ডেস্ক রিপোর্টঃ মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলায় চিকিৎসা সেবা সংকটে কাতরাচ্ছেন জয়নাল নামের ৭০ বছর বয়সী এক দরিদ্র মুমূর্ষ বৃদ্ধ রোগী। ভর্তির পর ২৪ ঘন্টা পার হলেও করা হয়নি পর্যাপ্ত ড্রেসিং। জড়াজীর্ণ ও বালিশহীন বিছানায় ভর্তি করে রাখা হয়েছে অযত্ন অবহেলায়। অবগত থাকলেও নজর এরিয়ে করা হয়নি পর্যাপ্ত চিকিৎসা।
মিডিয়া কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রত্যক্ষ করেন, ক্ষত সংক্রমনের কারনে পায়ের হাটুর কাছে পঁচন ধরে বেয়ে বেয়ে পড়ছে কিড়া জাতীয় পঁচন পোকা, পা থেকে বেয়ে বেয়ে পরা পোকাগুলো ছড়িয়ে যাচ্ছে আশে পাশের ওয়ার্ডে। যন্ত্রণায় কাতরালেও অদৃশ্য কারনে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিতে এগিয়ে আসছে না ওয়ার্ডের কেউ।
শুক্রবার বিকেল ৩ টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে এমনটাই দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন মিডিয়া কর্মমীরা। তাঁরা জানান, এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: ইমরান হোসাইন কে খোঁজাখোজি করলেও তাকে ওয়ার্ডে পাওয়া যায় নি। মুমূর্ষ ঐ রোগী হাসপাতালটির ৬ তলায় সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের সামনে পায়ের যন্ত্রণায় পরে থাকা ঐ বৃদ্ধকে কর্ণেল মালেক মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিত হাসপাতালের ৬ তলায় সার্জারী বিভাগে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐ বৃদ্ধকে ভর্তি করা হলেও পায়ের পঁচা অংশে জমে থাকা পোকা পরিস্কার না করেই নাম মাত্র ড্রেসিং করে বারান্দায় সিট দেয় কর্তব্যরতরা। আশে পাশের রোগী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সারা রাত পায়ের যন্ত্রণায় বৃদ্ধ জয়নালের চিৎকারে প্রায় রোগীরাই ঘুমাতে পারে নি। তবুও নেওয়া হয়নি বৃদ্ধের প্রতি পর্যাপ্ত চিৎসা ব্যবস্থা।
এদিকে চিকিৎসা অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ ওয়ার্ডের কর্তব্যরত জনৈক নার্স জানান, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা এই রোগীর বিষয়ে অবগত আছেন। আমাদের ওয়ার্ডে এই রোগীর ড্রেসিং এর যাবতীয় সামগ্রী নেই। জরুরী বিভাগের ড্রেসিং রুমে তা থাকলেও ভর্তি রোগীদের ড্রেসিং করতে চান না তারা। একারনেই আগামী কালের অপেক্ষায় আমরা।
এদিকে রোগীটির বিষয়ে অবগত থাকলেও তা অস্বীকার করেছেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা: মো: এরফান। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানেন না। ছুটির দিন তাই ভর্তি রোগীদের নির্ধারিত ড্রেসিং রুম বন্ধ। আগামী কাল সেটা খোলা হবে। সেখানেই তার ড্রেসিং সম্পন্ন করা হবে।
২৪ ঘন্টা পার হলেও তার প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যাপ্ত চিকিৎসা কেন দেওয়া হয়নি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সার্জারী বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা: আশরাফুল ইসলাম বলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আলাপ করলে ভালো হয়। এ বিষয়ে সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক ডা: আশরাফুল ইসলামকে বার বার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান অনুসন্ধানী টিম।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: ইমরান হোসাইনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ক্ষত সংক্রমনের কারনে তার পায়ের একটি অংশ পঁচে পোকার সমারোহ হয়েছে। এ বিষয়ে সার্জারী বিভাগের নিযুক্ত কনসাল্টেন্ট পরবর্তী অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডা: মো: আব্দুল আওয়াল জানান, ৪ দিনের ছুটি শেষে গতকাল রাতে এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই, কর্তব্যরত ওয়ার্ড বয় বা নার্সদের মাধ্যমে বিষয়টা জানতে পারলেও এ অবস্থা হত না। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে বিকেলে খবর পেয়ে ভর্তি ঐ রোগী কে দেখতে যান জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আওয়ামীলীগের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি এম.এ সিফাদ কোরাইশী সুমন। পরে তিনি কর্তব্যরতদের সহযোগীতায় ঐ রোগীর ড্রেসিং ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন