মাসুদ চাকলা
লেখক,সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক
বাংলাদেশের ইতিহাসের বুকে দুটি নাম সূর্যের মতো দীপ্ত—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
একজন জাতির জনক, স্বাধীনতার স্থপতি; অপরজন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক, যিনি রণাঙ্গনে লড়াইকে বিজয়ের দিকে নিয়ে গেছেন। দুজনের অবদান ভিন্ন হলেও দুজনই বাঙালি জাতির গর্ব, ইতিহাসের মহীরূহ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির স্বপ্নের আকাশ, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাবাস, শোষণ-অত্যাচার, অগণিত নিপীড়ন সয়ে গেছেন অথচ পিছু হটেননি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উত্তাপে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা, ১৯৬৬ সালের ছয় দফায় তিনি জাতিকে দিলেন মুক্তির সনদ, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে পেলেন “বঙ্গবন্ধু” উপাধি, আর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চে তিনি হলেন জাতির অবিসংবাদিত নেতা।
পাকিস্তানি শাসকরা তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি করলেও, তার নামেই মুক্তিকামী মানুষ হাতে নিয়েছিল অস্ত্র, তার ডাকেই জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তিনি ছিলেন বজ্রকণ্ঠ, যিনি বলেছিলেন—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই কণ্ঠই ছিল জাতির মুক্তির মন্ত্র।
অন্যদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন রণক্ষেত্রের গর্জন। মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তার নেতৃত্ব, সাহস ও কৌশল মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার থেকে তার কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষণা যেন আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বাংলার প্রতিটি গ্রামে। তিনি ছিলেন তরবারির ঝলক, যিনি রক্তক্ষেত্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান—একজন রাজনৈতিক আন্দোলনের অগ্রনায়ক, অপরজন সামরিক বীর।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখিয়েছেন,মাঠে ফসল বুনেছেন আর সেই ফসল ঘরে তুলেছেন জিয়াউর রহমান এবং সেই স্বপ্নের মাটিতে বীরত্বের অক্ষরে লিখেছেন বিজয়ের নাম। একজন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, অন্যজন সেই জাতির হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু পরাস্ত করেছেন।
ইতিহাসে এ দুই নায়কের অবদান তাই তুলনাহীন হলেও একে অপরের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধুর প্রতি জিয়াউর রহমানের শ্রদ্ধা ছিল অবিচল। জীবদ্দশায় তিনি কখনো বঙ্গবন্ধুর সামনে সমকক্ষ আসনে বসেননি। ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যখন দুষ্কৃতকারীরা তার ছবি নামাতে চাইলো, তখন জিয়া বলেছিলেন—
“আমার শয়নকক্ষে আমার নেতার ছবি মাথার ওপরে ঝুলছে, এই ছবি খোলার সাধ্য কারো নেই।”
এই উক্তি শুধু আনুগত্য নয়, বরং হৃদয়ের ভক্তি, ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা। উপসংহারে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের আকাশে এক অবিনাশী নক্ষত্র—তিনি জাতির জনক, স্বাধীনতার স্থপতি।
শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, বীর সেনানায়ক। তাদের অবদান ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হলেও মিলেছে এক স্রোতে-বাংলার মুক্তি। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম আর জিয়ার বীরত্ব মিলেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তাই বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা মানেই ইতিহাসকে অসম্মান করা। আর জিয়াউর রহমানের অবদান মানে মুক্তিযুদ্ধের রণক্ষেত্রের গৌরবকে সম্মান জানানো।
তাই সব বিভেদ ভুলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এক হয়ে এক সুন্দর সোনার বাংলা গড়ে তুলি।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন