শিরোনাম :
মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে নির্মাণ হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধ! ভোলার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস : বন্ধ লঞ্চঘাট ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু! কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ

ভোলার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস : বন্ধ লঞ্চঘাট

প্রতিম গাঙ্গুলী
  • আপডেট সময় : Friday, July 24, 2026
  • 8 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার ইলিশায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ সিসি ব্লকে ৩০ মিটার এলাকায় ধস সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ব্লকের ধসের কারণে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে দোকান পাট। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও সিসি ব্লকে ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইলিশা-ঢাকা রুটের একটি লঞ্চঘাটও। দ্রুত সিসি ব্লকের ধস বন্ধ না করলে হুমকির মুখে পরবে শহররক্ষা বাঁধও। স্থানীয়দের দাবি, পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে তাদের বসতঘর। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাদের।

ভোলা পানি উন্নয়ন অফিস তথ্য মতে, ২০১৭-২১ সাল পর্যন্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশার ইউনিয়নের সাজি কান্দি থেকে রাজাপুর ইউনিয়নের জোর খাল পর্যন্ত সিসি ব্লক দ্বারা ৪ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হয়। এসময় প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লক দ্বারা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনার নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হয়ে গত ১৪ জুলাই ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ৩০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। উপর থেকে একে একে সিসি ব্লক ধসে পরছে মেঘনা নদীতে। এতে আতঙ্কিত ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধও। এদিকে সিসি ব্লকে ধসের কারণে ওই এলাকার দোকানপাট সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেন ও মো. রাজীব জানান, মেঘনা নদীর পানির তীব্র স্রোতে ইলিশার ইলিশা-ঢাকা লঞ্চঘাটের পাশে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই সিসি ব্লকগুলো নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভাঙতে ভাঙতে সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধটিও ভেঙে যাবে। এতে পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের হাজার হাজার বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে প্লাবিত হবে। লক্ষাধিক মানুষ হবে গৃহহীন।

তারা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে সিসি ব্লক দ্বারা নদীর তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো খোঁজ খবর নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড সংস্কার কাজ করতো তাহলে ধস হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ ও মো. আরিফ বলেন, ‘তারা বেশ কয়েক বার মেঘনার ভাঙনের কারণে বসতঘর ও জমি জমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বর্তমানে ইলিশা লঞ্চঘাটের পাশে সরকারি জমিতে বসতঘর উঠিয়ে বসবাস করছেন। এখন ব্লক ধসের কারণে আতঙ্কিত রয়েছেন তারা।’

তারা আরও বলেন, ‘আবারও যদি ভাঙনের শিকার হন, তাহলে নতুন করে জমি কেনার মতো সামর্থ্য নেই আর কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই তাদের।’

ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. মাকসুদ বলেন, ‘ব্লক বাঁধের ধ্বসের কারণে ইলিশা টু ঢাকার বড় লঞ্চঘাটটি বন্ধ রয়েছে। ওই লঞ্চঘাটটি সরিয়ে অন্যস্থানে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ছোট লঞ্চঘাটে লঞ্চ যাতায়াত করছে। ফলে এখানকার ব্যবসায়ীদের বেচা-বিক্রি বন্ধ। এছাড়াও ব্লক ধসের কারণে এ ঘাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তারা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ যে কোনো সময় দোকান পাট ভাঙনের শিকার হতে পারে। ব্লক ধ্বসের কারণে দুইটি দোকান ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।

ঘাটের আরেক ব্যবসায়ী মো. সাঈদ বলেন, ‘তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই যে ইলিশা বাজার বা অন্য কোথাও গিয়ে লাখ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে দোকান ঘর নিয়ে ব্যবসা করবেন। তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাই এ ঘাটে বেচা-বিক্রি দিয়েই সংসার ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন।’

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, সিসি ব্লকের ধসের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ এর মাধ্যমে ইলিশা লঞ্চঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইলিশা ঢাকা রুটের ইলিশায় দুইটি লঞ্চঘাটের মধ্যে বর্তমানে আরেকটি লঞ্চঘাট চালু রয়েছে। এছাড়াও ব্লক ধসের স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ করতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ৫০ মিটার এলাকায় আপাতত প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে মেঘনার স্রোত এবারও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদীর সেই তীব্র আঘাতে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের ইলিশা অংশে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।

