কৃষি ডেস্ক ::

রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে দেশের কৃষক সমাজ রোজা রেখেই মাঠে-ঘাটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে রোজার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে কৃষি কাজ করলে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রমজান মাসে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

রমজানে কৃষি কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাহরির পর ভোরের সময় ভারী কৃষি কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ এড়িয়ে চলা এবং বিকেলে হালকা কাজ করাই উত্তম। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।
সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, শরবত ও লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি উপকারী। পাশাপাশি সাহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া কম এবং ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সকাল বা সন্ধ্যায় করা উচিত। কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। এ ছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ যান্ত্রিক কৃষি উপকরণ ব্যবহার করলে শ্রম ও শক্তি সাশ্রয় হয়।
ফসলভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও রমজানে গুরুত্বপূর্ণ।

বোরো ধানে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সবজি ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং ফলের বাগানে মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মাথা ঢেকে কাজ করা এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

রমজানে সুস্থ কৃষকই সফল কৃষির মূল শক্তি। কৃষক সুস্থ থাকলে কৃষি টেকসই হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক:
 সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  অগ্নিবার্তা।
★EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)।
★কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা

ঢাক থেকে ভোলা প্রতিনিধি ::
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

কৃষি ডেস্ক ::

🔳 বস্তায় আদা চাষে সম্পূর্ণ সার ও স্প্রে শিডিউল (বস্তা প্রতি):
বস্তা সাইজ: ৫০–৬০ কেজি
মাটি মিশ্রণ (ভালো ফলনের জন্য): দোআঁশ মাটি + কম্পোস্ট + বালি/কোকোপিট (ড্রেনেজ ঠিক রাখতে)
বীজ আদা: ৩–৪টি টুকরা
প্রতি টুকরা: ২৫–৩০ গ্রাম
সুস্থ, পোকামাকড়মুক্ত ও চোখসহ বীজ ব্যবহার করবেন

🔳  রোপণের দিন:
বেস সার (মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দেবেন)
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ২–৩ কেজি
টিএসপি: ২০–২৫ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ১৫–২০ গ্রাম
জিপসাম: ১০ গ্রাম
বোরন: ১ গ্রাম (না থাকলে বাদ)
🔳 বীজ শোধন (রোপণের আগে বাধ্যতামূলক):
ট্রাইকোডার্মা: ৫ গ্রাম/লিটার পানি
বীজ ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রোপণ করবেন
এতে পচা রোগ ও ছত্রাকের ঝুঁকি কমে

🔳 ১৫ দিন পর করণীয়:

হালকা আগাছা পরিষ্কার
মাটি আলগা করে দিন
মালচিং ঠিক রাখুন (খড়/শুকনো পাতা)
প্রয়োজন হলে স্প্রে (পোকা থাকলে)
নিম তেল: ৫ মি.লি./লিটার পানি

🔳 ৩০ দিন পর ১ম টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম

সার দেওয়ার নিয়ম:
সার চারদিকে ছিটিয়ে হালকা কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে পানি দিন।

🔳  ৪৫ দিন পর :
হিলিং আপ (মাটি উঠানো)
গাছের গোড়ায় মাটি তুলে ঢিবি করে দিন
এতে গাঁট বেশি হয়, আদা মোটা হয়, ফলন বাড়ে
রোগ প্রতিরোধ স্প্রে (ঐচ্ছিক কিন্তু ভালো)
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার পানি (১ বার)

🔳 ৬০ দিন পর ২য় টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম
পাতায় দাগ/হলদে হলে স্প্রে
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার
৭ দিন পর আবার ১ বার

🔳 ৭৫ দিন পর জৈব খাবার (ফলন বাড়ায়)
যেকোনো একটি দিন
ভার্মি কম্পোস্ট: ১–২ মুঠো
অথবা
সরিষার খৈল ভিজানো পানি: ১ গ্লাস
১:১০ অনুপাতে পাতলা করে দেবেন

🔳 ৯০ দিন পর ৩য় টপ ড্রেসিং
(গাঁট মোটা করার সময়)
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ৮–১০ গ্রাম (এ সময় কম দেবেন)
এমওপি: ১০–১২ গ্রাম (পটাশ একটু বেশি)

