শিরোনাম :
কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায়  বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ভোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন : ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ভোলায় জেলেদের সরকারি খাদ্য প্রণোদনায় অনিয়মের অভিযোগ

ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে

প্রতিম গাঙ্গুলী
  • আপডেট সময় : Sunday, June 7, 2026
  • 6 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত এই বৃত্তি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হতো। এই সহায়তা অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বহন করত। তবে সর্বশেষ প্রায় চার বছর আগে এই বৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি বা বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা পরিষদের বৃত্তির অপেক্ষায় থাকলেও কোনো ধরনের ঘোষণা বা কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ভোলা সরকারি কলেজ ও ভোলা সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৃত্তির জন্য আমরা প্রতিবছর আশায় থাকতাম। কিন্তু গত চার বছর ধরে কোনো খবর নেই। এই সহায়তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিন্টু বেপারী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পূর্ববর্তী চার বছরে বৃত্তি কার্যক্রম কেন বন্ধ ছিল সে বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত বৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ
কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান কৃষিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব সারের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত চায়ের পাতা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হলেও এটি আসলে একটি মূল্যবান জৈব সম্পদ। ব্যবহৃত চা-পাতায় প্রচুর জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করলে এটি মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳 চায়ের বর্জ্য জৈব সারের প্রধান উপকারিতা
১. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে
চায়ের বর্জ্যে থাকা জৈব উপাদান মাটির অর্গানিক ম্যাটার বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
২. মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে
চায়ের বর্জ্যে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বেলে বা হালকা মাটিতে চায়ের বর্জ্য মিশিয়ে দিলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সেচের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে।
৪. মাটির উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে
জৈব পদার্থ মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও কেঁচোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এর ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বাড়ে।
৫. শিকড়ের বৃদ্ধি ও গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করে
চায়ের বর্জ্য মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে, ফলে শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
৬. রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমায়
নিয়মিত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের আংশিক বিকল্প হিসেবে কাজ করে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
৭. পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে
চায়ের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। এটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি কার্যকর উপাদান।
🔳 কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়?
 সবজি ফসল (টমেটো, বেগুন, মরিচ, বাঁধাকপি ইত্যাদি)
 ফলদ গাছ (আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, পেঁপে)
 ফুলের গাছ (গোলাপ, গাঁদা, জবা)
 ছাদবাগান ও টবের গাছ
 নার্সারির চারা উৎপাদনে
🔳ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
 ব্যবহৃত চা-পাতা থেকে দুধ ও চিনির অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 ২–৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
 প্রতি টব বা গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
কম্পোস্ট তৈরির উপাদান হিসেবেও চায়ের বর্জ্য ব্যবহার করা যায়।
 অন্যান্য জৈব সারের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
🔳 ব্যবহারে সতর্কতা
অতিরিক্ত পরিমাণে প্রয়োগ করা যাবে না।
ভেজা অবস্থায় দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
দুধ ও চিনি মিশ্রিত চা-পাতা সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাটির অম্লতা বেশি হলে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উত্তম।
চায়ের বর্জ্য কোনো ফেলনা বস্তু নয়; বরং এটি কৃষি ও বাগান ব্যবস্থাপনায় একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব জৈব সার। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে চায়ের বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  তাই আসুন, দৈনন্দিন জীবনের এই সাধারণ বর্জ্যকে মূল্যবান কৃষি সম্পদে পরিণত করি এবং সবুজ ও নিরাপদ কৃষি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই।
লেখক: 
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
★সাবেক সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত এই বৃত্তি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হতো। এই সহায়তা অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বহন করত। তবে সর্বশেষ প্রায় চার বছর আগে এই বৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি বা বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা পরিষদের বৃত্তির অপেক্ষায় থাকলেও কোনো ধরনের ঘোষণা বা কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ভোলা সরকারি কলেজ ও ভোলা সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৃত্তির জন্য আমরা প্রতিবছর আশায় থাকতাম। কিন্তু গত চার বছর ধরে কোনো খবর নেই। এই সহায়তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিন্টু বেপারী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পূর্ববর্তী চার বছরে বৃত্তি কার্যক্রম কেন বন্ধ ছিল সে বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত বৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

বাবা-মা’র কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় সায়িত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২জুন) বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের সময় তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়।


এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো মানুষের ঢল নামে। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোলার সর্বস্তরের মানুষ।
জানাযা নামাজের পূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদর্শন করেন।

ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর ও সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ নেতারা জানাজাস্থলে এসে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, তোফায়েল আহমেদ একক রাজনীতি দলের নেতা নন। তিনি ভোলাবাসীর অভিভাবক ছিলেন। জানাজায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলামসহ সব দলের সব পেশার মানুষ অংশ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আাগে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে ফ্রিজিং ভ্যানে মরদেহটি নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা হেলিপ্যাডে ভিড় জমান।
বর্ণাঢ্য জীবন :
বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়কের নাম তোফায়েল আহমেদ। দ্বীপজেলা ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলভী আজহার আলী ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী ফাতেমা খানম।
১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার ধনিয়ার বাসিন্দা মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তোফায়েল আহমেদ এক কন্যার জনক।
রাজনীতির বরপুত্রখ্যাত তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি ও ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি উত্তীর্ণ হন।
কলেজজীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের শুরু। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালনকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বস্তুত এরপর সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠকে পরিণত হন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁন-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। ১৯৭৩ সালে নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচ

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকা থেকে নয় মাস বয়সী সন্তান তাহসিফকে নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন মুক্তা বেগম। হাম রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে গত ২৬ মে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে ভর্তি হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসক পাননি বলে অভিযোগ তার। মুক্তা বেগম বলেন, একদিন ডাক্তার এসে কিছুক্ষণ দেখে গেছেন, কিন্তু পরে আর নিয়মিত দেখা পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ভোলার ওয়েস্টার্ণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান। তিনি বলেন, ঈদের দুই দিন আগে অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। কয়েক দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন, সেটিও খুব অল্প সময়ের জন্য। তার দাবি, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর স্বজন একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপজেলা ভোলার সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ থাকে। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের চিত্রও চোখে পড়ে। বিশেষ করে টয়লেটগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভেদুরিয়া টেকেরহাট এলাকা থেকে আসা রোগীর স্বজন নয়ন তারা বলেন, হাম ওয়ার্ডের টয়লেট শত শত রোগী ও স্বজনরা ব্যবহার করলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকা থেকে আসা মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নিরাপদ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে সামর্থ্যবানরা বাইরে থেকে পানি কিনে আনছেন, আর অনেকে বাধ্য হয়ে বাথরুমের ট্যাপের পানি পান করছেন। তবে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে একটি টিউবওয়েল দেখা গেছে। যা শিশু ওয়ার্ড থেকে ৩তলা নীচে। রোগীদের পানি সংগ্রহে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: সালাউদ্দিন আহমেদ শিশু ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হাম রোগী ভর্তি থাকায় একটি শয্যায় চার থেকে পাঁচজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের বারান্দা মেঝে ও সিড়িতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কিছু ফ্যান বন্ধ এবং কিছু ফ্যান অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ভ্যাপশা গরম অনুভব করা গেছে। ফ্যান থাকা সত্বেও অনেক রোগীর স্বজনকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে বর্তমানে শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কার্যত একজন চিকিৎসকের ওপরই পুরো বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দীন জানান, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। পাশাপাশি হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাও একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যা একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। তবুও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোগীদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। একজন অসুস্থ্য শিশুর সাথে তার পরিবারের সুস্থ্য শিশুরাও থাকছে। এতে করে সুস্থ্য শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আরাফাতুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার বড় অংশই শিশু। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একেকটি বেডে চার থেকে পাঁচটি শিশুকে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা এত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে এক মুহূর্তের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আরএমও আরও জানান, জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি চালাচালি হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান হয়নি। এর জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ বেড়েছে।
হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে একচতুর্থাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদেও জনবল সংকট রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, শিশু বিভাগে দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চিকিৎসাসেবা আরও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় যাতায়াতের একমাত্র সি-ট্রাকটি প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত যাত্রী। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে মনপুরা টু তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন টু মনপুরা রুটে চলাচল করতো একমাত্র সি-ট্রাক ‘এসটি ইলিশা’। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে যায় সি-ট্রাকটি। এরমধ্যে পরিবর্তন হয় ইজারাদার। নতুন ইজারাদার নিয়োগ হলেও আজও চালু হয়নি সি-ট্রাকটি। ফলে প্রতিদিনই অবৈধ ট্রলার দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মনপুরা উপজেলা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী।

মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ডেঞ্জার জোন হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রতিদিনই ভয় ও আতঙ্ক সঙ্গী হচ্ছে যাত্রীদের। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

ওই রুটের যাত্রী মো. করিম ও বিশ্বজিৎ কুমার জানান, তারা প্রতিনিয়ত মনপুরা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করেন। সি-ট্রাক থাকাকালীন তারা নিরাপদে যাতায়াত

করতেন। কিন্তু দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে কয়েকটি ট্রলার চলে। ট্রলারে চলাচল করা জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। নদীতে প্রচুর স্রোত থাকে। ঝড়ের বিষয়টিতো রয়েছেই।

‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না’।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দুই যাত্রী বলেন, “তজুমদ্দিন ও মনপুরা নৌ-রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। অথচ বিআইডব্লিউটিসি দুই মাসের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা কি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সি-ট্রাক চালু করবেন?”

মনপুরার একটি কলেজের প্রভাষক খালেদা রোকসানা। তার বাড়ি খুলনায়। সব সময় তজুমদ্দিন ঘাট হয়ে মনপুরা যান। মনপুরা যেতে বড় নদী ও উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।

রোকসানা আক্তার বলেন, ‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিসি কি তাদের ইচ্ছামতো এটি চালু করবে, নাকি এই রুটে দুর্ঘটনায় কয়েকটি মৃত্যু হলে তারপর সি-ট্রাক চালু হবে? ‘তাদের উচিত এটি পরিষ্কার করা।’

যাত্রী মিজানুর রহমান ও মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটি চরম অবহেলা যে দুই মাস ধরে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। অথচ বিআইডব্লিউটিসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা পরিষ্কার বিআইডব্লিউটিসি মনপুরা ও তজুমদ্দিন রুটের যাত্রীদের সঙ্গে চরম স্বেচ্ছাচারিতা করছে।’

“মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

‘সি-ট্রাকে সময় লাগতো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। আর ট্রলারে সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। এতে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে’ ‘যোগ করেন এই দুই যাত্রী।

ভোলা সদরে বাড়ি জামাল উদ্দিন ও হারুন মিয়ার। তারা দুজনই আদালাভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এজন্য প্রতিনিয়ত তাদের মনপুরা যেতে হয়।

তারা বলেন, “মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

ভোলার চরফ্যাশনে বাড়ি আনোয়ারা বেগমের। তার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মনপুরায়। মেয়ে অসুস্থ শুনে মনপুরার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। চরফ্যাশন থেকেও মনপুরা যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপদ নৌযান না থাকায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তজুমদ্দিন এসেছেন সি-ট্রাকে করে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখেন সি-ট্রাকটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ট্রলারে করে যেতে হবে। তবে যাত্রাপথে তার ভয় নদীর ঢেউ।

মালেকা বেগম বলেন, ‘মনপুরা থেকে ট্রলারে করে তজুমদ্দিন ঘাটে এসেছি। তবে পুরো যাত্রাপথে আতঙ্কে ছিলাম। বড় বড় ঢেউয়ে ট্রলার কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি ডুবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ও মেয়ে নিয়ে মনপুরা থেকে এসেছি। জীবনে আর কখনো ট্রলারে যাতায়াত করবো না। যদি সি-ট্রাক বন্ধ থাকে, তারপরও আর ট্রলার দিয়ে যাত্রা নয়। আমাদের জীবনের মূল্য আছে।’

যাত্রী নুর ইসলাম ও ইব্রাহীম জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন। অথচ কারো কারণ ছাড়াই মাঝে মধ্যে সি-ট্রাক বন্ধ থাকে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

অবৈধ ট্রলার চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। বর্তমানে ডেঞ্জার জোন চললে। সেখানে সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় ট্রলার চলছে কি-না সে বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টির খোজখবর নেওয়া হবে। যদি ট্রলার চলে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এতদিন কেন খোঁজখবর নেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে কেউ জানাননি।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, আগের ইজাদারের মেয়াদ শেষ হয় এপ্রিল মাসের শেষের দিকে। এর আগে সি-ট্রাকটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার

ডেস্ক প্রতিবেদন ::

১৬ বছর আগে ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে প্রায় কোটি টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় চুরির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছর খালাস পান ব্যাংকটির তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস। তবে এই মামলায় হাইকোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় মানি স্যুটের (অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি মামলা) পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিল খারিজ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিবাদীদের (পরেশের পরিবার) প্রতি হয়রানি–ভোগান্তির জন্য হাইকোর্ট আপিলকারীকে (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ) ক্ষতিপূরণমূলক খরচবাবদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। আর পুরো এই অর্থ পরেশের পরিবারের সদস্যের অনুকূলে পরিশোধ করতে বলা হয়।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯০ টাকা চুরি বা লুট হয়। তখন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঘটনার পরদিন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলায় পরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তিনি জামিন পান।

চুরির অভিযোগে করা ফৌজদারি এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট ফরিদপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মানি স্যুট করেন। তিন বছর পর ২০১৬ সালের ২৯ জুন আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপ করেন জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আপিল (প্রথম আপিল) করে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই আপিল খারিজ করে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেনহাইকোর্টের রায়ে ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৯৪ লাখের বেশি অর্থ লুটের অভিযোগ করা হয়। ব্যাংকের ভল্ট খোলার বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ তদন্ত না করে কেবল ১ নম্বর বিবাদীসহ (পরেশ) দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ভল্টটি কীভাবে খোলা হয়েছিল, তা নির্ণয়ে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত না করে শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) জড়িত করেছে। বিশেষ করে ভল্টের চাবি যাঁদের হেফাজতে ছিল এবং পিকনিক থেকে ফিরে ঘটনার দিন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা আবার ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের বিষয়ে। এতে এমন যুক্তিসংগত আশঙ্কা তৈরি হয় যে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের উদ্দেশ্য ছিল।

প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, কর্তৃপক্ষ এই আপিল শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) অপরাধী হিসেবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করেছে, যেখানে অন্যদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ আদালতের কার্যপ্রণালির অপব্যবহারের শামিল। ফলে খরচাসহ আপিলটি (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা) খারিজ করা হলো।

আদালতে পরেশের পরিবারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হয়রানি ও ভোগান্তির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ পরেশের পরিবারকে সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চুরি বা লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা চলে না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। চুরি বা লুটের অভিযোগে অর্থ উদ্ধারে মূল মামলাটি ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত ও গ্রহণযোগ্য নয় রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আপিলটি খারিজ করা হয়েছে। যাঁদের হেফাজতে ভল্টের চাবি ছিল, তাঁদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় আসামি বা পক্ষ করা হয়নি। শুধু একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে জড়ানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য। তাই জনতা ব্যাংকের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার।

আদালতে জনতা ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আরিফ বিল্লাহ ও মো. জামিল আনোয়ার। আইনজীবী আরিফ বিল্লাহ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো হাতে আসেনি। অনুলিপি পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চুরির অভিযোগে করা এই মামলায় ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে পরেশকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিয়েছিলেন পরেশ। জবানবন্দির ভাষ্য, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ব্যাংকে ঘুমিয়ে থাকেন। গভীর রাতে আসামিরা এসে তাঁর গলায় ছোরা ধরে তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। আসামিদের মধ্যে তপু ও জাহিদ ছিলেন। তাঁরা ব্যাংকের সামনে এসে ঘোরাঘুরি করতেন। তাঁরা তাঁকে চা–চটপটি খাওয়াতেন। তাঁরা বলতেন, ব্যাংকে একটি হিসাব খুলবেন। তারপর ঘটনার দিন তাঁরা আসেন। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। এই টাকা তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করতে বলেন। পুলিশ তা উদ্ধার করে।

অবশ্য নথিপত্রে দেখা যায়, মামলা তদন্তের পর পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে জাহিদের নাম আসেনি। তপু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে খালাস পান।

ফৌজদারী মামলায়ও খালাস

বিচারিক আদালতের রায়ের পর দায়রা আদালতে আপিল করেন পরেশ। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের দায়রা আদালত রায় দেন। রায়ে পরেশের সাজা কমে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন পরেশ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে পরেশকে দায়রা আদালতের দোষীসাব্যস্ত করা ও সাজা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফলে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান তিনি। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই মারা যান পরেশ।

পরেশের মৃত্যুর পর অর্থ উদ্ধার মামলায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিলে বিবাদী হিসেবে তাঁর স্ত্রী রিতা রানী দাস, ছেলে প্রণব কুমার দাস ও মেয়ে লিপি রানী দাস ২০২৫ সালের ২৬ মে পক্ষভুক্ত হন।

আইনি প্রক্রিয়ায় ১৬ বছর কেটে গেছে বলে উল্লেখ করেন পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বাবাসহ আমাদের আমাদের পরিবারকে অনেক ভোগান্তি ও হয়রানি পোহাতে হয়েছে। সামাজিকভাবেও হেয় হতে হয়েছে। আইনি লড়াই চলার মধ্যেই বাবা মারা যান। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে তিনি রায়টা দেখে যেতে পারেননি, যা আমাদের কষ্ট দেয়।’

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন পরেশের চাকরির প্রায় দুই যুগ হয়েছিল বলে জানান প্রণব কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চাকরি–পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধা আমাদের পরিবারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।’

 

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায় 

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত। পালিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিল। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে রোববার বাদ জোহর শেবাচিম হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মাওঃ হাফেজ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের প্রাণ ও শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি রাব্বি আল মামুন ফয়সাল, মোঃ সোয়েব, মোঃ আলী,মোঃ শরীফ,মোঃ রাকিব,মোঃ রাসেল প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠানে তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে জেলা বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা কাল ব্যাচ ধারন করে। পরে একটি শোক বের হয় শহরে শোক র‌্যালি বের হয়। শোক র‌্যালিটি জেলা বিএনপির কার্যলয় থেকে বেড় হয়ে শহর প্রদক্ষিন করেন জেলা বিএনপির কার্যলয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেলিন,ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, হুমায়ুন কবির সোপান, তরিকুল ইসলাম কায়েদ, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম, ইয়ারুল আলম লিটন, ‎সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ ও সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, ভোলা জেলা যুব দলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর কাদের সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম রবিন চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল আলম মানিক, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন তালুকদার এবং জেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান সেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রুবেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবদুল লতিফ টিটু,সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেন সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরাসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে হত্যার শিকার হন তিনি।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
একদিকে গরম আর অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের তামাশায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ভোলাবাসী। কারণে-অকারণে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকা ও ওজোপাডিকো’র খামখেয়ালিপনা এবং জবাবদিহি না থাকায় দিনে দিনে বিদ্যুতের চরম অব্যবস্থপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে বলছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ না থাকলেও রয়েছে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিল। প্রচন্ড গরমের মধ্যেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে চলে সংরক্ষণ ও নানা মেরামতের কাজের অযুহাত। নোটিশ দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখলেও প্রতিনিয়ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ফুসে উঠছে গ্রাহকরা ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভোলার বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী মিল-কারখানায় উৎপাদনে নেমে এসেছে ধ্বস। এ দায় কার ?

জেলায় চাহিদার চেয়ে কয়েকগুন বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। দিনে ও রাতে বিদ্যুতের এমন অবস্থায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার মালিকরা।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবং বিসিক শিল্প নগরীর খাঁন ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক জামাল খাঁন বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতর তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে, যার ফলে আমাদের উৎপাদন বিঘ্ন হচ্ছে। ভোলার ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী জহির ও মিজান বলেন, আমাদের ব্যবসা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক লোডশেডিং। যার ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুস্কর হয়ে পড়েছে।
অভিযানের নামে কোন নোটিশ প্রদান ছাড়াই আবাসিক গ্রাহকদের বাণিজ্যিক হারে বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ গ্রাহক প্রতি মাসে বিল পরিশোধ করে আসছে। নোটিশ ছাড়াই কেটে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এমন হাজারো অভিযোগের মধ্যেও বিদ্যুৎ বিলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে ওজোপাডিকো’র কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলার মধ্যে ৬ উপজেলায় ৫ লাখের অধিক গ্রাহক ওজোপাপিকো ও পল্লি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এ জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ওজোপাডিকোর ২২-৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লিবিদ্যুতের ৭০-৯০ মেগাওয়াট। এ চাহিদার বিপরীতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে উৎপাদন হচ্ছে ২২৫ মেগাওয়াট। যা জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই গ্রীড থেকে পুনরায় ভোলায় সরবরাহ হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের সমিতির আওতায় পুরো জেলায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহক থাকলেও চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। জাতীয় গ্রীড থেকে পর্যপ্ত সরবরাহ না হওয়ার ফলে বাধ্য হয়েই কয়েক ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম শাহ মোঃ রাজ্জাকুর রহমান বলেন, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম পেলে আমাদের বাধ্য হয়ে লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী চরফ্যাশন লোডশেডিং। এদিকে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ভোলাবাসী।
জানা গেছে, গত এক মাসের বেশী সময় ধরে কখনও ৩৪ ডিগ্রী কখনও বা ৩৫ ডিগ্রী তাপমাত্রা উঠা নামা করায় প্রচন্ড তাপদাহ বিরাজ করছে উপকূলীয় জেলায় ভোলায়। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এরমধ্যে আবার বিদ্যুতের লোডশেডিংয় ভোগান্তির মাত্রা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট বড় ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, চরম দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষগুলো। বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরাও।
ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) কোম্পানি লিমিটেড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইউসুফ দায়সারা বক্তব্য দিয়ে বলেন, আমাদের পিকআওয়ারে চাহিদা ৩০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ১৭-১৮ মেগাওয়াট, যার ফলে গড়ে ৩/৪ ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন : ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলায় জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত “খাদ্য কর্মসূচি” প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত পেশাজীবী জেলেরা বঞ্চিত হলেও তালিকায় স্থান পেয়েছে অপেশাদার ও তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিরা।

গত ১লা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬০ দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেয়। ভোলা সদর উপজেলায় প্রায় ২৪০০ জেলের জন্য জনপ্রতি ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি ডাল, ১০ লিটার তেল, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি ও ৪ কেজি লবণ বরাদ্দ ছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুরো জেলায় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জেলে এই সহায়তার আওতায় আসার কথা। গত ২৪ এপ্রিল সকালে ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের আত্মীয়-স্বজনসহ অপ্রকৃত জেলেদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

ভোলা সদরের রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা, ধনিয়া, শিবপুর, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নের বহু প্রকৃত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ তারা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শিবপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্র জেলে মো. জামাল মাঝি, মো. আমানউল্লাহ মাঝি, মো. আজিজুল মাঝি ও মো. হারুন মাঝি (প্রতিবন্ধী)সহ অনেকেই জানান, তালিকা প্রণয়নের সময় তাদের জেলে কার্ড সংগ্রহ করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে, তালিকায় স্থান পাওয়া অনেকেই জেলে পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী মো. ইউসুফের সহায়তায় তার আপন দুই চাচা ‘রাজমিস্ত্রী আ. রব ও ব্যবসায়ী মো. আবদুল মালেক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করেছেন।

