কৃষি ডেস্ক ::

রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে দেশের কৃষক সমাজ রোজা রেখেই মাঠে-ঘাটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে রোজার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে কৃষি কাজ করলে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রমজান মাসে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

রমজানে কৃষি কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাহরির পর ভোরের সময় ভারী কৃষি কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ এড়িয়ে চলা এবং বিকেলে হালকা কাজ করাই উত্তম। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।
সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, শরবত ও লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি উপকারী। পাশাপাশি সাহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া কম এবং ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সকাল বা সন্ধ্যায় করা উচিত। কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। এ ছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ যান্ত্রিক কৃষি উপকরণ ব্যবহার করলে শ্রম ও শক্তি সাশ্রয় হয়।
ফসলভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও রমজানে গুরুত্বপূর্ণ।

বোরো ধানে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সবজি ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং ফলের বাগানে মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মাথা ঢেকে কাজ করা এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

রমজানে সুস্থ কৃষকই সফল কৃষির মূল শক্তি। কৃষক সুস্থ থাকলে কৃষি টেকসই হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক:
 সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  অগ্নিবার্তা।
★EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)।
★কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা

কৃষি ডেস্ক ::

🔳 বস্তায় আদা চাষে সম্পূর্ণ সার ও স্প্রে শিডিউল (বস্তা প্রতি):
বস্তা সাইজ: ৫০–৬০ কেজি
মাটি মিশ্রণ (ভালো ফলনের জন্য): দোআঁশ মাটি + কম্পোস্ট + বালি/কোকোপিট (ড্রেনেজ ঠিক রাখতে)
বীজ আদা: ৩–৪টি টুকরা
প্রতি টুকরা: ২৫–৩০ গ্রাম
সুস্থ, পোকামাকড়মুক্ত ও চোখসহ বীজ ব্যবহার করবেন

🔳  রোপণের দিন:
বেস সার (মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দেবেন)
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ২–৩ কেজি
টিএসপি: ২০–২৫ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ১৫–২০ গ্রাম
জিপসাম: ১০ গ্রাম
বোরন: ১ গ্রাম (না থাকলে বাদ)
🔳 বীজ শোধন (রোপণের আগে বাধ্যতামূলক):
ট্রাইকোডার্মা: ৫ গ্রাম/লিটার পানি
বীজ ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রোপণ করবেন
এতে পচা রোগ ও ছত্রাকের ঝুঁকি কমে

🔳 ১৫ দিন পর করণীয়:

হালকা আগাছা পরিষ্কার
মাটি আলগা করে দিন
মালচিং ঠিক রাখুন (খড়/শুকনো পাতা)
প্রয়োজন হলে স্প্রে (পোকা থাকলে)
নিম তেল: ৫ মি.লি./লিটার পানি

🔳 ৩০ দিন পর ১ম টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম

সার দেওয়ার নিয়ম:
সার চারদিকে ছিটিয়ে হালকা কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে পানি দিন।

🔳  ৪৫ দিন পর :
হিলিং আপ (মাটি উঠানো)
গাছের গোড়ায় মাটি তুলে ঢিবি করে দিন
এতে গাঁট বেশি হয়, আদা মোটা হয়, ফলন বাড়ে
রোগ প্রতিরোধ স্প্রে (ঐচ্ছিক কিন্তু ভালো)
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার পানি (১ বার)

🔳 ৬০ দিন পর ২য় টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম
পাতায় দাগ/হলদে হলে স্প্রে
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার
৭ দিন পর আবার ১ বার

🔳 ৭৫ দিন পর জৈব খাবার (ফলন বাড়ায়)
যেকোনো একটি দিন
ভার্মি কম্পোস্ট: ১–২ মুঠো
অথবা
সরিষার খৈল ভিজানো পানি: ১ গ্লাস
১:১০ অনুপাতে পাতলা করে দেবেন

🔳 ৯০ দিন পর ৩য় টপ ড্রেসিং
(গাঁট মোটা করার সময়)
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ৮–১০ গ্রাম (এ সময় কম দেবেন)
এমওপি: ১০–১২ গ্রাম (পটাশ একটু বেশি)

🔳এই সময় পটাশ বাড়ালে আদা মোটা, ভারী ও ঝকঝকে হয়।

🔳 ১২০ দিন পর করণীয়
পানি কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ করুন
আগাছা পরিষ্কার
পচা/হলুদ গাছ থাকলে আলাদা করুন
যদি পচা রোগ দেখা দেয় (গোড়া নরম/দুর্গন্ধ)
রিডোমিল গোল্ড: ২ গ্রাম/লিটার পানি
গোড়ায় ড্রেঞ্চিং (বস্তায় ঢেলে দেওয়া)
৭ দিন পর আবার ১ বার

🔳 ১৫০-১৮০ দিন সবুজ আদা সংগ্রহ
এই সময় কাঁচা/সবুজ আদা তুলতে পারবেন
বাজারে সাধারণত ভালো দাম পাওয়া যায়

🔳 ২৪০-২৭০ দিন পাকা আদা সংগ্রহ
পাতা হলুদ হয়ে শুকালে আদা তুলবেন
এটি সংরক্ষণযোগ্য ও শুকানো যায়

🔳বস্তায় আদা চাষে ফলন বাড়ানোর ৫টি কৌশল
১) পানি জমতে দেবেন না (ড্রেনেজ ঠিক রাখুন)
২) মালচিং ২–৩ ইঞ্চি রাখুন
৩) ৪৫–৬০ দিনে হিলিং আপ বাধ্যতামূলক
৪) ৯০ দিনে পটাশ একটু বেশি দিন
৫) ১৫ দিন পর পর গাছ দেখে ব্যবস্থা নিন (পোকা/রোগ দ্রুত ধরতে)

লেখক:

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ

সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।

 

বস্তায় আদা চাষা : অধিক ফলন পেতে করনীয়

কৃষি ডেস্ক ::

পেঁচা-রাতের নীরব আকাশে উড়ে চলা এক রহস্যময় পাখি। লোককথা ও কুসংস্কারে পেঁচাকে অনেক সময় অশুভ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণে পেঁচার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এখনো অনেকের অজানা।

১. কৃষকের নীরব বন্ধু পেঁচা:
পেঁচা মূলত ইঁদুর, ছুঁচো, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে থাকে। একটি পেঁচা বছরে প্রায় ১,০০০-৩,০০০টি ইঁদুর খেতে পারে।
ফলে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও গোলা ধানের ক্ষতি কমে
কীটনাশকের ব্যবহার কমে, পরিবেশ থাকে নিরাপদ কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়
এই কারণেই উন্নত দেশগুলোতে পেঁচাকে বলা হয় “প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল পেস্ট কন্ট্রোল এজেন্ট”।

২. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পেঁচা:
পেঁচা খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
ইঁদুর অতিবৃদ্ধি রোধ, রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার কমানো,
বন ও কৃষি পরিবেশ রক্ষায় এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পেঁচা না থাকলে ইঁদুরের আধিক্যে মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

৩. রোগ প্রতিরোধে পরোক্ষ ভূমিকা:
ইঁদুর ও ছুঁচো বহু মারাত্মক রোগের বাহক-যেমন প্লেগ, লেপ্টোস্পাইরোসিস, সালমোনেলা ইত্যাদি।
পেঁচা এসব প্রাণী খেয়ে তাদের সংখ্যা কমিয়ে মানুষকে রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

৪. বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পেঁচার অবদান:
পেঁচার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতা অসাধারণ।
অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা, নিঃশব্দে উড়ার কৌশল
এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে গবেষণা করে—
নাইট ভিশন প্রযুক্তি
সেন্সর ও রাডার সিস্টেম
নীরব ড্রোন ও বিমান প্রযুক্তি
উন্নয়নে পেঁচা অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৫. অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ভূমিকা:
পেঁচা থাকলে-
ইঁদুরনাশক ও কীটনাশকের খরচ কমে, ফসল নষ্ট কম হয়,
কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণে অনেক দেশে কৃষিজমিতে কৃত্রিম পেঁচার বাসা (Owl Box) স্থাপন করা হচ্ছে।

৬. কুসংস্কার নয়, সংরক্ষণ প্রয়োজন:
দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে পেঁচা নিয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় পেঁচা নিধন বা নির্যাতনের শিকার হয়।

এটি পরিবেশ ও কৃষির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর
পেঁচা সংরক্ষণ মানেই খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা

পেঁচা কোনো অশুভ প্রাণী নয়; বরং এটি মানুষের অজান্তেই কল্যাণে নিয়োজিত এক নীরব যোদ্ধা। কৃষি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে পেঁচার অবদান অনস্বীকার্য। তাই কুসংস্কার পরিহার করে পেঁচা সংরক্ষণে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া জরুরি।
“পেঁচা বাঁচলে-কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”

লেখক:

★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন

★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।

পেঁচার অজানা তথ্য : মানুষের কল্যাণে নীরব প্রহরী

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠেন কৃষকরা। যার ফলে মৌসুম শেষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এই উপজেলায় আমন মৌসুমে ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, লালমোহনে এবারের আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং ৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়। এসব জমিতে আমন মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার ৫২০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়। প্রতি মন গড়ে ৯০০ টাকা বাজার দরে মোট ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয় এই আমন মৌসুমে।
কালমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল জানান, এ বছরের আমন মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ এবং ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান-১১ ও ব্রি-ধান-৫২ আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা নিয়ে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে জমিতে চারা রোপণের পর আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। যার জন্য ফলন ভালো পেয়েছি। ক্ষেত থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো।
লালমোহন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার কৃষক মো. আব্দুল লতিফ জানান, এবারের আমন মৌসুমে ২০০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। জমির সব ধান এরইমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। ২০০ শতাংশ জমি থেকে ধান পেয়েছি দেড়শত মন। বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি করেছি ৯২০ টাকায়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। যার ফলে এই উপজেলায় কিছুটা দেরিতে ধানের আবাদ হয়েছে। দেরিতে ধানের আবাদ হলেও কৃষকরা তাদের জমি থেকে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এরমাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই উপজেলায় অধিক গড় ফলন অর্জন সম্ভব হয়েছে। পুরো আমন মৌসুমে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন। এছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণও দেওয়া হয়েছে।

লালমোহনে ২শ’ ৪১ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদন

কৃষি ডেস্ক :: 

কুশি উৎপাদন বৃদ্ধি:

★নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণের ফলে প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো ও পুষ্টি পায়।
★গবেষণায় দেখা গেছে, লাইন রোপণে কুশির সংখ্যা ২০-২৫% পর্যন্ত বেশি হয়।

ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি:

গাছের সমান বৃদ্ধি ও ভালো শীষ গঠনের কারণে
প্রচলিত ছিটানো রোপণের তুলনায় ফলন ১০–১৫% পর্যন্ত বেশি পাওয়া যায়

সার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি:

সার সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যায়
ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের অপচয় ১৫-২০% কমে

সেচ ব্যবস্থাপনা সহজ ও পানি সাশ্রয়:

সমান দূরত্ব থাকায় জমিতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
বোরো মৌসুমে লাইন রোপণে ২০–২৫% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব

আগাছা দমন সহজ ও খরচ কম:

সারি ধরে নিড়ানি ও পাওয়ার উইডার চালানো যায়
আগাছা দমনে শ্রম ও খরচ ৩০-৪০%

রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হ্রাস:

গাছের মাঝে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করায়
ব্লাস্ট, শীথ ব্লাইট ও পাতা ঝলসানো রোগের ঝুঁকি কমে

যান্ত্রিক চাষে উপযোগিতা:

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার উইডার ব্যবহারে সুবিধা
শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদ্ধতি

উৎপাদন খরচ হ্রাস ও লাভ বৃদ্ধি:

সার, পানি ও শ্রম সাশ্রয়ের ফলে
প্রতি হেক্টরে উৎপাদন খরচ গড়ে ৫-৮ হাজার টাকা কমে

বোরো ধানের জন্য সুপারিশকৃত রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি : ২০-২৫ সেমি
গাছ থেকে গাছ : ১৫-২০ সেমি
প্রতি গোড়ায় চারা : ২-৩টি

বোরো মৌসুমে লাইন করে ধান রোপণ একটি বৈজ্ঞানিক, লাভজনক ও টেকসই চাষ পদ্ধতি, যা ফলন বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লেখক:

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, গ্রামীণ কৃষি,নাগরিক কন্ঠ,সংবাদ প্রতিক্ষণ

★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা

বোরো মৌসুমে জমিতে লাইন বা সারি করে ধান রোপণের গুরুত্ব

কৃষি ডেস্ক ::

সুস্থ জীবনযাপনে প্রাকৃতিক পুষ্টির নির্ভরযোগ্য সঙ্গীসুস্থ থাকা এখন আর শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।

বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাবার ও কর্মব্যস্ততার মাঝে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় অল্প পরিমাণে বেশি পুষ্টি পাওয়ার সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে বাদাম।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত পরিমিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। প্রোটিন, ভালো চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সমন্বয়ে বাদাম এক ধরনের ‘প্রাকৃতিক শক্তিভাণ্ডার’। গ্রামবাংলার কৃষক থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী মানুষ-সবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বাদাম সহজেই যুক্ত করা সম্ভব।

🔳চিনাবাদাম: সাশ্রয়ী কিন্তু শক্তিশালী সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের হলেও চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ মোটেও কম নয়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও শক্তিদায়ক উপাদান, যা শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত চিনাবাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং পেশি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন।

🔳কাঠবাদাম: স্মৃতি ও সৌন্দর্যের সহায়ক কাঠবাদামকে বলা হয় মস্তিষ্কের খাবার। এতে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বক উজ্জ্বল রাখে, চুল মজবুত করে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতেও কাঠবাদামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

🔳কাজুবাদাম: শক্তি ও স্নায়ুর যত্নে কাজুবাদাম শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। এতে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক। চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি কাজুবাদাম স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা কর্মজীবী ও পরিশ্রমী মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

🔳আখরোট: হৃদয় ও মস্তিষ্কের বন্ধু আখরোটে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আখরোট খেলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে এবং শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যা হ্রাস পায়। তাই মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় আখরোটের গুরুত্ব অপরিসীম।

🔳পেস্তা বাদাম: সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পেস্তা বাদাম স্বাদে যেমন ভালো, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে পেস্তা বাদাম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

🔳কতটা ও কীভাবে খাবেন :
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম বা এক মুঠো বাদাম শরীরের জন্য যথেষ্ট। কাঁচা বা সারারাত ভিজিয়ে খেলে বাদামের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা অতিরিক্ত ভাজা বাদাম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

বাদাম কোনো বিলাসী খাবার নয়; এটি সুস্থ জীবনের একটি সহজ উপাদান। অল্প পরিমাণে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর থাকে সবল, মন থাকে সতেজ এবং রোগব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। তাই সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আজ থেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

লেখক:

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠসাধারণ★সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা

প্রাকৃতিক শক্তিভান্ডার বাদাম

কৃষি ডেস্ক ::
শীতকালীন সবজি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। এ সময় তাপমাত্রা কম থাকায় অধিকাংশ শীতকালীন সবজি ভালো ফলন দেয়। নিচে পৌষ মাসে চাষযোগ্য সবজির একটি গুছানো তালিকা দেয়া হলো-
🥬 পাতা জাতীয় সবজি
পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, সরিষাশাক, লেটুস, ধনেপাতা, মেথি শাক।
🥕 মূল ও কন্দজাত সবজি
গাঁজর, মুলা, বিট, শালগম, আলু
পেঁয়াজ (কন্দ ও পাতা পেঁয়াজ)
রসুন।
 
🥦 ফুল ও ফলজাত সবজি
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, মটরশুঁটি, লাউ (উষ্ণ অঞ্চলে সীমিত আকারে)
🌱 অন্যান্য শীতকালীন সবজি
শসা (পলিথিন/ঢেকে চাষে ভালো হয়)
কুমড়া (আগাম চাষ)
পৌষ মাসে চাষের বিশেষ পরামর্শ
★সকালের রোদ পায় এমন জমি নির্বাচন করুন
সেচ কম দিন, তবে মাটি শুকিয়ে গেলে হালকা সেচ প্রয়োজন।
★কুয়াশা ও শীতজনিত রোগ (ডাউনি মিলডিউ, লিফ ব্লাইট) থেকে সতর্ক থাকুন
★জৈব সার ও পচা গোবর ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়।
লেখক:
সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার

পৌষ মাসে জমিতে কি কি সবজি চাষ করা যায়?

কৃষি ডেস্ক ::
রবি মৌসুমে সরিষা চাষের পাশাপাশি মৌচাষ করলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বাড়ে, ফলে সরিষার শুঁটি বেশি ধরে এবং বীজ মোটা হয়। পাশাপাশি কৃষক পান বিশুদ্ধ সরিষা মধু, যা বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়।
⃣ সরিষার জমিতে মৌচাষ কেন লাভজনক?
সরিষা পরাগায়ন নির্ভর ফসল। মৌমাছি পরাগায়ন করলে শুঁটির সংখ্যা বাড়ে প্রতি শুঁটিতে বীজের সংখ্যা বাড়ে। ফলন ১৫-৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। সরিষার ফুলে মধুরসের পরিমাণ বেশি। সরিষা মধু হালকা হলুদ, সুগন্ধি ও দ্রুত জমাট বাঁধে যা বিশুদ্ধতার লক্ষণ।
⃣ মৌচাক বসানোর সঠিক সময় :
বপনের ৩০-৩৫ দিন পর, যখন জমিতে
১০-১৫% ফুল ফুটতে শুরু করে
সাধারণ সময়:
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি।
ফুল ফোটার আগেই মৌচাক বসালে মৌমাছি খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে যায়
⃣ প্রতি বিঘায় কতটি মৌচাক বসাবেন?
জমির পরিমাণ মৌচাক সংখ্যা:
১ বিঘা ২–৩ টি
১ একর ৬–৮ টি
 অতিরিক্ত মৌচাক বসালে ফুলের তুলনায় খাবার কম হয়ে মধু উৎপাদন কমে যায়।
⃣ মৌচাক স্থাপনের নিয়ম :
জমির আইল বা উঁচু শুকনা স্থানে বসাতে হবে
মৌচাক মাটি থেকে ১-১.৫ ফুট উঁচুতে রাখতে হবে।
চাকার মুখ পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখা ভালো।
বৃষ্টি ও কুঁয়াশা থেকে রক্ষায় উপরে টিন/পলিথিন ছাউনি দিতে হবে।
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টার সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলতে হবে।
⃣ কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতা :
ফুলের সময় কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না
প্রয়োজনে-
সন্ধ্যার পর স্প্রে
মৌমাছি কম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন বালাইনাশক
স্প্রে করার আগে মৌচাষিকে জানানো আবশ্যক।
মনে রাখতে হবে,  কীটনাশক ব্যবহারে মৌমাছি মারা গেলে ফলন ও মধু দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
⃣ মৌচাকের যত্ন ও ব্যবস্থাপনা:
মৌচাকের পাশে পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
পিঁপড়া ঠেকাতে পায়া-গুলোর চারপাশে পানি/তেলযুক্ত পাত্র বসাতে হবে।
দুর্বল চাক হলে পাশের শক্ত চাক থেকে ব্রুড (ডিমসহ ফ্রেম) দেওয়া যায়।
সপ্তাহে অন্তত: ১ বার চাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ।
⃣ বিশুদ্ধ সরিষা মধু সংগ্রহের সঠিক সময় ও পদ্ধতি:
মধু সংগ্রহের সময়:
ফুল ঝরার ৭-১০ দিন পর
যখন ফ্রেমের ৭৫-৮০% সিল (ঢাকনা) হয়ে যাবে।
সংগ্রহ পদ্ধতি:
ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি সরিয়ে ফ্রেম বের করা
পরিষ্কার হানি এক্সট্রাক্টর ব্যবহার।
কোনোভাবেই- চিনি বা পানি গরম করা যাবে না।
⃣ সম্ভাব্য উৎপাদন ও আয় (গড় হিসাব):
প্রতি মৌচাক থেকে: ৮-১২ কেজি মধু।
বাজারদর (স্থানভেদে): ৫০০-৮০০ টাকা/কেজি
১ বিঘা জমিতে মধু থেকে আয়: ৮,০০০-১৫,০০০ টাকা।
সাথে সরিষার ফলন বাড়তি পাওয়া যায়।
⃣ কৃষকের জন্য বাস্তব পরামর্শ:
✔️ নিজের জমিতে মৌচাষি রাখতে পারেন (ভাড়াভিত্তিক)।
✔️ মৌচাষির সাথে আগে থেকে চুক্তি করা ভালো।
✔️ ব্লক আকারে সরিষা চাষ করলে মধু উৎপাদন বেশি হয়।
✔️ কৃষি অফিস/প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে মৌচাষ প্রশিক্ষণ নিলে ঝুঁকি কমে।
রবি মৌসুমে সরিষার জমিতে মৌচাক স্থাপন একটি কম খরচে, কম ঝুঁকির এবং অত্যন্ত লাভজনক উদ্যোগ। সঠিক সময়, পরিমিত মৌচাক ও সচেতন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষক একদিকে যেমন সরিষার ফলন বাড়াতে পারেন, তেমনি বিশুদ্ধ মধু সংগ্রহ করে নিশ্চিত করতে পারেন বাড়তি আয়।

রবি মৌসুমে সরিষার জমিতে মৌচাক স্থাপন ও বিশুদ্ধ মধু সংগ্রহ 

কৃষি ডেস্ক ::
শহরে আবাদি জমি কমে গেলেও বাড়ির ছাদকে কাজে
লাগিয়ে আখ চাষ করা এখন জনপ্রিয় ও লাভজনক একটি পদ্ধতি। সঠিক জাত নির্বাচন ও পরিচর্যা হলে ছাদেই পাওয়া যায় টাটকা, রাসায়নিকমুক্ত মিষ্টি আখ।
🔳ছাদকৃষির জন্য উপযোগী আখের জাত:
বাংলাদেশ চিনি ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউট (BSRI) উদ্ভাবিত যেসব জাত ছাদের পরিবেশেও ভালো ফলন দেয়-
বিআরআই-২৮ (BSRI-28): মিষ্টতা বেশি, রোগ সহনশীল
বিআরআই-৪১ (BSRI-41): দ্রুত বাড়ে, রস বেশি
বিআরআই-৪২ (BSRI-42): নরম, পাতলা খোসা ও মিষ্টি
বিআরআই-৪৭ (BSRI-47): লজিং কম, রস উৎপাদন বেশি
স্থানীয় লাল ও সবুজ আখ: ছাদে দ্রুত মানিয়ে নেয়, স্বাদ উত্তম
🔳পাত্র ও মাটি প্রস্তুতি:
৫০-৮০ লিটার ধারণক্ষম ড্রাম/টব/বালতি ব্যবহার করুন
নিচে পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ছিদ্র রাখতে হবে
উপযুক্ত মিশ্রণ: বেলে দোআঁশ মাটি : কম্পোস্ট : পচা গোবর = ১ : ১ : ১
বাড়তি হিসেবে ছাই, হাড়গুঁড়া ও ট্রাইকোডার্মা মিশিয়ে নিন
🔳রোপণ পদ্ধতি:
রোগমুক্ত, শক্ত লাঠি নির্বাচন করুন
২-৩ চোখ রেখে ২০-২৫ সেমি করে টুকরা করুন
টবে ৬-৮ ইঞ্চি গভীরে তির্যকভাবে লাঠি বসান
বড় ড্রামে ২টি লাঠি যথেষ্ট
🔳সেচ ও পরিচর্যা:
মাটি শুকিয়ে এলে পানি দিন-জলাবদ্ধতা নয়
প্রতি ১৫-২০ দিনে তরল সার বা গোবর/কম্পোস্ট চা দিন
গাছ লম্বা হলে দণ্ডা বেঁধে দিন
টবের চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও আগাছামুক্ত রাখুন
 
🔳কীট ও রোগ ব্যবস্থাপনা:
লাল মাকড় ও পাতা ছিদ্রকারী পোকার বিরুদ্ধে নিমতেল + সাবান পানি স্প্রে করুন
শিকড় পচা রোধে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক রাখুন
ডগা ভেঙে গেলে কেটে দিন-গাছ আবার বাড়বে
 
🔳ফসল সংগ্রহ:
৮-১০ মাসে আখ কাটার উপযোগী হয়
লাঠি গাঢ় রঙ ধারণ করলে এবং খোসা শক্ত হলে আখ পরিপক্ব বুঝতে পারবেন
🔳সতর্কতা:
ছাদের লোড-বেয়ারিং ক্ষমতা যাচাই করুন
দিনে ৬–৭ ঘণ্টা রোদ নিশ্চিত করুন
টবের পানি যেন কখনো জমে না থাকে
🔳ছাদকৃষির সুবিধা:
পরিবারের জন্য রাসায়নিকমুক্ত আখ
অব্যবহৃত ছাদ সবুজ হয়ে ওঠে
পরিবেশ শীতল থাকে
শহরে ছোট পরিসরে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ
লেখক:
★ সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি@ দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ@ দৈনিক নাগরিক কন্ঠ@ অগ্নিবার্তা।
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী।

বসতবাড়ীর ছাদে আখ চাষ : সম্ভাবনাময় এক সবুজ উদ্যোগ

কৃষি ডেস্ক ::
ধান চাষের সফলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আদর্শ বীজতলা তৈরি। উন্নত মানের সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি হলো সঠিক মাপ, পর্যাপ্ত গভীরতা, পরিচর্যা-বান্ধব নকশা এবং মৌসুম অনুযায়ী উপযোগী প্রস্তুতি। সঠিকভাবে তৈরি বীজতলা পরবর্তী মূল জমিতে ধানের বৃদ্ধি, ঝড়–বৃষ্টির সহনশীলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. বীজতলার আদর্শ মাপ :
বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BRRI/BINA) এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষি নির্দেশিকা অনুযায়ী ধানের বীজতলার আদর্শ মাপ হলো—
দৈর্ঘ্য: ৩ মিটার (প্রায় ১০ ফুট)
প্রস্থ: ১ মিটার (প্রায় ৩ ফুট)
উচ্চতা/গভীরতা: মৌসুমভেদে পরিবর্তনশীল
দুটি বীজতলার মাঝে ফাঁকা (নালা/চলাচলের পথ): ৩০ সেন্টিমিটার
কেন এই মাপ আদর্শ?
১ মিটার প্রস্থ হলে দুই দিক থেকে সহজে পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার ও সেচ দেওয়া যায়।
৩ মিটার দৈর্ঘ্য ব্যবস্থাপনা সহজ রাখে ও বীজতলা সমানভাবে সূর্যালোক পায়।
৩০ সেন্টিমিটার ফাঁকা নালা সেচ ব্যবস্থাকে উন্নত করে এবং শ্রমিকদের চলাচল সহজ করে।
২. মৌসুমভেদে বীজতলার গভীরতা :
বীজতলার গভীরতা চারার শিকড় বিস্তার, পানি নিষ্কাশন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
রবি মৌসুম (শীতকাল)
গভীরতা: ৭–৮ সেন্টিমিটার
এ সময় তাপমাত্রা কম থাকায় বীজ দ্রুত অঙ্কুরোদ্গমে হালকা ও কম গভীর বীজতলা সহায়ক।
পানির স্থায়িত্ব কম থাকে, তাই কম গভীরতা চারাকে রোগমুক্ত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বর্ষা মৌসুম (আমান ধান)
গভীরতা: ১০–১৫ সেন্টিমিটার
বর্ষায় অতিরিক্ত পানি জমার ঝুঁকি বেশি, তাই তুলনামূলক গভীর বীজতলা পানি নিষ্কাশনকে সহজ করে।
ভারী বৃষ্টিতে বীজ ধুয়ে যাওয়া ও চারার উৎক্ষেপণ কমাতে গভীরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
 ৩. জমি নির্বাচন ও বীজতলা তৈরির আদর্শ বৈশিষ্ট্য :
✔ উচ্চ ভূমি নির্বাচন
বন্যা বা জলাবদ্ধতা এড়াতে সামান্য উঁচু স্থানে বীজতলা আদর্শ।
সরাসরি সূর্যালোক নিশ্চিত হয়, যা চারার কাণ্ড শক্ত করে।
✔ মাটির ধরন
দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি বীজতলার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
পানি ধারণ ও নিষ্কাশন দু’টিই সঠিকভাবে হয়।
✔ মাটি প্রস্তুতি
জমি ২–৩ বার চাষ ও মই দিয়ে সমান করা।
আগাছামুক্ত ও ঝুরঝুরে মাটি রাখা।
প্রতি শতকে ৫–৭ কেজি পরিমাণ পচা গোবর বা জৈব সার মেশানো।
৪. সার ব্যবস্থাপনা :
প্রতি শতকে (৩৩ ফুট × ৩৩ ফুট) সারের মানদণ্ড—
ইউরিয়া: ৫০–৬০ গ্রাম
টিএসপি: ২৫–৩০ গ্রাম
এমওপি: ২৫–৩০ গ্রাম
ডলোমাইট (প্রয়োজনে): ১০০–১৫০ গ্রাম
জৈব সার (গোবর): ৫–৭ কেজি
সার প্রয়োগের সুবিধা:
সুষম পুষ্টি চারাকে রোগমুক্ত ও সবল করে।
মূল গঠন শক্তিশালী হওয়ায় রোপণের পর দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।
৫. সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা :
হালকা সেচ দিয়ে বীজতলা সবসময় আর্দ্র রাখা।
বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য নালা পরিষ্কার রাখা জরুরি।
৩০ সেন্টিমিটার নালা বীজতলার চারপাশে পানি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
 
 ৬. পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা :
প্রতিদিন চারার বৃদ্ধি, রঙ ও রোগের লক্ষণ লক্ষ্য করা।
আগাছা দেখা দিলে উত্পাটন করা।
পোকামাকড় আক্রমণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত কীটনাশক বা জৈব পদ্ধতি অনুসরণ করা।
বীজতলা পলিথিন/জাল দিয়ে ঢেকে রাখা যেতে পারে ঠান্ডা ও পাখির ক্ষতি কমাতে।
 ৭. চারা উত্তোলন :
রোপণের ২৫–৩০ দিন বয়সে চারা উত্তোলন উপযুক্ত।
চারার উচ্চতা ১২–১৫ সেমি হলে রোপণের জন্য আদর্শ।
উত্তোলনের আগে বীজতলা হালকা ভিজিয়ে চারা ক্ষতি না করে তুলতে হয়।
লেখক :
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
★ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি।

ধানের আদর্শ বীজতলা তৈরির আধুনিক ব্যবস্থাপনা