🔳এই সময় পটাশ বাড়ালে আদা মোটা, ভারী ও ঝকঝকে হয়।

🔳 ১২০ দিন পর করণীয়
পানি কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ করুন
আগাছা পরিষ্কার
পচা/হলুদ গাছ থাকলে আলাদা করুন
যদি পচা রোগ দেখা দেয় (গোড়া নরম/দুর্গন্ধ)
রিডোমিল গোল্ড: ২ গ্রাম/লিটার পানি
গোড়ায় ড্রেঞ্চিং (বস্তায় ঢেলে দেওয়া)
৭ দিন পর আবার ১ বার

🔳 ১৫০-১৮০ দিন সবুজ আদা সংগ্রহ
এই সময় কাঁচা/সবুজ আদা তুলতে পারবেন
বাজারে সাধারণত ভালো দাম পাওয়া যায়

🔳 ২৪০-২৭০ দিন পাকা আদা সংগ্রহ
পাতা হলুদ হয়ে শুকালে আদা তুলবেন
এটি সংরক্ষণযোগ্য ও শুকানো যায়

🔳বস্তায় আদা চাষে ফলন বাড়ানোর ৫টি কৌশল
১) পানি জমতে দেবেন না (ড্রেনেজ ঠিক রাখুন)
২) মালচিং ২–৩ ইঞ্চি রাখুন
৩) ৪৫–৬০ দিনে হিলিং আপ বাধ্যতামূলক
৪) ৯০ দিনে পটাশ একটু বেশি দিন
৫) ১৫ দিন পর পর গাছ দেখে ব্যবস্থা নিন (পোকা/রোগ দ্রুত ধরতে)

লেখক:

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ

সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।

 

বস্তায় আদা চাষা : অধিক ফলন পেতে করনীয়

কৃষি ডেস্ক ::

পেঁচা-রাতের নীরব আকাশে উড়ে চলা এক রহস্যময় পাখি। লোককথা ও কুসংস্কারে পেঁচাকে অনেক সময় অশুভ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণে পেঁচার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এখনো অনেকের অজানা।

১. কৃষকের নীরব বন্ধু পেঁচা:
পেঁচা মূলত ইঁদুর, ছুঁচো, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে থাকে। একটি পেঁচা বছরে প্রায় ১,০০০-৩,০০০টি ইঁদুর খেতে পারে।
ফলে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও গোলা ধানের ক্ষতি কমে
কীটনাশকের ব্যবহার কমে, পরিবেশ থাকে নিরাপদ কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়
এই কারণেই উন্নত দেশগুলোতে পেঁচাকে বলা হয় “প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল পেস্ট কন্ট্রোল এজেন্ট”।

২. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পেঁচা:
পেঁচা খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
ইঁদুর অতিবৃদ্ধি রোধ, রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার কমানো,
বন ও কৃষি পরিবেশ রক্ষায় এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পেঁচা না থাকলে ইঁদুরের আধিক্যে মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

৩. রোগ প্রতিরোধে পরোক্ষ ভূমিকা:
ইঁদুর ও ছুঁচো বহু মারাত্মক রোগের বাহক-যেমন প্লেগ, লেপ্টোস্পাইরোসিস, সালমোনেলা ইত্যাদি।
পেঁচা এসব প্রাণী খেয়ে তাদের সংখ্যা কমিয়ে মানুষকে রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

৪. বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পেঁচার অবদান:
পেঁচার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতা অসাধারণ।
অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা, নিঃশব্দে উড়ার কৌশল
এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে গবেষণা করে—
নাইট ভিশন প্রযুক্তি
সেন্সর ও রাডার সিস্টেম
নীরব ড্রোন ও বিমান প্রযুক্তি
উন্নয়নে পেঁচা অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৫. অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ভূমিকা:
পেঁচা থাকলে-
ইঁদুরনাশক ও কীটনাশকের খরচ কমে, ফসল নষ্ট কম হয়,
কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণে অনেক দেশে কৃষিজমিতে কৃত্রিম পেঁচার বাসা (Owl Box) স্থাপন করা হচ্ছে।

৬. কুসংস্কার নয়, সংরক্ষণ প্রয়োজন:
দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে পেঁচা নিয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় পেঁচা নিধন বা নির্যাতনের শিকার হয়।

এটি পরিবেশ ও কৃষির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর
পেঁচা সংরক্ষণ মানেই খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা

পেঁচা কোনো অশুভ প্রাণী নয়; বরং এটি মানুষের অজান্তেই কল্যাণে নিয়োজিত এক নীরব যোদ্ধা। কৃষি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে পেঁচার অবদান অনস্বীকার্য। তাই কুসংস্কার পরিহার করে পেঁচা সংরক্ষণে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া জরুরি।
“পেঁচা বাঁচলে-কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”

