শিরোনাম :
মর্যাদা বৃদ্ধিকরণে নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের স্বত্ত্বাধীকারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা লালমোহন পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো যেন ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগে ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা বরিশালে জামিন পেলেন ৩ আওয়ামীলীগ নেতা মন্ত্রীসভায় নেই আন্দালিব রহমান পার্থ, হতাশ ভোলাবাসী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ ভোলার চার আসনে ধানের শীষের বিজয় বরিশাল নগরীতে ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র দোয়া অনুষ্ঠান ভোটের নিরাপত্তায় সাড়ে ৫ হাজার কোস্টগার্ড মোতায়েন, থাকছে ড্রোন নজরদারি চরফ্যাশনে ঝুঁকিপূর্ণ ৯ কেন্দ্রে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন—পুলিশ সুপার‎

আত্মভোলা সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার : খোলা চিঠিতে প্রমান করে গেলেন তিনি অনন্য

শিশির মজুমদার, ২৩ আগষ্ট, ০০.০২ ঘ:
  • আপডেট সময় : Saturday, August 23, 2025
  • 659 বার দেখা হয়েছে
অনুসন্ধান ডেস্ক ::
[সাংবাদিক আপন তারিক ভাইয়ের ওয়াল থেকে নেয়া]
বিভুরঞ্জন সরকারের খোলা চিঠিটা পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেছি! মনটা যেন হঠাৎই জমে গেছে শূন্যতায়! কিছু বলার ভাষা নেই, অনুভবগুলো যেন জড়িয়ে গেছে এক নিঃশব্দ যন্ত্রণায়।
এই চিঠি শুধু বিভুদার নয়-এটা হয়ে উঠেছে হাজারো সৎ, আপসহীন সাংবাদিকের অস্ফুট চিৎকার, একান্ত আত্মকথা। নামটা শুধু পাল্টাবে, গল্পটা হয়ে যাবে আপনার-আমার পরিচিত কোনো সৎ মানুষের। কারণ এই সমাজ, এই রাষ্ট্র, এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা একইভাবে সবাইকে ভেঙে ফেলে!
আজ নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার। যাওয়ার আগে রেখে গেছেন এক খোলা চিঠি-যেটা শুধু লেখা নয়, একটা গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শেষ আর্তনাদ।
চিঠিটা পড়ুন। অনুভব করুন-কীভাবে আমরা একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, একটি সমাজ মিলে মেরে ফেলি একজন সৎ মানুষকে।
সততার এত বড় শাস্তি হয়?
খোলা চিঠি
বিভুরঞ্জন সরকার:
আমি বিভুরঞ্জন সরকার, ‘আজকের পত্রিকা’র সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করি। সাংবাদিকতার সঙ্গে আমার সম্পর্ক পাঁচ দশকের বেশি সময়ের। দেশের নানা পরিবর্তন, আন্দোলন, গণআন্দোলন এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতন প্রত্যক্ষ করেছি। এই দীর্ঘ সময় আমি লিখেছি সত্যের পক্ষে, মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে। কিন্তু আজ, যখন নিজের জীবনকে দেখি, অনুভব করি—সত্য লিখে বাঁচা সহজ নয়।
আমার পেশা আমাকে শিখিয়েছে—সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেবার নাম। ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে করতে শিখেছি, কখনো কখনো নাম গোপন রাখতেই হয়। সত্য প্রকাশ করতে গেলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা প্রয়োজন হয়। এরশাদের আমল, নানা রাজনৈতিক আন্দোলন-সবক্ষেত্রে সাহস ছাড়া লেখা সম্ভব ছিল না। আমরা, আমার মতো সাংবাদিকরা, গোপন নাম ব্যবহার করেছি, তাতে স্বার্থের কিছু নেই, বরং নিরাপত্তার জন্য।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার অবস্থান স্পষ্ট ছিল-স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। আমার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান না রেখেও মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বাগিয়ে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, নিচ্ছেন। আমি ও পথে হাঁটিনি।
স্কুল ছাত্র থাকতেই সাংবাদিকতার পেশায় জড়িয়েছি। দৈনিক আজাদের মফস্বল সাংবাদিক। স্কুলে পড়ার সময় আমাদের নামে আজাদে বড় বড় লেখা ছাপা হয়েছে। আবার বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াও সেই স্কুল থেকেই। রাজনৈতিক আদর্শবোধ ও সাংবাদিকতার নৈতিক সততা আমাকে ব্যক্তিগত সুখভোগের জন্য তাড়িত করেনি। একটাই তাড়না-দায়িত্ববোধ। আমি জ্ঞানত কখনো দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিনি। নিজের কাজে ফাঁকি দেইনি। খুব সাহসী মানুষ হয়তো আমি নই, কিন্তু চোখ রাঙিয়ে কেউ আমাকে দিয়ে কিছু লেখাতে পারিনি। অবশ্য বছর কয়েক আগে কথায় পটিয়ে আমাকে দিয়ে নাঈমুল ইসলাম খান তার স্ত্রী মন্টি আপার সুখ্যাতি লিখিয়ে নিয়েছিলেন!
