যাকান্ডের বিচার ও ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন মেঘনার বুকে জন্ম ! সেখানে সংসার !! সেখানেই মৃত্যু !!! ভোলায় চালু হচ্ছে ‘ফুডল্যান্ড মিট কর্নার’ ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি : দিশেহারা কৃষক বোরহানউদ্দিনে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ২ অবৈধ ইটের ভাটা বন্ধ করেন প্রশাসন এতিম শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিলো ভোলা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম দু’দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার

বরিশাল নগরীতে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ 

এস এম রাজ্জাক পিন্টু
  • আপডেট সময় : Saturday, May 23, 2026
  • 22 বার দেখা হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বরিশালের নগরীর দপদপিয়া ব্রীজ দক্ষিণ দিকে এ্যাংকর সিমেন্ট এর আগে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতা শাহিন হাওলাদার এর বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৪-২৫ নং ওয়ার্ড এর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া দপদপিয়া খেয়াঘাট রাস্তার গ্যাস্টার বাইন সড়কের মুখে বনিক বাজারের প্রোপ্রাইটর শাহিন হাওলাদার ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক পরিচয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা দখল করে দোকান ঘর উত্তোলন করছেন। তবে শাহীন হাওলাদারের দাবী নতুন স্থাপনা নির্মাণের স্থলে আগে তার একখানা ঘর ছিল যা ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। তিনি আরো জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ রাস্তাটি দপদপিয়া খেয়াঘাট এর দিকে চলে যাওয়ায় বেশী যানবাহন চলাচল করে না। তিনি একা নন, সড়কের পাশে পাশাপাশি অনেকেই দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। সরকার চাইলে তিনি তার স্থাপনা সরিয়ে নেয়ারও ইঙ্গিত দেন। তবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনেক পুরোনো বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন দেয়া হলে তিনি রোববার বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ
নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বরিশালের নগরীর দপদপিয়া ব্রীজ দক্ষিণ দিকে এ্যাংকর সিমেন্ট এর আগে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতা শাহিন হাওলাদার এর বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৪-২৫ নং ওয়ার্ড এর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া দপদপিয়া খেয়াঘাট রাস্তার গ্যাস্টার বাইন সড়কের মুখে বনিক বাজারের প্রোপ্রাইটর শাহিন হাওলাদার ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক পরিচয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা দখল করে দোকান ঘর উত্তোলন করছেন। তবে শাহীন হাওলাদারের দাবী নতুন স্থাপনা নির্মাণের স্থলে আগে তার একখানা ঘর ছিল যা ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। তিনি আরো জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ রাস্তাটি দপদপিয়া খেয়াঘাট এর দিকে চলে যাওয়ায় বেশী যানবাহন চলাচল করে না। তিনি একা নন, সড়কের পাশে পাশাপাশি অনেকেই দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। সরকার চাইলে তিনি তার স্থাপনা সরিয়ে নেয়ারও ইঙ্গিত দেন। তবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনেক পুরোনো বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন দেয়া হলে তিনি রোববার বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বরিশাল নগরীতে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘অস্তিত্বের লড়াই’। ১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণ করেছেন ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় আর সৌন্দর্য গুণে দীর্ঘ সময় দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। যদিও গত কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত এই অভিনেত্রী। মাঝে কয়েকটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলোর মুক্তির খবর নেই। নাটকেও দেখা যায়নি দীর্ঘকাল। হঠাৎ সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়ে আলোচনায় পূর্ণিমা।
জানা গেছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার (মাউস) উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থণা ও পরিকল্পনায় নির্মিত কাজটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
প্রামাণ্যচিত্রে কাজের বিষয়ে পূর্ণিমা বলেন, কাজটির ভাবনা আমার খুব ভালো লেগেছে। মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ববোধ থেকেই এতে যুক্ত হয়েছি। আমি সবসময় ভালো ও ইতিবাচক কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।
নির্মাতা গাজী মাহবুব জানান, প্রামাণ্যচিত্রটিতে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মর্মান্তিক স্মৃতি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমান বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং এ থেকে উত্তরণের করণীয় বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে।
মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ‘জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এটি অনলাইনেও প্রকাশ করা হবে বলেও জানান গাজী মাহবুব।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য সংস্থাটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু। প্রামাণ্যচিত্রটিতে পূর্ণিমার পাশাপাশি আরো অংশ নিয়েছেন কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান, জয় চৌধুরী প্রমুখ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় ৭০’র ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে নির্মিত হচ্ছে প্রামান্যচিত্র “অস্তিত্বের লড়াই”

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার মিডিয়া পাড়ায় গত কয়েক দিন ধরে এক অদ্ভুত গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। যেখানে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতাকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য সব সাংবাদিকতার বিপরীতে—অদৃশ্য প্রতিযোগিতায়, অপ্রয়োজনীয় বিভাজনের দেয়ালে। অথচ সময়ের আয়নায় তাকালে দেখা যায়, বাস্তবতা বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প। সময় কখনো থেমে থাকে না। নদীর স্রোতের মতোই বদলায় মানুষ, বদলায় সমাজ, বদলায় প্রযুক্তি—আর তার সঙ্গে বদলে যায় সংবাদ বলার ভাষাও।
একসময় খবর ছিল কেবল কাগজের পাতায় বন্দি কিছু অক্ষরের সমষ্টি। এখন সেই সংবাদ জীবন্ত-ভিডিওতে, ছবিতে, শব্দে, লাইভ আপডেটে, ডেটা বিশ্লেষণে, আর মানুষের অনুভূতির গভীরে। এই পরিবর্তনের নামই মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা—যেখানে সত্য কেবল বলা হয় না, দেখানো হয়; অনুভব করানো হয়। কিন্তু প্রতিটি আলোর পাশে যেমন কিছু ছায়া থাকে, তেমনি এই পরিবর্তনের সুযোগে জন্ম নিয়েছে নতুন ভয়ংকর বিভ্রান্তিও।
ভিউয়ের নেশায় মত্ত কিছু অনিবন্ধিত ফেসবুক পেজ, নামধারী তথাকথিত মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত মিথ্যা, অতিরঞ্জন আর গুজবকে “ব্রেকিং নিউজ” সাজিয়ে মানুষের মনে ভয়, বিভ্রান্তি আর অবিশ্বাসের বীজ বুনছে। মানুষের আবেগকে পুঁজি করে তারা যেন তথ্য নয়, আতঙ্ক বিক্রি করছে; সত্য নয়, উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।
দুঃখের বিষয় হলো-এরা নিজেদের “মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক” পরিচয়ে উপস্থাপন করলেও প্রকৃত সাংবাদিকতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সাংবাদিকতা নয়, বরং এক ধরনের “শিকারি অপসাংবাদিকতা”—যেখানে খবরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ক্লিক, সত্যের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায় ভিউ, আর দায়িত্ববোধ হারিয়ে যায় অর্থের ক্ষুধায়।
আমাদের একটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে—গুটিকয়েক ভুয়া ও অনিবন্ধিত পেজের অপকর্ম কখনোই পুরো মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতাকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। যেমন একজন ভুয়া চিকিৎসকের কারণে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয় না, তেমনি কিছু দায়িত্বহীন সাংবাদিক নামধারী কনটেন্ট নির্মাতার কারণে প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদাও খাটো হতে পারে না।
বিশ্বের সমাদৃত নিউজরুমগুলোতে সব সময় একটা প্রশ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ-“মানুষ কি শুধু খবরটি পড়বে, নাকি অনুভবও করবে?” এখানেই মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার সৌন্দর্য। ধরুন, শুধু লিখলেন “যুদ্ধে একটি শহর ধ্বংস হয়ে গেছে।” পাঠক জানবে। কিন্তু যখন ধ্বংসস্তূপের পাশে পড়ে থাকা শিশুর ভাঙা খেলনা, কিংবা এক মায়ের নীরব কান্না ক্যামেরার ফ্রেমে উঠে আসে-তখন সংবাদ আর কেবল তথ্য থাকে না, হয়ে ওঠে মানবতার আর্তনাদ। এটাই মাল্টিমিডিয়ার শক্তি মানুষকে শুধু জানানো নয়, ভাবানো।
তবে কি লেখার শক্তি কমে গেছে? কখনোই না। বরং শব্দের দায় আরও বেড়েছে। কারণ একটি দায়িত্বশীল লেখা শুধু খবর দেয় না; সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য শেখায়, প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে, সমাজকে সচেতন করে। আরেকটি বাস্তবতাও আমাদের মনে রাখতে হবে-সামাজিক মাধ্যম যত শক্তিশালী হোক, সেটি কখনো পেশাদার গণমাধ্যমের বিকল্প হতে পারে না। কারণ সামাজিক মাধ্যম খবর ছড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু আস্থা তৈরি করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা। যে সংবাদমাধ্যম পাঠকের বিশ্বাস অর্জন করে, যার ওয়েবসাইটে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফিরে আসে প্রকৃত শক্তি সেখানেই।
এখনই সময় অপসাংবাদিকতা, ভুয়া প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ছড়িয়ে সমাজে আতঙ্ক, বিভাজন ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। কারণ এটি কেবল সাংবাদিকতার সংকট নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং তথ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন। সময় বদলাবে, প্রযুক্তি বদলাবে, মাধ্যমও বদলাবে। কিন্তু সাংবাদিকতার মেরুদণ্ড কখনো বদলাবে না সত্য, দায়বদ্ধতা ও মানুষের আস্থা। শেষ পর্যন্ত জয় তাদেরই হবে, যারা মানুষের বিশ্বাসকে সম্মান করতে জানে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বনাম গুজব সাংবাদিকতা : বিভ্রান্তির আড়ালে সত্যের লড়াই

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা,২১ মে,বৃহস্পতিবার ::
ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিশাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ভোলায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ ভোলা জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিশার সাথে যে নৃশংস ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে, তা পুরো দেশের মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। সভ্য সমাজে এমন বর্বরোচিত ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অবিলম্বে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষক ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
দেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে তারা আরও বলেন, আজ ঘরে-বাইরে কোথাও শিশু ও নারীরা নিরাপদ নয়। এই নিরাপত্তার ব্যর্থতার দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে। যদি অতি দ্রুত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, তবে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল পরবর্তী সময়ে প্রতিনিধি দলটি ভোলা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জাগরণ ফাউন্ডেশনের নেত্রী শাহানাজ বেগম চিনু, সংগঠক মীর মোশারেফ অমি, এনসিপি নেতা শরীফ হোসেন, ভোলা জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা রাশেদ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে ভোলার জেলা প্রশাসক আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ে শাস্তির মুখোমুখি করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

শিশু রামিসা হত্যাকান্ডের বিচার ও ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জাহানুর বিবি জানেন না তাঁর বয়স কত। শৈশবের স্মৃতি বলতে তাঁর আছে নৌকায় পাতা বাবা-মায়ের সংসার আর তাঁদের সঙ্গে মেঘনার জলের বুকে ভেসে থাকার বিরতিহীন যাত্রা। তাঁর জন্ম এই নৌকায়। অল্প বয়সে বিয়ের পর সংসার গড়েছেন আরেক নৌকায়। এখন হয়তো বয়স ৪০ বা কিছুটা বেশি। পুরো একটা জীবন তাঁর কেটে গেল এই জলের বুকে।

জাহানুর বিবির সঙ্গে দেখা হয় ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাটের অদূরে মেঘনার তীরে। দুপুরের প্রখর রোদে একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। একটু পরই মাছ ধরতে যাবেন নদীতে। তাঁর পরনের সুতির শাড়ির আঁচল হাতের মুঠিতে নিয়ে কিছু একটা আবদার করছিল একটি শিশু। আমার দিকে হেসে বললেন, ‘ও আমার মেয়ে, নাম কোহিনূর।’ শিশুটির চোখের মণি দুটি হীরার মতো। নামের প্রতি সুবিচার তার চাহনিতে।

আমাদের শহুরে কিংবা গ্রামীণ মানুষদের জীবনে উৎসব, আনন্দ কিংবা বেদনা পালনের যেমন সুযোগ থাকে, জাহানুর বিবিদের তা নেই। তাঁদের আছে কেবল সংগ্রাম আর টিকে থাকার লড়াই। মাছ ধরতে পারলে তা বেচে চুলায় হাঁড়ি চড়বে। ফলে রোদ-বৃষ্টির দোহাই নেই। আবার যতই ঝড় আসুক, এই নৌকায়, এই জলের বুকে তাঁদের ভেসে থাকতে হবে। এই পৃথিবীর বুকে সত্যিই কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তাঁদের।

ইলিশা ঘাট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রাজাপুর খাল। এটি মেঘনায় পড়েছে। ভাসমান এই জীবনের আশ্রয় হিসেবে এখন খালেই রাত যাপন করেন তাঁরা। সেখানে আছে আরও শ খানেক পরিবার। সবাই মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা মূলত জলযাযাবর। নিজেদের বেদে হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

জাহানুর বিবি বললেন, ‘আমাদের জাগা নাই, জমিন নাই। কী খাইয়া বাঁচমু? মাছ ধরা ছাড়া উপায় নাই। চাইর মেয়ে, এক ছেলে আমার। স্বামী-সন্তানদের নিয়া মাছ ধরি। এই ধরেন, হাতিয়া, রামগতি, মতিরহাট এদিকেও চলে যাই মাছ ধরতে। আশপাশে ঘাট যেখানে পাই, সেখানে বেচে দিই।’

মাছ ধরে যে টাকা পান তা দিয়ে সংসার চলে? এমন প্রশ্নের পর জাহানুর বিবির চোখে বিষাদ নেমে আসে। খানিকটা চুপ করে বললেন, ‘না…আরও দেনা থাকে। দোকানের দেনা, দাদনের দেনা…’

নদীতে যখন ঝড় ওঠে তখন নৌকা নিয়ে খালে ঢুকে পড়েন তাঁরা। কখনো কখনো হঠাৎ ঝড় ওঠে। তখন আসলে ফেরার উপায় থাকে না। তটস্থচিত্তে নৌকা তীরে এনে ঝড় থামার অপেক্ষায় থাকেন।

মানতাদের নৌকায় অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হয় শিশুরা। যেসব শিশুদের সাঁতার শেখার বয়স হয়নি, ২৪ ঘণ্টাই তাদের পা নৌকার সঙ্গে একটি দড়িতে বাঁধা থাকে। তা না হলে হামাগুড়ি দিয়ে বা কোনো কারণে নদীতে পড়ে গেলেই নিশ্চিত মৃত্যু। গহিন জলে লাশটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেক বছর আগে জাহানুর বিবির একটি ছেলে এভাবে মেঘনায় পড়ে তলিয়ে গিয়েছিল।

মানতাদের এখন জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। তাঁরা ভোটও দেন। তবে এর বাইরে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কোনো সুযোগ তাঁরা পান না। তাঁদের জেলে কার্ড নেই, ফলে সরকারের তরফে কোনো বরাদ্দের আওতায় তাঁরা পড়েন না।

জাহানুর বিবির সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, পাশে বসেছিলেন তাঁর স্বামী মো. ইব্রাহিম। বয়স একবার বললেন ৫০, আবার বললেন ৫৫। তাঁরও জন্ম এমন একটি নৌকায়। এতগুলো বছর ধরে জলযাযাবরের জীবন কাটিয়ে এখন তিনি ক্লান্ত। মাটির বুকে একটি ঘর পেতে চান তিনি। সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মতো কোনো একটাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই চলবে। তিনি বললেন, ‘ঝড়ের মধ্যে স্ত্রী, বাচ্চাকাইচ্চা নিয়া মরি, না বাঁচি, আল্লায় রাখবে, না লইয়া যাইবে-এর ঠিক থাকে না। একখান ঘর হইলে খুব সুবিধা হয়।’

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মেঘনার বুকে জন্ম ! সেখানে সংসার !! সেখানেই মৃত্যু !!!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোজনরসিকদের জন্য ভোলায় প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘ফুডল্যান্ড মিট কর্নার’। ভোলা শহরের হোমিওপ্যাথিক কলেজ মোড় এলাকায় সুন্দরবন কুরিয়ার অফিস সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ পাশে নান্দনিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে এই খাবার প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে দুম্বা, উট ও ভেড়ার মাংসের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে গরু ও খাসির মাংস পরিবেশন করা হবে। বাসমতি চালের ভাতের সঙ্গে সুলভ মূল্যে এসব খাবার উপভোগ করতে পারবেন ক্রেতারা। এছাড়া বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাহারি সালাদ ও বিভিন্ন স্পেশাল আইটেম।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজকীয় পরিবেশে রুচিশীল খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে ভোজন বিলাসীদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। বাহারি আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আধুনিক সাজসজ্জা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শুধু খাবার নয়, বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এখানে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে বাউল শিল্পীদের সরাসরি সংগীত পরিবেশনার আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিশেষভাবে দুম্বা ও উটের মাংস পরিবেশন করা হবে। এছাড়া আগাম অর্ডারের ভিত্তিতেও স্পেশাল খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মনোরম পরিবেশে খাবার উপভোগের জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ফুডল্যান্ড মিট কর্নার কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় চালু হচ্ছে ‘ফুডল্যান্ড মিট কর্নার’

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের দুর্যোগে জেলায় প্রায় ২১ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুগডাল, চিনাবাদাম ও সয়াবিন। আকস্মিক এই ক্ষতিতে জেলার শত শত কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার অধিকাংশ এলাকায় মুগ, চিনাবাদাম ও সয়াবিন ঘরে তোলার মৌসূম চলছিল। ঠিক এমন সময় টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলি জমিতে পানি জমে যায়। অনেক জমিতে কয়েকদিন ধরে পানি আটকে থাকায় ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বেশি।

ভোলা সদর উপজেলার চরসাসাইয়া ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ৬০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন ও ১২ শতাংশ জমিতে মুগডালের আবাদ করেছিলাম। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। এখন ফসল তোলার আর কোনো সুযোগ নেই। প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই উপজেলার আলীনগর এলাকার কৃষক পারভেজ জানান, লাভের আশায় ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এখন পুরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাঠে যা ছিল সবই শেষ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় আছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে দীর্ঘ সময় পানি আটকে রয়েছে। খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাপ্তা এলাকার কৃষক মো: মাসুদ বলেন, এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। যদি পানি নামার ব্যবস্থা থাকত তাহলে এত ক্ষতি হতো না।

আলীনগর এলাকার কৃষক রিপন বলেন, জমির সঙ্গে খালের সংযোগ থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কৃষকদের কথা শুধু বলা হয়, বাস্তবে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসূমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু মৌসূমের শেষ সময়ে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অনেক কৃষকই এখন নতুন করে আবাদ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছেন।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ বলেন, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এক কোটি ৬২ লাখ টাকার মুগডাল, ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চিনাবাদাম এবং দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি : দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান করে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ভাটা ২টির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন ভ্রাম্যমান আদালত বা মোবাইল কোর্ট। সোমবার জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের নেতৃত্বে ছিলেন ভোলা জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জয়নুল আবেদীন ও মোঃ নুরুল আলম।

পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ তোতা মিয়া’র প্রসিকিউশন এবং হিসাব রক্ষক মোঃ মতিউর রহমানের সার্বিক সহযোগীতায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট বোরহানউদ্দিন উপজেলাধীন হাসাননগর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আলম ব্রিকসটি অবৈধভাবে চালানোর অপরাধে নগদ ৪ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন।

অন্যদিকে একই এলাকায় অবস্থিত মেসার্স এসএনএস ব্রিকসকে নগদ ১ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন মোবাইল কোর্ট। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের মেশিন দ্বারা ইটের ভাটাগুলো ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে এবং পানি দিয়ে ধংস করে দেয়া হয়।

সকাল ১১টা থেকে বিকাল সারে ৪টা পর্যন্ত চলা মোবাইল কোর্টকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি দল, কোস্টগার্ডের একটি টিম, জেলা পুলিশের একটি টিম ও ফায়ার সার্ভিসের এক দল সদস্য। ভোলা জেলার সর্বস্তরে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরহানউদ্দিনে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ২ অবৈধ ইটের ভাটা বন্ধ করেন প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সরকারি কলেজে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হাসান। আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি অনিশ্চয়তায় পড়া এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তার ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি আগামী চার বছরের শিক্ষাজীবনের সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, বাবা হারা পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মেধাবী ওই শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হাসান ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে পড়ালেখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত ইসলাম ইফতি বলেন, ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল শুধু রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা সবসময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো, একটি ভবিষ্যৎকে আলোকিত করা। আমরা চাই, অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন থেমে না যাক। মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমেই ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হাসান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর চোখের স্বপ্ন কখনো টাকার অভাবে থেমে যেতে পারে না। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় ছাত্রদল সবসময় কাজ করে যাবে।

শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এ ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ তরুণদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

শিক্ষার্থীর পরিবারও এ সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাবা হারা আমাদের সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন প্রায় ভেঙে যাচ্ছিল। এমন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সত্যিই মানবিকতার বড় উদাহরণ। মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এই সহায়তা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

এতিম শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিলো ভোলা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
হঠাৎ কালবৈশাখীর তা-বে ল-ভ- হয়ে গেছে দ্বীপ জেলা ভোলা। ঝড়ের তীব্র আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিল্পকারখানা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় টানা দুই দিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই অর্থের অভাবে এখনো ভাঙা ঘর মেরামত করতে পারছেন না। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভোলার চরসামাইয়া গ্রামের অসহায় ফাতেমা বেগম। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে কোনোরকমে একটি ছোট ঘর তুলে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি।

কিন্তু সোমবার বিকেলে মাত্র পাঁচ মিনিটের ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই ল-ভ- হয়ে যায় তার সেই একমাত্র আশ্রয়স্থল। ঝড়ের তা-বে ঘরটি মাটির সঙ্গে মিশে গেলে এখন খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফাতেমা।

অর্থের অভাবে নতুন করে ঘর তুলতে পারছেন না তিনি। দুই দিন ধরে সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তা আর কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে অসহায় এই মায়ের।

ফাতেমা জানান, আমার স্বামী দিন মজুরের কাজ করে ঢাকাতে। আমি ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কোন রকম টিকে আছি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আমার ঘরটা মাটির সাথে মিশায়া দিছে। আমি যে ঘর তুলবো সেই অর্থও আমার কাছে নাই। এখন সরকার যদি ইকটু সহযোগিতা করতো তাহলে কোন রকম ঘরটা দাড় করাতে পারতাম।

ফাতেমার মে ঘূর্ণিঝড় আমার বই খাতা সব ভিজি গেছে। আমি এখন সেগুলো পরতেও পারিনা স্কুলেও যেতে পারিনা। আমাদের থাকতে অনেক কষ্ট হয়। অন্যের বাসায় থাকি।

ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়ন সেকমা গ্রাম। এখানে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক। ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকটা মানবতার জীবন যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

এই গ্রামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের বাসিন্দা মনজোনা বলেন, ঘরটা পরে যাওয়ার কারনে থাকার মতো কোন পরিবেশ নাই।খেতেও কষ্ট। কেউ এসে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। পোলাপান নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাচ্ছি।

প্রবল বাতাস আর ঝড়ের তা-বে ল-ভ- হয়ে যায় ভোলা বিসিক শিল্পনগরীসহ সদর উপজেলার চরসামায়া, ভেলুমিয়া ও আলীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিসিকের মধ্যে থাকা মেঘনা লবণ কারখানা, মুড়ি ও ভূসির একাধিক কারখানা। মেঘনা লবন কারখানার টিনের চালা উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে দেয়াল। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হইছে।

মেঘনা লবন কারখানায় মালিক ইয়াদ জানান, মাত্র ৫ মিনিটের ঘূর্ণিঝড় আমাদের লবন কারখানা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

আমারা ধারদেনা করে ২ থেকে ৩ বছর কষ্ট করে কারখানা ধার করিয়েছি। আগামী সপ্তাহে চালু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কারখানা ক্ষতি গ্রস্ত হওয়ায় আমাদের স্বপ্ন মাটির সাথে মিশে গেছে।

আমাদের ঘরের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার লবন পানি হয়ে গেছে। আমাদের কারখানা পুরা মাটির সাথে মিশে গেছে। আমাদের স্বপ্নটা ভেঙে গেছে। আমি অনেক নিঃষ হয়েগেলাম। প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমাদের। আমরা এতো টাকা কোথায় পাবো। এখন সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে ঘুরে দাড়াঁনো সম্ভব।

গত এক সপ্তাহ আগে চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নেও ঝড়ে অন্তত ২৫টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আর ঝড়ের পর থেকেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফুজ্জামান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হলেই আমরা আমাদের বরাদ্দ থেকে চাল ও টিন দেওয়া হবে।

আর্থিক অবস্থার ভালো না থাকার কারনে। ঘরবাড়ি তুলতে পারছেনা অনেকেই। তাই দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিলবে সহযোগিতা এমনটা প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

দু’দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার