বার্তা সম্পাদক :: বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মিদের হামলার ঘটনায় রাতভর মাঠে সরব ছিলো হাজারো নেতাকর্মি, সকালেও তারা শ্রমিকলীগের মাধ্যমে বরিশাল নগরীর দুটি বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সকল গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের ও গ্রেফতার অভিযান শুরু করার পর পাল্টে যায় চিত্র।
দুপুরের পর থেকে পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন পুলিশের হাতে। এ ঘটনায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু ও রুপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবুসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, দুটি মামলার মধ্যে একটির বাদী বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান এবং অপরটির বাদী পুলিশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মামলায় তার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর পুলিশের দায়ের করা মামলায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর আক্রমণ ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওসি আরও জানান, দুটি মামলায় ৩০-৪০ জনের মতো নামধারী এবং কয়েকশত অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। এদিকে গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে নগরের কালিবাড়ি রোডস্থ মেয়রের বাসভবন হঠাৎ করেই ঘিরে ফেলেন র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা।
এ সময় সেখানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। মেয়রের বাসার ভেতরে নেতাকর্মীরা যেতে চাইলে তাতেও পুলিশ বাধা দেয়। তবে কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে যান। এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল রাতের ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন তাদের কেউ কেউ ওখানে অবস্থান করছেন। সেজন্য সেখানে যাওয়া, তবে সেখানে গিয়ে সেরকম কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কাউকে সেখান থেকে আটকও করা হয়নি।
ঘটনার শুরু যেভাবে… বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে ব্যানার সরানোকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের গুলিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত। এদিকে মেয়রের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছাত্রলীগ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা থানা কাউন্সিলের প্রধান ফটকে এসে জড়ো হয়। পরে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দিকে ইট পাটকেল ছোঁড়ে। এসময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিক্ষুব্দরা বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থান নিলে সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এর মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে হট্টগোল বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেইসঙ্গে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের স্টাফদের সঙ্গে ঝামেলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। শুনেছি আনসার সদস্যরা গুলি চালিয়েছে। আর এ নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনার জেরে থানা কাউন্সিলের সামনের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের ওপর ময়লা ও ময়লাবহনকারী গাড়ি দিয়ে রাস্তা আটকে দিয়েছে করপোরেশনের কর্মচারীরা। এতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এনামুল হক জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান যেটুকু জানিয়েছেন, তার বাসভবন এলাকায় কিছু লোক ব্যানার খুলতে আসে। কিন্তু সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় রাতের বেলা এভাবে ব্যানার খুলতে নিষেধ করেন তিনি। সেসময় আগত লোকদের সঙ্গে বাগ-বিত-া হয় এবং তারা নির্বাহী কর্মকর্তার নিষেধ অমান্য করে বাসভবনে প্রবেশ করতে উদ্যত হন। এসময় নিরাপত্তার খাতিরে দায়িত্বরত আনসার বাহিনী গুলী ছোঁড়ে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দিকে কিছু লোক এগিয়ে গেলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এসময় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া ইউএনও দাবি করেছেন তার বাসভবনে দায়িত্বরত কয়েকজন আনসার সদস্যও আহত হয়েছে। এছাড়া তিনি আরো জানান, ময়লা ও গাড়ি দিয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কটি অবরোধ করা রাখা হয়েছে। সেগুলো সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলছে। বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুনিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শোক দিবস উপলক্ষে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের ব্যানার ও পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসে।
রাতে লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তাদের সকালে আসতে বলা হয়। এ কারণে তারা আমাকে গালিগালাজ করে। আমার বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ছররা গুলি করা হয়েছিল। আমার গায়ে লেগেছিল, ব্যথা পেয়েছি। আমার গায়ে জ্যাকেট ছিল। সেসময় সঙ্গের লোকেরা আমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। তাদের গুলি লেগেছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১০ প্লাটুন বিজিবি বরিশালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগরীতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠে থাকবেন অতিরিক্ত ১০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিজিবি ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা জোন থেকে ১০ প্লাটুন বিজিবি এসেছে। এছাড়া পিরোজপুর ও পটুয়াখালী থেকে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসেছেন। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান মধ্যরাতে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, যে অবস্থায় আমি আছি সেখানে বক্তব্য দেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। আমার কোভিডে আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবা-মা সরকারি বাসভবনের ওপর থেকে দেখছিলন কি হচ্ছে বাইরে। তিনি বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৫-২০ জনের একটি দল মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের অফিস কম্পাউন্ডের পাশে ঘোরাঘুরি করছিলো। তখন আনসার সদস্যরা আমাকে জানায়, বেশকিছু ছেলে-পেলে আমাদের কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেছে।
এটা সিকিউর এলাকা তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা এটা বলেছে। তখন তাদের আমি চলে যেতে বলার জন্য আনসার সদস্যদের বলি। এরপরপরই জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে রাজীব নামে এক ব্যক্তি কারো পারমিশন না নিয়ে, কারো তোয়াক্কা না করে আমার বাসভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। আমি নিচে নামার আগেই তাদের ঘরের দরজার সামনে দেখতে পাই। সে তার পরিচয় দেওয়ার পর আমি বললাম এতো রাতে কি কারণে এসেছেন এখানে। তখন সে জানায় নির্দেশনা রয়েছে তাই তারা ব্যানার ছিঁড়ছে। তখন আমি বললাম এটা সরকারি কম্পাউন্ড, এখানে সরকারি অফিস-আদালত রয়েছে, আমরা সরকারি অফিসাররা এখানে থাকি। আর এতো রাতে এখানে এগুলো শোভন নয়, কাইন্ডলি আপনারা চলে যান, কালকে যেটা করার করবেন। পার্টির যা সিদ্ধান্ত সেটা পরে বাস্তবায়ন করার অনুরোধ জানালেও সে বের হয়ে যাচ্ছে না, তো যাচ্ছে না। পরে আমি দাঁড়িয়ে থেকে তারা চলে গেলে মেইন গেট আনসার সদস্যদের সহায়তা আটকে দেই।
এরপর আমরা উপরে বাবা মায়ের সঙ্গে বসা। তখন হঠাৎ করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৬০-৭০ জন লোক এখানে আসে। আনসার সদস্যরা ভয়ে দৌড়ে উপরে উঠে এসে আমাকে জানায়, স্যার আপনার বাংলোর মধ্যে ৬০-৭০ জন ঢুকছে। তারা যখন আমার বাংলোর সামনে তখন আমি ঘর থেকে বের হয়েছি। তখন একজন আমাকে পরিচয় দিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান বাবু। তার পাশে বহু লোকজন, সেখান থেকে একজন খুব উচ্চস্বরে আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নাম ধরে গালিগালাজ করছিলো। তখন আমি তার কাছে জানতে চেয়েছি ভাই আপনার পরিচয়টা। তিনি তখন তার নাম সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত বলে জানায় এবং বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দাবি করেন।
এসময় তার পাশ থেকে একজন বলছিলো তুই পরিচয় দিয়ে কি করবি? একসময় কথা বলতে বলতে যখন আমার পেছন দিকে লোকজন আসতে শুরু করে, তখন আমি বুঝতে পেরেছি যে আমাকে ঘিরে ধরা হচ্ছে। তখন আনসার সদস্যদের ইশারা দিলে তারা আমার কাছে চলে আসে। আনসাররা বাঁশি বাজালেও যখন তারা সরছিলো না তখন আনসার সদস্যরা ফোর্স করছে। তখন যে যার মতো করে দৌড়াইছে। আর তখন আমি নিজে মাহামুদ হাসান বাবুর হাত ধরে ফেলেছিলাম এবং আনসারের হাতে তুলে দেই। তাদের বের করে দিয়ে আমাদের গেট আটকে দিয়েছি। তারপরে দুইশ, তিনশ, চারশ না পাঁচশ আমি জানি না, বহু লোক এসে আমাদের সরকারি গেটটাকে ে ভেঙে তচনছ করে ভেতর থেকে ঢুকে আমার ঘরের বারান্দা পর্যন্ত চলে আসে। ভাগ্যিস আমার উপজেলার অফিসাররা চলে এসে তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা আটকে উপরে নিয়ে যায়। কারণ ওরা নীচতলায় ঘরের ভেতর পর্যন্ত চলে এসেছিলো।
যে সিচ্যুয়েশন সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্য দিয়ে না গেলে বোঝা যাবে না। তিনি বলেন, যে অবস্থায় আমি আছি সেখানে বক্তব্য দেয়ার মতো অবস্থা নেই। আমার বৃদ্ধ কোভিডে আক্রান্ত বাবা-মা ওপর থেকে দেখছেন কি হচ্ছে বাহিরে।
আমার পক্ষ থেকে গুলি করার অর্ডার (ডেসপাসের অর্ডার) দেওয়া হয়নি, তবে আমার বাসার সামনে যখন আমাকে ঘিরে ধরা হবে তখন আনসার সদস্যরা তো আমাকে সেভ করার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন-
বরিশালে মধ্যরাতের ঘটনার পর সদর উপজেলা পরিষদ কাউন্সিলসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মধ্যরাতে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, যে কাজ করতে গিয়ে আজকের এ ঘটনা, ওই কাজটি আমাদের রেগুলার কাজ। গতকাল আপনারা ছিলেন আমার সংবাদ সম্মেলনে তখন আমি ব্যানার নিয়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছি, পুরোনো ব্যানার বা ভূইফোর সংগঠনের ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলতে। এতে শহর পরিষ্কার হবে। আর আপনারা জানেন মনে হয়, আমার নিজের করা ব্যানারটিও আমি খুলে ফেলেছি। আর সেই ধারাবাহিকতায় পরিষ্কার করতে করতে তারা থানা কাউন্সিলে গিয়েছে। আপনারা দেখেছেন থানা কাউন্সিলের ভেতরে বিভিন্ন লোকজন, বিভিন্ন ব্যানার দেয়। আর যেখানে সিটি করপোরেশনের লোকজন কাজ করছিলো সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর বাসা না।
ওখানে পুকুর আছে, যেখানে সাধারণ মানুষ গোসল করে, ওখানে মসজিদ আছে, ওখানে আরো অনেক অফিস আছে, ওখান থেকে পেছনে বসবাসকারী মানুষদের যাতায়াতের রাস্তাও রয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা আমাকে যেটা জানিয়েছেন, ওখানে কাজ প্রায় শেষের পথে ছিলো, পরিষ্কার করে চলে আসবে তখন ইউএনও সাহেব বের হয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের বলেছে কার কাছে জিজ্ঞাসা করে সেখানে তারা গিয়েছে। কর্মীরা বলেছে, তাদের গালাগালি করা হয়েছে। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওনার বাসায় হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু ওনার বাসার গেটের ভেতরে কি তারা ঢুকেছে। ওখানে আমাদের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক ছিলো, তারপর প্রচার সম্পাদকের সঙ্গে সিনিয়রদের পাঠালাম সেখানে কি হয়েছে দেখার জন্য। তিনি বলেন, যখন তারা আমাকে বললো যে গুলি হচ্ছে, তখন আমার বাসায় আমি, আমাদের সিটি করপোরেশনের সিও, মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আমি তাৎক্ষণিক একাই ঘটনাস্থলে চলে গেলাম। সিও সাহেবও পেছনে পেছনে রওনা দিলেন। আমি যখন ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলমেট খুলে কর্মীদের বললাম তোমরা গেটের বাইরেই দাঁড়াও কেউ ভেতরে যেও না। এরপর একা থানা কাউন্সিলের গেট দিয়ে যখন ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলাম এবং বললাম আমি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র। তারা সে কথা শুনে অনবরত গুলি করা শুরু করলো।
এরমধ্যে পেছনে যে নেতা-কর্মীরা ছিলো তারা সকলে এসে মানবপ্রাচীর বানিয়ে আমাকে বাহিরে নিয়ে আসলো। তারপর ওখানে থেকে আমার খুবই খারাপ লাগছে, খুবই লজ্জা লাগছে। তাই আমি ওখান থেকে চলে আসছি। চলে আসার পরে শুনলাম আবারো গুলি হয়েছে।
আমাদের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটুকে রেখে আসছিলাম যাতে ওখানে অপ্রীতীকর কিছু না ঘটে। তিনি বলেন, আমি গুলিবিদ্ধ হইনি, তবে আমাকে গুলি করা হয়েছে, আর সেগুলো আমার জ্যাকেটের কারণে শরীরের ভেতরে লাগেনি কিন্তু গায়ে প্রচ- ব্যথা পেয়েছি। আর গুলির সময় নেতা-কর্মীরা সামনে চলে আসায় তাদের গায়েই গুলিগুলো লেগেছে। কতজনের গায়ে লেগেছে তা আমি হিসেব করে বলতে পারবো না। কতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন সে বিষয়েও এখন কিছু বলতে পারবো না।
ব্যানারকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কি বলবো বলেন, গুলি করা হয়েছে ওখানে। মেয়রের গায়েও পর্যন্ত গুলি করা হয়েছে। মেয়র বলেন, আমি ওখানে যাওয়ার পরে পুলিশ কমিশনার সাহেব, র্যাবের সিও, আনসাররা গুলি করায় আনসারদের প্রধানকেও ফোন করেছি। কিন্তু আমি চলে আসার পরে পুলিশ বের হয়ে আসার পরও আবারো নাকি গুলি হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদককে যেহেতু আটকে রাখা হয়েছে, তাই হয়তো প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু আলোচনার জন্য ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তাকে গুলি করা হয়েছে, ৩৫-৩৭টি শটগানের গুলির পিলেট তার গায়েও লেগেছে। আমাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস ব্যানার উচ্ছেদের সময় থেকেই ওখানে ছিলো। তার গায়েও গুলি লাগছে।
তিনি বলেন, ঘটনার অবশ্যই জোড়ালো তদন্ত চাইব এবং অবশ্যই আমরা আইনের আশ্রয় নেবো। মেয়র হিসেবে এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। আমি মেয়র হিসেবে তাহলে ব্যর্থ। প্রধানমন্ত্রী আমাকে শপথ পরিয়েছেন, আমার বাবা আছেন তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, আমি আমার রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দেবো।
মেয়র বলেন, আপনার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়ে থাকলে আমাকে বলতে পারতেন। বরিশালে এতো বছরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যে এইভাবে আমাদের গুলি করা লাগবে। আবার শুনলাম যারা আহত হয়েছে তাদের গ্রেফতার করার জন্য মেডিক্যালে গেছে। তাহলে ঠিক আছে, অপরাধ হয়ে থাকলে তাদের হয়নি, আমি মেয়র মাথা পেতে নিলাম আমি রেজিগনেশন লেটার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়ে দেবো। এধরনের ঘটনার পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালন করছি, আমাদের প্রশাসনের কাছে যেতে হয় না। আমরা নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ।
আমাদের নিজেদের ইনকাম-বাজেট থেকে চলার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের যে কয়টি সিটি করপোরেশন আছে তার মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন দুর্নীতিমুক্ত এটাও চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। সরকারি অনুদান না পেয়েও আমাদের বেতন-ভাতা সব চলমান, পাঁচ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে রাস্তা করতেছি আর এগুলাই কারো যদি চোখের শূল হয় তাহলে আমি কি করবো। সবশেষে তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নেতা কর্মীদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে, অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আমার মন খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমি বাসায় চলে আসি। তারপরও অনেকে বলে আমার মাথা গরম, মাথা গরম হলে তো ওই জায়গায় অনেক কিছু হতে পারতো।
নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরিশালে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করেছে প্রশাসন। তাদের সঙ্গে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে হুকুমের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ১৩ নেতাকর্মীকে। বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বরিশালে সড়ক ও নৌ-যোগযোগ অচল ছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর কালিবাড়ি সড়কের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জড়িত কাউকে ছড়ে দেয়া হবে না। সাংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ যা বলেছে বুধবার রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মীরা রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়েছিল। এ সময় ইউএনও মুনিবুর রহমান বেরিয়ে এসে দম্ভোক্তি দেখিয়ে তাদের এ কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে মেয়রের নির্দেশে সেখানে যান নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু। ইউএনও তাদের সঙ্গে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন, একপর্যায়ে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে তিনি নিজেই গুলি করেন।
হাসান মাহমুদ বাবুকে ইউএনও টেনেহিচড়ে তার বাসভবনের মধ্যে ঢুকিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও আনসার সদস্যরা গুলি করতে থাকেন। পরে পুলিশ এসেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পেটায়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুধবার রাতের ঘটনায় ৬০ জনের বেশি নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ এবং লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। পুলিশ হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে অবস্থান নেয়ায় আহতরা আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মিথ্যা দুটি মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে বাসায় বাসায় অভিযান চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, প্রশাসনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা বিশেষ কোন গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছেন। প্রশাসন আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন।
তারা পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, দলের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি তারা পরে দেখবেন। একটি সরকারি দপ্তরে রাতে পরিচ্ছন্ন কাজ করতে যাওয়া প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়মই হচ্ছে রাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। সিটি করপোরেশনের কাজে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গ তোলা হলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, তারাও সিটি করপোরেশনের চাকরিজীবী।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শোকের মাস আগস্টে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর এমন হামলা গভীর ষড়ষন্ত্র মনে হচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভেকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মুক্তি ও দুই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, বরিশাল শান্তির নগরী। এ নগরীকে অশান্ত করতে দেয়া হবে না। কারো রক্তচক্ষুকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভয় পান না।
তিনি পুলিশ দিয়ে মেয়রের বাসভবন ঘেরাও করার নিন্দা জানান। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নাইমুল ইসলাম লিটু বক্তৃতা করেন।
মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ নিশ্চিত করেছেন, ইউএনওর দায়ের করা মামলার হুকুমের আসামি করা হয়েছে সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে। জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরীতে ১০ প্লাটুন বিজিবি টহল দেবে। দায়িত্ব পালন করার জন্য পিরোজপুর ও পটুয়াখালী থেকে ১০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডেপুটিশনে বরিশাল জেলা প্রশাসনের অধিনে আনা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, আগস্ট মাসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হচ্ছে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সবাই মিলে বরিশালবাসীর সেবা নিশ্চিত করব।
এ সময় এ রকম একটি ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত, মর্মাহত। বিএমপির পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ভালোভাবে অগ্রসর হোক, এগিয়ে যাক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তদন্ত করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। বুধবার মধ্যরাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন তিনি। জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, আমরা সবাই এসেছি জনগণের সেবা করতে। আমরা সরাসরি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সব আদেশ-নির্দেশ পালন করি এবং আমরা জনগণের বন্ধু। সেখানে কোনো প্রশ্ন থাকলে বিভাগীয় কমিশনার স্যার কিংবা আমাকে জানাতে পারতেন। এখানে একটি আলোচনার বিষয় ছিল। কিন্তু সেটি না করে তাৎক্ষণিক যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে, সেটি আসলেই দুঃখজনক।
বিএমপি কমিশনার, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে পরিস্থিত স্বাভাবিক করতে যা যা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়গুলো সার্বিকভাবে দেখছি, কীভাবে কী কারণে ঘটনাটির উদ্ভব হলো, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা বলতে পারব।বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ যদি ভুলভ্রান্তি করে থাকেন, তাহলে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তেই বেরিয়ে আসবে হামলার ঘটনা। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকায় রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে এখনই খোলাখুলিভাবে বলতে পারব না। তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে কার ভূমিকা কী ছিল? কেউ যদি ভুলভ্রান্তি করে থাকেন, তাহলে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনের সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উপজেলা চত্বর থেকে রাজনৈতিক ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে রাতের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সিটি করপোরেশনের কর্মচারী, পুলিশ, আনসারসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, যখনই কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা।
বরিশালের ঘটনা যে পর্যায়ে গিয়েছিল তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায় এবং বর্তমানে বরিশাল শহরে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থা নেই। এই ঘটনায় কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তদন্ত শেষে বলা যাবে। এ দিকে বরিশালের ঘটনায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। পুরো বরিশাল বিভাগ মেয়রের অত্যাচারে ওষ্ঠাগত বলে অভিযোগ করে তার গ্রেপ্তার দাবিও জানানো হয়েছে।
সংগঠনের এক জরুরি সভা শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনােয়ার। সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনের মাধ্যমেই দুর্বৃত্তদের মােকাবিলা করা হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও তার দুর্বৃত্ত বাহিনী সিটি করপােরেশনের কর্মচারীদের দিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। তারা পুরো জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
এমন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ
অ্যাডনিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসােসিয়েশন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়রের অত্যাচারে বরিশালবাসী অতিষ্ঠ। মেয়রের হুকুমেই এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে অ্যাসােসিয়েশন মনে করে। অ্যাসােসিয়েশন অবিলম্বে তার গ্রেপ্তার দাবি করছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অত্যন্ত আস্থাবান। তার দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করে সবাই কাজ করছে। আমরা দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে সচেষ্ট থাকব, একই সঙ্গে এসব রাজনৈতিক দুর্বৃত্তকে আইনের মাধ্যমেই মােকাবিলা করব।
‘আইনের শাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর যে অভিপ্রায় সে ব্যাপারে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কোন পরিস্থিতিতেই তারা সেই পথ থেকে বিচ্যুত হবে না। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট পুলিশ হেডকোয়াটার্স এক আদেশে তাকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করেছে। আগামী ২৫ আগস্টের পূর্বে তাবে বদলিস্থলে যোগদান করে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি যোগদান না করলে ২৬ আগস্ট স্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে যাচ্ছেন।
ওসি নুরুল ইসলামের বদলি আদেশ আসলেও কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশে নতুন ওসি হিসেবে কে যোগদান করছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮-আগস্ট পুলিশ হেড কোয়াটার্সের এআইজি শাহাজাদা মো: আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওসি নুরুল ইসলামের বদলি আদেশ এসে পৌছেছে। ওসি নুরুল ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে বরিশালে কর্মরত ছিলেন।
রেঞ্জের একাধিক থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর দীর্ঘদিন মেট্রোপলিটন পুলিশেও ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশে কর্মরত থাকলেও এর পূর্বে কাউনিয়া ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করেন।
বরিশালে সাধারণ মানুষ বলছে, তারা কোন সংঘর্ষ দেখতে চায় না আর শান্তি পুনঃ বরিশালে সকলে শান্তিতে বসবাস করুক এমনটাই আশাবাদী বরিশালবাসী।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন