কক্সবাজার প্রতিনিধি: সাংবাদিকদের কল্যাণের নামে প্রাধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নেয়া ২০কোটি টাকা কোথায়, কার কল্যাণে ব্যয় হয়েছিল সাংবাদকর্মীরা জানতে চায়। প্রেস কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের অপসারণ ও পরিচালনা পর্ষদ পূণর্গঠনের দাবি জানানো হয়েছে বলে কক্সবাজার জেলার সিনিয়র সাংবাদিকরা অনুসন্ধান টিভিকে জানান।
দেশে মহামারী করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দেয়ার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ১৯ এপ্রিল সকল জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়ার একদিন পরে উক্ত চিঠি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ ধরনের দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের অপসারণ ও পরিচালনা পর্ষদের পূণর্গঠনের দাবি করা হয়েছে।
বুধবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মফ:স্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর অভিযোগ করে বলেন, চিঠিটি প্রত্যাহার করে প্রেস কাউন্সিল দেশের সাংবাদিকদের সাথে প্রতারণা ও চরম দায়িত্বহীনতার প্রমান করলো। এটি সাংবাদিকদের সাথে প্রেস কাউন্সিলের একধরনের মশকরা। যা সাংবাদিকদের কাছে রীতিমত লজ্জাস্কর দাবি করে বিএমএসএফ নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতির জনকের প্রতিষ্ঠিত প্রেস কাউন্সিলটি দীর্ঘদিন ধরে কিছু অযোগ্য লোক দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। যার ফলে প্রেস কাউন্সিল আজ কর্মহীন বুড়ো ঘোড়ায় পরিণত হয়েছে।
২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করে সংস্থাটি। কিন্তু ২ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজটি আলোর মূখ দেখাতে পারেনি প্রেস কাউন্সিল। সংস্থাটি নানা দলাদলি ও কিছু দালালের কারনে সাংবাদিকদের কোন কাজে আসছেনা। এই মূহুর্তে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও সচিব মো: শাহ আলমের অপসারণ জরুরী। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদটি ভেঙ্গে পূনর্গঠন সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে।
জানাগেছে, মহামারী করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা(প্রণোদনা) দিতে গত ১৯ এপ্রিল ঢাকাসহ দেশের সকল জেলা প্রশাসকের নিকট ইমেইলে চিঠি পাঠায় প্রেস কাউন্সিল। কিন্তু মাঝখানে একদিন অর্থ্যাৎ ২১ এপ্রিল অনিবার্য কারন দেখিয়ে হঠাৎ ওই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
এ ঘটনার খবর গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশের সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এদিকে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর নিকট ভুলে ভরা মনগড়া একটি তালিকা জমা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের ফেসবুক থেকে কালেশন।
সারাদেশের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর নিকট বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে পূনরায় স্মারকলিপি প্রদান করা হচ্ছে।
বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, দেশের এই সংকটময় অবস্থায় সাংবাদিকরা সরকারের পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের নিয়ে এই ধরনের প্রতারণা নেহাত অন্যায় ও লজ্জাকর। তাই এ অবস্থায় একমাত্র ভরসাস্থল প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সাংবাদিকদের বৃহৎ সংগঠন বিএমএসএফ একটি নিরপেক্ষ ঘোষণা চায়।
মহেশখালীতে সাংবাদিক ফরিদুল আলম দেওয়ান জানান, মফ:স্বল সাংবাদিকতায় সমাজের নানা অপরাধ, অসংগতি, দূর্নীতি নিয়ে লিখতে লিখতে বিষিয়ে উঠছে জীবনটা। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দেশের সর্বোচ্চ কর্ণধার প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়ন ধর্মী বিষয় সহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নিকট আবেদন জানানো হবে। অামরা সাংবাদিকতা জীবনের শুরু থেকে দেশ ও জাতির সেবা করার কাজ করে যাচ্ছি। দয়া করে গঠন মুলক পরামর্শ দিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ যোগাবেন সবার কাছে এ প্রত্যাশা করছি।
জেলা থেকে জসিম উদ্দীন সিদ্দিক জানান,
বাংলাদেশে ১১টি জেলা নিয়ে মাত্র ৫,৭৭১জন সাংবাদিক রয়েছেন বলে তালিকা প্রণয়ন করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ। তিনি হয়তো জানতেন না যে, বাংলাদেশটি ৬৪ টি জেলা নিয়ে গঠিত। বাকি ৫৩টি জেলায় কয়েক হাজার সাংবাদিক রয়েছে। তাঁরা এ কঠিন মুহূর্তে জীবন বাজি রেখে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে, ক্ষুধার জ্বালা হাসিমুখে নিবারণ করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রতিটি মুহূর্তের খবর মুহূর্তে জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তাঁরা কি এদেশের সাংবাদিক নন? তাঁরা কি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জন গোষ্ঠীর বংশধর ? জানতে চায় বাংলার ২০ কোটি জনগণ।