আজকের সময়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ অন্যরূপ। অনেকেই সুবিধা, স্বার্থ, সামাজিক মর্যাদা বা আর্থিক স্বার্থের জন্য সত্যকে আড়াল করে লেখেন। আমি নাম আড়াল করলেও সত্য গোপন করিনি। তাই হয়তো দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় এই পেশায় কাটিয়ে সম্মানজনক বেতন-ভাতা পাই না। এখন আমার যা বেতন তা বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। তবে শুনেছি, আমার বিভাগীয় প্রধানের বেতন আমার প্রায় দ্বিগুণ। আহা, যদি ওই বেতনের একটি চাকরি পেতাম তাহলেও হয়তো সংসার চালানোর জন্য নিয়মিত ধার-দেনা করার পেশাটি আমাকে বেছে নিতে হতো না! অন্যসব খরচের হিসাব বাদ দিয়ে মাসে আমার একার ওষুধের ব্যয় ২০-২২ হাজার টাকা। বাড়িয়ে নয়, একটুবকমিয়েই হয়তো বললাম! আমার আর্থরাইটিস, লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ কত যে রোগ! আর্থরাইটিস ও লিভারের চিকিৎসার জন্য কত যে ধারদেনা করতে হয়েছে। আমার ছেলেও অসুস্থ, ওরও নিয়মিত চিকিৎসাব্যয় আছে। তাই ধার-দেনা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা পরিচয়ে অনেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। একপর্যায়ে লাজলজ্জা ভুলে আমিও শেখ হাসিনার দরবারে সাহায্যের আবেদন করে কোনো ফল পাইনি। অনেক সাংবাদিক প্লট পেয়েছেন। আমি দুইবার আবেদন করেও সফল হইনি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বই লিখেও নাকি কতজন ভাগ্য বদলেছেন। অথচ আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত দুটি বইয়ের জন্য আমি দুই টাকাও রয়্যালিটি পাইনি। একেই বলে কপাল! তবে হ্যাঁ, একবার শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। ওই সফরের জন্য কিছু হাত খরচের টাকা আমি পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা তো ওই কোটপ্যান্টজুতো কিনতেই শুধু শেষ হয়, আরও দেনা হয়েছে। ওই সুবাদে আমার কোট-টাই জুতা কেনা! সারাজীবন তো স্যান্ডেল পরেই কাটল।
শুধু মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে অবিচল অবস্থানের কারণে আমাকে আজও ‘আওয়ামী ট্যাগ’ দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী আমলেও কোনো বাস্তব পুরস্কার পাইনি। আমি পেলাম না একটি প্লট, না একটি ভালো চাকরি। বরং দীর্ঘ সময় চাকরিহীন থেকে ঋণের বোঝা বেড়েছে। স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে পরিবারের দায়বদ্ধতা আমাকে প্রতিনিয়ত চাপের মধ্যে রাখে।
‘আজকের পত্রিকা’য় কাজ করছি ৪ বছর হলো। এই সময়ে না হলো পদোন্নতি, না বাড়ল বেতন। অথচ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। সংবাদপত্র আর কীভাবে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে, ঘরের মধ্যেই যেখানে অনিয়ম।
সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যাদের লেখার কারণে তাদের একজন তারিখ ইব্রাহিম। ওই নামে আমিই লিখতাম এরশাদের কোপানল থেকে রক্ষা পেতে। ক্ষমতা ছাড়ার পর দু-একবার দেখা হলে অবশ্য এরশাদও ‘দেশি’ হিসেবে আমাকে খাতির করেছেন।
আমি চাকরি করেছি দৈনিক সংবাদে, সাপ্তাহিক একতায়, দৈনিক রূপালীতে। নিজে সম্পাদনা করেছি সাপ্তাহিক ‘চলতিপত্র’। নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি ‘মৃদুভাষণ’ নামের সাপ্তাহিকে। ‘দৈনিক মাতৃভূমি’ নামের একটি দৈনিকের সম্পাদনার দায়িত্বও আমি পালন করেছি। দেশের প্রায় সবগুলো দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইনে আমার লেখা একসময় নিয়মিত ছাপা হতো। দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তখন প্রথম পৃষ্ঠায় আমার লেখা মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপা হতো।
অথচ এখন কোনো কোনো পত্রিকায় লেখা পাঠিয়ে ছাপার জন্য অনুরোধ করেও ফল পাই না। আমার লেখা নাকি পাঠক আর সেভাবে ‘খায়’ না।
এক সময় কত খ্যাতিমান লোকেরা আমার লেখা পড়ে ফোন করে তারিফ করেছেন। অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানের প্রশংসাও আমি পেয়েছি। রাজনীতিবিদ অলি আহাদ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, লেখক অধ্যাপক শওকত ওসমান, ড. রংগলাল সেন, অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের মতো কতজনের প্রশংসা পেয়েছি। বিএনপির এক সময়ের মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়াও আমাকে লেখার জন্য স্নেহ করতেন। ওহ হ্যাঁ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অন্তত দুবার নিজে আমাকে ফোন করে আমার লেখার কথা বলেছেন। এখন অবশ্য এত সাধারণ বিষয় তার মনে থাকার কথা নয়। আজ আমার লেখা নাকি পাঠক টানে না। হতেই পারে, বয়সের ভারে বুঝি লেখা হালকা হয়ে গেছে।
নামে-বেনামে হাজার হাজার লেখা লিখেছি। সম্মানী কিন্তু পেয়েছি খুবই কম। কোনো কোনো পত্রিকা তো কয়েক বছর লেখার পরও একটা টাকা দেওয়ার গরজ বোধ করেনি। সেদিক থেকে অনলাইনগুলো অনেক ভালো। একটি বড় অনলাইনের কাছেও আমার মোটা টাকা এখনো পাওনা আছে।
অথচ এখন আমার দৈনন্দিন জীবন শুরু হয় ওষুধ খেয়ে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিয়ে এবং ওষুধ কেনার টাকার চিন্তায়।
এর মধ্যে গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমের অবস্থা আরও কাহিল হয়েছে। মন খুলে সমালোচনা করার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। কিন্তু তার প্রেস বিভাগ তো মনখোলা নয়। মিডিয়ার যারা নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন তারা সবাই আতঙ্কে থাকেন সব সময়। কখন না কোন খবর বা লেখার জন্য ফোন আসে। তুলে নিতে হয় লেখা বা খবর! এর মধ্যে আমার একটি লেখার জন্য ‘আজকের পত্রিকা’র অনলাইন বিভাগকে লালচোখ দেখানো হয়েছে। মাজহারুল ইসলাম বাবলার একটি লেখার জন্যও চোটপাট করা হয়েছে। আপত্তিকর কি লিখেছেন বাবলা? লিখেছেন, সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে সামরিক হেলিকপ্টারে দিল্লি পাঠিয়েছে। আর শুধু পুলিশের গুলিতে নয়, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে জঙ্গিরাও মানুষ হত্যা করেছে। এখানে অসত্য তথ্য কোথায়? শেখ হাসিনা কি হেলিকপ্টার ভাড়া করে গোপনে পালিয়েছেন? হাসিনার পুলিশ না হয় ছাত্র জনতাকে হত্যা করলো কিন্তু পুলিশ হত্যা করলো কে বা কারা? এইটুকু লেখার জন্য পত্রিকার বিরুদ্ধে তোপ দাগা একেবারেই অনুচিত।
সব মিলিয়ে পত্রিকায় আমার অবস্থা তাই খুবই নাজুক। সজ্জন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চাপ সইতে না পেরে আমার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করেছেন।
আমি এখন কী করি? কোন পথে হাঁটি?
আমি লিখি, কারণ আমি জানতাম সাংবাদিকতা মানে সাহস। সত্য প্রকাশ মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়ার নাম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, সত্য লিখতে হলে কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য হারাতে হয়। আমি তেমন স্বাচ্ছন্দ্য চাইনি কখনো। তবে সারাজীবন হাত পেতে চলতে হবে এটাও চাইনি।
আমার সাংবাদিক বন্ধু মাহবুব কামাল মনে করেন, আমার কোনো বড় ধরনের সমস্যা আছে। না হলে তিনি এখন অনেকটা নিরাপদ জীবন কাটালেও আমার অনিশ্চয়তা কেন দূর হলো না? আসলে তাই তো? আমার অভাব কেন দূর হয় না? মাহবুব ভাই শেখ হাসিনার কাছ থেকে জমি পেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য দুই দফায় নগদ টাকাও পেয়েছেন। তারপর পৃথিবীজুড়ে তার অগণিত ভক্তকুল তাকে কত উপলক্ষেই না মুক্তহস্তে দান করেন। চিকিৎসার জন্য লাগবে লাখ কয়েক তিনি পেয়ে যান কোটি খানেক। আমার তো কপাল মন্দ। কোনো ভক্ত নেই। তবে আমিও একেবারে ঋণধার পাই না, সেটা বললে অসত্য বলা হবে। আমারও কিছু খুচরা দরদি আছে বলেই না এখনো বেঁচেবর্তে আছি।
আবার দেখুন, মাহবুব কামালের দুই পুত্র সন্তান। তারাও পিতার মতো সাফল্যের পরীক্ষায় পাস করে দেশে বিদেশে ভালো চাকরি করছে। আর আমার এক কন্যা ও এক পুত্র। ছাত্র হিসেবে মেধাবী কিন্তু…
এত এত মানুষ থাকতে মাহবুব কামালের কথাই কেন লিখছি? কারণ তার আজকের অবস্থানের পেছনে খুব সামান্য হলেও আমি ভূমিকা রেখেছিলাম! ‘যায়যায়দিনে’ কাজের জন্য পাটগ্রাম থেকে ঢাকা নিয়ে আসার জন্য শফিক রেহমানকে প্রভাবিত করেছিলাম। ‘যায়যায়দিনে’ লিখেই তো এখন বিশ্বসেরা সাংবাদিক।
আমি ক্ষুদ্র মানুষ। মনটাও সংকীর্ণ। সেজন্য আমার প্রতি সবাই বিদ্বেষ পোষণ করতেই পারে। আমি কিন্তু কারও প্রতি সামান্য বিদ্বিষ্ট নই। উপকার করার ক্ষমতা নেই বলে কারও অপকারের কথা স্বপ্নেও ভাবি না। নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। আমি যে খুব কম জানাবোঝা একজন মানুষ, সেটা আমি খুব ভালো জানি।
আমার সংসারে স্ত্রী ছাড়া দুই সন্তান। এক মেয়ে, এক ছেলে। ছেলেমেয়েরাও আমার মতো একটু বোকাসোকা। বর্তমান সময়ের সঙ্গে বেমানান। মেয়ে বড়। জীবনে কখনো কোনো পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেনি। ডাক্তার হয়েছে। বিসিএস পাস করে চাকরিও পেয়েছে। গ্যাসট্রোএনটোরোলোজিতে এমডি করতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে ধরা খেল। সরকার বদলের পর বিভাগীয় প্রধানের কোপানলে পড়ে আমার মেধাবী মেয়েটি থিসিস পরীক্ষায় অসফল হলো। অথচ ও কোনো রাজনীতির সাতে-পাঁচে নেই। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অবশ্য পাস করেছে, এখন থিসিসের জন্য আবার অপেক্ষা। এর মধ্যে আবার কোন নিভৃত অঞ্চলে পোস্টিং দিয়ে দেবে, কে জানে!
আমার ছেলেটি বুয়েট থেকে এমএমইতে পাস করেছে। আমেরিকায় একটি বৃত্তি পেয়েও শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে সময়মতো যেতে পারেনি। আমার ছেলেটি চার বছর বয়সে গুলেনবারি সিনডর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনমৃত্যুর সঙ্গে কয়েক মাস পাঞ্জা লড়ে তবে বেঁচেছে। ওর ব্যয়বহুল চিকিৎসার ধকল আমি সয়েছি। বুয়েট পাস হয়ে দেশে কত চাকরির পরীক্ষা দিয়ে পাস করেও এখন পর্যন্ত নিয়োগ নিশ্চিত হলো না। অপরাধ কি ওর নাম, নাকি বাবা হিসেবে আমি, বুঝতে পারছি না।
আমি কেন এই খোলা চিঠি লিখছি, সেটাও যে খুব ভালো বুঝতে পারছি তা নয়। তবে কয়দিন ধরে আমার কান কেন যেন কু ডাক শুনছে। মনটাও কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। মাহবুব কামাল কিছু অর্থ সাহায্য করতে চেয়েও আমার কোনো ব্যবহারে কুপিত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
শেষে ‘প্রথম আলো’ সম্পাদক মতিউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছি না। আমি একতায় মতি ভাইয়ের সহযোগী ছিলাম। তিনিই আমাকে শফিক রেহমানকে বলে ‘যায়যায়দিন’র সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে স্নেহ করতেন, বিশ্বাস করতেন। তার পত্রিকায় (তখন ভোরের কাগজ) আমাকে যোগ দিতে বলেছিলেন। আমার বাসায়ও এসেছিলেন। কিন্তু আমি তখন ‘যায়যায়দিন’ ছাড়তে চাইনি। জীবনে এর চেয়ে বড় ভুল আর আমার কোনোটা নয়। মতি ভাই, পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন।
আমার জীবনে কোনো সাফল্যের গল্প নেই। সাংবাদিক হিসেবেও এ-ডাল ও-ডাল করে কোনো শক্ত ডাল ধরতে পারিনি। আমার কোথাও না কোথাও বড় ঘাটতি আছে। এই ঘাটতি আর কাটিয়ে ওঠা হলো না।
দুঃখই হোক আমার জীবনের শেষ সঙ্গী। আর পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক।
২১ অগাস্ট, ভোর ৫টা। সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা।
[জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।]
জীবনের শেষ লেখাটি বিশ্লেষণে সুস্পষ্ট-
যে কারনে বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকারের মৃতদেহ পাওয়া গেলো মেঘনা নদীতে! খুন হওয়ার পুর্বেই তার লেখায় উঠে এসেছে-
“এর মধ্যে গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমের অবস্থা আরও কাহিল হয়েছে। মন খুলে সমালোচনা করার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। কিন্তু তার প্রেসবিভাগ তো মনখোলা নয়। মিডিয়ার যারা নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন তারা সবাই আতঙ্কে থাকেন সব সময়। কখন না কোন খবর বা লেখার জন্য ফোন আসে। তুলে নিতে হয় লেখা বা খবর!
এর মধ্যে আমার একটি লেখার জন্য ‘আজকের পত্রিকা’র অনলাইন বিভাগকে লালচোখ দেখানো হয়েছে। মাজহারুল ইসলাম বাবলার একটি লেখার জন্যও চোটপাট করা হয়েছে। আপত্তিকর কি লিখেছেন বাবলা? লিখেছেন, সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে সামরিক হেলিকপ্টারে দিল্লি পাঠিয়েছে। আর শুধু পুলিশের গুলিতে নয়, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে জঙ্গিরাও মানুষ হত্যা করেছে। এখানে অসত্য তথ্য কোথায়? শেখ হাসিনা কি হেলিকপ্টার ভাড়া করে গোপনে পালিয়েছেন? হাসিনার পুলিশ না হয় ছাত্র জনতাকে হত্যা করলো কিন্তু পুলিশ হত্যা করলো কে বা কারা? এইটুকু লেখার জন্য পত্রিকার বিরুদ্ধে তোপ দাগা একেবারেই অনুচিত।
সব মিলিয়ে পত্রিকায় আমার অবস্থা তাই খুবই নাজুক। সজ্জন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চাপ সইতে না পেরে আমার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করেছেন।
আমি এখন কি করি? কোন পথে হাঁটি?”
#Bangladesh #UNHRC #HumanRightsViolations #FreeJournalism #journalism #UNHRC_TakeAction
[সূত্র: কার্তিক দাস, একুশে টিভি)
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নারীদের মর্যাদা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের স্বত্বাধিকার নারীদের নামে প্রদান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে বিশিষ্ট নারীদের সম্মানে তাঁর নিজ উদ্যোগে নগরীর কিং ফিশার রেস্ট্রুরেন্টে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রহমাতুল্লাহ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন নারীদের বাদ দিয়ে কল্পনাও করা যায় না। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী-তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে এলে দেশ সামগ্রিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল নারীদের পিছিয়ে রাখতে চায়। যারা নারীদের অধিকার ও মর্যাদা অস্বীকার করে, তাদের পক্ষে দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষা করা সম্ভব নয়, বলেন তিনি।

রহমাতুল্লাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের উন্নয়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন জনমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড নারীদের নামে হওয়ায় পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়বে এবং আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নারীরা যখন অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম ও স্বাবলম্বী হবেন, তখন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে নারী সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে রহমাতুল্লাহ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় নারীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি নারী নেত্রী ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কর্মসুচীতে আরও উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহেদা তালুকদার, মহিলা পরিষদের সভাপতি পুস্প চক্রবর্তী, মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি, জেলা মহিলাদল সভাপতি ফাতেমা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রেশমা রহমান, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি ফারহানা তিথী, সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া পারভীন, প্রফেসর ডাঃ সেলিনা পারভীন, চন্দ্রদ্বীপ ডেভলপমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী
সামিয়া আলীসহ ডাক্তার, শিক্ষিকা, আইনজীবিসহ বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিশিষ্ট নারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন নারী নেত্রী আফরোজা খান।
এদিকে ইফতার শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মর্যাদা বৃদ্ধিকরণে নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের স্বত্ত্বাধীকারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষি ডেস্ক ::

রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে দেশের কৃষক সমাজ রোজা রেখেই মাঠে-ঘাটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে রোজার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে কৃষি কাজ করলে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রমজান মাসে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

রমজানে কৃষি কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাহরির পর ভোরের সময় ভারী কৃষি কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ এড়িয়ে চলা এবং বিকেলে হালকা কাজ করাই উত্তম। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।
সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, শরবত ও লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি উপকারী। পাশাপাশি সাহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া কম এবং ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সকাল বা সন্ধ্যায় করা উচিত। কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। এ ছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ যান্ত্রিক কৃষি উপকরণ ব্যবহার করলে শ্রম ও শক্তি সাশ্রয় হয়।
ফসলভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও রমজানে গুরুত্বপূর্ণ।

বোরো ধানে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সবজি ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং ফলের বাগানে মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মাথা ঢেকে কাজ করা এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

রমজানে সুস্থ কৃষকই সফল কৃষির মূল শক্তি। কৃষক সুস্থ থাকলে কৃষি টেকসই হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক:
 সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  অগ্নিবার্তা।
★EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)।
★কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন পৌরসভা হচ্ছে প্রথম শ্রেণির। কাগজে কলমে এবং নামেই শুধু প্রথম শ্রেণি, এই পৌরসভার নাগরিকরা পাচ্ছেন না নাগরিক সেবা। বর্তমান পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ শুধু হাসি মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ, কাজের কাজ কিছুই করেননি তিনি। প্রায় দেড় বছরের উপরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে তিনি গতানুগতিক কাজ ব্যতিত ভালো কিছুই দেখাতে পারেননি। নির্দিষ্ট স্থানে লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ময়লা ফেলার জন্য নেই নিজস্ব ডাম্পিং। গত বছর ময়লা ফেলেছে পৌরসভার স্টেডিয়ামে। এ নিয়ে কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌরসভার ময়লা ফেলেছে লালমোহন ডিগ্রি কলেজের সামনে ভোলা চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশে এবং সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে। এরপর লালমোহন হেলিপ্যাড সংলগ্ন ব্যস্ততম মহাসড়কের উপর ও পাশে ফেলছিলো ময়লা। এসব ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ওই এলাকাবাসী ও পথচারীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কয়েকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি পৌর প্রশাসকের। বর্তমান পৌর প্রশাসক দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম পৌর করমেলায় বলেছিলেন ময়লা ফেলার জন্য জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

লালমোহন বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন এভিনিউ, মিঠাই পট্টি, সুটকি পট্টি, বিনোদন সিনেমা হল পট্রি, চৌরাস্তার মোড়, দত্তপাড়া, পৌর গোলচত্বর মার্কেট, হাইস্কুল মার্কেট, খাদ্যগুদাম এলাকা, থানার মোড় এবং উত্তর বাজারের রাস্তার মাঝখানে প্রতিদিনই হরেক রকমের ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে। পৌর প্রশাসক এই ময়লা অপসারণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসের ভবনের উত্তর পাশে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে স্তূপ হয়ে পড়েছে ময়লা। একটি টিনের ঘরের চালার উপরও জমেছে ময়লার স্তুপ।

পৌরসভার বাসিন্দা নাইমুর হাসান বলেন, বিগত সরকারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম, পৌর প্রশাসক বাজারের ময়লার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ওনার অফিসের পাশেই যে পরিমাণ ময়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে, তা ওনার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এসব ময়লার স্তূপ দেখে মনে হয় ওনি একটা গিদর। ঠিকমতো কর্মচারীদের দিয়ে তাদের সঠিক কাজ করাতে পারেন না। দেড় বছর পার হয়ে গেল, ওনার হাসিমুখ ছাড়া ময়লার ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

মাহাজনপট্টির ব্যবসায়ী ফরুক জানান, আমরা এখানকার ব্যবসায়ী সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৮টায় দোকান খুলি। কিন্তু বাজারের সব ময়লা মহাজনপট্টি এই চার রাস্তার মোড়ে ফেলে রাখা হয়। পৌরসভার গাড়ি কখনও সকাল ১০টায়, কখনও ১১টায়, আবার কখনও দুপুরে এসে ময়লা নিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্গন্ধের মধ্যে ব্যবসা চালাতে হয়। সবচেয়ে খারাপ হলো, শুক্রবার ও শনিবার ময়লা তোলা হয় না। রবিবার পর্যন্ত ময়লা পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন দোকানে বসাও দায় হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও ময়লার দৃশ্য দেখে দাঁড়াতে চান না, ফলে বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মিঠাইপট্টির ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, অনেকবার অভিযোগ করা হয়েছে, সংবাদ হয়েছে। তবুও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদেরকে কষ্ট দেয়া এবং ময়লার মধ্যে দোকানপাট করার জন্যই মনে হয় ময়লাগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করছে না। এই নোংরা পরিবেশেই আমাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, দেখার বিষয়, কোনো পরিবর্তন আসে কি না।

বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা আরও জানান, সরকারের পরিবর্তনের পর তারা আশা করেছিলেন পৌর প্রশাসন অন্তত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার রাখবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের দেখা মিলছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ বলেন, আমাদের একটা গাড়ি নষ্ট ছিল, তাই মাঝে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে অন্য কোথাও কোনো সমস্যা আছে বলে আমরা দেখছি না। নিয়মিত পৌর সভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছে। তারপরও যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমাদের জানালে আমরা তা সমাধান করবো।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

লালমোহন পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো যেন ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগে ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: 

গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একই সঙ্গে জামিন দেয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ দু’জনকে।

মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন-মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন।

বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে বরিশালের অন্তত ৬টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বরিশালে জামিন পেলেন ৩ আওয়ামীলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ত্রোয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠন করছে বিএনপি। বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হলেও এবার মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই হয়নি বাংলাদেশের বহুল জনপ্রিয় সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ।

মন্ত্রীপদ না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। এনিয়ে সাধারন ভোলাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দালিভ রহমান পার্থর ত্যাগ মূল্যায়নের দাবি জানান ভোলাবাসি। দ্বিতীয় বারের মতো ভোলা সদর আসন থেকে বিপুল ভোটে এমপি হয়েছেন পার্থ।

মঙ্গলবার বিকেলে ঘোষিত এ মন্ত্রীসভায় ভোলা জেলা থেকে ১ জন স্থান পাওয়ায় হতাশ ভোলাবাসী। ভোলাবাসীর ধারনা ছিলো যেগ্যতার ভিত্তিতে ভোলা থেকে দুইজন মন্ত্রী পাবেন। গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব দেখা যাচ্ছিলো পার্থর নাম। তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলো ভোলার মানুষ। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে যখন আন্দালিভ রহমান পার্থর নাম না দেখে হতাশ হয়েছে সবাই।

ভোলার সাধারণ ভোটার রাকিব উদ্দিন অমি বলেন, আন্দালিভ রহমান পার্থ সারা বাংলাদেশর তারুণ্যের আইকন একজন রাজনীতিবিদ। তাকে দেখে তরুণরা রাজনীতি আশার উৎসাহ পায়।

সংসদে তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য তরুন প্রজন্ম এখনও শেনে। তার মতো মেধাবী সংসদ সদস্য মন্ত্রী পরিষদ বড্ড বেশি প্রয়োজন। তিনি মন্ত্রী হলে ভোলাবাসীর যেমন উপকার হবে। তেমনি রাষ্ট্র একজন মেধাবী যোগ্য একজন মন্ত্রী পাবেন। আমরা আশাকরি তারেক রহমানের ভাবনায় আন্দালিভ রহমান পার্থ অবশ্যই বিবেচনায় থাকবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিনা আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রীসভায় নেই। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাকে মন্ত্রী সভায় রাখা উচিত ছিল। আমরা ভোলাবাসী হতাশ হয়েছি।

ভোলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মোবাশ্বের উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নবগঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ভোলা জেলা থেকে অন্তত দু’জন মন্ত্রী থাকবেন। সে জায়গায় আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম না থাকা ভোলাবাসীর জন্য সত্যিই হতাশাজনক।

তবে তিনি একজন মেধাবী ও পরিচিত সংসদ সদস্য। সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে চেনেন। আমরা আশা করি, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের ন্যায্য দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপির ভোলা জেলার সাধারণ সম্পাদক মোতাসিন বিল্লাহ বলেন, আন্দালিভ রহমান পার্থ দীর্ঘ ১৭ বছর শৈরশাসকদের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলে গেছেন।

টকশোতে বলিষ্ঠ কন্ঠে দুঃশাসনের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি সৎ, যোগ্য একজন মেধাবী রাজনৈতিকিবিদ বলে আমরা মনে করি। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে পার্থ সাহেবের মতো যোগ্য সংসদ মন্ত্রী পরিষদে খুব প্রয়োজন। আমরা আশাকরি দেশের স্বার্থে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গড়তে তাকে পাশে রাখবেন।

আন্দালিব রহমান পার্থের বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে তার বাবার মৃত্যু হলে আন্দালিব বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার দল বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচন বয়কট করে। ভোলা-১ (সদর) আসনে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৩৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২৫ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়েছেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মন্ত্রীসভায় নেই আন্দালিব রহমান পার্থ, হতাশ ভোলাবাসী

ঢাক থেকে ভোলা প্রতিনিধি ::
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
দ্বীপজেলা ভোলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। ঘোষিত ফলাফলে জেলার তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে ভোলা সদর আসনে গরুর গাড়ি প্রতীকের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে চমক দেখিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ আসনে ছিল একতরফা ভোটের চিত্র, তবে কিছু কেন্দ্রে দেখা গেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। ভোট গণনা শেষে বিজয়ীদের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস ও মিছিল করতে দেখা গেছে।

ভোলা-১ (সদর) আসনে বেসরকারীভাবে বিএনপি সমর্থিত বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ গরুর গাড়ী প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১০৪৪৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে তিনি ২য় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।

অপরদিকে তার নিটকতম প্রতিদ্বন্ধী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত ইসলামী মনোনীতি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ৭৩৭৭৩ পেয়েছেন। বেসরকারীভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ৩০ হাজার ৬শ ৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় লাভ করেন।

ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা পেয়েছি। তারা আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এই বিজয় ভোলাবাসীর বিজয়। তারা আমাকে বিজয়ী করে যে সম্মান দেখিয়েছেন আমি তার মর্যাদা রাখবো। ভোলাবাসীর উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো।

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন): শক্ত লড়াই শেষে ধানের শীষের জয়। ধানের শীষ প্রতীকের আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম পেয়েছেন ১,২১,০০৫ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুফতি ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩,৪৯৮ ভোট। তিনিও ২৭,৫০৭ ভোটের ব্যবধানে জয় পেলেও এই আসনে তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে।

ভোলা-১ (সদর): বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের চমক, গরুর গাড়ির দাপট। ভোলা-১ আসনে মোট ১১৪টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ভোলা-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তমবারের মতো ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোটের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম ফুলকপি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্টদের দেওয়া তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিজয়ী প্রতিক্রিয়ায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, এই বিজয় আমার একার নয়, এটি লালমোহন-তজুমদ্দিনের মানুষের বিজয়। আগামীতে মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমি আপসহীন থাকবো।

ভোলা-৪ (মনপুরা-চরফ্যাসন) সংসদীয় আসনে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য হলেন কেন্দ্রীয় যুবদল সম্পাদক ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মনপুরা উপজেলার ২৪টি কেন্দ্র ও চরফ্যাসন উপজেলার ১৩০টি কেন্দ্রে ঘোষিত ফলাফলে ১২৩৩৪৫ (এক লক্ষ তেইশ হাজর তিনশত পঁয়তাল্লিশ) ভোট বেশি পেয়ে নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালকে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

দুই উপজেলার সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল ও কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টেদের প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় যুবদলের সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ১৫৪ কেন্দ্রে পেযেছেন দুই লক্ষ সতের হাজার একশত নববই ভোট (২১৭১৯০)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ দলীয় জোট প্রার্থী দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল পেয়েছেন তিরানব্বই আটশত পঁয়তাল্লিশ (৯৩৮৪৫) ভোট।

মনপুরা উপজেলায় ২৪ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ২৮১৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী পেয়েছেন ১১৫২৭ ভোট।

এদিকে চরফ্যাসন উপজেলায় ১৩০ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী যুবদল সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ১৯০০০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮২৩১৮ ভোট।

মনপুরা উপজেলা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবু মুছা ও চরফ্যাসন উপজেলার সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলার চার আসনে ধানের শীষের বিজয়

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিরংকুশ বিজয় লাভ করায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বরিশাল মহানগর এর ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এর উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জুম্মা বাদ নগরীর ১২ নং ওয়ার্ডের দুরানী বাড়ি জামে মসজিদে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মোঃ লুৎফর রহমান, সদস্য সচিব মোঃ আজাদ তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সবুজ দুরানী, যুবদল নেতা মাসুক হাওলাদার সহ প্রমুখ। পাশাপাশি একই কর্মসূচির আওতায় ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব সাবু ফকির এর সৌজন্যে নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডের ফকিরবাড়ী জামে মসজিদের দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুরূপ সাবেক ছাত্র নেতা জুমির খান সড়কের বাসিন্দা রুমির সৌজন্যে নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের মডেল মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা মহানগর এর যুবনেতা রুমির সৌজন্যে তবারক বিতরন করা হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বরিশাল নগরীতে ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র দোয়া অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাদ সুষ্ঠ ও উৎসবমুখর করতে উপকূলীয় এলাকায় তৎপর রয়েছে কোস্টগার্ড। পাশাপাশি ড্রোন নজরদারি থাকবে প্রত্যেক কেন্দ্রে। নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে সারাদেশে সাড়ে ৫ হাজার কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মধ্য ইলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
কোস্টগার্ড মহাপরিচালক আরও বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচনের লক্ষ্যে এবারই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণে সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে। যাতে কোথায় কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া যায়।
জিয়াউল হক আরও জানান, দুর্গম এলাকায় তাৎক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে দ্রুতগামি নৌযান ও স্পীডবোট নিয়োজিত থাকবে। এর আগে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক ভোলায় এসে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শণ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং অফিসার ডাঃ শামিম রহমান, কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আরিফুজ্জামান প্রমুখ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোটের নিরাপত্তায় সাড়ে ৫ হাজার কোস্টগার্ড মোতায়েন, থাকছে ড্রোন নজরদারি

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের শুভ সূচনা উল্লেখ করে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার বলেছেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন। ভোটকেন্দ্র বা কেন্দ্রগামী পথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎চরফ্যাশন উপজেলায় মোট ১শ’ ৩০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্রকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা সেখানে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ‎মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চরফ্যাশন টিবি স্কুল মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোলা জেলা পুলিশের আয়োজিত পুলিশ ব্রিফিং প্যারেড শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।‎

‎পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় সব ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ ও কেন্দ্র পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তাদের ওপর থাকবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি থানা এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মোবাইল টিম ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।

‎তিনি বলেন, তাদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে, যারা ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এবং ‎নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার সদস্যসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

ব্রিফিং প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লোকমান হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরিত কুমার সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, নৌবাহিনী ও আনসার কমান্ডারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া লালমোহন ও চরফ্যাশনসহ মোট ৬টি থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

চরফ্যাশনে ঝুঁকিপূর্ণ ৯ কেন্দ্রে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন—পুলিশ সুপার‎