অথচ “অফিস সহকারী” ইউসুফ জানায়, তার দুই চাচার নাম কীভাবে তালিকায় আসছে এটা সে জানেনা এবং তারা কোন পেশায় নিয়োজিত সেটাও সে জানেনা।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে অভিযোগ করেন, মৎস্য অফিসের স্টাফ মো. জাফর তার শ্বশুর, ভায়রা ভাই, পিতা এবং নিজের নাম একাধিক এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্ধশতাধিক অপেশাদার জেলেদের মালামাল সংগ্রহ করিয়ে দেয়। এসমস্ত ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এবং যেসমস্ত জেলেদের নাম তালিকায় টিকেছে সেগুলোর অনলাইনের কাজ করবে বলে তাদের অধিকাংশের কাছ থেকে ২০০,৩০০ এবং ৫’শ টাকা করে নিয়েছে এই জাফর।

এই জাফরের বিরুদ্ধে এরপূর্বেও একগাদা অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বহু লোকের জেলে কার্ড পাইয়ে দেওয়া। নিষিদ্ধকালীন সময়ে টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে নদীতে মাছ শিকার সুযোগ করে দেয়। এতো এতো অভিযোগ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে মৎস্য অফিসের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, তার খুঁটির জোড় কোথায়?

অভিযোগের বিষয়ে রিভারগার্ড মো.জাফর টাকা নেওয়ার ব্যাপারটি অস্বীকার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এবিষয়ে সদর উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্য ও জেলে সমিতির সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, আমরা সর্বপ্রথম প্রকৃত জেলেদের একটা খসড়া তালিকা করি কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই তালিকা নেওয়ার সময় আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করে মৎস্য অফিসের স্টাফ জাফর, মামুন এবং এরশাদরা মিলে অধিকাংশ অপেশাদার জেলেদের নাম নিয়ে চুড়ান্ত তালিকা প্রনয়ণ করে। বিশেষ করে শিবপুর ইউনিয়নে ২৭০ টি নামের জন্য জাফর ২’শ,৩’শ, ৫শ এবং ১ হাজার টাকা করে নিয়ে চাকুরীজীবি,ব্যবসায়ী,শিক্ষক এবং কাঠমিস্ত্রীসহ অন্য পেশার মানুষের নাম নিয়েছে।

এদিকে হাজারো প্রকৃত জেলেদের ভাগ্যে প্রণোদনার এই মালামাল জোটেনি অথচ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বেদে সম্প্রদায়ের একজন মহিলা জেলে সেদিন বুক ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে, ঐ স্যার (মৎস্য অফিসার) আমারে মালামাল দিব কইয়া দিল না! আমার স্বামীর অসুখ আইজ অনেকদিন, আমার নায়ে কোনো খায়ন নাই। আল্লায় ঐ স্যারের বিচার করুক।

এরকম শতশত পেশাদার নিরীহ জেলেদের অভিযোগ, মৎস্য অফিসের স্টাফরা তাদের আত্মীয় স্বজন,বন্ধু-বান্ধব এবং তাদের বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সুযোগ সুবিধার্থে এসমস্ত মালামাল বন্টন করেছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, “আমরা তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রস্তুত করার সময় অনাকাক্সিক্ষতভাবে কিছু অপেশাদার জেলের নাম যুক্ত হয়েছে। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন, চুড়ান্ত তালিকা আসার পর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতারা তাকে প্রভাবিত করে একাধিক নাম বাদ দিতে বাধ্য করেছে এবং তাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের নাম অর্ন্তভুক্ত করে শতাধিক নামের মালামাল নিয়েছেন। এবং জাফরের টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ¯পষ্ট প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তার নামে যে জেলে কার্ড রয়েছে এটা আমার জানা নেই যদি থাকে তাহলে আমরা সেটা বাতিল করবো।

সুশীল সমাজ বলেন, মৎস্য অফিসের মাধ্যমে সঠিক তদন্তের অভাবে এধরণের গোলমাল হয়েছে। তাদের উচিত ছিল সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত নিরীহ পেশাদার জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করা। ভবিষ্যতে এরকমটা হলে প্রকল্পের কাঙ্খিত ফলাফল আসবে না।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় জেলেদের সরকারি খাদ্য প্রণোদনায় অনিয়মের অভিযোগ