শিরোনাম :
নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে পৃথকভাবে দু’স্পটে দেড় লাখ টাকা জরিমানা লালমোহনে ২শ’ ৪১ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদন দৌলতখানে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত বোরো মৌসুমে জমিতে লাইন বা সারি করে ধান রোপণের গুরুত্ব তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ভোলার চরাঞ্চলের মানুষ বোরহানউদ্দিনে আনসার বাহিনীর ব্যতিক্রমী মেডিকেল ক্যাম্প বরিশাল নগরীতে জাসাসের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও কোরআন বিতরন ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ কারবারি আটক ইসলামী আন্দোলনসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বৈধ ৫ প্রার্থী

বোরহানউদ্দিনে আনসার বাহিনীর ব্যতিক্রমী মেডিকেল ক্যাম্প

প্রতিম গাঙ্গুলী
  • আপডেট সময় : Tuesday, January 6, 2026
  • 67 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও সদস্যাদের জন্য বোরহানউদ্দিনে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই মেডিকেল ক্যাম্পে চোখের চিকিৎসা, চোখের ছানি অপারেশন, দাঁতের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।বোরহানউদ্দিন উপজেলা আনসার বিডিপি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায়ের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বরিশাল রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আব্দুস সামাদ, বিভিএম, পিভিএমএস।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভোলা জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ রাশেদ বিন মামুন। এ সময় বক্তারা বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫০০ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ
নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক

ইতিহাসের মহাকাব্যে এমন কিছু চরিত্রের উদয় হয়, যাঁরা সময়ের স্রোতে গা ভাসাতে নয়, বরং স্রোতের গতিপথ বদলে দিতে আসেন। যখন কোনো পরাক্রমশালী নক্ষত্র নিজ কক্ষপথের আভিজাত্য ত্যাগ করে ধূলিকণার মিছিলে মিশে যায়, তখনই জন্ম নেয় নির্মল সেনের মতো এক একটি নির্মোহ উপাখ্যান। ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে যখন তাঁর জন্ম, তখন বাংলার আকাশ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বারুদে তপ্ত। শৈশব থেকেই প্রথাগত সচ্ছলতার মোহ ত্যাগ করে মেহনতী মানুষের আর্তনাদকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করার যে ব্রত তিনি গ্রহণ করেছিলেন, তা কোনো সাময়িক আবেগ ছিল না; বরং তা ছিল এক আজন্ম দার্শনিক অঙ্গীকার। ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে যখন তিনি ‘বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল’ (RSP)-এ যোগ দেন, তখন থেকেই ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে শোষিতের অধিকারকে ‘পরম সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করেন। দেশভাগের সেই দহনকালেও যখন অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মোহে শেকড় বিচ্ছিন্ন হচ্ছিলেন, নির্মল সেন তখন এই বাংলার মাটিকে আঁকড়ে ধরে প্রমাণ করেছিলেন যে, বিপ্লবীর কাছে মানচিত্রের চেয়েও তার ওপর বসবাসরত মানুষের মর্যাদা অনেক বড়।

​নির্মল সেনের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অন্যতম অগ্নিঝরা অধ্যায় ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন। তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সমসাময়িক রাজনৈতিক নথিপত্রে দেখা যায়, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ যখন উত্তাল, তখন তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে সরকারের বিশেষ নজরদারিতে ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় লিফলেট বিলি এবং গোপন সাংগঠনিক সভার সাথে যুক্ত থাকার দায়ে ১৯৫২ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেও তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের স্বপ্ন বুনেছিলেন। তাঁর এই রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় তিনি মোট ছয়বার কারাবরণ করেন। এর মধ্যে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের আন্দোলন চলাকালীন তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক বছর তিনি বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেন। তাঁর কারাজীবনের এই প্রতিটি মুহূর্ত ছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক একটি দালিলিক প্রতিবাদ, যা তাঁকে জনমানুষের অকুতোভয় নেতায় পরিণত করেছিল।

​তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ২৫ শে মার্চের কালরাত্রির নৃশংসতার পরেই তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তৎকালীন আরএসপি নেতা হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধ সংহতি সমিতি’র মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গঠনে তাঁর অবদান ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। কোলকাতার ডেকাস লেনের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সমন্বয় এবং আকাশবাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে সাহসের সঞ্চার করত। যুদ্ধের সময় চরম অর্থকষ্টে থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত এক পয়সাও তিনি নিজের স্বার্থে ব্যয় করেননি, বরং সামান্য শুকনো মুড়ি খেয়ে কাটিয়েছেন দিন। তিনি কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্রের জন্য লড়াই করেননি, বরং সেই স্বাধীনতার ভেতর দিয়ে একটি শোষণমুক্ত সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

​স্বাধীনতার পর তাঁর সংগ্রাম থেমে থাকেনি; বরং তা এক নতুন মাত্রা লাভ করে। আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন বামপন্থী শক্তির অন্যতম মেরুদণ্ড। এছাড়া ভূমিহীন কৃষকদের অধিকার আদায় এবং শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির লড়াইয়ে তিনি রাজপথ থেকে শুরু করে নিজের লেখনীতে অবিরত সোচ্চার ছিলেন। সাংবাদিকতাকে নির্মল সেন কেবল পেশা নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী দার্শনিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ‘দৈনিক বাংলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও ক্ষমতার মোহ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে তাঁর লেখা ঐতিহাসিক কলাম—‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’—ছিল আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ বা সামাজিক চুক্তির এক নতুন ভাষ্য। রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের এই গভীর দাবিটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতাকে এক নিদারুণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল।

​নির্মল সেনের রচিত গ্রন্থাবলী তাঁর প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও নান্দনিক জীবনবোধের আয়না। তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার জবানবন্দী’ কেবল এক ব্যক্তির কাহিনী নয়, বরং এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ। ‘লেনিন থেকে ক্রুশ্চেভ’ গ্রন্থে তিনি সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের বিবর্তনকে যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন, তা বিরল। তাঁর ‘মানুষের সমাজ’ ও ‘রুশ-জাপান যুদ্ধ’ গ্রন্থগুলোতে ফুটে ওঠে তাঁর গভীর তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা এবং ইতিহাসের অলিগলি চেনার অদ্ভুত ক্ষমতা। তাঁর গদ্য শৈলী ছিল অত্যন্ত ঝরঝরে কিন্তু এর অন্তরালে থাকত তীক্ষ্ণ শ্লেষ আর গভীর দর্শন। তিনি শব্দের কারুকার্যে এক ধরণের ‘নান্দনিক বাস্তববাদ’ তৈরি করতেন; যেখানে জীবনের রূঢ় সত্যগুলো কেবল শুষ্ক তথ্য হয়ে থাকে না, বরং সাহিত্যের সুষমায় তা পাঠকের হৃদয়ে এক গভীর মানবিক হাহাকার হয়ে ধরা দেয়। তিনি জানতেন কীভাবে ইতিহাসের কাঠখোট্টা দলিলকে মানুষের রক্ত-মাংসের গল্পের সাথে মিলিয়ে দিতে হয়। তাঁর প্রতিটি গ্রন্থই তাই কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের বিপ্লবীদের জন্য এক একটি গবেষণাধর্মী ম্যানিফেস্টো।

​নির্মল সেনের জীবনদর্শন ছিল আধুনিক ভোগবাদী রাজনীতির বিপরীতে এক নির্মোহ প্রাচীর। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি আমৃত্যু ঢাকা প্রেস ক্লাবের ছোট্ট এক কক্ষে সাধারণ জীবনযাপন করে প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের ভালোবাসা ও আদর্শের চেয়ে বড় কোনো সিংহাসন পৃথিবীতে নেই। তাঁর সেই ছোট্ট কক্ষে একটি সাধারণ তক্তপোশ আর বইয়ের স্তূপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না—এই দৃশ্যটিই ছিল ক্ষমতার মদমত্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর মৌন কিন্তু বজ্রকঠিন প্রতিবাদ। তাঁর এই নিস্পৃহ জীবনবোধ তাঁকে বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক জর্জ অরওয়েল বা অ্যালবার্ট কামুর মতো নির্ভীক বুদ্ধিজীবীদের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়। বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে যখন সাংবাদিকতা করপোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি, তখন তাঁর সেই ‘গণমানুষের মুক্তি সংগ্রাম’ আমাদের নতুন করে পথ দেখায়। তিনি ছিলেন এই বদ্বীপের এক দার্শনিক স্থপতি, যিনি শব্দ আর সংগ্রামের ইটের ওপর গেঁথেছিলেন এক মুক্ত মানচিত্রের স্বপ্ন।

​২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি এই হিমালয়প্রতিম ব্যক্তিত্বের মহাপ্রয়াণ ঘটলেও তাঁর সত্তা মিশে আছে এই জনপদের প্রতিটি ধূলিকণায়। নির্মল সেন কেবল একজন মানুষ ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি জীবন্ত মানদণ্ড—যাঁর নির্মোহ জীবন বারেবারে আমাদের ক্ষুদ্রতাকে উপহাস করে যায়। তিনি প্রস্থান করেননি, বরং তাঁর সংগ্রামী দর্শন আজ এক প্রবহমান নদীর মতো মেহনতী মানুষের প্রতিটি মিছিলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। মহাকালের বিশালতায় নশ্বর দেহের বিলয় ঘটলেও, মানুষের মুক্তির মিছিলে তিনি এক অবিনাশী ধ্রুবতারা। যতক্ষণ পৃথিবীতে বৈষম্য থাকবে, যতক্ষণ মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই জারি থাকবে, ততক্ষণ নির্মল সেন বেঁচে থাকবেন প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের অকুতোভয় অস্তিত্বে—এক চিরকালীন আলোকবর্তিকা হয়ে।

লেখক: (ডেপুটি রেজিস্ট্রার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়)

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক


নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে আলাদাভাবে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভাম্যমান আদালত। জানা গেছে, বিভিন্ন সুত্রে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন জানতে পারেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আগরবাড়ি ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের উত্তর মানপাশা গ্রামে অবৈধভাবে কৃষিজ জমিতে ড্রেজার এর পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে একদল ভুমিখেকো। তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার ইউএনওকে অবহিত করলে ইনএনও এসি ল্যান্ডকে সরেজমিনে পাঠান। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বালু উত্তোলন এর অভিযোগে আগরবাড়িতে ৮০ হাজার টাকা ও উত্তর মানপাশায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যপক খুশির জোয়ার বইছে। কারন বালু উত্তোলনকারিরা এলাকার প্রতাপশালী হওয়ায় তারা কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি। স্থানীয় কৃষকরা জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডকে অভিনন্দন জানান ও তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
সোমবার দুপুরে এ অভিযানে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মানপাশা নামক স্থানে কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে সদর এসি ল্যান্ড সদর নেতৃত্ব দেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে পৃথকভাবে দু’স্পটে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠেন কৃষকরা। যার ফলে মৌসুম শেষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এই উপজেলায় আমন মৌসুমে ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, লালমোহনে এবারের আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং ৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়। এসব জমিতে আমন মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার ৫২০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়। প্রতি মন গড়ে ৯০০ টাকা বাজার দরে মোট ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয় এই আমন মৌসুমে।
কালমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল জানান, এ বছরের আমন মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ এবং ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান-১১ ও ব্রি-ধান-৫২ আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা নিয়ে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে জমিতে চারা রোপণের পর আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। যার জন্য ফলন ভালো পেয়েছি। ক্ষেত থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো।
লালমোহন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার কৃষক মো. আব্দুল লতিফ জানান, এবারের আমন মৌসুমে ২০০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। জমির সব ধান এরইমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। ২০০ শতাংশ জমি থেকে ধান পেয়েছি দেড়শত মন। বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি করেছি ৯২০ টাকায়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। যার ফলে এই উপজেলায় কিছুটা দেরিতে ধানের আবাদ হয়েছে। দেরিতে ধানের আবাদ হলেও কৃষকরা তাদের জমি থেকে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এরমাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই উপজেলায় অধিক গড় ফলন অর্জন সম্ভব হয়েছে। পুরো আমন মৌসুমে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন। এছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণও দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

লালমোহনে ২শ’ ৪১ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
“ডিমে আছে প্রোটিন, খেতে হবে প্রতিদিন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ১০৪ নম্বর নলগোড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কৃষি ইউনিটভুক্ত প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিন মাহামুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিজেইউএস-এর উপপরিচালক ডা. অরুণ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জিজেইউএস শাখা ইনচার্জ রতনা রানি সিংহ।
ক্যাম্পেইনে ডিমের পুষ্টিগুণ, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ডিমের গুরুত্ব এবং নিয়মিত ডিম গ্রহণের উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র‌্যালি, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ডিম একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা অপুষ্টি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আরও বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টি বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে পুষ্টিকর ডিম খাওয়ানো হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

দৌলতখানে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

কৃষি ডেস্ক :: 

কুশি উৎপাদন বৃদ্ধি:

★নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণের ফলে প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো ও পুষ্টি পায়।
★গবেষণায় দেখা গেছে, লাইন রোপণে কুশির সংখ্যা ২০-২৫% পর্যন্ত বেশি হয়।

ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি:

গাছের সমান বৃদ্ধি ও ভালো শীষ গঠনের কারণে
প্রচলিত ছিটানো রোপণের তুলনায় ফলন ১০–১৫% পর্যন্ত বেশি পাওয়া যায়

সার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি:

সার সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যায়
ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের অপচয় ১৫-২০% কমে

সেচ ব্যবস্থাপনা সহজ ও পানি সাশ্রয়:

সমান দূরত্ব থাকায় জমিতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
বোরো মৌসুমে লাইন রোপণে ২০–২৫% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব

আগাছা দমন সহজ ও খরচ কম:

সারি ধরে নিড়ানি ও পাওয়ার উইডার চালানো যায়
আগাছা দমনে শ্রম ও খরচ ৩০-৪০%

রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হ্রাস:

গাছের মাঝে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করায়
ব্লাস্ট, শীথ ব্লাইট ও পাতা ঝলসানো রোগের ঝুঁকি কমে

যান্ত্রিক চাষে উপযোগিতা:

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার উইডার ব্যবহারে সুবিধা
শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদ্ধতি

উৎপাদন খরচ হ্রাস ও লাভ বৃদ্ধি:

সার, পানি ও শ্রম সাশ্রয়ের ফলে
প্রতি হেক্টরে উৎপাদন খরচ গড়ে ৫-৮ হাজার টাকা কমে

বোরো ধানের জন্য সুপারিশকৃত রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি : ২০-২৫ সেমি
গাছ থেকে গাছ : ১৫-২০ সেমি
প্রতি গোড়ায় চারা : ২-৩টি

বোরো মৌসুমে লাইন করে ধান রোপণ একটি বৈজ্ঞানিক, লাভজনক ও টেকসই চাষ পদ্ধতি, যা ফলন বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লেখক:

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, গ্রামীণ কৃষি,নাগরিক কন্ঠ,সংবাদ প্রতিক্ষণ

★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরো মৌসুমে জমিতে লাইন বা সারি করে ধান রোপণের গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে ভোলা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশা, সূর্যহীন দিন ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এই জেলার জনজীবন। গত কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। নির্বাচনকালীন পরিবেশ বিরাজ করলেও শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে আগের মতো ভিড় নেই। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে ও হতদরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে ভোলার চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি ভয়াবহ। ভোলা সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন চরে বসবাসরত লক্ষাধিক নিম্নআয়ের মানুষ শীত মোকাবিলায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ।
ভোলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, কোল্ড অ্যালার্জি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিনে কয়েক শ মানুষ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।
চরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও করুণ। ঢালচর, চরকুকরি-মুকরি, চর মাদ্রাজ, চর নিজাম, চর শাহজালাল ও চর কলাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ঝুপড়ি ঘরে উত্তরের হিমেল বাতাস সরাসরি ঢুকে পড়ছে। ভোলা সদর উপজেলার চরকালীর বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, দিন আনি দিন খাই। পুরোনো একটা সোয়েটার আর পাতলা কাঁথা দিয়েই কোনো রকমে রাত পার করি।


তজুমদ্দিন উপজেলার চর নাসরিনের বাসিন্দা বৃদ্ধা আয়শা খাতুন বলেন, শীত এলে অনেক জায়গায় কম্বল দেওয়া হয়। কিন্তু চরের মানুষ সব সময়ই অবহেলিত। এখন ভোটের সময় হলেও আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না।

ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সোমবার ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আজিম উদ্দিন বলেন, এ বছর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তীব্র শীতে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ভোলার চরাঞ্চলের মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও সদস্যাদের জন্য বোরহানউদ্দিনে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই মেডিকেল ক্যাম্পে চোখের চিকিৎসা, চোখের ছানি অপারেশন, দাঁতের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।বোরহানউদ্দিন উপজেলা আনসার বিডিপি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায়ের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বরিশাল রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আব্দুস সামাদ, বিভিএম, পিভিএমএস।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভোলা জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ রাশেদ বিন মামুন। এ সময় বক্তারা বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫০০ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরহানউদ্দিনে আনসার বাহিনীর ব্যতিক্রমী মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের ডেঙ্গু সরদার রোডের সরদার বাড়ি জামে মসজিদে মঙ্লবার (৬ জানুয়ারী) জোহরবাদ অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মোনাজাতে মহানগর জাসাস এর সভাপতি মীর আদনান তুহিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির নেতা সৈয়দ আহসান কবির হাসান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এইচ এম তসলিম উদ্দিন,সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন নাহিদ সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন, অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুহুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম বাচ্চু, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আজাদ তালুকদার, যুগ্ম আহবায়ক সবুজ দুরানী, সেচ্ছাসেবক দলের নেতা খান মোঃ আনোয়ার, ১৩ ন্য ওয়ার্ড বিএনপির নেতা যথাক্রমে ফেরদৌস খান মুনীর, হাসিব আহমেদ অপু, অ্যাড আঃ বারেক, মীর তানভীর আহমেদ প্রমুখ। দোয়া মোনাজাতের আগে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরীফ বিতন করা হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বরিশাল নগরীতে জাসাসের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও কোরআন বিতরন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ কারবারি ডালিম মৃধা (৫০) কে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। ৬ জানুয়ারী বেলা সাড়ে ১২ টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস আই হারুনার রশিদ এর নেতৃত্বে একটি টিম ঝালকাঠি পৌরসভাধীন ০৯নং ওয়ার্ডস্থ পুরাতন কলাবাগান যমুনা তেলের ডিপোর সামনে থেকে ১০ পিচ ইয়াবাসহ আটক করে। আটককৃত ডালিম মৃধা একই এলাকার মৃতঃ আশ্রাব আলী মৃধার

ছেলে। ডালিম মৃধার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ঝালকাঠি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে ডিবি অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদ নিশ্চিত করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় মাদক নির্মূলে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদ জেলা জুড়ে মাদক নির্মূলে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে জেলায় একের পর এক মাদক কারবারিকে আটক করে আইনের আওতায় আনছেন। অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদ এর সাফ কথা মাদক কারবারি কারাগারের বাহিরে থাকতে পারবে না যতদিন তিনি ডিবিতে তিনি থাকবেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে ভোলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংসদীয় ভোলা-৪ (১১৮) আসনে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এ ঘোষণা দেন।
এ আসনে যে সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতায়ীতাবাদী দল (বিএনপি) নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জাপা) মোঃ মিজানুর রহমান, আম জনতার দলের জামাল উদ্দিন রুমি, জাতীয়তাবাদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আবুল কালাম। এ সময় দলীয় প্রার্থী এবং প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
যে কারণে মনোনয়ন বাতি হলো : জেলা রিটার্নিং অফিসার ডা. শামীম রহমান ভোলা-৪ আসনে সম্পদের বিবরণে আয়কর রিটার্ণের গড়মিল থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল মোকাররম মো: কামাল উদ্দিন এবং সমর্থকদের ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের প্রার্থীতা বাতিল করেন।
উল্লেখ্য, এ আসনে বিভিন্ন দলের ৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাকি ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ইসলামী আন্দোলনসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বৈধ ৫ প্রার্থী