লেখক:

★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন

★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।

পেঁচার অজানা তথ্য : মানুষের কল্যাণে নীরব প্রহরী

ডেস্ক রিপোর্ট::
এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আজ সোমবার(১৯ জানুয়ারি) চট্রগ্রাম আদালতে তোলা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে আবার তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এডভোকেট আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ছিলেন পুলিশ হেফাজতে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে এভাবে হত্যা মামলায়  ফাঁসিয়ে দেওয়ার মতো  ঘটনা এই প্রথম।
 আজ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সাহসিকতার সাথে বলেন – “আমি একজন সন্ন্যাসী-প্রাণহত্যার ভয়ে মাছ-মাংসই খাই না। অথচ আমার বিরুদ্ধে দেওয়া হলো মানুষ হত্যার মামলা !”
এ কথা শুনে বিচারক কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে রইলেন। অবশেষে বললেন আমাকে ক্ষমা করবেন মহাপ্রভু, আমি রাষ্ট্রের আদেশের ঊর্ধ্বে নয়। একজন গৃহত্যাগী নির্লোভ সন্ন্যাসী সাধককে এভাবে নির্যাতন ও সাজা দেয়ার ঘটনাকে বিশ্বের সনাতন সম্প্রদায় কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাঁধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস, আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ জন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার উসকানিদাতা হিসেবে চিন্ময়কে এই মামলার আসামি করা হয়। কিন্তু কখন উসকানি দিয়েছে এখনো প্রমান করতে পারেনি আদালত।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পলাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।
মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আছে।

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার শুনানীতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর

কৃষি ডেস্ক ::

সুস্থ জীবনযাপনে প্রাকৃতিক পুষ্টির নির্ভরযোগ্য সঙ্গীসুস্থ থাকা এখন আর শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।

বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাবার ও কর্মব্যস্ততার মাঝে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় অল্প পরিমাণে বেশি পুষ্টি পাওয়ার সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে বাদাম।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত পরিমিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। প্রোটিন, ভালো চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সমন্বয়ে বাদাম এক ধরনের ‘প্রাকৃতিক শক্তিভাণ্ডার’। গ্রামবাংলার কৃষক থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী মানুষ-সবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বাদাম সহজেই যুক্ত করা সম্ভব।

🔳চিনাবাদাম: সাশ্রয়ী কিন্তু শক্তিশালী সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের হলেও চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ মোটেও কম নয়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও শক্তিদায়ক উপাদান, যা শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত চিনাবাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং পেশি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন।

🔳কাঠবাদাম: স্মৃতি ও সৌন্দর্যের সহায়ক কাঠবাদামকে বলা হয় মস্তিষ্কের খাবার। এতে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বক উজ্জ্বল রাখে, চুল মজবুত করে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতেও কাঠবাদামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

🔳কাজুবাদাম: শক্তি ও স্নায়ুর যত্নে কাজুবাদাম শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। এতে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক। চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি কাজুবাদাম স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা কর্মজীবী ও পরিশ্রমী মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

🔳আখরোট: হৃদয় ও মস্তিষ্কের বন্ধু আখরোটে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আখরোট খেলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে এবং শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যা হ্রাস পায়। তাই মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় আখরোটের গুরুত্ব অপরিসীম।

🔳পেস্তা বাদাম: সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পেস্তা বাদাম স্বাদে যেমন ভালো, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে পেস্তা বাদাম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

🔳কতটা ও কীভাবে খাবেন :
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম বা এক মুঠো বাদাম শরীরের জন্য যথেষ্ট। কাঁচা বা সারারাত ভিজিয়ে খেলে বাদামের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা অতিরিক্ত ভাজা বাদাম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

বাদাম কোনো বিলাসী খাবার নয়; এটি সুস্থ জীবনের একটি সহজ উপাদান। অল্প পরিমাণে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর থাকে সবল, মন থাকে সতেজ এবং রোগব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। তাই সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আজ থেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

লেখক:

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠসাধারণ★সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা

প্রাকৃতিক শক্তিভান্ডার বাদাম

নিজস্ব প্রতিনিধি,ঢাক থেকে ::
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আর কিচ্ছুক্ষণ পরেই। জানাজা উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যতদূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ।

জানাজা উপলক্ষে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই মানুষ আসতে শুরু করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে।মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, মেট্রোরেলে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করছে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য।

বেলা ১টার দিকে সরেজমিনে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, খেজুরবাগান, ফার্মগেট, আড়ং মোড়, ধানমন্ডি ২৭ ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে আসছে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য। মানুষের চোখে-মুখে একজন আপসহীন দেশনেত্রীকে হারানোর বেদনা।

সিরাজগঞ্জ থেকে পাঁচ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে জানাজায় এসেছেন রিয়াজুল বাশার। তিনি বলেন, প্রিয় নেত্রীর জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে বাসে রওয়ানা করি। গাবতলী থেকে শ্যামলী পর্যন্ত বাসে আসি। এরপর শ্যামলী থেকে ছেলেকে নিয়ে পায়ে হেঁটে জানাজায় আসতে পেরেছি। তিনি বলেন, কষ্ট হলেও নেত্রীর জানাজায় অংশ নিতে পারছি, এটিই আমার অনেক বড় পাওয়া।

বরিশাল থেকে এসেছেন ষাটোর্ধ বয়সী আব্দুল আহাদ মিয়া। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তরুণ বয়সে একবার দেখা হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত স্নেহ করতেন আমাকে। আমি জানাজায় অংশ নিতে গতকাল রাতেই বরিশাল থেকে মেয়ের মিরপুরের বাসায় আসি। এরপর আজ ফজরের নামাজ পরে এখানে এসেছি। এতো মানুষ আমার জীবনে আর কোনো জানাজায় দেখিনি।

জানাজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

খালেদা জিয়ার জানাজা : দৃষ্টি জুড়ে মানুষের ঢল

কৃষি ডেস্ক ::
শীতকালীন সবজি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। এ সময় তাপমাত্রা কম থাকায় অধিকাংশ শীতকালীন সবজি ভালো ফলন দেয়। নিচে পৌষ মাসে চাষযোগ্য সবজির একটি গুছানো তালিকা দেয়া হলো-
🥬 পাতা জাতীয় সবজি
পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, সরিষাশাক, লেটুস, ধনেপাতা, মেথি শাক।
🥕 মূল ও কন্দজাত সবজি
গাঁজর, মুলা, বিট, শালগম, আলু
পেঁয়াজ (কন্দ ও পাতা পেঁয়াজ)
রসুন।
 
🥦 ফুল ও ফলজাত সবজি
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, মটরশুঁটি, লাউ (উষ্ণ অঞ্চলে সীমিত আকারে)
🌱 অন্যান্য শীতকালীন সবজি
শসা (পলিথিন/ঢেকে চাষে ভালো হয়)
কুমড়া (আগাম চাষ)
পৌষ মাসে চাষের বিশেষ পরামর্শ
★সকালের রোদ পায় এমন জমি নির্বাচন করুন
সেচ কম দিন, তবে মাটি শুকিয়ে গেলে হালকা সেচ প্রয়োজন।
★কুয়াশা ও শীতজনিত রোগ (ডাউনি মিলডিউ, লিফ ব্লাইট) থেকে সতর্ক থাকুন
★জৈব সার ও পচা গোবর ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়।
লেখক:
সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার

পৌষ মাসে জমিতে কি কি সবজি চাষ করা যায়?

অনুসন্ধান ডেস্ক::      
আধুনিক সভ্যতার অগ্রযাত্রায় প্লাস্টিক একদিকে আমাদের জীবনকে করেছে সহজ, সাশ্রয়ী ও গতিশীল; অন্যদিকে নীরবে জন্ম দিয়েছে এক গভীর পরিবেশগত সংকট।
স্বল্পমূল্য, হালকা ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় প্লাস্টিক আজ সর্বত্র ব্যবহৃত। কিন্তু এই ‘দীর্ঘস্থায়ীত্বই’ প্রকৃতির জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ। অপচনশীল এই বস্তু শত শত বছরেও মাটিতে মিশে যায় না; ফলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।
আলবার্ট আইনস্টাইন যথার্থই বলেছিলেন-
“The world will not be destroyed by those who do evil, but by those who watch them without doing anything”
অর্থাৎ, মন্দকারীর চেয়ে নীরব দর্শকই ধ্বংসের বড় কারণ।
পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের বহুমাত্রিক প্রভাব
প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে জমে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে এবং কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস করে। শহর ও গ্রামে ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা, যা বন্যা ও জলনিষ্কাশন সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।
সমুদ্র ও নদীতে প্রতিনিয়ত নিক্ষিপ্ত প্লাস্টিক জলজ প্রাণীর অস্তিত্বকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করছে। মাছ, কচ্ছপ ও পাখি প্লাস্টিককে খাদ্য ভেবে গ্রহণ করে প্রাণ হারাচ্ছে।
সমুদ্রবিজ্ঞানী জ্যাক কুস্টো সতর্ক করে বলেছিলেন—
“Water and air, the two essential fluids on which all life depends, have become global garbage cans”
আজ সত্যিই পানি ও বাতাস বৈশ্বিক আবর্জনার আধারে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া প্লাস্টিক পোড়ালে নির্গত ডাই-অক্সিন ও ফিউরানজাতীয় বিষাক্ত গ্যাস বায়ুদূষণ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
মানবস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি
ভাঙা প্লাস্টিকের অতি সূক্ষ্ম কণা-মাইক্রোপ্লাস্টিক-আজ পানি, মাছ, লবণ এমনকি বাতাসেও ছড়িয়ে পড়েছে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে হরমোনজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও স্নায়বিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে-
★ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন
★ পাট, কাপড়, কাগজ ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার
★ বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা জোরদার
★ শিল্পকারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ
★ কঠোর আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণসচেতনতা বৃদ্ধি
এসব অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পরিবেশবিদ র‍্যাচেল কারসনের ভাষায়-
“In nature, nothing exists alone.”
প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
প্লাস্টিক দূষণ কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটেরও প্রতিচ্ছবি। আজ আমরা যদি সাময়িক সুবিধার মোহে প্রকৃতিকে উপেক্ষা করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা ক্ষমার অযোগ্য হয়ে থাকব। তাই এখনই সময়-ব্যবহার নয়, বিবেচনা বদলানোর; প্লাস্টিকের পক্ষে নয়, প্রকৃতির পক্ষে দাঁড়ানোর।
লেখক :
★ সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
     দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা

প্লাস্টিক দূষণ: আধুনিক সুবিধার আড়ালে নীরব পরিবেশগত বিপর্যয়!

ডেস্ক রিপোর্ট ::

আজ সোমবার(২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় “মাইনরিটি ঐক্যজোট (MINORITY UNITY COALITION)” নামে সংখ্যালঘুূদের একটি সম্মিলিত সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত একমাত্র সংখ্যালঘু রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)’র নেতৃত্বে আয়োজিত “রাজনৈতিক জোট গঠন” ঐক্যমত স্টেজে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য বরেণ্য রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী বীরেন্দ্র নাথ অধিকারী। আয়োজক হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালণ করেন বিএমজেপি’র সভাপতি শ্রী সুকৃতি কুমার মন্ডল।
ভবতোষ মুখার্জি সুবী’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায়ে বক্তব্য রাখেন সর্ব শ্রী সুকৃতি কুমার মন্ডল, সুমন কুমার রায়(সনাতন পার্টি), নিউটন অধিকারী (বাংলাদেশ মতুয়া গণজাগরণ মঞ্চ), স্বপন কুমার বেপারী (অনুভব বাংলাদেশ), চানমোহন রবিদাস(বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম), শান্তির রঞ্জন মন্ডল(ভক্ত সংঘ), শ্যামল কান্তি নাগ(বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশন), জগদীশ চন্দ্র বর্মন(জাতীয় হিন্দু সংহতি), সলোমন আই রোজারিও(বাংলাদেশ খৃষ্টান এসোসিয়েশন), মাদল দেব বর্মন(বাংলাদেশ স্বস্তিসেবক) প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ঐক্যজোটের ওই মঞ্চে সংখ্যালঘুদের ৭৪ টি সংগঠনের মধ্যে ৪৫ টি একাত্মতা ঘোষণা করে জোটে একিভূত হয় এবং অবশিষ্ট ২৯ টি ধর্মীয় আদর্শ ও রীতি-নীতির বাধ্যবাধকতার কারণে সরাসরি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে যোগদান না করলেও ঐক্যমতে সংহতি প্রকাশ করে।
এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ  মাইনরিটি জনতা পার্টি(বিএমজেপি), বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩টি গ্রুপ, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ, বাংলাদেশ মতুয়া মিশন, অনুভব বহুমুখী সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের ৩টি গ্রুপ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ(ইস্কন), সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু অধিকার
পার্টি, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, ওয়ার্ল্ড বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু মহাসংঘ, পূর্ণ ব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মন্দির,রমনা, সৎসঙ্গ বাংলাদেশ, রবিদাস ফোরাম, ঢাকেশ্বরী মাতৃসেবা সংঘ, মাইনরিটি রাইটস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ঋষি পঞ্চায়েত ফোরাম, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ, আনন্দ মার্গ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বিশ্ব হিন্দু ফেডারেল বাংলাদেশ, শারদাঞ্জলী ফোরাম বাংলাদেশ, সনাতন সম্প্রীতি পরিষদ বাংলাদেশ, শ্রী কৃষ্ণ ভক্ত সেবা সংঘ, বাংলাদেশ হিন্দু ঐক্য ফোরাম, ভক্ত সংঘ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অবধূত সংঘ, বিশ্ব আনন্দযোগ সংঘ, বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশন, ভক্ত সংঘ সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সংহতি, সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম, আশির্বাদ(মানবাধিকার সংগঠন), স্বজন(সাংবাদিক সংগঠন), বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন, শ্রীশ্রী প্রনব মঠ, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, ইন্টারন্যাশনাল মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু ল ইয়ার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ, শঙ্খনিধি উদ্ধার কমিটি, হিন্দু কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ সেবাশ্রম, বাংলাদেশ ভূমিবল পার্টি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, ব্রাহ্মণ সংসদ, শ্রীশ্রী জগবন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, ভক্ত সেবা সংঘ, বাংলাদেশ কৃষ্ণ ভাবনামৃত সেবা সংঘ, মহাপ্রভুর তরুন সংঘ, বাংলাদেশ মতুয়া গনজাগরণ মঞ্চ, বাংলাদেশ স্বস্তিসেবক সৎসঙ্গ, গৌরাঙ্গ সংঘ বাংলাদেশ, শ্রীকৃষ্ণ সেবাসংঘ বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদী হিন্দু ছাত্র ফোরাম, শ্রী গুরু সংঘ বাংলাদেশ এবং ব্রহ্ম সনাতনী পরিষদ মহাতীর্থ সংঘ বাংলাদেশ।
এ মঞ্চ থেকেই সুকৃতি কুমার মণ্ডলকে সভাপতি এবং রবীন্দ্রনাথ বর্মনকে সদস্য সচিব করে আপতত: ৩১ সদস্য বিশিষ্ট (আংশিক) ঐক্যজোট কমিটি ঘোষণা করা হয়।
স্বপন কুমার বেপারী বলেন, দেশের ২ টি নিকৃষ্টতর পৈশাচিক হত্যাকান্ড বিশ্বজিৎ হত্যা এবং দিপু চন্দ্র দাস হত্যার মধ্য দিয়েই সংগঠনগুলোর মেলবন্ধন ঘটে যা ইতিহাস বদলে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে নবগঠিত এ ঐক্যজোট।

গোটা বিশ্বজুড়ে দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হলেও সরকার প্রধান কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দিপু দাসের পরিবারের সাথে যোগাযোগ কিংবা ন্যূনতম অনুভূতিও প্রকাশ না করায় এ নৃশংস ঘটনার বিষয়ে সরকারের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে, দিপু দাস কর্মরত ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানটির ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন তাঁরা।

বক্তব্যে নেতারা বলেন, বিগত বছরগুলোতে সব রাজনৈতিক দলই সংখ্যালঘুদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাদের সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে আদৌ গুরুত্ব দেয়নি। তাই সংখ্যালঘুরা আর ভুলেও অন্য কোনো দলের তাঁবেদারি করবে না। নিজেদের মেরুদন্ত শক্ত করে দাঁড়াতেই আজ এ ঐক্যের ডাক।
প্রবঞ্চনার রাজনীতির গ্যাড়াকল থেকে বেরিয়ে আসতেই তাদের এ চেতনার উন্মেষ! জোটের নেতৃবৃন্দ অবশ্য দেশের প্রায় দের কোটি সংখ্যালঘু ভোটারদের পূঁজি করে সরকার গঠনে এ জোটকে এখন ট্রামকার্ড হিসেবে দেখছে। তবে এ জোটের বিরুদ্ধে কোনো সনাতনী ব্যক্তিগত, ধর্মীয় কিংবা সামাজিক সংঠনের আড়ালে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ পরিপন্থী কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে তাকে বেঈমান ও দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করতে জনগণ সমুচিত ব্যবস্থা নিলে এ জোট পাশে থাকবে বলেও নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন।
নিউজটি শেয়ার করুন:

জাতীয় প্রেসক্লাবে মাইনরিটি ঐক্যজোটের ঘোষণা : জাতীয় নির্বাচনে খেলবে গোলকিপার হয়ে!