অনুসন্ধান ডেস্ক ::
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কিশোরী রীমা রানী সরকার (১৫)-কে নিখোঁজের প্রায় ২৪ দিন পর পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রিমাকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। এই কাজে জড়িত থাকার অভি
যোগে ভিকটিমের ধর্মান্তরিত আপন মাসিসহ তার
স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা ও এর সাথে কাজ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোড দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলী দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রীমা রানী সরকার। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মতিলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং–০৮, তারিখ: ০৫/১০/২০২৫) রুজু করা হয়। অপহরণের পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এর দিকনির্দেশনায়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।
ঘটনা ক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ ও ১১ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বদরুল আলম (২৫) ও শহিদ মিয়া (৩২)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও প্রসারিত করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভিকটিমের খালা প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেই সূত্র ধরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটক করে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, শিল্পী সরকার (ওরফে শিল্পী বেগম) ভিকটিমের আপন খালা (তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম)। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মোবারক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুলিশের দাবি,ঘটনার দিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে অঞ্জলী শেষে ফেরার পথে কিশোরী রীমাকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ধরাধরপুর এলাকায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এমনকি ঘটনার পর ভিকটিমের মা জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগমের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। গতকাল (২৪ অক্টোবর) তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিকটিম রীমা রানী সরকারকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত রিমা রানী সরকারের ঘটনাটি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপন না অপহরণ এ বিষয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, অনেকেই অপহরণ দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিসোর কিশোরীকে যদি কেহ ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে সেটি অপহরণ হিসেবেই গণ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি আরও তদন্তের দাবি সাধারণ জনগণের। এর পিছনে মূল রহস্য কি এবং কেন শুধুমাত্র একটি বিষয়কেই হাইলাইট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে ভাইরাল করা হয়েছে,যেহেতু শ্রীমঙ্গল থানায় এরূপ আরো হাফ ডজনের ও অধিক নিখোঁজ ও অপহরণ অভিযোগ এই মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে। এছাড়া পূর্ব যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেটিজেনরা।বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে নজর রাখুন।
 #শ্রীমঙ্গলের রীমা সিলেট থেকে উদ্ধার:ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আপন খালা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার
#সংগ্রহ #শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের রীমা রানী সিলেট থেকে উদ্ধার : ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধর্মান্তরিত আপন মাসী গ্রেফতার

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
প্রতারণামূলকভাবে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এবং তা গোপন রেখে তালাকের কপি রেজি: ডাকযোগে ভুয়া ঠিকানায় পাঠিয়ে তালাক দেয়া স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে রেখে দীর্ঘ ৯৮ দিন দাম্পত্য জীবন পার করার পরেও ওই  বিতর্কিত তালাকনামার কাগজপত্রের জোরে বিচারককে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এবং বাদীর নিযুক্ত আইনজীবী মো: হুমায়ুন কবির-১ এবং তাঁর সহযোগী অন্যান্য আইনজীবীদের রহস্যজনক অনুপস্থিতির সুযোগে আসামীপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বরিশাল ম্যাট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট ১ম বিচার আদালতের বিচারক নূরুন নাজনীন’র আদালত থেকে যৌতুক মামলায় অব্যাহতি নেন বাদীর প্রতারক স্বামী মোঃ সোলাইমান(৩৬) এবং শশুর মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী(৬০)। অব্যহতিপ্রাপ্ত আসামীরা বিএমপি কাউনিয়া থানা এলাকার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, যৌতুুক নিরোধ আইন ২০১৮ সনের ৩ ধারায় গত ৪ মার্চ ওই ২ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে সিআর ৫৮/২০২৫(কাউনিয়া) নং মোকদ্দমা দায়ের করেন বিএমপি কাউনিয়া থানাধীন চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডস্থ চর আবদানীর বাসিন্দা চটজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর হোসেনের কন্যা মোসাঃ আখি আক্তার(২২)। আজ মামলাটির চার্জশুনানীর জন্য তারিখ ধার্য ছিল।
কোনো স্বাক্ষী প্রমান গ্রহণ ছাড়াই ওই আসামীদের বিরূদ্ধে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জিআর-২২/২৫ (কোতয়ালী) মামলায় মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এসআই আবদুল কুদ্দুস মোল্লার দাখিলকৃত চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিজ্ঞ বিচারক নূরুন নাজনীন মামলাটি খরিজ করে আসামীদের অব্যহতি দেয়ায় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে বিচারকের ওপর বাদী ক্ষিপ্ত মমোভাব প্রকাশ করলেও এ মামলায় রিভিশন না করে প্রতারক সোলাইমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষন মামলা করবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।
অপরদিকে, নারী নির্যাতন মামলায় পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরূদ্ধেও আপত্তি দেয়ায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশুকেস নং-৩৬৪/২০২৫ মামলায় জুডিশিয়াল তদন্ত করছেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের চৌকস এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনসহ প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়াও সোলাইমানসহ ৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং- ৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) এবং ৬২/২০২৫ (কাউনিয়া) মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বরিশাল নগরীর নির্যাতিত সেই আখির যৌতুক মামলা স্বাক্ষী প্রমান গ্রহণ ছাড়াই খারিজ! বাদীর পরবর্তী টার্গেট রিভিশন নয় সরাসরি ধর্ষণ মামলা

অনুসন্ধান প্রতিবেদন ::

বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে গণচলাচলের রাস্তার ওপর ফেলে প্রকাশ্যে স্ত্রীকে পেটানোর সেই আলোচিত ভাইরাল ঘটনার বিষয়ে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. রকিবুল ইসলাম এর নির্দেশে মামলার তদন্ত করছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি। তিনি ইতোমধ্যেই উভয়পক্ষের স্বাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়েছেন। ঘটনাস্থলের স্পট ভিজিট করবেন বলেও জানিয়েছেন পক্ষদ্বয়কে। এরপরই রাতারাতি শুরু হয়ে গেছে প্রথম ঘটনাস্থল ভিকটিমের স্বামী ১ নং আসামীর দোকানের সাইনবোর্ডে নাম পরিবর্তনের নাটক! দোকানের সাইন বোর্ডে “সোলাইমান সু হাউজ” নাম পরিবর্তন করে “লোকমান সু হাউজ” লাগিয়েছেন।
গত ৬ অক্টোবর নোটিশ দিয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি তাঁর আদালতে উভয় পক্ষের স্বাক্ষ্য নেন। তিনি সরেজমিনে স্পষ্ট ভিজিট করবেন জেনে ওইদিন রাতেই স্ত্রী আখি আক্তারকে নির্যাতনের মামলার ১ নং আসামী মো: সোলাইমান ফরাজী তার নিজ নামীয় দোকানের নাম পরিবর্তন করে বড় ভাই মো: লোকমান ফরাজীর নামে সাইনবোর্ড তৈরি করে সেঁটে দেন। উল্লেখ্য, সোলাইমানের দোকানের সাথেই তার ভাই লোকমানের “লোকমান সু হাউজ” নামীয় দোকানটিও অবস্থিত। লোকমান ওই মামলার অন্যতম আসামী।
তিনি তার দোকান থেকে জিআই পাইপ সোলাইমানকে দিয়ে স্ত্রী আখিকে পেটাতে সহযোগিতা করেছিলেন বলে প্রতক্ষদর্শী বাহাদুর এ প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেন।
তবে রাতারাতি দোকানটির নাম পরিবর্তণের বিষয়টি রহস্যাবৃত। অসমর্থিত একটি সূত্রের দাবী, সোলাইমান মামলার দায় এড়াতেই গোপনে বিদেশ পাড়ি দিতে বা আত্মগোপণে যেতে এমন কৌশল অবলম্বন করছেন।
অপরদিকে, “লোকমান সু হাউজ”এর স্টলটি জেলা পুলিশের সম্পদ হওয়ায় দোকানটির চুক্তিনামা শর্তে অগ্রিম বাবদ জমা দেয়া ৫ লক্ষ টাকা সোলাইমান যাতে তুলে নিতে না পারে সেজন্যে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) বরাবরে গত ২৩ জানুয়ারি এবং ১২ মে পরপর ২ টি আবেদনের নাধ্যমে আপত্তি জানান নামলার বাদী আখি আক্তার।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাহী আদালতের “আর” আদ্যাক্ষরযুক্ত জনৈক বেঞ্চ সহকারির এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন আসামী লোকমান ফরাজী। সেই সুবাদে আসামীপক্ষে তদ্বিরেও কাজ করছে ওই মহলটি। সম্প্রতি সোলাইমানও তদ্বিরের স্বার্থে ওই বাসায় বসবাস করতে শুরু করেছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, সোলাইমান ও লোকমান লামচরীর পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে বাবা মা ও এলাকাবাসী যাতে মামলার বাদী আখি আক্তারকে তালাকের পরে তা গোপন রেখে গত বছরের শীত মৌসুমে অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বামী সোলাইমান আখিকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন কিংবা আমলী আদালতে ১০৭/১১৭(গ) ধারার মামলা নিষ্পত্তির স্বার্থে সোলাইমান তার পিতা ও দু’জন আপন চাচাকে নিয়ে ১৩ অক্টোবর চর আবদানী আখির বাবার বাসায় এসে মিমাংসা বৈঠকে মিলিত হয়ে সেখানে রাত যাপন করেছেন এই মর্মে কোন আলামত বা স্বাক্ষী প্রমান তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট না পান সেই প্রভাব খাটাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে।

প্রকাশ যে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে সোলাইমান স্ত্রী আখি আক্তারকে খবর দিয়ে নগরীর দক্ষিণ চকবাজারস্থ তার দোকান “সোলাইমান সু হাউজ” এ ডেকে নিয়ে যৌতুকের কথিত বাকী ৫ লক্ষ টাকার দাবী নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লোকমান আখির ওপর চড়াও হন এবং প্রচন্ড মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলেন। এ এসময়ে বিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের স্টাফ অফিসার সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রনয় রায় আখিকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধারপূর্বক লঞ্চঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহবুব আলমের মাধ্যমে গ্রেফতারপূর্বক হাতকড়া পড়িয়ে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ওই দিন থানায় ১৬৯৮ নং জিডি এবং গত ১ জানুয়ারী বরিশালের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামী সোলাইমান সহ ৫ জনকে আসামী করে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় ৩৬৪/২০২৫(কোতয়ালী) মামলা হয়।
এ ছাড়াও সোলাইমান গংদের বিরুদ্ধে বরিশালের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে সিআর ৫৮/২০২৫(কাউনিয়া), নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং- ৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) এবং নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং- ৬২/২০২৫ (কাউনিয়া) মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, আখি আক্তারের সাথে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৩১ আগষ্ট সোলাইমান তার আইনজীবীর মাধ্যমে আখিকে উকিল নোটিশ দিলে নোটিশটি ১৩ অক্টোবর ডাক বিভাগের মাধ্যমে আখির হাতে পৌঁছায়। নোটিশটির প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানার মধ্যে মাত্র ২ কি.মি. দূরত্বের ব্যবধান হলেও প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান এ যুগেও সেটি পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৪৩ দিন। নোটিশ পৌঁছানোর এই দীর্ঘ সময়ের নাটকীয় প্রভাকান্ড সহ আখি তার সাথে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনার ৮ টি ধাপে সুস্পষ্ট কড়া জবাব দেন সিনিয়র আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির-১ এর মাধ্যমে পরদিন ১৪ অক্টোবর বরিশাল প্রধান ডাকঘরের এডি-৭২৬ নং নিবন্ধিত পত্রযোগে।
মো: সোলাইমান ফরাজী(৩৫) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মো: আলমগীর হোসেন ও মোসা: মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে আখি আক্তারের স্বামী মো: সোলাইমানের মোবাইল ফোনে 01719541613 ও 01919079090 নম্বরে বারং বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বেও এসব ঘটনাবলীর আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ এ গত ১২ আগষ্ট এবং ৬ অক্টোবর দু’টি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট স্পট ভিজিট করবেন তাই রাতারাতি দোকানের সাইনবোর্ডে নাম পরিবর্তন! 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোসলেউদ্দিনের গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে পশ্চিম ইলিশার সাধারন জনগণের ব্যানারে ২ শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য অনুসন্ধান টিভিনিউজকে জানান,ঘটনার দিন শনিবার (৪ঠা অক্টোবর) আনুমানিক রাত আটটায় ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশার ৯ নং ওয়ার্ডের সুদুরচরে আমার মেয়ে বিবি রহিমা (৫০) এবং একই এলাকার বাসিন্দা মো. মোসলেউদ্দিন (৪৫) সাথে বিগত ২ মাস পূর্বে আমার মেয়ের জামাই মোঃ জামাল উদ্দিন (৫৫) নিকট চাঁদা চায়। চাঁদা দিতে রাজি না হইলে তখন থেকেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। সে থেকে মোসলেউদ্দিন প্রায় সময় আমার মেয়ের জামাইকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দমকিসহ মারমুখী আচারন করে। আমি বৃদ্ধ অসহায় মানুষ আমার স্ত্রী এবং মেয়ে-নাতনির উপর হামলার বিচার চাই। সন্ত্রাসী মোসলেউদ্দিনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করি।

ভুক্তভোগী বিবি রহিমা বলেন, মোসলেউদ্দিনের সাথে আমাদের পূর্ব শত্রুতার জেড়ে এবং বৃষ্টির পানির নিয়ে আমার বসত বাড়ীতে এসে বাকবিতন্ডার জড়ায়, এরমধ্যেই অশ্লীল, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে তার হাতে থাকা দাঁড়ালো দা দিয়ে হামলা করে। তখন চেচামেচি শুনে আমার মা এগিয়ে গেলে তার উপর রামদা দিয়ে কোপ দেয়। এবং এলোপাথারীভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। আমরা এবিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ করি (জিডি নম্বর -২৩৬০)

ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার মেয়ে এবং নাতনি লিজার সাথে মোসলেউদ্দিনের ঝগড়া শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি মোসলেউদ্দিন ও তার স্ত্রী মিলে আমার মেয়ে এবং নাতনি কে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে, লোহার রড দিয়ে জখম করে এবং তার হাতে থাকা দাঁড়ালো দা দিয়ে হামলা করতেছে আমি বাঁধা দিতে গেলে আমার ডান হাতে কোপ দেয় এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাই।

আমি একজন বৃদ্ধ অসহায় মহিলা আমার উপর এই অর্তকিত হামলার উপযুক্ত বিচার চাই। মোসলেউদ্দিন কে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে।

ভুক্তভোগী লিজা বলেন প্রত্যক্ষদর্শীদের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন এগিয়ে আসলে সকল অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে আমাদেরকে প্রাণাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, অভিযোগ দায়ের করার পরই বাদীকে সহ ঘটনা স্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মোসলেউদ্দিনকে পাওয়া যায়নি, তদন্ত চলতেছে। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। আসামীরা পলাতক রয়েছে।

ভোলায় সন্ত্রাসীর কোপে ৩ নারী গুরুতর আহত : বিচারের দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে নির্যাতনের আলোচিত সেই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে দায়ের হওয়া মামলায় আজ জুডিশিয়াল তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফির আদালতে এ তদন্তকার্য সম্পন্ন হয়। এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. রকিবুল ইসলাম এর নির্দেশে কোতয়ালী থানার এসআই মো. আবদুল কুদ্দুস মোল্লাকে মামলার তদন্তভার দেয়া হলেও তিনি নির্যাতনের শিকার আখি আক্তারকে নির্যাতনের ঘটনা থেকে উদ্ধারকারী পুলিশের সহকারী কমিশনার প্রনয় রায়ের বদলীর জন্য দীর্ঘ ৭ মাস অপেক্ষার পর গত ২২ জুলাই তারিখে বাদীসহ কোন প্রতক্ষ্যদর্শী স্বাক্ষীকে তলব ছাড়াই একতরফা মনগড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষে এ্যাড. হুমায়ুন কবির-১ এর নেতৃত্বে এ্যাড. মাজহারুল ইসলাম সেরনিয়াবাত(জাহান) এবং এ্যাড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র শীল কঠোর চ্যালেঞ্জ করে জুডিশিয়াল তদন্ত দাবী করলে বিজ্ঞ বিচারক তা মঞ্জুর করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।

আশ্চর্যের বিষয়, তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি সকাল ১১ টা থকে শুরু করে কোনরকম লাঞ্চব্রেক না দিয়েই অভূক্ত অবস্থায় তাঁর বেঞ্চ সহকারী রঞ্জন হালদার ও অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে দিনভর অত্যন্ত ধৈর্য ও মনযোগের সাথে বাদী ও স্বাক্ষীদের কথা শুনেন এবং জেরা করেন। বাদী ও স্বাক্ষীগন সারাদিন টানা দাঁড়িয়ে থেকেও ম্যাজিস্ট্রেটের এমন আন্তরিকতাপূর্ণ চুলচেরা আদ্যাপান্ত জিজ্ঞাসাবাদে কোন ক্লান্তিবোধ করেননি বলে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীগণ এ প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেন।
অপরদিকে, এসআই কুদ্দুসের অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং দুর্নীতির আশ্রয়ে এক তরফা মনগড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দাখিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিএমপি কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের আইজিকেও অনুলিপি দিয়েছেন মামলার বাদী আখি আক্তার।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বরিশাল মহানগরীর বেলতলা এলাকার চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মিনারা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে মোসাঃ আখি আক্তার(২২) এর সাথে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরীর বাসিন্দা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর ছোট ছেলে মোঃ সোলাইমান এর ইসলামী শরা শরিয়ত মোতাবেক রেজি:
কাবিনমূলে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ বিবাহ হয়। কিন্তু বিয়ের পর বেকার সোলাইমানের পৈতৃক বাড়িতে আশ্রয় না হওয়ায় স্ত্রীকে নিয়ে শশুর বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন। আখির বাবা মায়ের পুত্র সন্তান না থাকায় জামাতাকেই পুত্র স্নেহে আশ্রয় দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে “সুলায়মান সু হাউজ” নামে একটি জুতার দোকান দিয়ে দেন। কিন্তু ব্যবসায়ের ১ বছর উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও আখির সংসারে একটি টাকাও খরচ করেননি সোলাইমান। অথচ পার্শ্ববর্তী বড় ভাই লোকামানের জুতার দোকান এবং বিবাহিতা বোন আখি বেগমের পেছনে দুহাত উজার করে টাকা খরচ করার ঘটনায় পারিবারিক দ্বন্দের সূত্রপাত ঘটে। উল্টো আরো ৫ লক্ষ টাকা বাবার নিকট থেকে এনে দিতে স্ত্রী আখি আক্তারকে চাপ প্রয়োগ করেন সোলাইমান। আখি তা এনে দিতে অস্বীকার করায় সম্পর্কে ফাটল ধরে তীব্র আকারে। শুরু হয় আখির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বামীর অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পিতা মাতার সহযোগিতায় সন্তান সম্ভবা আখির অকালে সিজার করা হয় গত বছরের ১২ আগষ্ট নগরীর কালীবাড়ি রোডে বরিশাল মেট্রোপলিটন হাসপাতালে। অপুষ্ট পুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হলে চিকিৎসকের নির্দেশনায় শেবাচিম হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলে পরদিন ভোরে শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনার পর পরই সোলাইমান নিরুদ্দেশ হয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোলাইমানের বড় ভাই লোকমানসহ অন্যান্য স্বজনরা আখিকে তালাকের এবং আখির বাবা আলমগীর হোসেনকে মারধর ও প্রাননাশক হুমকি দেয়ায় বরিশালের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ২২ আগষ্ট ১০৭/১১৭(গ) ধারায় সোলাইমান সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এমপি নং- ৬৪২ নালিশী মামলা করেন।
ওই মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতে কৌশলে ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে গৌরনদীর ভুয়া ঠিকানায় তালাকের কপি পাঠিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে সোলাইমান আখিকে তার পিত্রালয় থেকে লামচরী গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। অত:পর ১৩ সেপ্টেম্বর সোলাইমান তার বাবা ইউসুফ সহ আরো দু’জন আপন চাচাকে নিয়ে শশুর আলমগীরের চর আবদানীর বাসায় বেড়াতে এসে রাত যাপন করেন এবং বিদ্যমান নালিশী মামলাটি নিষ্পত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। পরদিন ১৪ অক্টোবর  মামলাটি বাদীপক্ষে উত্তোলন করার পরপরই তাদের চরিত্র পাল্টে যায়। নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই ২ ডিসেম্বর পূনরায় তালাকের চূড়ান্ত নোটিশটিও স্ত্রী নিজ বাড়িতে থাকা সত্বেও গৌরনদীর ভুয়া ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়ে তা গোপন রাখেন সোলাইমান। অপরদিকে, বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার বাবার মাধ্যমে স্ত্রী আখিকে তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন।
অবাক করার বিষয়, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন আখিকে তার স্বামী সোলাইমানের জিম্বায় রেখে দাম্পত্য সম্পর্ক  বজায়  রাখলেও সোলায়মান তার আইনজীবী মো: শহিদ হোসেনের মাধ্যমে গত বছরের ১০ নভেম্বর বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিলকৃত লিখিত বর্ননায় তালাকের বিষয়টি উল্লেখ না করে প্রতারণার অবতারণা করে সুচতুরতার পরিচয় দিয়ে গৌরনদীর ভুয়া ঠিকানায় তালাকের দু’টি নোটিশ পাঠিয়ে তালাকের বিষয়টি গোপণ করেছেন। সোলাইমানের চালাকির বিষয়টি কাউনিয়া থানার গত ১৮ আগষ্টের ৭৭৫ জিডির পরিপ্রেক্ষিতে আনিত নন এফআইআর মোকদ্দমা নং-৬২/২০২৫ এর প্রতিবেদনেও সুস্পষ্টভাবে প্রমানিত হয়েছে।
অপরদিকে, শহরে বাসা ভাড়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য সোলাইমানের কথামত ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে তার দোকানে গেলে যৌতুকের কথিত বাকী ৫ লক্ষ টাকার দাবী নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোলাইমান আখির ওপর চড়াও হন এবং প্রচন্ড মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলেন। এ এসময়ে বিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের স্টাফ অফিসার সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রনয় রায় আখিকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধারপূর্বক লঞ্চঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহবুব আলমের মাধ্যমে গ্রেফতারপূর্বক হাতকড়া পড়িয়ে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেন।
এ সময়ে সোলাইমানের হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে থানায় নেয়ায় সোলাইমানের বড় ভাই লোকমান ফরাজী এবং তার সাথে থাকা কয়েকজন বখাটে ছেলে এসআই মাহবুবকে উদ্দেশ্য করে ঔদ্ধত্যপূর্ন আচরণ ও হুমকি দিয়ে বলে, আমরা চাইলে এখনই পাঁচশ লোক জড়ো করে থানা ঘেরাও করে উড়িয়ে দিতে পারি। এ হুমকির ভয়ে থানায় মামলা না নিয়ে তাৎক্ষণিক কিংকর্তব্যবিমূঢ় এসআই মাহবুবের মাধ্যমে সোলাইমানের হ্যান্ডকাপ খুলে একটি জিডি করেন থানা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনা খুব কাছে থেকে অনলাইন এক্টিভিস্ট অনুসন্ধান টিভিনিউজের প্রকাশক ও সম্পাদক শিশির মজুমদার প্রত্যক্ষ করলেও প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেন নিষ্ক্রিয় পুলিশদের নিরব ভূমিকা এবং লোকমানের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের প্রভাবের কারণে।
এ ঘটনায় ওই দিন থানায় ১৬৯৮ নং জিডি এবং গত ১ জানুয়ারী বরিশালের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামী সোলাইমান সহ ৫ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় ৩৬৪/২০২৫(কোতয়ালী) মামলা হয়।
এ বিষয়ে জানতে আখি আক্তারের স্বামী মো: সোলাইমানের মোবাইল ফোনে 01719541613 ও 01919079090 নম্বরে বারং বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বেও এসব ঘটনাবলীর আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ এ গত ১২ আগষ্ট একটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বরিশালের আলোচিত সেই নারী নির্যাতন মামলায় আজ জুডিসিয়াল তদন্ত সম্পন্ন