নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার চলতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অসংখ্য ভুল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা। প্রশ্নপত্রে বানান ভুল, বাক্য গঠনজনিত ভুল, অর্থগত অসংগতি ও নির্দেশনা

বিভ্রাটসহ নানা অসঙ্গতি প্রকাশ পায়। চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নেই ৬৫টি ভুল তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাকিব আহমেদ পরশ নামে একজন। তিনি তার পোস্টে প্রকাশ করেন, ‘…প্রশ্নের মধ্যে যদি এত ভুল হয়, তবে…. যোগ্যতার মাপকাঠি নিয়েও প্রশ্ন উঠে। তারা কি শুধুই বেতন নেয়? নাকি বসে বসে চা খায়?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি। ওই পোস্টের কমেন্টে ৩য় ও ৫ম শ্রেণির প্রশ্নেও ভুল আছে বলে প্রকাশ করেছেন অনেকে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক ৫ম শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্ন দেখিয়ে তাতেও অসংখ্য ভুল তুলে ধরেন।
জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহে আলম নিজ দায়িত্বে প্রশ্নপত্র ছাপানোর ব্যবস্থা করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি উপজেলা পর্যায়ের কোনো শিক্ষক বা প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা কমিটিকে সম্পৃক্ত না করে বাইরে থেকে প্রশ্ন ছাপিয়ে আনেন। তিনি প্রশ্ন বিক্রিও করেন নিজ দায়িত্বে। ১ম থেকে ২য় শ্রেণির প্রশ্ন সেট নেন ৮টাকা, ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির প্রশ্নের সেট নেন ১২ টাকা।
শিক্ষকরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক পরীক্ষায় এ ধরনের অসংখ্য ভুল শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন বুঝতে সমস্যা হয়। শিক্ষকদের অভিযোগÍ এমন দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে প্রশ্নপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়া ছাপানোর কারণে প্রশ্নের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা শিক্ষার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষার মতো সংবেদনশীল খাতে অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহে আলম উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নিয়ননীতির তোয়াক্কা না করে সহকারি শিক্ষকদের মৌখিক ডেপুটেশনে পাঠানোরও অভিযোগ রয়েছে। নীতিমালায় ডেপুটেশন বন্ধ থাকলেও তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়ে মৌখিকভাবে ডেপুটেশন দিচ্ছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহে আলম জানান, প্রুফ না করায় ভুল হতে পারে। চলমান শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে প্রশ্ন দেখা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য, শ্রেণিতে পাঠদানে অবহেলা, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমন একটি চিঠির এসে পৌছেসে ভোলার বাণী’র হাতে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ ও ভোলার সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: আমির ফয়সাল (বাংলা), আবদুল্লাহ আল মনির (বাংলা), শেখ আবু তালেব (ভৌত বিজ্ঞান), মাকছুদের রহমান (জীব বিজ্ঞান), মোঃ নাজির উদ্দিন (ব্যবসায় শিক্ষা), জহর লাল দাস (কৃষি শিক্ষা), মোঃ মুবীন মুন্সী (শরীরিক শিক্ষা), মো: কামরুল ইসলাম (গণিত) বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোচিং সেন্টারে পাঠদানের জন্য উৎসাহিত ও প্রভাবিত করেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং একাডেমিক ফলাফলে ফেল করারও ভয় দেখান তারা। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ পরিপন্থী এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর। যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি এবং বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এ সকল শিক্ষকগণ একটানা ২১/২২ বছর অত্র জেলায় ও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরী করে আসছেন। যার ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং বিদ্যালয়ে উক্ত শিক্ষকগণ এক প্রকার সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। বিগত বছরসমূহে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য সহকারী শিক্ষকগণকে এই সিন্ডিকেট নানা রকম ভয়ভীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখানোর মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যে অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বদলি হতে বাধ্য করতেন। সার্বক্ষণিক উক্ত শিক্ষকগণ কোচিং-এ পাঠদানের কারণে তার নৈতিক দায়িত্ব বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময় ক্লান্ত, পাঠদানের অমনোযোগী হয়ে পড়েন ও ক্লাস চলাকালীন সময়ে শ্রেণি কক্ষে না গিয়ে শিক্ষক রুমে বসে থাকেন। তখন প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষকগণ তাদের যথা সময়ে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে যাওয়ার জন্য বললে তার সাথে খারাপ আচারণ ও নানা রকম ভয়ভীতি প্রদান করে থাকেন।
আরো অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন না ও ছুটি হওয়ার পূর্বেই বিদ্যালয় ত্যাগ করে থাকেন। উক্ত শিক্ষকগণের কাছে যারা কোচিং-এ পাঠদান করেন এরকম অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না। তাছাড়াও যারা উপস্থিত থাকে তাদের বিরতির সময়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করার জন্য উল্লেখিত সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদেরকে প্ররোচনা দিয়ে থাকেন। নিয়মিত সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি ক্লাস শিক্ষকদের কয়েক দফা মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হলেও উক্ত শিক্ষকরা কোন সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
আরো জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ যে কোন অযুহাতে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের রাস্তায় নামিয়ে নানা রকম ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপকর্ম করিয়ে থাকেন। স্কুলের ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক শেখ আবু তালেব প্রতিষ্ঠানের নামে বা বেনামে তিনি নিজে এডমিন হয়ে অবৈধভাবে প্রায় ১০/১১টি ফেসবুক একাউন্ট পরিচালনা করে থাকেন। এই একাউন্টের মাধ্যমে তিনি যে সকল শিক্ষকগণ তাদের বিরুদ্ধাচারণ করতেন ওই সকল শিক্ষকগণের নামে সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রপাগান্ড ছড়িয়ে সমাজে সম্মান ক্ষুন্ন করে থাকেন। লোক-লজ্জ্বার কারণে ওই সকল শিক্ষকগণ নিরুপায় হয়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এছাড়াও শিক্ষক শেখ আবু তালেব বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার মত বিধি বর্হিভূতভাবে ভ্রমণ বিল নিজের নামে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর দায়িত্বে থেকে বরাদ্দকৃত ৩৫ হাজার টাকার বই জন্য ক্রয় না করে টাকা আত্মসাৎ করেন।
অন্যদিকে কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক (কম্পিউটার ল্যাবের দায়িত্বে থাকা) জহর লাল দাস বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক মলামাল ক্রয়ের সরকারি বরাদ্দের তহবিল থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিধি বর্হিভূতভাবে নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচার দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কোয়ার্টারে থেকে নিজে কম্পিউটারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
অপরদিকে গত ১৪ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষকগণের কাছে পাঠদান করেন এমন শিক্ষার্থীরা বিরতির সময়ে ব্যাগ কাধে নিয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার জন্য হইচই করে গেটের সামনে আসলে প্রধান শিক্ষক আজাহারুল হক তাদের ক্লাসে পাঠিয়ে দেন। উক্ত শিক্ষকগণ ছাত্রদের পালানো দৃশ্য শিক্ষক মিলনায়তন বসে দেখেও কোন প্রকার কর্ণপাত করেননি। প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বললে এই সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষকের সাথে আদাচরণ, নানা রকম উসকানিমূলক কথা-বার্তা এবং নানা রকম ভয়-ভীতি প্রদান করেন। উক্ত ডিন্ডিকেটের শিক্ষকদের সাথে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে ভাল কোন সম্পর্ক নাই। এমন পরিস্থিতিতে উক্ত সিন্ডিকেটের শিক্ষকগণের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণ তাদের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তারা ওই সকল শিক্ষকদের বাসায় বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: আমির ফয়সাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এছাড়া অপর অভিযুক্ত শিক্ষক শেখ আবু তালেব এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভোলার বাণী’কে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। যিনি বা যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে তা যদি সত্য প্রমাণিত হয় তা হলে সারকারি চাকুরী বিধি অনুযায়ী।
ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০% বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও কর্মচারীদের ৭৫% উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর লালমোহন পৌরশহরের এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের কার্যালয়ে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) লালমোহন উপজেলার এমপিওভূক্ত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে ৫জন শিক্ষক কর্মচারী ঢাকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন এবং রবিবার থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবেন।
লালমোহন উপজেলা এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সমন্বয়কারী মো. আলমগীর হোসেন জানান, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে গত ১২ অক্টোবর দুই শতাধিক শিক্ষক ঢাকাতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। এখনো লালমোহনের অনেক শিক্ষক আন্দোলনে ঢাকাতে রয়েছেন। কিন্তু ওই দিন দুপুরে হঠাৎ বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের মতো পুলিশ শিক্ষকদের উপর অতর্কিত হামলা, জলকামান, সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শিক্ষকদের উপর হামলা পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে কোনোদিন হয়নি। বর্তমান সরকারের পুলিশ তা করেছে। আমরা মনে করেছি আমাদের ন্যায্য দাবি বর্তমান সরকার মেনে নিবে। কিন্তু আমাদের দাবি মেনে না নিয়ে বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টা উলটো আমাদেরকে বিভিন্ন ভিভ্রান্তি মূলক কথাবার্তা বলছেন।
আমাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি লালমোহন উপজেলার প্রত্যেকটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে কমপক্ষে ৫জন শিক্ষক ঢাকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে। তিনি উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে আজ ঢাকা যাওয়ার জন্য সর্বরকম সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০% বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও কর্মচারীদের ৭৫% উৎসব ভাতা প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ জোট (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) এর আয়োজনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে লালমোহন থেকে দুই শতাধিকের অধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক লালমোহন থেকে লঞ্চ যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে গতকাল রওয়ানা হয়েছে।
লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন থেকে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ কারিকুলাম ও পাঠ্যবই একই । কিন্তু সুযোগ সুবিধা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার। আমরা আর বৈষম্যের শিকার হতে চাই না। এজন্য গত মাসের ১২ তারিখ ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ আন্দোলন করার প্রেক্ষিতে মাননীয় শিক্ষা উপদেস্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২০% বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও কর্মচারীদের ৭৫% উৎসব ভাতা দেয়া হবে। কিন্তু শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে গত ৫ আগস্ট বিশ্ব শিক্ষক দিবসে হঠাৎ ৫শ টাকা বাড়ি ভাড়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এমপিওভূক্ত শিক্ষকগণ তা ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করে।
এরপর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ১২ অক্টোবর ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য লালমোহন থেকে আমরা দুইশত এর অধিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক আজ শনিবার লঞ্চ যোগে রওয়ানা হয়েছি। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবো।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় জ্ঞানপিপাসুদের জন্য একটি পাবলিক লাইব্রেরি থাকলেও জানেন না অনেকেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে ভবনটির আশপাশে। রাতের সুনসান নীরবতায় রীতিমতো পাবলিক লাইব্রেরিটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জ্ঞানের আলো ছড়ানো পাবলিক লাইব্রেরিটি এখন চরম বেহাল দশায় ভুগছে। তবে হেল্পিং ক্লাব নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চলতি মাসে পাবলিক লাইব্রেরিটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তারা পাবলিক লাইব্রেরিটি পুরোদমে চালু করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক এমপি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (বীরবিক্রম) এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি দুইতলা বিশিষ্ট পাবলিক লাইব্রেরি কাম-অডিটোরিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের পর একজন লাইব্রেরিয়ানও নিয়োগ দেওয়া হয়। শুরু হওয়ার পর কয়েক মাস জমজমাটভাবেই চলে লাইব্রেরির কার্যক্রম।
তবে ১৯৯৩ সালে লালমোহন করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজের কার্যক্রম পাবলিক লাইব্রেরিটিতে চালু হয়। এরপর থেকেই পাবলিক লাইব্রেরির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৮ সালে নিজস্ব ভবন হওয়ার পর লালমোহন করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ পাবলিক লাইব্রেরি ছেড়ে তাদের নিজস্ব ভবনে চলে যায়। সেই থেকে আর আলোর মুখ দেখেনি পাবলিক লাইব্রেরিটি। তবে নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করে এখন অবসরে চলে গেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই লাইব্রেরিয়ান।
লালমোহনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হেল্পিং ক্লাবের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাকির হোসাইন জুয়েল বলেন, পৌরশহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে পাবলিক লাইব্রেরি রয়েছে। অথচ লাইব্রেরিটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টদের এক প্রকার অবহেলায় ঝিমিয়ে পড়েছে লাইব্রেরির কার্যক্রম।
লাইব্রেরির ভেতরে ও বাইরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। বিষয়টি আমাদের চোখে পড়ার পর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। যাতে করে বইপ্রেমী এবং জ্ঞানপিপাসুরা এখানে নিয়মিত প্রয়োজনীয় বই-পত্রিকা পড়তে পারেন। যার জন্য বিগত কয়েকদিনে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা মিলে লাইব্রেরির আঙিনা ও ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়েছি। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবলিক লাইব্রেরিটি চালু করতে যেন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন।
লালমোহন প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উপজেলা সভাপতি মো. সোহেল আজিজ শাহিন জানান, লাইব্রেরি হলো বই, তথ্য ও জ্ঞানের ভান্ডার। যা মানুষকে জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার সুযোগ করে দেয়। একটি লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, ব্যক্তিগত আগ্রহ অন্বেষণ করতে এবং শেখার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তাই স্থানীয় জ্ঞানপিপাসু মানুষজন ও শিক্ষার্থীদের জন্য শিগগিরই পাবলিক লাইব্রেরিটি উপযোগী করে তোলতে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করছি।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, পাবলিক লাইব্রেরিটি চালু করতে জেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। শিগগিরই ওই টাকা দিয়ে বই কেনা হবে। এলাকার চাহিদা অনুযায়ী বই কেনার জন্য কেউ পরামর্শ দিলে তা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া লাইব্রেরিটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ বসার জন্য চেয়ার-টেবিল কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবলিক লাইব্রেরির কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ::
স্নেহা চক্রবর্তী। সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি-দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
আজ ছিল তার জীবনের একটি নতুন সূচনার দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস। গতকাল সকালে বাবার হাত ধরে প্রথমবার পা রাখে স্বপ্নের প্রাঙ্গণে। বাবা বিপুল চক্রবর্তী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চোখে আনন্দের অশ্রু আর গর্ব ভরে মেয়েকে নিয়ে যান ভর্তি করাতে। মেয়ে ভর্তি হলো, ভর্তির কাজ শেষে বিকেলের দিকে বাবার বুক জড়িয়ে ধরে বাড়ির পথে রওনা দেয় স্নেহা। বাবা নিজে তাকে তুলে দেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কে জানত, সেই শেষ বিদায়টা হবে এতটা চিরন্তন, এতই নির্মম! পথেই বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে থেমে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। স্নেহা আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী আর ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী ছুটে যান হাসপাতালে। মেয়ের নিথর শরীর দেখে ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারান মা। ছোট ভাই সূর্য যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু বড় বোন স্নেহার লাশের দিকে তাকিয়ে থাকে! এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। একে একে পরিবারের নিকটজনরা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন কেবল কান্না আর আহাজারি! একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে।
একটি স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস এভাবেই নিরবে লেখা হলো আজ। স্নেহা চক্রবর্তী আর নেই। থেকে গেলো তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, বাবার চোখের জল, মায়ের বুকভাঙা কান্না আর ভাইয়ের অজস্র প্রশ্ন,”দিদিগো, তুমি কোথায় গেলে?”
আমরা স্নেহার আত্মার শান্তি কামনা করছি, অনন্তলোকে ভালো থাকুক মেয়েটি। ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।।

নেছারাবাদ প্রতিনিধি::
পিরোজপুরের সেই সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিন সাময়িকভাবে বরখাস্ত
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ।
সোমবার (৪ আগস্ট) উপজেলার সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সাটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিনের দাবি, বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো কোনো অন্যায় নয়, বরং এটি তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোকে আমি গর্বের বিষয় মনে করি।’
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এটিকে স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বলেও মন্তব্য করছেন। আবার অনেকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর বলেও আখ্যায়িত করেছেন ওই প্রধান শিক্ষিকাকে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষক সমাজের একাংশ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ও অন্য একটি পক্ষ এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার মোবাইলে ফোন দিলে তার স্বামী মো. হাফিজুর রহমান ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলেছে আপনার একটা চিঠি আছে। অফিসে এসে নিয়ে যাবেন। তবে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়ে আমাদের কিছু বলেনি।’
নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত স্কুলে আমরা তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রিপোর্ট প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন। তদন্ত চলমান আছে, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলাও হতে পারে। এমনকি স্থায়ীভাবে বহিষ্কারও হতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিন বিদ্যালয়ের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলাব্যাপী উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার বিরোধিতা করলে প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে আমার বাবা মইনউদ্দীন মাস্টার মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সেই যুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি হতনা। তাই আমার বিদ্যালয় থেকে এই ছবি সরাতে পারব না। পরবর্তীতে জনগণের তোপের মুখে সেই ছবি নামাতে বাধ্য হন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্তে প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনুসন্ধান ডেস্ক::
মুমতাহিনা করিম মীম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা বড়বাড়ির মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা মীম নিজেকে আস্তে আস্তে গড়ে তুলেছেন। অবশেষে মিলেছে সফলতা। যুক্তরাষ্ট্রের হেনড্রিক্স কলেজ থেকে বিশ্ববিখ্যাত ‘হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ অর্জন করেছেন তিনি। এটি একটি ফুল-রাইড স্কলারশিপ।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চারজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ স্কলারশিপ দেয়া হয়। এ বছর স্কলারশিপ পাওয়া চারজনের তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের এবং এর বাইরে পুরো বিশ্ব থেকে সুযোগ পাওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী মীম। মীমের এ অর্জন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১আগস্ট) বিকেলে এ অসাধারণ অর্জনের জন্য সরফভাটা বড়বাড়ির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়
পুরস্কার জিতেছেন মীম:
সবচেয়ে ব্যতিক্রমী কাজ করেন করোনা মহামারির সময়। ঘরে বসেই গড়ে তোলেন একটি মিনি রোবটিক্স ল্যাব। নির্মাণ করেন ‘কিবো’ নামে একটি রোবট যেটি খাবার পরিবেশন করতে পারে।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেন মীম। যাত্রাটা সহজ ছিল না; কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তিনি তা পূরণ করেছেন।
নিজের সংগ্রাম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সহশিক্ষা কার্যক্রম আমার পরিচয়ের বড় অংশ। ছোটবেলা থেকেই বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন, গান, প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করেছি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছি এবং সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা লাভ করেছি। স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের এবং সেজন্য নিজেকে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি এবং মা-বাবা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় সফল হয়েছি।’
চেয়ারম্যান
অধ্যক্ষ(অব:) প্রফেসর ড.গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস
প্রধান সম্পাদক
ইঞ্জিনিয়ার মো.জিহাদ রানা
উপদেষ্টা সম্পাদক
মো. আ. রাজ্জাক ভূইয়া (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
উপদেষ্টা
ড.বাহাউদ্দিন গোলাপ, রাম কৃষ্ণ নাথ
পৃষ্ঠপোষক
বিশ্বজিৎ ঘোষ (বিশু)
আইন উপদেষ্টা
এ্যাড. মোঃ মিজানুর রহমান
ঢাকা জেলা বার এ্যাসোসিয়েশন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সুগন্ধা মজুমদার
নির্বাহী সম্পাদক
মো. মাসুদুর রহমান চাকলা
মোবাইল:০১৭৩৫৩১৩২০৫
বার্তা সম্পাদক
আপন মন্ডল
মোবাইল: ০১৭৫৩৫৪৭০৭৪
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ড. সরকার মোঃ আবুল কালাম আজাদ
মোবাইল: ০১৭২০২৫৬৪৫৭
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ পি.সি মজুমদার শিশির
বার্তা কক্ষ ও যোগাযোগ
মোবাইলঃ ০১৭১৫৮৫১৪৯১
Sarkar Villa, House # 47- 48, Block # D, Road # 23, Pallabi, Dhaka -1216
ই-মেইল: atvnews.press@gmail.com
ওয়েব: https://anusandhantv24.com/