ধসে পড়েছে শত শত সিসি ব্লক, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীররক্ষা কাঠামো। ইতোমধ্যে ইলিশা লঞ্চঘাটের পন্টুন সরিয়ে নিতে হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে যাত্রী ওঠানামা। ভাঙনের মুখে পড়েছে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্র, ফেরিঘাট, মাছঘাট, বাজার ও আশপাশের জনপদ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে শুধু ইলিশা নয়, ঝুঁকিতে পড়বে পুরো ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ।

প্রায় প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। নদীর ভাঙনে একদিকে যেমন বসতভিটা ও কৃষিজমি হারাচ্ছেন মানুষ, অন্যদিকে দুর্বল হয়ে পড়ছে উপকূলীয় বাঁধ। অতিজোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় সেই বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের পর এবার মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে বড় পরিসরে নদীশাসন ও বাঁধ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প আগামী ২২ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

সম্প্রতি সরেজমিনে ইলিশা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় তীররক্ষা ব্লক ধসে পড়েছে। কোথাও কোথাও নদী তীরবর্তী মাটিতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিকেরা। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ১৪ জুলাই ভোর থেকে ইলিশা লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় সিসি ব্লক ধস শুরু হয়। এরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় চার স্তরের শত শত সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যা নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ইলিশা লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদী আরও ভেতরের দিকে অগ্রসর হবে।

ভাঙনের প্রভাব ইতোমধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও পড়েছে। ব্লক ধসের কারণে ইলিশা লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সেটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এতে যাত্রী ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। ভোলা-ঢাকা ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথের যাত্রীদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়ন এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের চার কিলোমিটার নদীতীর বর্তমানে অরক্ষিত। প্রতি বছর মেঘনার ভাঙনে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় বাঁধ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অতিজোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ছয় কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ এবং দুটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এসব কাজ সম্পূর্ন হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমবে এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, মেঘনা নদীর করাল গ্রাসে প্রতিবছর হাজার হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকায় ভাঙন বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

একই সময়ে অতিজোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে শিবপুরে প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার, ধনিয়ায় ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং মেদুয়ায় প্রায় শূন্য দশমিক ৮ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পোল্ডারের ভেতরে পানি ঢুকে কৃষিজমি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, বাজার ও বসতবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতা ও বন্যার ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে প্রায় ৬৫ হাজার ৪৭২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলা সদর ও দৌলতখানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, কৃষিজমি ও জনবসতি মেঘনার ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে। উপকূলীয় বাঁধ আরও শক্তিশালী হবে, বন্যা ব্যবস্থাপনার উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে। তবে ভোলাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু প্রকল্প অনুমোদন নয়, দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মিলবে মেঘনার আগ্রাসন থেকে স্থায়ী মুক্তি।

এদিকে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী নদীশাসনের কাজ না হওয়ায় সংকট ফিরে আসে। জরুরি জিওব্যাগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নই একমাত্র টেকসই সমাধান।

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, উপকূলীয় এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আগামী অর্থবছর থেকেই সরকারের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চোখের সামনেই মানুষের বসতভিটা, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জনগণের পাশে থাকা এবং তাদের জানমাল রক্ষা করা আমা

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে নির্মাণ হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধ!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার ইলিশায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ সিসি ব্লকে ৩০ মিটার এলাকায় ধস সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ব্লকের ধসের কারণে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে দোকান পাট। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও সিসি ব্লকে ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইলিশা-ঢাকা রুটের একটি লঞ্চঘাটও। দ্রুত সিসি ব্লকের ধস বন্ধ না করলে হুমকির মুখে পরবে শহররক্ষা বাঁধও। স্থানীয়দের দাবি, পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে তাদের বসতঘর। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাদের।

ভোলা পানি উন্নয়ন অফিস তথ্য মতে, ২০১৭-২১ সাল পর্যন্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশার ইউনিয়নের সাজি কান্দি থেকে রাজাপুর ইউনিয়নের জোর খাল পর্যন্ত সিসি ব্লক দ্বারা ৪ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হয়। এসময় প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লক দ্বারা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনার নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হয়ে গত ১৪ জুলাই ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ৩০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। উপর থেকে একে একে সিসি ব্লক ধসে পরছে মেঘনা নদীতে। এতে আতঙ্কিত ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধও। এদিকে সিসি ব্লকে ধসের কারণে ওই এলাকার দোকানপাট সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেন ও মো. রাজীব জানান, মেঘনা নদীর পানির তীব্র স্রোতে ইলিশার ইলিশা-ঢাকা লঞ্চঘাটের পাশে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই সিসি ব্লকগুলো নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভাঙতে ভাঙতে সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধটিও ভেঙে যাবে। এতে পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের হাজার হাজার বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে প্লাবিত হবে। লক্ষাধিক মানুষ হবে গৃহহীন।

তারা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে সিসি ব্লক দ্বারা নদীর তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো খোঁজ খবর নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড সংস্কার কাজ করতো তাহলে ধস হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ ও মো. আরিফ বলেন, ‘তারা বেশ কয়েক বার মেঘনার ভাঙনের কারণে বসতঘর ও জমি জমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বর্তমানে ইলিশা লঞ্চঘাটের পাশে সরকারি জমিতে বসতঘর উঠিয়ে বসবাস করছেন। এখন ব্লক ধসের কারণে আতঙ্কিত রয়েছেন তারা।’

তারা আরও বলেন, ‘আবারও যদি ভাঙনের শিকার হন, তাহলে নতুন করে জমি কেনার মতো সামর্থ্য নেই আর কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই তাদের।’

ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. মাকসুদ বলেন, ‘ব্লক বাঁধের ধ্বসের কারণে ইলিশা টু ঢাকার বড় লঞ্চঘাটটি বন্ধ রয়েছে। ওই লঞ্চঘাটটি সরিয়ে অন্যস্থানে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ছোট লঞ্চঘাটে লঞ্চ যাতায়াত করছে। ফলে এখানকার ব্যবসায়ীদের বেচা-বিক্রি বন্ধ। এছাড়াও ব্লক ধসের কারণে এ ঘাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তারা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ যে কোনো সময় দোকান পাট ভাঙনের শিকার হতে পারে। ব্লক ধ্বসের কারণে দুইটি দোকান ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।

ঘাটের আরেক ব্যবসায়ী মো. সাঈদ বলেন, ‘তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই যে ইলিশা বাজার বা অন্য কোথাও গিয়ে লাখ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে দোকান ঘর নিয়ে ব্যবসা করবেন। তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাই এ ঘাটে বেচা-বিক্রি দিয়েই সংসার ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন।’

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, সিসি ব্লকের ধসের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ এর মাধ্যমে ইলিশা লঞ্চঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইলিশা ঢাকা রুটের ইলিশায় দুইটি লঞ্চঘাটের মধ্যে বর্তমানে আরেকটি লঞ্চঘাট চালু রয়েছে। এছাড়াও ব্লক ধসের স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ করতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ৫০ মিটার এলাকায় আপাতত প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস : বন্ধ লঞ্চঘাট

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ভবনের নির্মাণমান নিয়েও একাধিক অনিয়ম ও দুর্বলতার তথ্য উঠে এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে আধুনিক পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে ‘১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট (সংশোধিত ১৬টি) অফিস নির্মাণ (২য় সংশোধন)’ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর, জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে মোট ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় গাজীপুরের কার্যালয় পরবর্তী পর্যায়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

আইএমইডির মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ১৫ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদনে (পিসিআর) এ খাতে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে কোনো কার্যালয়েই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।

একইভাবে, বনায়নের জন্য ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও অধিকাংশ কার্যালয় প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২১ সালে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো বাহ্যিক অডিট সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা ও নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। সাতক্ষীরা কার্যালয়ে মেরামতের কাজ চলছে। শরীয়তপুর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল থাকলেও স্টোরেজ ব্যাটারি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সৌর প্যানেলের একটি অংশ নষ্ট অবস্থায় রয়েছে।

নির্মাণমান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভবনের মান সন্তোষজনক নয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে, বাইরের রঙ নষ্ট হয়েছে এবং দেয়ালে শেওলা জমেছে। বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে।

এ ছাড়া মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বজ্রনিরোধক দণ্ড ভবনের সর্বোচ্চ স্থানে স্থাপন না করায় বজ্রপাতের সময় ভবন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ায় প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন একনেকে অনুমোদনের পর ১৭ জুলাই প্রথম প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নকালে মোট ছয়বার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়।

আইএমইডি সুপারিশ করেছে, অচল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। বাগেরহাট কার্যালয় দ্রুত হস্তান্তর, মাদারীপুরে বজ্রনিরোধক দণ্ড পুনঃস্থাপন এবং ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিম্নমানের নির্মাণকাজ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বনায়ন খাতে দেখানো ব্যয়ের বাস্তবতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই আরও সহজ ও নির্ভুল করতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বায়োমেট্রিক ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অর্থ) এটিএম আবু আসাদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করবেন। তবে তার দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার পাসপোর্ট অফিস অন্য অনেক সরকারি কার্যালয়ের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন এবং সেখানে তুলনামূলক বেশি গাছপালা রয়েছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে ১০ শয্যার আধুনিকায়নকৃত হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার। লাল ফিতা কেটে, নামফলক উন্মোচন এবং বিশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহসানুজ্জামান, ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডিআইও শেখ মোনায়েম হোসেন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হকসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, শয্যা এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধাগুলো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই আধুনিকায়নের ফলে এখন থেকে আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও উন্নত পরিবেশ সম্বলিত এই ১০ শয্যার হাসপাতালটি পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান কৃষিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব সারের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত চায়ের পাতা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হলেও এটি আসলে একটি মূল্যবান জৈব সম্পদ। ব্যবহৃত চা-পাতায় প্রচুর জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করলে এটি মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳 চায়ের বর্জ্য জৈব সারের প্রধান উপকারিতা
১. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে
চায়ের বর্জ্যে থাকা জৈব উপাদান মাটির অর্গানিক ম্যাটার বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
২. মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে
চায়ের বর্জ্যে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বেলে বা হালকা মাটিতে চায়ের বর্জ্য মিশিয়ে দিলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সেচের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে।
৪. মাটির উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে
জৈব পদার্থ মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও কেঁচোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এর ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বাড়ে।
৫. শিকড়ের বৃদ্ধি ও গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করে
চায়ের বর্জ্য মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে, ফলে শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
৬. রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমায়
নিয়মিত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের আংশিক বিকল্প হিসেবে কাজ করে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
৭. পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে
চায়ের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। এটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি কার্যকর উপাদান।
🔳 কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়?
 সবজি ফসল (টমেটো, বেগুন, মরিচ, বাঁধাকপি ইত্যাদি)
 ফলদ গাছ (আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, পেঁপে)
 ফুলের গাছ (গোলাপ, গাঁদা, জবা)
 ছাদবাগান ও টবের গাছ
 নার্সারির চারা উৎপাদনে
🔳ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
 ব্যবহৃত চা-পাতা থেকে দুধ ও চিনির অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 ২–৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
 প্রতি টব বা গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
কম্পোস্ট তৈরির উপাদান হিসেবেও চায়ের বর্জ্য ব্যবহার করা যায়।
 অন্যান্য জৈব সারের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
🔳 ব্যবহারে সতর্কতা
অতিরিক্ত পরিমাণে প্রয়োগ করা যাবে না।
ভেজা অবস্থায় দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
দুধ ও চিনি মিশ্রিত চা-পাতা সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাটির অম্লতা বেশি হলে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উত্তম।
চায়ের বর্জ্য কোনো ফেলনা বস্তু নয়; বরং এটি কৃষি ও বাগান ব্যবস্থাপনায় একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব জৈব সার। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে চায়ের বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  তাই আসুন, দৈনন্দিন জীবনের এই সাধারণ বর্জ্যকে মূল্যবান কৃষি সম্পদে পরিণত করি এবং সবুজ ও নিরাপদ কৃষি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই।
লেখক: 
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
★সাবেক সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত এই বৃত্তি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হতো। এই সহায়তা অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বহন করত। তবে সর্বশেষ প্রায় চার বছর আগে এই বৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি বা বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা পরিষদের বৃত্তির অপেক্ষায় থাকলেও কোনো ধরনের ঘোষণা বা কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ভোলা সরকারি কলেজ ও ভোলা সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৃত্তির জন্য আমরা প্রতিবছর আশায় থাকতাম। কিন্তু গত চার বছর ধরে কোনো খবর নেই। এই সহায়তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিন্টু বেপারী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পূর্ববর্তী চার বছরে বৃত্তি কার্যক্রম কেন বন্ধ ছিল সে বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত বৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

বাবা-মা’র কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় সায়িত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২জুন) বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের সময় তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়।


এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো মানুষের ঢল নামে। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোলার সর্বস্তরের মানুষ।
জানাযা নামাজের পূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদর্শন করেন।

ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর ও সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ নেতারা জানাজাস্থলে এসে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, তোফায়েল আহমেদ একক রাজনীতি দলের নেতা নন। তিনি ভোলাবাসীর অভিভাবক ছিলেন। জানাজায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলামসহ সব দলের সব পেশার মানুষ অংশ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আাগে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে ফ্রিজিং ভ্যানে মরদেহটি নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা হেলিপ্যাডে ভিড় জমান।
বর্ণাঢ্য জীবন :
বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়কের নাম তোফায়েল আহমেদ। দ্বীপজেলা ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলভী আজহার আলী ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী ফাতেমা খানম।
১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার ধনিয়ার বাসিন্দা মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তোফায়েল আহমেদ এক কন্যার জনক।
রাজনীতির বরপুত্রখ্যাত তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি ও ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি উত্তীর্ণ হন।
কলেজজীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের শুরু। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালনকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বস্তুত এরপর সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠকে পরিণত হন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁন-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। ১৯৭৩ সালে নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচ

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকা থেকে নয় মাস বয়সী সন্তান তাহসিফকে নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন মুক্তা বেগম। হাম রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে গত ২৬ মে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে ভর্তি হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসক পাননি বলে অভিযোগ তার। মুক্তা বেগম বলেন, একদিন ডাক্তার এসে কিছুক্ষণ দেখে গেছেন, কিন্তু পরে আর নিয়মিত দেখা পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ভোলার ওয়েস্টার্ণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান। তিনি বলেন, ঈদের দুই দিন আগে অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। কয়েক দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন, সেটিও খুব অল্প সময়ের জন্য। তার দাবি, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর স্বজন একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপজেলা ভোলার সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ থাকে। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের চিত্রও চোখে পড়ে। বিশেষ করে টয়লেটগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভেদুরিয়া টেকেরহাট এলাকা থেকে আসা রোগীর স্বজন নয়ন তারা বলেন, হাম ওয়ার্ডের টয়লেট শত শত রোগী ও স্বজনরা ব্যবহার করলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকা থেকে আসা মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নিরাপদ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে সামর্থ্যবানরা বাইরে থেকে পানি কিনে আনছেন, আর অনেকে বাধ্য হয়ে বাথরুমের ট্যাপের পানি পান করছেন। তবে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে একটি টিউবওয়েল দেখা গেছে। যা শিশু ওয়ার্ড থেকে ৩তলা নীচে। রোগীদের পানি সংগ্রহে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: সালাউদ্দিন আহমেদ শিশু ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হাম রোগী ভর্তি থাকায় একটি শয্যায় চার থেকে পাঁচজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের বারান্দা মেঝে ও সিড়িতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কিছু ফ্যান বন্ধ এবং কিছু ফ্যান অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ভ্যাপশা গরম অনুভব করা গেছে। ফ্যান থাকা সত্বেও অনেক রোগীর স্বজনকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে বর্তমানে শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কার্যত একজন চিকিৎসকের ওপরই পুরো বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দীন জানান, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। পাশাপাশি হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাও একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যা একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। তবুও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোগীদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। একজন অসুস্থ্য শিশুর সাথে তার পরিবারের সুস্থ্য শিশুরাও থাকছে। এতে করে সুস্থ্য শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আরাফাতুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার বড় অংশই শিশু। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একেকটি বেডে চার থেকে পাঁচটি শিশুকে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা এত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে এক মুহূর্তের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আরএমও আরও জানান, জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি চালাচালি হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান হয়নি। এর জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ বেড়েছে।
হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে একচতুর্থাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদেও জনবল সংকট রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, শিশু বিভাগে দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চিকিৎসাসেবা আরও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