নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
‎বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখার ৩১ দফার আলোকে সাম্য ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে লক্ষ্যে জনসাধারণের মাঝে ভোলায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগসহ পথসভা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর।লিফট বিতরণকালো তার সাথে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ।

সদর উপজেলা ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকের হাট বাজারে গণসংযোগ পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করেন। লিফলেটে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দাবির মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। নেতাকর্মীরা পথচারী, দোকানদার ও এলাকার বিভিন্ন পেশার মানুষের হাতে হাতে লিফলেট পৌঁছে দেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির আহ্বান জনগণের কাছে পৌঁছে দেন।‎

‎পথসভায় আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন, তাতে নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে। এই বার্তাগুলো সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ হবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র। দলকে সুসংগঠিত করে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। এসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

৩১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীরের লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি::
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আকতার হোসেন সেন্টু তার নিজ নির্বাচনী আসনের উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন পুজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বরিশাল মহানগর জাসাস এর সভাপতি মীর আদনান তুহিন, বরিশাল জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব সফিউল আলম সফরুল সহ স্থানীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সোমবার রাতে হারতা বাজারে উত্তর পার নিউ মার্কেট সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রাস্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশদ আলোচনা করেন বরিশাল-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী লায়ন আকতার হোসেন সেন্টু।

উজিরপুরে বিভিন্ন পুজা মন্ডপ পরিদর্শনে লায়ন আকতার হোসেন সেন্টু

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে ব্যর্থ করার চেষ্টা চলছে। কোনো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নির্বাচনকে ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। কিছু রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে পিআর নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে, বাংলাদেশের মানুষ পিআর গ্রহণ করবে না। তারাতাদের প্রিয় ও কাক্সিক্ষত প্রার্থীকে বেছে নিতে চায়।

‎ চরফ্যাশন উপজেলা সদরে ৩১ দফা সংস্কারের লিফলেট বিতরণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

‎‎নাজিম উদ্দীন আলম আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, নেতাকর্মীরা স্ব-স্ব এলাকায় গিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা উৎসব সুন্দরভাবে উদযাপনে সহযোগিতা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল নেতাকর্মী উৎসবে সম্পৃক্ততা দেখাবেন।

‎উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মিন্টিজ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আশরাফুর রহমান দিপু ফরাজি, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম দুলাল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি রিয়াদ সিকদার।

‎এছাড়াও চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি এবং ২১টি ইউনিয়ন থেকে আগত প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে জনগণের আস্থা নেই ——নাজিম উদ্দিন আলম

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে পট পরিবর্তনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় সমাবেশে প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন আগামী নির্বাচন হবে খুবই কঠিন। নির্বাচনে আপাতদৃষ্টিতে বিএনপি ক্ষমতায় চলে এসেছে এমনটা ভাবলে দলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। এ জন্য দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এবং নানা রকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ইমেজ যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয় সে জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। কিন্তু তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে সারা বাংলাদেশে বিএনপির একটি অংশ বিতর্কিত কর্মকা-ে নিজেদের জড়িয়েছেন। স্থানীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাবশালী এবং কিছু কেন্দ্রীয় নেতার শেল্টারে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি এবং নানা রকম বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে দলের ইমেজ চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এ কারণে এসব নেতার তথ্য সংগ্রহ করছে বিএনপির একাধিক বিশেষ টিম। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনোভাবেই বিতর্কিত কাউকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, যারা তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্য করে দলের ইমেজ ক্ষুণœ করছেন তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। তারা এলাকায় কিংবা দলে যত বড় প্রভাবশালীই হোন না কেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের কোনোভাবেই মনোনয়ন দেবেন না তারেক রহমান।

বিএনপির দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত নানা অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তিন হাজার ২২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূল দল বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন এক হাজার ৮০০ জন। তাদের মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ৭০০ জনকে কারণ দর্শানো নোটিস, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিস দেয়া হয়েছে।

একইভাবে ছাত্রদলের প্রায় ৪০০ জন বহিষ্কার ও ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানো নোটিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ১০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার ও ১৫০ জন কারণ দর্শানো নোটিস পেয়েছেন। যুবদলেরও দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বর্তমান অবস্থানও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ ভোটাররা খুশি হবেন, এমন প্রার্থীর হাতেই এবার নির্বাচনের চূড়ান্ত টিকিট তুলে দেবে বিএনপি। এক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নীতি অনুসরণ করা হবে। এ জন্য দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি হিসেবে তিনটি যোগ্যতা অন্যতম মানদ- হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই-সংগ্রামে দেশ ও দলের জন্য যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যিনি সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং এলাকার মানুষের কাছে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সুপরিচিত এবং ভোটের রাজনীতিতে যিনি তার এলাকায় বেশি জনপ্রিয়। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এমন মাপকাঠির কথা নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া জানা যায়, এবারের মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন। আবার দলের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে নবীন-প্রবীণের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কোনোভাবেই চাঁদাবাজ এবং বিতর্কিত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তনের পর থেকেই নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি শুরু করেন দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে অত্যন্ত গোপনে সারাদেশে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ের জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে আরও কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে পৃথকভাবে এ জরিপ পরিচালনা করা হবে। গত মার্চে আরেক অরাজনৈতিক বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে সারাদেশে লক্ষাধিক মানুষের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে বিএনপি।
জরিপের তথ্য মতে, ইতোমধ্যে সাংগঠনিক শাস্তি পুনর্বিবেচনা বা তুলে নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ আবেদন আছে যারা উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের অনেকের ক্ষেত্রে দলের স্থানীয় নেতারাও লিখিতভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত চালানো তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া নেতাকর্মীর হার ১৩ শতাংশের মতো।

এসব জরিপের বাইরে তারেক রহমানের বিশ্বস্তদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি নির্বাচনী ডাটাবেজ সেল।
তথ্য মতে, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিষয়ে তথ্যভান্ডার তৈরি করছেন। ওই তথ্যের মধ্যে প্রত্যেক মনোনয়ন প্রত্যাশীর আমলনামা, সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা, জনসমর্থন, নেতাকর্মীদের সমর্থন ছাড়াও প্রতিপক্ষ সম্ভ্যাব্য প্রার্থীর অবস্থান, জনসমর্থন, পরিচিতি এবং তার দুর্বল দিকগুলো উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্যদিকে জনপ্রিয়তায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকা বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর দুর্বল দিকগুলো উল্লেখসহ সেগুলো কিভাবে উত্তরণ ঘটানো যায় তার সুপারিশ করা হয়েছে সেখানে। এর মধ্যে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় কোন্দলকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা ৫ হাজারের মতো বহিষ্কার করেছি। প্রয়োজনে আরও ৫ হাজার বহিষ্কার করব। তার পরেও জিয়াউর রহমানের আদর্শেই বিএনপি চলবে। এ দলে আমরা আর কোনো চাঁদাবাজ, বিতর্কিত লোকদের স্থান দেব না। সরাসরি চাঁদাবাজি করেছেন কিংবা চাঁদাবাজদের প্রমোট করেছেন এমন লোক যত শক্তিশালীই হোক আমরা কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেব না।
তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি তার স্বচ্ছ ইমেজ ধরে রাখার স্বার্থে অভিযুক্তদের কোনো ছাড় দেবে না। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শূন্য সহনশীলতা নীতিতে অটল বিএনপি। তবে যারা নিরপরাধ প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে নেয়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা তুলে নেয়া হবে।
আর যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তারা আগামী নির্বাচনে দলীয় কোনো টিকিট পাবেন না। সকল জরিপের তথ্য হাতে আসার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগের বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম জনকণ্ঠকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা হলো, দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছেন এমন নেতাদের তালিকা করতে। তাদের আগামী নির্বাচনে কোনোভাবেই দলের টিকিট দেওয়া হবে না ।

বিএনপি সাধারণ মানুষের ভালোবাসার দল। শহীদ জিয়ার আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বিএনপি। চাঁদাবজি, দখল এবং বিতর্কিত কর্মকা-কে বিএনপি প্রশ্রয় দেবে না। এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিএনপি প্রমোট করবে না।
শতাধিক ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে গ্রিন সিগন্যাল ॥ বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ক্লিন ইমেজের শতাধিক নেতাকে নির্বাচনি প্রস্তুতির জন্য গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে যদি কেউ বিতর্কিত কর্মকা-ে নিজেকে জড়ান তা হলে তাদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানে যাবে দল। মানে তারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভিডিও কলে অংশ নিয়ে যার যার এলাকায় কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষ হলে পর্যায়ক্রমে ৩০০ প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন। সবাইকে ভোটের কারচুপি, জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, ফল ছিনতাইসহ সব ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকমান্ড। একই সঙ্গে নিজেদের জনগণের কাছে আরও বেশি যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

তাদের তারেক রহমান বলেছেন, জনগণই হচ্ছে বিএনপির শক্তি। সুতরাং জনগণের বিপদ আপদে কাছে থেকে তাদের সমর্থন আদায় করতে হবে। তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি দেওয়া নির্দেশনায় বলেছেন, সন্ত্রাসী-অপরাধীদের কোনো দল নেই। এদের কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এরা যে দলেরই হোক তাদের ধরে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।

পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের ইউনিট-কমিটির নেতাদের কঠোরতার সঙ্গে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, বিএনপি শতভাগ একটি গণতান্ত্রিক দল। আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিজমে বিশ্বাস করে না। এ ক্ষেত্রে দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের কমিটির নেতা-কর্মীদের কর্মকান্ডের দায় সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতাদের নিতে হবে।

তরুণ নেতাদের প্রাধান্য:নির্বাচনী সেলের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন জনকণ্ঠকে জানান, এবারের নির্বাচনে তারা অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের একটু বেশি প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। যারা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন, এলাকায় পরিচ্ছন্ন অবস্থান রয়েছে, বিগত দিনে মামলা-হামলায় নির্যাতিত হয়েছেন, নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য ছিলেন তারা এবারের মনোনয়ন নির্বাচনে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন।

ক্ষমতায় গেলেও বিতর্কিত কর্মকান্ড করলে দমন: বিএনপি যদি ক্ষমতায় যেতে পারে সেক্ষেত্রে যারা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে দলটি। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতিকারক এমন কোনো কাজ করলে যত বড় নেতা বা প্রভাবশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএনপি। প্রয়োজনে তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি চায় এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের শাসন থাকবে। কেউ কারও ওপর জুলুম করবে না, অন্যায় করবে না। বিএনপি যদি ক্ষমতায় যেতে পারে এবং দলের কোনো নেতা বিতর্কিত কাজ করেন তা হলে তাদেরও কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

বিতর্কিতদের চান না জেলা নেতারাও: পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা তৃণমূলে যখনই কোনো অনিয়ম, বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগ পাই তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। ইতোমধ্যে অসংখ্য নেতাকর্মীকে শোকজ এবং বহিষ্কার করেছি। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা চাই সারা বাংলাদেশে পরিচ্ছন্ন এবং ভালো ইমেজের প্রার্থীরা মনোনয়ন পাক। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিলে আশা করি বিএনপি বিপুল ভোটের ব্যবধানে ক্ষমতায় যাবে।
ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন সৎ এবং ক্লিন ইমেজের রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। আমরা তার আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমরা আশা করি ক্লিন ইমেজের নেতারাই আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন। এটি তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীর প্রাণের দাবি।

বিএনপি’র মনোনয়নে বাদ পড়বেন যেসব মহারথীরা!

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেছেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন হলে দেশে ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ একটা পরিবর্তন চায়। দেশের অধিকাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। একটা জরিপে দেশের ৭০% লোক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় বলে জানা গেছে। বিগত ৫৩ বছর পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ গঠনের যে সুযোগ আমরা পেয়েছি, তা কাজে লাগাতে হবে। আর না হয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা কী দিয়ে যাব।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে তিন দফার দাবীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা জেলার আয়োজনে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি পিআর পধ্বতির উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি হবে। চাঁদাবাজ, জুলুমবাজ, নির্যাতনকারী তৈরি হবে। আপনারা আর কত মায়ের বুক খালি করতে চান? পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে আবারও অনেক মায়ের বুক খালি হবে। এজন্য পিআর পদ্ধতি ছাড়া আর কোনো নির্বাচন নয়।

তিনি বলেন, আপনাদের এত ভয় কেন? পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে এই দেশের জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। সব ভোটারের মূল্যায়ন হবে। আপনারা চুরি করবেন বলেই পিআর পদ্ধতি মেনে নিতে চান না। পিআর পদ্ধতি মেনে নেওয়া ছাড়া এই জাতি আর কোনো নির্বাচন করতে দেবে না। বাংলাদেশের মাটি ইসলামের ঘাঁটি। আপনাদের চালাকি এ জাতি বুঝে গেছে।

মুফতি রেজাউল করিম আরও বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে বাংলাদেশ মুক্তির পর এক বছর অতিবাহিত হলেও যেই দাবিতে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা হয়েছে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। যার কারণে ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে। আজ এ দাবিগুলো ৭০ ভাগ ভোটারের।

তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের শাসন দেখেছি, বিএনপির শাসন দেখেছি, জাতীয় পার্টির শাসনও দেখেছি। এ দেশের মানুষ আর কোনো আয়না ঘর দেখতে চায় না, নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা, নির্যাতন এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার হোক তাও দেখতে চায় না।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান মোমতাজির সভাপতিত্বে এবং ভোলা জেলা উত্তর ও দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম ও মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মুফতি এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শূরার সদস্য মাওলানা মো. কাজী মামুনুর রশিদ খান।

প্রধান অতিথি সমাবেশে ভোলার ৪টি সংসদীয় আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীরা হলেন, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা, ভোলা-২ আসনের প্রার্থী মুফতি রেজাউল করিম, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মুফতি মোসলে উদ্দিন, ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী প্রফেসর কামাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সুরার সদস্য আলাউদ্দিন তালুকদার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলার দক্ষিণের সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ নুরুদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন হলে দেশে ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে——— মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

জুলাই বিপ্লবের পর থেকে ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম, লুটপাট, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহাঙ্গীর এম আলম।ভোলা ভ্রমণ

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও প্রচারণার উদ্দেশ্যে আমার গ্রামের বাড়িতে গেলে আমার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়, নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। মোটরসাইকেল ছিনতাই করা হয়। এমনকি বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর জনসভায় আমাকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়।

এ সময় তিনি আরও বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব ঘটনার মদদ দিচ্ছেন। স্থানীয় মফিজ হাওলাদার অতীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এখন হাফিজ

ইব্রাহিমের ডানহাত হিসেবে বিএনপির বড় নেতা দাবি করে আমার নামে জনগণের মাঝে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমার বাড়ির সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে আমার নেতাকর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে, এমনকি সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের নামে স্লোগান দিয়েও আমার ও আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখনও কোন আসামি আটক করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর এম আলম নিজেকে বিএনপির ত্যাগী নেতা দাবি করে বলেন, “আমি আমার গ্রামের বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে আমি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট সমাধান প্রত্যাশা করছি। জনগণের কাছে আমি এর সঠিক বিচার চাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির জোরদাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনের পর কাচিয়া ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, এলাকায় সম্প্রতি রাজনৈতিক কোন্দল বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক সেলিম(ছদ্মনাম) বলেন, আমরা ভয়ে রাতে ঘর থেকে বের হতে পারি না। রাজনৈতিক লোকজনের বিরোধের কারণে গ্রামে অশান্তি তৈরি হচ্ছে।

একই এলাকার গৃহিণী রওশন আরা বেগম(ছদ্মনাম) বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। রাস্তাঘাটে ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি লেগেই থাকে।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করতে হচ্ছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। ভোলা-২ আসন তথা বোরহানউদ্দিন দৌলতখান উপজেলায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তক্ত সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম এর সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি দেশের বাহিরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মামলার বিষয় জানতে চাইলে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সিদ্দিকুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত চলছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভোলায় হাফিজ ইব্রাহিমের সন্ত্রাসীদের দৌরাত্মের প্রতিবাদে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সংবাদ সম্মেলন

মঠবাড়িয়ায় মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করেন বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকন

নিজস্ব প্রতিনিধি ::

পিরোজপুর-৩ ( মঠবাড়িয়া) আসনের বিএনপির (ধানের শীষ প্রতীকের) মনোনয়ন প্রত্যাশী সাদিকুর রহমান লিংকন নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মাজার জিয়ারত করেন।

জননেতা সাদিকুর রহমান লিংকন মাজার জিয়ারত এর পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রাস্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে এ সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন। উপস্থিতদের মাঝে জননেতা সাদিকুর রহমান লিংকন মঠবাড়িয়া উপজেলাকে আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে দেশের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে যা করণীয় তা বাস্তবায়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে দৃঢ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পিরোজপুর-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাদিকুর রহমান লিংকন’র গণ সংযোগ ও লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় ব্যস্ত সময় পার করলেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড এস.এম সাদিকুর রহমান লিংকন পিপি। শুক্রবার সকালে পিরোজপুর-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাড. সাদিকুর রহমান লিংকন মঠবাড়িয়া উপজেলা সদরে পৌঁছেই স্থানীয়দের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাস্ট্র কাঠামো মেরামতের জন্য ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পরে মডেল মসজিদে জুম্মা নামাজ আদায় করে সেখানে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। পরে মুসুল্লিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন ও তাদের খোঁজ খবর নেন। আসর বাদ দাউদখালী ইউনিয়নের বড় হাড়জী গ্রামে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র ৮১ তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। শেষ বিকেলে জননেতা লিংকন গিলাবাদ গ্রামে সাবেক সচিব গোলাম মোস্তফার কবর জিয়ারত করেন। সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। রাতে মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে চা চক্রে মিলিত হন। এশা বাদ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সাথে বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন জননেতা সাদিকুর রহমান লিংকন।

মঠবাড়িয়া উপজেলায় ব্যস্ত সময় পার করলেন জননেতা অ্যাড. সাদিকুর রহমান লিংকন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং সংবিধান ও জুলাই ঘোষণাপত্রে তাদের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়া, ঐকমত কমিশনসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একমাত্র নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টিকে আমন্ত্রণ না জানানো, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোন প্রকার মতামত গ্রহণ না করার বিষয়ে বিএমজেপি নেতৃবৃন্দরা শনিবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের প্রতি বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম অডিটোরিয়ামে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএমজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুকৃতি কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি আর.কে মন্ডল রবিনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বিএমজেপি’র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) নিরদ বরণ মজুমদার, রবীন্দ্রনাথ বর্মন, চাঁনমোহন রবিদাস, মহাসচিব দিলীপ কুমার দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন কুমার বেপারী, সদস্য অনিল পাল, দিলীপ কুমার দাসসহ বিএমজেপি’র কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুকৃতি কুমার মন্ডল বলেন, বিগত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধর্ম অবমাননার মিথ্যে ট্যাগ লাগিয়ে বর্বরোচিত হামলা, লুটপাট, বাড়িঘর ও মন্দির ভাঙচুর, ধর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেই চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখছি না। যখনই দেশে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন বা অস্থিরতা দেখা দেয় তখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এসব ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনাগুলো আমাদের সেই বিভীষিকাময় ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ সালের স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইতিহাস আবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নতুন করে অস্তিত্বের সংকটে পরেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের সংবিধান, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে, তা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ প্রায় অনুপস্থিত। এই সংবিধান আমাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আমরা বছরের পর বছর ধরে সংবিধানের এই বৈষম্যমূলক দিকগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এসেছি কিন্তু কোনো সরকারই এ বিষয়ে কর্ণপাত করেনি।
সুকৃতি কুমার মন্ডল বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা বা সুখবর নেই। যখন নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে, তখন দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্নটি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। আমরা মনে করছি, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং ২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনার পরিপন্থী।
এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)’র পক্ষ থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে নিন্মোক্ত জরুরি দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।
১. হামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল সহিংসতার ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে যেন কোনো অপরাধী পার না পায়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
২. ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা, বাড়িঘর ও উপাসনালয় পুনর্নির্মাণে পর্যাপ্ত সহায়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অপরিহার্য।
৩. সংবিধানের সংস্কার: একটি সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হোক। এই কমিশনকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ সুরক্ষা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে সংবিধানের ধারাগুলো সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
৪. জুলাই ঘোষণাপত্র সংশোধন: জুলাই ঘোষণাপত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সম্পত্তি রক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এই সনদের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করার আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার ব্যবস্থা করা হোক।
৫. বিশেষ সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা, জমি দখল এবং হয়রানি বন্ধে একটি বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হোক, যা সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
৬. রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ: জাতীয় সংসদ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হোক।
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি বিএমজেপি’র সহ-সভাপতি আর.কে মন্ডল রবিন বলেন, আসুন আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সম্প্রীতির বন্ধনে একটি সুন্দর সুশৃঙ্খল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমাদেরকেই সম্মিলিতভাবে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি বিএমজেপি এই লড়াইয়ে আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে।

বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির জরুরি সংবাদ সম্মেলন