কৃষি ডেস্ক ::
শীতকালীন সবজি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। এ সময় তাপমাত্রা কম থাকায় অধিকাংশ শীতকালীন সবজি ভালো ফলন দেয়। নিচে পৌষ মাসে চাষযোগ্য সবজির একটি গুছানো তালিকা দেয়া হলো-
🥬 পাতা জাতীয় সবজি
পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, সরিষাশাক, লেটুস, ধনেপাতা, মেথি শাক।
🥕 মূল ও কন্দজাত সবজি
গাঁজর, মুলা, বিট, শালগম, আলু
পেঁয়াজ (কন্দ ও পাতা পেঁয়াজ)
রসুন।
 
🥦 ফুল ও ফলজাত সবজি
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, মটরশুঁটি, লাউ (উষ্ণ অঞ্চলে সীমিত আকারে)
🌱 অন্যান্য শীতকালীন সবজি
শসা (পলিথিন/ঢেকে চাষে ভালো হয়)
কুমড়া (আগাম চাষ)
পৌষ মাসে চাষের বিশেষ পরামর্শ
★সকালের রোদ পায় এমন জমি নির্বাচন করুন
সেচ কম দিন, তবে মাটি শুকিয়ে গেলে হালকা সেচ প্রয়োজন।
★কুয়াশা ও শীতজনিত রোগ (ডাউনি মিলডিউ, লিফ ব্লাইট) থেকে সতর্ক থাকুন
★জৈব সার ও পচা গোবর ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়।
লেখক:
সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার

পৌষ মাসে জমিতে কি কি সবজি চাষ করা যায়?

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার হত্যার বিচারের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতারা। শুক্রবার ভোলা, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
ভোলা : ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে ভোলায় কফিন মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতীকী কফিন কাঁধে নিয়ে ভোলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজারের হাটখোলা জামে মসজিদ চত্বর থেকে ভোলাবাসীর আয়োজনে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বরিশাল দালান হয়ে বাংলাস্কুল মোড় ঘুরে নতুন বাজারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এতে যোগ দেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সমাবেশে ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, শফিউর রহমান কিরণ, বাচ্চু মোল্লা, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, সদস্য ইয়ারুল আলম লিটন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন, জমিয়াতুল মোদাররেছিন ভোলা জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বিরুল হক নাঈম, ইসলামী আন্দোলনের ভোলা জেলা উত্তরের সেক্রেটারী মাওলানা তরিকুল ইসলাম তারেক, জুলাই যোদ্ধা রাহিম ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।
সাভার : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রতিবাদী জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সাভার এলাকার প্রতিবাদী জনতা এ কর্মসূচি পালন করেন। সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে শহীদ ইয়ামিন চত্বরে এসে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কুড়িগ্রাম : ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ ও ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। শুক্রবার বাদ জুমা উপজেলা মডেল মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে শাপলা চত্বরে মিলিত হয়। সেখানে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়ক ব্লকেড করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় তারা ‘লীগ ধর জেলে ভর’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘ওসমান হাদির রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ইত্যাদি নানা স্লোগানে প্রকম্পিত করে শাপলা চত্বরে এলাকা। ব্লকেড কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন, সদস্য সচিব খন্দকার আল ইমরান, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমান প্রমুখ।
রংপুর : হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরে শোক র‌্যালি ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ‘আপামর বিপ্লবী ছাত্রজনতা, রংপুর’ ব্যানারে নগরীর জুলাই চত্বর থেকে শোক র‌্যালিটি বের হয়। র‌্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে জুলাই চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মেহেরপুর : শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জুলাই ঐক্য। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর জেলা মডেল মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ের জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
রাজশাহী : হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে রাজশাহী নগরীর জিরো পয়েন্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম : হাদিকে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বস্তরের ছাত্র জনতা। সর্বদলীয় জুলাই ঐক্রের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা তিনটার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাস স্ট্যান্ড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাস স্টান্ডে এসে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী -নাগেশ্বরী) আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মাহফুজ কিরন, ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মনিরুজ্জামান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রোকনুজ্জামানও জুলাই যোদ্ধা মফিজুল হক প্রমুখ।
রূপগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বৈষম্যবিরতি ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা রূপগঞ্জ থানার সামনে ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান।
পটিয়া, চট্টগ্রাম : ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মাথা নত না করা জুলাই আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং এই হত্যাকা-ের মূল হোতা কুখ্যাত সন্ত্রাসী ফয়সাল করীমকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসিতে ঝুলানোর দাবিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাদি হত্যাকান্ডে ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ

 

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশে শীতকালীন সবজি বাজারে এখন ব্রকলির ভালো চাহিদা তৈরি হয়েছে। আগে শুধু বড় শহরের

সুপারশপে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতার ঘরেও ব্রকলির ব্যবহার বাড়ছে। ফলন ভালো, পরিচর্যা সহজ আর বাজারদর তুলনামূলক বেশি। সব মিলিয়ে ব্রকলি এখন কৃষকের জন্য লাভজনক এক নতুন ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।

🔳 উপযুক্ত সময় ও জমি নির্বাচন:

ব্রকলি মূলত শীতকালীন সবজি। কার্তিক থেকে পৌষ-এই সময় চাষ করলে ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ জমি উপযোগী এবং জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকা একদম চলবে না। মাটির pH ৬–৭ হলে গাছ দ্রুত বাড়ে ও ফুল বড় হয়।

🔳 জাত ও চারা উৎপাদন:

উন্নত জাতের মধ্যে-Green Magic, Premium Crop, Lucky, Calabrese-চাষ করলে ফলন ভালো হয়।
২৫–৩০ দিনের সবল চারা রোপণ করতে হবে।
রোপণের আগে বীজতলায় হালকা সেচ দিলে চারা শক্ত হয়।

🔳 জমি তৈরি ও রোপণ:

উঁচু জমিতে ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করা ভালো। লাইন থেকে লাইন ১৮-২০ ইঞ্চি, গাছ থেকে গাছ ১৫-১৬ ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে।

সন্ধ্যায় চারা রোপণ করলে স্ট্রেস কমে।

🔳 সার ব্যবস্থাপনা (শতকে):

গোবর/কম্পোস্ট: ৮-১০ কেজি, ইউরিয়া: ৩০০ গ্রাম, টিএসপি: ২৫০গ্রাম, এমওপি: ২০০ গ্রাম

টপ ড্রেসিং:

২০-২৫ দিন পরে ½ ইউরিয়া

ফুল আসার সময় বাকি ইউরিয়া + এমওপি

ক্যালসিয়াম–বোরন স্প্রে করলে ফুল শক্ত, ঘন ও বড় হয়

🔳 সেচ ও আগাছা দমন :

৭-১০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে, তবে সেচ দিতে হবে বেডের পাশে নালায়, গোড়ায় নয়।

আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২-৩ বার নিড়ানি যথেষ্ট।

মালচ দিলে পানি কম লাগে এবং আগাছাও কমে।

🔳 রোগ-পোকা দমন:

শুঁয়োপোকা দমনে ফেরোমন ট্র্যাপ বা BT স্প্রে ভালো কাজ করে।

পাতায় দাগ বা ডাউনি মিলডিউ হলে কপার অক্সিক্লোরাইড/ম্যানকোজেব ব্যবহার করা যায়।

এফিড বা মাকড়সা পোকার জন্য সাবান পানি স্প্রে কার্যকর।

জমিতে ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার করলে মাটিবাহিত রোগ কম হয়।

ফসল তোলার ১০-১২ দিন আগে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না।

🔳 ফুল গঠন ও সংগ্রহ:

রোপণের ৬৫-৮০ দিনের মধ্যে ফুল সংগ্রহ করা যায়।
ফুলের মাথা ঘন, শক্ত এবং গাঢ় সবুজ হলে তুলতে হবে।
বেশি সময় রেখে দিলে ফুল ঢিলা হয়ে যায়, দামও কমে যায়।

🔳 উৎপাদন :

প্রতি শতকে ৩০-৪০ কেজি
প্রতি বিঘায় ১২-১৬ মণ

🔳 বাজারজাতকরণ:

ছায়ায় রাখলে ব্রকলি দীর্ঘসময় সতেজ থাকে।

প্রয়োজনে পানির স্প্রে করা যায়।

দূরপাল্লায় পাঠানোর সময় বরফসহ প্যাকেজিং করলে নষ্ট হয় না।

আগে থেকেই সুপারশপ-রেস্তোরাঁর সাথে যোগাযোগ করা লাভজনক।

🔳 চাষাবাদের সতর্কতা:

জমিতে পানি জমতে দেওয়া যাবে না

অতিরিক্ত ইউরিয়া দিলে ফুল ঢিলা হয়।

অপরিপক্ব (২০ দিনের কম) চারা রোপণ নয়।

রোদ-হিমালয়ের প্রভাব বেশি হলে ছায়া জাল ব্যবহার করা যেতে পারে।

একটানা কয়েক বছর একই জমিতে ব্রকলি-ফুলকপি চাষ করলে রোগ বাড়ে। ফসল পরিবর্তন জরুরি।

🔳 বাণিজ্যিক খরচ-লাভ (১ বিঘা জমি):

খরচ খাত (টাকা)

বীজ : ২০০০ টাকা
জমি তৈরি : ৪০০০টাকা
সার-কীটনাশক : ৮০০০টাকা
শ্রমিক : ৭০০০টাকা
সেচ : ২০০০টাকা
পরিবহন/প্যাকেজিং : ২০০০টাকা
মোট খরচ : ২৫০০০টাকা

আয়

বিঘায় উৎপাদন  : প্রায় ১৪ মণ (৫৬০ কেজি)

গড় পাইকারি দাম : ৭০-৮০ টাকা/কেজি

৭৫×৫৬০ = ৪২,০০০ টাকা

নিট লাভ

৪২,০০০-২৫,০০০ = ১৭,০০০ টাকা (৬৫-৭৫ দিনের মধ্যে)
সঠিক পরিচর্যায় লাভ আরও বাড়তে পারে।

স্বল্প জমিতে বেশি উৎপাদন, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দামের কারণে ব্রকলি এখন কৃষকের জন্য শীতকালীন লাভজনক ফসল। উন্নত জাত, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ভালো রাখা-এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলেই ব্রকলি চাষ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।

লেখক:
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

শীতকালীন মাঠে লাভের নতুন সম্ভাবনা ব্রকলি চাষ

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

ভূমিকম্প একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কয়েক সেকেন্ডের কম্পনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করায় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পে অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটে আতঙ্ক, দুর্বল ভবন এবং ভারী বস্তু পতনের কারণে-যা সঠিক জ্ঞান ও প্রস্তুতির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

১. ভূমিকম্পের আগে করণীয়: নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে তোলা

ক. বাড়ির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

দেয়াল, সিলিং, বিম বা কলামে ফাটল থাকলে দ্রুত মেরামত করুন।

বড় আলমারি, বুকশেলফ, ফ্রিজ এবং অন্যান্য ভারী ফার্নিচার দেয়ালে স্থিরভাবে লাগিয়ে দিন।
যুক্তি: ভূমিকম্পে অধিকাংশ আঘাত ভারী বস্তুর পতনেই ঘটে।

খ. জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা

টর্চলাইট, ফার্স্ট এইড বক্স, ব্যাটারি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি ও শুকনো খাবার সবসময় হাতের কাছে রাখুন।
যুক্তি: কম্পন থামার পরপরই নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে এটি দ্রুত সহায়তা করে।

গ. পারিবারিক সচেতনতা ও মহড়া

পরিবারকে নিরাপদ জায়গা, বের হওয়ার পথ, এবং কীভাবে টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হয়—এসব শিখিয়ে দিন।
যুক্তি: গবেষণা বলছে, পারিবারিক ড্রিল জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা ৫০% পর্যন্ত বাড়ায়।

২. ভূমিকম্পের সময় করণীয়: আতঙ্কের পরিবর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত

ক. ঘরের ভিতরে থাকলে—“ডাক–কভার–হোল্ড” পদ্ধতি অনুসরণ করুন

মজবুত টেবিল/ডেস্কের নিচে ঢুকে পড়ুন।

হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন।

টেবিল/ফার্নিচার শক্ত করে ধরে রাখুন।
যুক্তি: এটি আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।

খ. জানালা, দরজা ও ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকুন

গ্লাস ভেঙে উড়ে আসতে পারে এবং দুর্বল দরজা ফ্রেম ধসে যেতে পারে।

গ. লিফট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

কম্পনের সময় লিফট আটকে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

ঘ. বাইরে থাকলে

খোলা জায়গায় দাঁড়ান। ভবন, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং টাওয়ার থেকে দূরে সরে যান।

ঙ. গাড়িতে থাকলে

গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ খোলা জায়গায় অপেক্ষা করুন।

ব্রিজ বা বিল্ডিংয়ের নিচে গাড়ি থামাবেন না।

৩. ভূমিকম্পের পর করণীয়: নিরাপত্তা ও উদ্ধারসমন্বয়

ক. নিজের ও পরিবারের আঘাত পর্যালোচনা

প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন। গুরুতর আহতদের সরানোর সময় সতর্ক থাকুন।

খ. গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন পরীক্ষা

ফাঁস বা শর্ট সার্কিট দেখা গেলে অবিলম্বে বন্ধ করুন।
যুক্তি: ভূমিকম্প-পরবর্তী সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে।

গ. ভবনে ক্ষতি দেখা দিলে ভেতরে প্রবেশ করবেন না

কারণ আফটারশক বা দ্বিতীয় ধাক্কা বড়সড় ধস সৃষ্টি করতে পারে।

ঘ. আটকে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা

শব্দ শুনে কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়া ধ্বংসস্তূপে প্রবেশ করবেন না।

ঙ. সঠিক তথ্য গ্রহণ করুন

রেডিও, টেলিভিশন, সরকারি পেজ ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
গুজব ছড়ানো বা অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. কেন প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি?

বাংলাদেশ সক্রিয় ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের ওপর অবস্থান করায় বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময় থাকে।

নগর অঞ্চলের অধিকাংশ ভবন এখনো আন্তর্জাতিক মানে নির্মিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও প্রস্তুতি জীবনরক্ষার সম্ভাবনা ৩ গুণ বাড়ায়।

আতঙ্কজনিত দৌড়াদৌড়ি ও ভারী বস্তুর পতনে মোট হতাহতের ৩০-৪০% ঘটে—যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।

সচেতনতা, সঠিক সিদ্ধান্ত ও পূর্বপ্রস্তুতি—এই তিনটি বিষয় ভূমিকম্পে জীবনরক্ষার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ।

লেখক:
সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ।

 

 

(লেখক: সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা)

ভূমিকম্পে করণীয়

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমানে শহর হোক বা গ্রাম-সব জায়গাতেই জমির অভাব
দেখা যাচ্ছে। কিন্তু একটু উদ্যোগ নিলেই বসতবাড়ির আঙ্গীনায় ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট বেড করে সবজি চাষ করে পরিবারে পুষ্টি যোগানো সম্ভব। এতে বাজারের বিষযুক্ত সবজি কেনা লাগে না, আবার সময়ও বাঁচে।
 কেন বেডে সবজি চাষ করবেন?
১️. অল্প জায়গায় ভালো ফলন: 
সামান্য জায়গাতেই বেশি গাছ লাগানো যায়, কারণ বেডে মাটি নরম থাকে, শিকড় সহজে বাড়ে।
২️. পানি জমে না:
বেড উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিচে নেমে যায়, গাছ পঁচে না।
৩️. পরিচর্যা সহজ: 
সার, পানি, আগাছা তোলা- সবকিছু হাতের কাছেই করা যায়।
৪️. জৈব সার ব্যবহার সুবিধাজনক: 
গোবর, কম্পোস্ট বা তরল সার সহজে মিশিয়ে দেওয়া যায়।
৫️. নিজের উৎপাদন, নিরাপদ খাবার: বাজারের রাসায়নিক ছাড়া নিজের উৎপাদিত সবজি সবচেয়ে নিরাপদ।
সবজি চাষে বেড তৈরির নিয়ম:
★ জায়গাটা আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
★ প্রত্যেক বেডের প্রস্থ ১ মিটার, দৈর্ঘ্য ৩–৪ মিটার, উচ্চতা ২০–২৫ সেমি রাখলে ভালো হয়।
★ দুই বেডের মাঝে ৩০ সেমি ড্রেন রাখুন যাতে পানি জমে না।
★ মাটি খুঁড়ে তাতে পঁচা গোবর সার ৫-৭ কেজি, ছাই ১ কেজি, টিএসপি ৫০ গ্রাম ও ডিএপি ২৫ গ্রাম মিশিয়ে নিন (প্রতি বেডে)।
★ চাইলে নারিকেল ছোঁবড়া, খড় বা শুকনো পাতা দিয়ে মালচিং করে দিন-এতে মাটি আর্দ্র থাকে ও আগাছা কমে।
 কোন মৌসুমে কোন সবজি চাষাবাদ করবেন?
গ্রীষ্মকাল (মার্চ-অগাস্ট): 
লাউ, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, বরবটি, বেগুন।
শরৎ-শীতকাল (সেপ্টেম্বর-ফেব্রুয়ারি): টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শাক, গাজর, বিট, মুলা, পেঁয়াজপাতা ইত্যাদি।
বর্ষাকাল: 
কচু, পুইশাক, কলমিশাক, লালশাক বা ধনে পাতা চাষ করা যায়।
বেড পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনা:
সেচ: মাটি শুকিয়ে গেলে সকালে বা বিকেলে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি দেবেন না।
সার: প্রতি ১৫ দিনে একবার তরল জৈব সার (গোবর, ছাই ও গুর মিশ্রণ) দিন।
আগাছা: প্রতি ৭–১০ দিনে আগাছা পরিষ্কার করুন।
পোকামাকড় দমন:
নিমপাতা, সজিনার পাতা বা মরিচ-রসুন বালাইনাশক ব্যবহার করুন। রাসায়নিক কীটনাশক এড়িয়ে চলুন।
ফলন ও লাভ:
একটা ছোট ৫-৬টা বেডে নিয়মিত চাষ করলে
👉 পরিবারের সবজির চাহিদা প্রায় পুরোটা মেটে,
👉 অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করেও সামান্য আয় হয়,
👉 আবার বাড়ির পরিবেশ সবুজ ও ঠান্ডা থাকে।
বসতবাড়ির সামনে থাকা ছোট্ট জায়গাটুকু যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে নিজের হাতে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি দিয়ে পরিবারকে পুষ্টি দেওয়া সম্ভব। এতে বাজারের উপর নির্ভরতা কমে, অর্থ সাশ্রয় হয়, আর মনের প্রশান্তিও পাওয়া যায়।
লেখক:
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

বসতবাড়ির আঙ্গীনায় বেডে সবজি চাষ 

কৃষি ডেস্ক::
শীতকালে টমেটো 🍅 চাষ বাংলাদেশের কৃষকদের অন্যতম লাভজনক মৌসুমি ফসল। তবে ভালো ফলন পেতে হলে শুরু থেকেই জমি প্রস্তুতি, পরিচর্যা ও রোগ-পোকা দমনে সচেতনতা জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—
⃣ ভূমি নির্বাচন ও জমি প্রস্তুতি:
মাটি:  দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।
পিএইচ মান:  ৬.০–৬.৮ হলে ফলন সর্বোত্তম হয়।
জমি প্রস্তুতি:  আগাছা পরিষ্কার করে ২–৩ বার চাষ দিন, যাতে মাটি ঝুরঝুরে হয়।
সার প্রয়োগ (প্রতি বিঘা):
পচা গোবর: ২০–২৫ মণ
ইউরিয়া: ৭–৮ কেজি
টিএসপি: ১০–১২ কেজি
এমওপি: ৬–৭ কেজি
 
⃣ চারা রোপণ ও দূরত্ব:
সময়সূচি:  অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোপণ উপযুক্ত সময়।
দূরত্ব:   সারি ও সারির মধ্যে ২৪–৩০ ইঞ্চি এবং গাছের মধ্যে ১৮–২০ ইঞ্চি ফাঁক রাখুন।
সেচ:  রোপণের পর প্রথম ৫–৭ দিন হালকা সেচ দিন, যাতে চারা সহজে মাটি ধরতে পারে।
⃣ সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা: 
★ সপ্তাহে ২–৩ বার হালকা সেচ দিন।
★ ফুল আসার সময় থেকে প্রতি ২–৩ দিন পর পর নিয়মিত পানি দিন।
★ অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে ফল ও শিকড় পচে যেতে পারে, তাই মাটি অতিরিক্ত ভেজা রাখবেন না।
 
⃣ সার ব্যবস্থাপনা (ফসল চলাকালীন):
★ ফুল ফোটার পর প্রতি ১০–১৫ দিন অন্তর টপ ড্রেসিং হিসেবে ইউরিয়া ১–১.৫ কেজি প্রতি বিঘা পানিতে মিশিয়ে দিন।
★ ক্যালসিয়াম নাইট্রেট প্রয়োগ করলে ফলের ঝরা ও দাগ কমে।
 
⃣ গাছের ট্রেলিস ও ডাল ছাঁটাই:
★ গাছকে খুঁটি বা মাচার সাহায্যে ওপরে উঠতে সহায়তা করুন।
★ নিচের পুরোনো ও আক্রান্ত পাতাগুলো নিয়মিত ছাঁটাই করুন।
★ দুর্বল ডাল কেটে শক্ত ডাল রাখতে হবে, এতে ফলন বৃদ্ধি পায়।
⃣ রোগ-পোকা দমন:
রোগ:  ব্লাইট, পাতা দাগ ও মিলডিউ জাতীয় রোগ দমনে ম্যানকোজেব 75WP বা কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি ৭–১০ দিন অন্তর স্প্রে করুন।
পোকা:  থ্রিপস, এফিড ও লিফ-ফিডিং পোকা দমনে স্পিনোসাড 45SC বা ইমামেকটিন বেনজোয়েট ব্যবহার করা যেতে পারে।
টিপস:  রোগ দেখা দেওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক স্প্রে করুন।
⃣ ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ:
★ ফুল আসার ৬–৭ দিন পর ফল গঠিত হয়।
★ফলের রঙ হালকা লাল হলে সকালে বা বিকেলে সংগ্রহ করুন।
★ বিক্রির আগে ভালো ও আকারে সমান ফল আলাদা করুন।
✅ মনে রাখতে হবে: 
★ হালকা মালচিং (পলিথিন বা খড়) দিলে মাটির উষ্ণতা বজায় থাকে ও ফলন বৃদ্ধি পায়।
★ ফসল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্র ব্যবস্থা নিন।
★ জমি পরিষ্কার ও নিষ্কাশনব্যবস্থা ঠিক রাখুন।
সতর্ক: পরিচর্যা, সঠিক সেচ ও সময়মতো সার প্রয়োগই শীতকালীন টমেটো চাষে অধিক ফলনের মূল চাবিকাঠি।
লেখক:
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

শীতকালীন টমেটো চাষ : অধিক ফলনে করনীয়

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে পট পরিবর্তনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় সমাবেশে প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন আগামী নির্বাচন হবে খুবই কঠিন। নির্বাচনে আপাতদৃষ্টিতে বিএনপি ক্ষমতায় চলে এসেছে এমনটা ভাবলে দলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। এ জন্য দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এবং নানা রকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ইমেজ যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয় সে জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। কিন্তু তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে সারা বাংলাদেশে বিএনপির একটি অংশ বিতর্কিত কর্মকা-ে নিজেদের জড়িয়েছেন। স্থানীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাবশালী এবং কিছু কেন্দ্রীয় নেতার শেল্টারে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এবং নানা রকম বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে দলের ইমেজ চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এ কারণে এসব নেতার তথ্য সংগ্রহ করছে বিএনপির একাধিক বিশেষ টিম। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনোভাবেই বিতর্কিত কাউকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, যারা তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্য করে দলের ইমেজ ক্ষুণœ করছেন তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। তারা এলাকায় কিংবা দলে যত বড় প্রভাবশালীই হোন না কেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের কোনোভাবেই মনোনয়ন দেবেন না তারেক রহমান।

বিএনপির দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত নানা অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তিন হাজার ২২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূল দল বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন এক হাজার ৮০০ জন। তাদের মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ৭০০ জনকে কারণ দর্শানো নোটিস, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিস দেয়া হয়েছে।

একইভাবে ছাত্রদলের প্রায় ৪০০ জন বহিষ্কার ও ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানো নোটিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ১০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার ও ১৫০ জন কারণ দর্শানো নোটিস পেয়েছেন। যুবদলেরও দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বর্তমান অবস্থানও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ ভোটাররা খুশি হবেন, এমন প্রার্থীর হাতেই এবার নির্বাচনের চূড়ান্ত টিকিট তুলে দেবে বিএনপি। এক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নীতি অনুসরণ করা হবে। এ জন্য দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি হিসেবে তিনটি যোগ্যতা অন্যতম মানদ- হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই-সংগ্রামে দেশ ও দলের জন্য যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যিনি সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং এলাকার মানুষের কাছে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সুপরিচিত এবং ভোটের রাজনীতিতে যিনি তার এলাকায় বেশি জনপ্রিয়। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এমন মাপকাঠির কথা নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া জানা যায়, এবারের মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন। আবার দলের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে নবীন-প্রবীণের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কোনোভাবেই চাঁদাবাজ এবং বিতর্কিত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তনের পর থেকেই নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি শুরু করেন দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে অত্যন্ত গোপনে সারাদেশে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ের জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে আরও কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে পৃথকভাবে এ জরিপ পরিচালনা করা হবে। গত মার্চে আরেক অরাজনৈতিক বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে সারাদেশে লক্ষাধিক মানুষের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে বিএনপি।
জরিপের তথ্য মতে, ইতোমধ্যে সাংগঠনিক শাস্তি পুনর্বিবেচনা বা তুলে নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ আবেদন আছে যারা উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের অনেকের ক্ষেত্রে দলের স্থানীয় নেতারাও লিখিতভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত চালানো তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া নেতাকর্মীর হার ১৩ শতাংশের মতো।

এসব জরিপের বাইরে তারেক রহমানের বিশ্বস্তদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি নির্বাচনী ডাটাবেজ সেল।
তথ্য মতে, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিষয়ে তথ্যভান্ডার তৈরি করছেন। ওই তথ্যের মধ্যে প্রত্যেক মনোনয়ন প্রত্যাশীর আমলনামা, সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা, জনসমর্থন, নেতাকর্মীদের সমর্থন ছাড়াও প্রতিপক্ষ সম্ভ্যাব্য প্রার্থীর অবস্থান, জনসমর্থন, পরিচিতি এবং তার দুর্বল দিকগুলো উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্যদিকে জনপ্রিয়তায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকা বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর দুর্বল দিকগুলো উল্লেখসহ সেগুলো কিভাবে উত্তরণ ঘটানো যায় তার সুপারিশ করা হয়েছে সেখানে। এর মধ্যে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় কোন্দলকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা ৫ হাজারের মতো বহিষ্কার করেছি। প্রয়োজনে আরও ৫ হাজার বহিষ্কার করব। তার পরেও জিয়াউর রহমানের আদর্শেই বিএনপি চলবে। এ দলে আমরা আর কোনো চাঁদাবাজ, বিতর্কিত লোকদের স্থান দেব না। সরাসরি চাঁদাবাজি করেছেন কিংবা চাঁদাবাজদের প্রমোট করেছেন এমন লোক যত শক্তিশালীই হোক আমরা কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেব না।
তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি তার স্বচ্ছ ইমেজ ধরে রাখার স্বার্থে অভিযুক্তদের কোনো ছাড় দেবে না। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শূন্য সহনশীলতা নীতিতে অটল বিএনপি। তবে যারা নিরপরাধ প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে নেয়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা তুলে নেয়া হবে।
আর যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তারা আগামী নির্বাচনে দলীয় কোনো টিকিট পাবেন না। সকল জরিপের তথ্য হাতে আসার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগের বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম জনকণ্ঠকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা হলো, দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছেন এমন নেতাদের তালিকা করতে। তাদের আগামী নির্বাচনে কোনোভাবেই দলের টিকিট দেওয়া হবে না ।

বিএনপি সাধারণ মানুষের ভালোবাসার দল। শহীদ জিয়ার আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বিএনপি। চাঁদাবজি, দখল এবং বিতর্কিত কর্মকা-কে বিএনপি প্রশ্রয় দেবে না। এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিএনপি প্রমোট করবে না।
শতাধিক ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে গ্রিন সিগন্যাল ॥ বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ক্লিন ইমেজের শতাধিক নেতাকে নির্বাচনি প্রস্তুতির জন্য গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে যদি কেউ বিতর্কিত কর্মকা-ে নিজেকে জড়ান তা হলে তাদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানে যাবে দল। মানে তারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভিডিও কলে অংশ নিয়ে যার যার এলাকায় কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষ হলে পর্যায়ক্রমে ৩০০ প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন। সবাইকে ভোটের কারচুপি, জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, ফল ছিনতাইসহ সব ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকমান্ড। একই সঙ্গে নিজেদের জনগণের কাছে আরও বেশি যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

তাদের তারেক রহমান বলেছেন, জনগণই হচ্ছে বিএনপির শক্তি। সুতরাং জনগণের বিপদ আপদে কাছে থেকে তাদের সমর্থন আদায় করতে হবে। তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি দেওয়া নির্দেশনায় বলেছেন, সন্ত্রাসী-অপরাধীদের কোনো দল নেই। এদের কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এরা যে দলেরই হোক তাদের ধরে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।

পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের ইউনিট-কমিটির নেতাদের কঠোরতার সঙ্গে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, বিএনপি শতভাগ একটি গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিজমে বিশ্বাস করে না। এ ক্ষেত্রে দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের কমিটির নেতা-কর্মীদের কর্মকান্ডের দায় সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতাদের নিতে হবে।

তরুণ নেতাদের প্রাধান্য:নির্বাচনী সেলের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন জনকণ্ঠকে জানান, এবারের নির্বাচনে তারা অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের একটু বেশি প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। যারা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন, এলাকায় পরিচ্ছন্ন অবস্থান রয়েছে, বিগত দিনে মামলা-হামলায় নির্যাতিত হয়েছেন, নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য ছিলেন তারা এবারের মনোনয়ন নির্বাচনে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন।

ক্ষমতায় গেলেও বিতর্কিত কর্মকান্ড করলে দমন: বিএনপি যদি ক্ষমতায় যেতে পারে সেক্ষেত্রে যারা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে দলটি। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতিকারক এমন কোনো কাজ করলে যত বড় নেতা বা প্রভাবশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএনপি। প্রয়োজনে তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি চায় এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের শাসন থাকবে। কেউ কারও ওপর জুলুম করবে না, অন্যায় করবে না। বিএনপি যদি ক্ষমতায় যেতে পারে এবং দলের কোনো নেতা বিতর্কিত কাজ করেন তা হলে তাদেরও কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

বিতর্কিতদের চান না জেলা নেতারাও: পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা তৃণমূলে যখনই কোনো অনিয়ম, বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগ পাই তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। ইতোমধ্যে অসংখ্য নেতাকর্মীকে শোকজ এবং বহিষ্কার করেছি। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা চাই সারা বাংলাদেশে পরিচ্ছন্ন এবং ভালো ইমেজের প্রার্থীরা মনোনয়ন পাক। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিলে আশা করি বিএনপি বিপুল ভোটের ব্যবধানে ক্ষমতায় যাবে।
ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন সৎ এবং ক্লিন ইমেজের রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। আমরা তার আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমরা আশা করি ক্লিন ইমেজের নেতারাই আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন। এটি তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীর প্রাণের দাবি।

বিএনপি’র মনোনয়নে বাদ পড়বেন যেসব মহারথীরা!

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

বগুড়ায় পেট্রলপাম্পের এক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন (২৬) নামের এক কর্মচারীকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকা থেকে তাকে আটক করেন বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির ইনচার্জ (পরিদর্শক) ইকবাল হাসান জানান, হত্যার ঘটনার পরপর রতন বগুড়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর মৌচাক এলাকা থেকে তাকে ডিবি টিম আটক করে। আটকের সময় তার কাছে নিহতের মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের অফিসকক্ষে ক্যাশিয়ার ইকবাল হাসান হেলালকে (৩৫) হাতুড়ির আঘাতে হত্যার এ ঘটনা ঘটে। পরে সকালে পাম্পের অন্য লোকজন এলে হত্যার বিষয়টি টের পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশনে বেশ কিছুদিন ধরে তেল চুরি হচ্ছিল। এই তেল চুরির জন্য তাকে দায়ী করে ইকবাল। সেই ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করে রতন।

ডিবি ইনচার্জ জানান, রতনকে বগুড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে। কাল এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে খুনের ঘটনাটির সিসি ফুটেজ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, রাত আড়াইটার দিকে রতন একটি হাতুড়ি দিয়ে ইকবালের মাথায় একাধিকবার আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে রতন পালিয়ে যায়।

নিহত ইকবাল হোসেন সিরাজগঞ্জ সদরের পিপুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে আটক রতন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

বগুড়ায় হাতুড়ি দিয়ে পেট্রোলপাম্প ক্যাশিয়ারকে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত গাজীপুরে আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ)। সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক রোমান আকন্দ’র সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিপিজেএফ’র উপদেষ্টা ও আমাদের সময়ের সিনিয়র সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ আখতারউজ্জামান,  বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান হীরা, এনডিপির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, উজ্জ্বল ভূইয়া, জাকিয়া হোসেন, হাফিজ উদ্দিন, মাহমুদুল হাসান, রেজায়ে রাব্বি রেজা, মরিয়ম আক্তার মারিয়া, সুজন মাহমুদ প্রমূখ।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে  খুনের ঘটনা দেশে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার প্রমাণ। শুধু গাজীপুরে নয়, সারা দেশেই এখন সাংবাদিকেরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিক তুহিন হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে বিপিজেএফ’র মানববন্ধন

ডেস্ক প্রতিবেদন ::
অসতি নারী
মাসুদ চাকলা
শহরের ব্যস্ততম মোড়ে একফালি ভাঙা ফুটপাত। দিনে সেটি মানুষের পদচারণায় ভরা। সকাল শুরু হয় রিকশার ঘণ্টি, ফেরিওয়ালার হাঁক, গাড়ির হর্ন আর পথচারীদের ভিড়ে। শহর নিজের ছন্দে বেঁচে থাকে। কিন্তু রাত নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ফুটপাতটা নীরব হয়ে পড়ে, হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় ধুলো, দূরের ল্যাম্পপোস্টের আলো কুয়াশার মতো ঝাপসা হয়। আর এক কোণে সঙ্কুচিত হয়ে থাকে এক অচেনা ছায়া।
সে একসময়ের হয়তো সুন্দরী যুবতী। হয়তো কোনোদিন ভালোবাসা পেয়েছিল, কারো হাত ধরেছিল। হয়তো কোনোদিন তারও একটি ঘর ছিল। সে হাসতো, স্বপ্ন দেখতো, শাড়ির আঁচলে মা ডেকে দৌড়ে যেত গ্রামের সরু পথ ধরে। কিন্তু আজ চুল এলোমেলো, শরীরের কাপড় ছেঁড়া আর ময়লা, চোখদুটো ফাঁকা। লোকে তাকে ডাকে “পাগলি”, কেউ বলে “পাগোল।”
হয়তো পাগোল বা পাগলি বলি। জন্ম থেকে এমনটি নয়। একজন নারী সমাজে কতো অবহেলিত, উপেক্ষিত, তিরস্কৃত। নারীরা বারবার হোচট খায় আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। আবার কিছু উল্টাটাও হয়ে থাকে। তবে তার সংখ্যা ততো নয়। একজন পাগলি বা পাগোল যাই বলি না কেন, সমাজের সব চেয়ে অবহেলিত এক জীব। হয়তো তার জীবনের সবটুকুই কাটে কোন এক ফুটপাতে বা রাস্তার ধারের টং ঘরে।
তার নাম কেউ জানে না। হয়তো তার নাম ছিল রূপা বা সেলিনা। একসময় হয়তো বাবা তাকে কোলে নিয়ে মেলায় গিয়েছিল। হয়তো কারো সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, তারপর কোনো এক পুরুষের প্রতারণায়, গৃহহিংসায় বা দারিদ্র্যের দংশনে, অথবা ধর্ষণের শিকার হয়ে সে ছিটকে পড়েছিল সমাজের গণ্ডি থেকে। দিনকে দিন হারিয়ে যায় তার মানসিক স্থিতি। শেষে একদিন শহর তাকে গিলে খায়।
দিনের বেলায় পথচারীরা তাকে এড়িয়ে যায়। রিকশাওয়ালারা গালি দেয়, কেউবা কৌতুক করে। বাচ্চারা দূর থেকে পাথর ছুঁড়ে হাসে, কুকুর ঘেউ ঘেউ করে। সন্ধ্যা নামলেই শহরের বাতি জ্বলে ওঠে, আর পাগলির জীবন নেমে যায় অন্ধকারে।
কারণ রাত মানেই ভয়। শহরের আলো ম্লান হলে, নর্দমার পোকা যেমন বের হয়, তেমনি বের হয় মানুষরূপী জানোয়াররা। পুরুষ নামের কিছু কিট, কিছু নরপিশাচ, তার দিকে এগিয়ে আসে। তারা হাসে, ফিসফিস করে।
—“ওই, পাগলি… চুপচাপ থাকবি, নইলে খবর আছে!”
পাগলি আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।
—“কেউ… কেউ নাই? আমারে বাঁচাও!”
কিন্তু শহর ঘুমিয়ে থাকে। অন্ধকারে শুরু হয় নিঃশব্দ পশুত্বের উৎসব। কেউ শোনে না তার চিৎকার। ফুটপাতে ঝরে পড়ে অশ্রু, হাওয়া বয়ে নিয়ে যায় অমানবিকতার গন্ধ।
দিন যায়, মাস গড়ায়। তার শরীর শুকিয়ে যায়, চোখে খিদে আর ভয়ের ছাপ। আর একদিন ভোরে, বৃষ্টির ফোঁটায় ভেজা শহরের ফুটপাতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চায়ের দোকানদার চিৎকার করে ওঠে,
—“এই রে! পাগলির বাচ্চা হইছে!”
রাস্তার ধারে, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে, ঠাণ্ডা কংক্রিটের উপর ভূমিষ্ঠ হয় এক নবজাতক। শহর থমকে দাঁড়ায় কিছুক্ষণের জন্য। রিকশাওয়ালা কাছে এসে থুতু ফেলে বলে,
—“রে ভাই, বাচ্চা নষ্ট করে দিলেই হইতো, বাঁচলো ক্যান?”
চায়ের দোকানদার মাথা নাড়ে,
—“হ, পাপের ফল এটাই। অসতি নারী!”
পাগলি জবাব দেয় না। তার কোলের শিশুটি ঠাণ্ডায় কাঁপছে, আর সে ফিসফিস করে,
—“তুই… তুই আমাগো মতো হইস না… তুই ভালো হইস…”
কিন্তু চারপাশের মানুষের চোখে কোনো মায়া নেই। সবাই তার দিকে তাকায় যেন সে অপরাধী। শহর জানে না, কারা ছিল সেই রাতের নরপিশাচ। শহর জানে না, কারা তার জীবন শেষ করে দিয়েছে।
দুপুরের দিকে এক এনজিও কর্মী আসে। শিশুটিকে তুলে নেয় হাসপাতালে। পাগলি কাঁদতে কাঁদতে হাত বাড়ায়,
—“ওরে নিবা না… ও আমার…”
কর্মীটি নরম গলায় বলে,
—“ও বাঁচবে না তোমার সঙ্গে, মা… তোমার বাচ্চা বাঁচুক…”
ফুটপাত আবার নীরব হয়ে যায়। রিকশার ঘণ্টি, গাড়ির হর্ন, মানুষজনের ভিড়—শহর আবার নিজের ছন্দে ফিরে যায়। কিন্তু সেই ছন্দের ফাঁকে থেকে যায় এক চাপা হাহাকার।
দিন গড়ায়, বৃষ্টি নামে, রাত পেরোয়। অবশেষে বৃষ্টিভেজা এক ভোরে তাকে আর জীবিত পাওয়া গেল না। বুকে চেপে থাকা ছিল শুধু এক ছেঁড়া শাড়ি। ফুটপাতের এক কোণে, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে, নিঃশব্দে শেষ হয়ে যায় এক অবহেলিত জীবন।
কেউ জানলো না, কোন হাসপাতালের কোণে বড় হলো সেই নবজাতক। কেউ খুঁজলো না তার জন্য কোনো কবর। শহর গিলে খেল তাকে, যেভাবে গিলে খায় হাজার অবহেলিত জীবনকে।
দূরে এক পথশিশু চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল—
—“মা, তুই কোথায় গেলে?”
শহরের বাতাসে ভেসে রইলো শুধু একটাই প্রশ্ন—
এই অপরাধ কার? পাগলির, না সেই সমাজের, যেটি মানুষ হয়ে পশুত্ব ঢেকে রাখে পোশাকের আড়ালে?

পান্থপথের অসতি নারীর আত্মকথন :: জাতির বিবেক অন্ধকূপের গহীনে