
নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য, শ্রেণিতে পাঠদানে অবহেলা, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমন একটি চিঠির এসে পৌছেসে ভোলার বাণী’র হাতে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ ও ভোলার সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: আমির ফয়সাল (বাংলা), আবদুল্লাহ আল মনির (বাংলা), শেখ আবু তালেব (ভৌত বিজ্ঞান), মাকছুদের রহমান (জীব বিজ্ঞান), মোঃ নাজির উদ্দিন (ব্যবসায় শিক্ষা), জহর লাল দাস (কৃষি শিক্ষা), মোঃ মুবীন মুন্সী (শরীরিক শিক্ষা), মো: কামরুল ইসলাম (গণিত) বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোচিং সেন্টারে পাঠদানের জন্য উৎসাহিত ও প্রভাবিত করেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং একাডেমিক ফলাফলে ফেল করারও ভয় দেখান তারা। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ পরিপন্থী এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর। যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি এবং বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এ সকল শিক্ষকগণ একটানা ২১/২২ বছর অত্র জেলায় ও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরী করে আসছেন। যার ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং বিদ্যালয়ে উক্ত শিক্ষকগণ এক প্রকার সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। বিগত বছরসমূহে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য সহকারী শিক্ষকগণকে এই সিন্ডিকেট নানা রকম ভয়ভীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখানোর মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যে অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বদলি হতে বাধ্য করতেন। সার্বক্ষণিক উক্ত শিক্ষকগণ কোচিং-এ পাঠদানের কারণে তার নৈতিক দায়িত্ব বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময় ক্লান্ত, পাঠদানের অমনোযোগী হয়ে পড়েন ও ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণি কক্ষে না গিয়ে শিক্ষক রুমে বসে থাকেন। তখন প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষকগণ তাদের যথা সময়ে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে যাওয়ার জন্য বললে তার সাথে খারাপ আচারণ ও নানা রকম ভয়ভীতি প্রদান করে থাকেন।
আরো অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন না ও ছুটি হওয়ার পূর্বেই বিদ্যালয় ত্যাগ করে থাকেন। উক্ত শিক্ষকগণের কাছে যারা কোচিং-এ পাঠদান করেন এরকম অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না। তাছাড়াও যারা উপস্থিত থাকে তাদের বিরতির সময়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করার জন্য উল্লেখিত সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদেরকে প্ররোচনা দিয়ে থাকেন। নিয়মিত সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি ক্লাস শিক্ষকদের কয়েক দফা মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হলেও উক্ত শিক্ষকরা কোন সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
আরো জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ যে কোন অযুহাতে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের রাস্তায় নামিয়ে নানা রকম ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপকর্ম করিয়ে থাকেন। স্কুলের ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক শেখ আবু তালেব প্রতিষ্ঠানের নামে বা বেনামে তিনি নিজে এডমিন হয়ে অবৈধভাবে প্রায় ১০/১১টি ফেসবুক একাউন্ট পরিচালনা করে থাকেন। এই একাউন্টের মাধ্যমে তিনি যে সকল শিক্ষকগণ তাদের বিরুদ্ধাচারণ করতেন ওই সকল শিক্ষকগণের নামে সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রপাগান্ড ছড়িয়ে সমাজে সম্মান ক্ষুন্ন করে থাকেন। লোক-লজ্জ্বার কারণে ওই সকল শিক্ষকগণ নিরুপায় হয়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এছাড়াও শিক্ষক শেখ আবু তালেব বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার মত বিধি বর্হিভূতভাবে ভ্রমণ বিল নিজের নামে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর দায়িত্বে থেকে বরাদ্দকৃত ৩৫ হাজার টাকার বই জন্য ক্রয় না করে টাকা আত্মসাৎ করেন।
অন্যদিকে কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক (কম্পিউটার ল্যাবের দায়িত্বে থাকা) জহর লাল দাস বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক মলামাল ক্রয়ের সরকারি বরাদ্দের তহবিল থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিধি বর্হিভূতভাবে নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচার দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কোয়ার্টারে থেকে নিজে কম্পিউটারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
অপরদিকে গত ১৪ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষকগণের কাছে পাঠদান করেন এমন শিক্ষার্থীরা বিরতির সময়ে ব্যাগ কাধে নিয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার জন্য হইচই করে গেটের সামনে আসলে প্রধান শিক্ষক আজাহারুল হক তাদের ক্লাসে পাঠিয়ে দেন। উক্ত শিক্ষকগণ ছাত্রদের পালানো দৃশ্য শিক্ষক মিলনায়তন বসে দেখেও কোন প্রকার কর্ণপাত করেননি। প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বললে এই সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষকের সাথে আদাচরণ, নানা রকম উসকানিমূলক কথা-বার্তা এবং নানা রকম ভয়-ভীতি প্রদান করেন। উক্ত ডিন্ডিকেটের শিক্ষকদের সাথে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে ভাল কোন সম্পর্ক নাই। এমন পরিস্থিতিতে উক্ত সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণ তাদের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তারা ওই সকল শিক্ষকদের বাসায় বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: আমির ফয়সাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এছাড়া অপর অভিযুক্ত শিক্ষক শেখ আবু তালেব এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভোলার বাণী’কে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। যিনি বা যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে তা যদি সত্য প্রমাণিত হয় তা হলে সারকারি চাকুরী বিধি অনুযায়ী।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন