ডেস্ক রিপোর্ট::
এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আজ সোমবার(১৯ জানুয়ারি) চট্রগ্রাম আদালতে তোলা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে আবার তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এডভোকেট আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ছিলেন পুলিশ হেফাজতে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে এভাবে হত্যা মামলায়  ফাঁসিয়ে দেওয়ার মতো  ঘটনা এই প্রথম।
 আজ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সাহসিকতার সাথে বলেন – “আমি একজন সন্ন্যাসী-প্রাণহত্যার ভয়ে মাছ-মাংসই খাই না। অথচ আমার বিরুদ্ধে দেওয়া হলো মানুষ হত্যার মামলা !”
এ কথা শুনে বিচারক কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে রইলেন। অবশেষে বললেন আমাকে ক্ষমা করবেন মহাপ্রভু, আমি রাষ্ট্রের আদেশের ঊর্ধ্বে নয়। একজন গৃহত্যাগী নির্লোভ সন্ন্যাসী সাধককে এভাবে নির্যাতন ও সাজা দেয়ার ঘটনাকে বিশ্বের সনাতন সম্প্রদায় কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাঁধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস, আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ জন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার উসকানিদাতা হিসেবে চিন্ময়কে এই মামলার আসামি করা হয়। কিন্তু কখন উসকানি দিয়েছে এখনো প্রমান করতে পারেনি আদালত।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পলাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।
মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আছে।

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার শুনানীতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বোরহানউদ্দিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে জড়িত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সকালে উপজেলার গংগাপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীতে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ওই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। যা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ধারা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের সুলতান আহমেদ এর ছেলে মো: হারুনকে আটক করা হয়। আসামি অপরাধ স্বীকার করায় দোষী সাব্যস্ত করে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বোরহানউদ্দিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
বিয়ের পর দীর্ঘ ৫ বছর শশুরের ভাড়া বাসায় ঘরজামাই থেকে সূচ পরিমান খরচ বহন না করেও শশুর-শাশুড়ীর ঘাড়ে বসে খেয়ে পড়ে উপরন্তু ১০ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে সোলায়মানস সু হাউজ নামে  জাঁকজমকপূর্ণ জুতার দোকান দিয়ে ব্যবসায়ের টাকা বাপ-মা, ভাই-বোনদের পিছনে দুহাতে খরচ করে অবশেষে সে দোকানটিকেও ভাইয়ের নামে হস্তান্তরপূর্বক স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তালাকের কথা গোপণ রেখে প্রতারক স্বামী টানা ৯৯ দিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একই সাথে থেকে পৈতৃক বাড়িতে ঘর সংসার করায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে সাবেক স্ত্রী মামলা করলে বরিশাল নগরীর দক্ষিন চকবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে স্ত্রীকে পেটানো ভাইরাল হওয়া সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলায়মান সু হাউজ‘র কর্নধার মোঃ সোলাইমান ফরাজী ও তার বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজত পাঠানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে লোকমানের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে ডাকাতি মামলা করেন। ওই মামলার জবাবে বিতর্কিত সাজানো ডাকাতির মামলার পাতানো স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে আসামী ছিনতাইয়ের চেষ্টা, হামলা ও নগদ টাকাসহ স্বর্নলংকার লুটের অভিযোগে ধর্ষন মামলার বাদী আখি আক্তারের মামা ভিকটিম ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে পাল্টা মামলা করেন।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ৩০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামী সোলাইমান ও লোকমানকে নগরীর দক্ষিণ চকবাজারের জেলা পুলিশের বরাদ্দকৃত স্টল লোকমান সু হাউজ থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এসময়ে আসামীদের দোকান কর্মচারী ও লালিত সন্ত্রাসীরা হ্যান্ডকাপসহ আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে
আসামীদের সনাক্তকরণে সহযোগিতার জন্য পুলিশের সাথে থাকা ধর্ষণ মামলার বাদীনি আখি আক্তারের মামা মোঃ ফয়সাল বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর সহিংস হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অত:পর ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা ফয়সালের ওপর অতর্কিত হামলা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার ফয়সাল(৪২) মারাত্মক ফুলাজখম আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সাথে থাকা বন্ধুরা ফয়সালকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দেন।

এ সহিংস ঘটনাটিকে ডাকাতি মামলা সাজিয়ে গত ২ ডিসেম্বর ২ নম্বর আসামী মোঃ লোকমান হোসেনের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার ৬ জন স্বাক্ষীকে আসামী করে দন্ড বিধি আইনের ৩৯৫/৩৯৭/১০৯ ধারায় বরিশালের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপি নং-২৬১৫/২০২৫(কোতয়ালী)  মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক নুরুন নাজনীন অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিএমপি কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। ওই মামলার আসামীরা হলেন, আখির বাবা চটজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর হেসেন(৪৫), আখি ভগ্নপতি মোঃ ফিরোজ(৩২), অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক পরিমল মজুমদার শিশির(৬২), আখির মামা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ফয়সাল(৪২), আখির নানা মোঃ শাহআলম হাওলাদার(৭০) এবং শেবাচিম স্টাফ মোঃ বাহাদুর(৩৫)।

উল্লেখ্য, আখি আক্তার সোলাইমান সহ তাদের পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ ডিসেম্বর বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় এমপি কেস নং- ৪৮৭/২০২৫ মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ রকিবুল ইসলাম এর নির্দেশে বিএমপি কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ ইসমাইল হোসেন এজাহার হিসেবে গণ্য করে ৩০ নভেম্বর থানার মামলা নম্বর ২৭ নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে উপ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জল ভক্তকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

অপরদিকে, ভিকটিম ফয়সাল প্রতারক সোলাইমান ফরাজীকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে ১০ ডিসেম্বর বরিশালের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দন্ড বিধি আইনের ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৩৫৫/৫০৬(২) ধারায় এমপি মোকদ্দমা নং-২৭০৯/২০২৫ (কেতয়ালী) দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক নুরুন নাজনীন মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য বিএমপি কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন মোঃ লোকমান ফরাজী, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মাদারকাঠী গ্রামের রুস্তম আলী হাওলাদারের ছেলে মোঃ মেহেদী, রাজ্জাকপুর গ্রামের মৃত আশ্রাফ আলীর ছেলে মোঃ বায়েজিদ মিয়া, নগরীর দক্ষিণ চকবাজার স্বপন সু স্টোরের জামাল এবং ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের মৃত মোফাজ্জল হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ঈমান আলী ব্যাপারী।

মোকদ্দমার আরজিতে বলা হয় “বাদীর আপন ভাগ্নী  মোসাঃ আখি আক্তারের সহিত ১ নং আসামীর বিগত ইং ২৩/৩/২০২০ তারিখে ইসলামী শরা শরীয়া আইন অনুযায়ী উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে রেজি: কাবিনমূলে বিবাহ হয়।তাহাতে বিবাহের কিছুদিন পর হইতেই যৌতুক লেনদেনের ঘটনা নিয়া তাহাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হইলে ১/২ নং আসামীসহ তাহাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ১। বরিশালের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ফৌ: কা: বি: ১০৭/১১৭(গ) ধারায় এমপি মোকদ্দমা নং-৬৪২/২০২৪ (কাউনিয়া) এবং এমপি নং -৮০২/২০২৪ (কোতয়ালী), ২। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা নং-৩৬৪/২০২৫, ৩। বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর কেস নং-৫৮/২০২৫ (কাউনিয়া), ৪। কোতয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ এবং ৫। কাউনিয়া থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫ রেকর্ডভূক্ত ও বিচারাধীন আছে।
অত:পর ১ নং আসামী বাদীর ভাগ্নী ১ নং স্বাক্ষীর মেয়ে মোসাঃ আখি আক্তারকে তালাক প্রদান করিয়া তাহাকাবিননামায় বর্নিত ঠিকানা তথা তাহার পিতার স্থায়ী ঠিকানায় কিংবা ১ নং আসামী দম্পতি ঘরজামাই হিসাবে বসবাসের ঠিকানায়ও না পাঠাইয়া কিংবা বিগত ১৩/১০/২০২৪ তারিখে পারিবারিক মিমাংসা বৈঠকে কিংবা ১৪/১০/২০২৪ তারিখে আইনজীবী সমিতি ভবনে আপোষ মিমাংসাপত্র তৈরির বৈঠকে কিংবা ১/২ নং আসামীগংদের পক্ষের আইনজীবীর বিজ্ঞ আদালতে ১০/১১/২০২৪ খ্রি: তারিখে দাখিলকৃত লিখিত বর্ননায় কিংবা ১৫/৩/২০২৫ তারিখের কোতয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ তদন্তকালীন সময়েও প্রকাশ না করিয়া প্রকারান্তরে গোপন করিয়া বিগত ০৬/৯/২০২৪ তারিখ হইতে ১৩/১২/২০২৪ খ্রি: তারিখ পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন অন্যান্য আসামীগনের কুপরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দু:সাহসিকভাবে বাদীনির সহিত একই সাথে স্বামী-স্ত্রী রূপে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করণের মাধ্যমে নিয়মিত দৈহিক মিলন ঘটাইয়া ধর্ষণের শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত করায় কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নং-২২/২০২৫ এর তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তালাকের বিষয় নিশ্চিত হইয়া এবং বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর কেস নং-৫৮/২০২৫ (কাউনিয়া) বিচারাধীন মোকদ্দমায় বিগত ২১/১০/২০২৫ তারিখে তালাকের বিষয়টি স্বীকৃত হওয়ায়অত:পর মোসাঃ আখি আক্তার বাদী হইয়া বিগত ২৭/১১/২০২৫ তারিখে ১/২ নং আসামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় এমপি কেস নং-৪৮৭/২০২৫ মামলা দায়ের করিলে বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে বিএমপি কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এজাহার হিসাবে গণ্য করিয়া ৩০/১১/২০২৫ তারিখে থানার মামলা নম্বর ২৭ নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করিয়া এসআই উজ্জল ভক্তকে তদন্তের দায়িত্বভার অর্পণ করায় ঘটনার দিন ও সময়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল হইতে ১/২ নং আসামীকে গ্রেতার করিলে ১/২ নং আসামীর ইঙ্গিতে ও নির্দেশে ৩-৬ নং আসামী ওঅন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামীরা সংক্ষুব্ধ ও সংগঠিত হইয়া পুলিশের নিকট হইতে হ্যান্ডকাপ পরিহিত আসামীদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করিলে আসামীদের সনাক্তকরণে সহযোগিতার জন্য পুলিশের সাথে থাকা বাদী ও ১ নং স্বাক্ষী বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর সহিংস হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখিয়া আসামী ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 
অত:পর সংক্ষুব্ধ আসামীরা বাদী ও ১ নং স্বাক্ষীর ওপর অতর্কিত হামলা করিলে ৩ নং আসামী বাটযুক্ত একটি ঝাড়ুর কাঠের অংশ দিয়া বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে মাথায় আঘাত করিলে বাদী উক্ত লাঠি তৎক্ষনাৎ আসামীর হাত হইতে কাড়িয়া নিয়া অন্যত্র সরিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে ৪ নং আসামী দোকানে থাকা অন্য একটি ঝাড়ুর কাঠের বাট দিয়া বাদীর মাথা লক্ষ্য করিয়া আঘাতের চেষ্টা করিলে তাহা ফসকাইয়া বাদীর শরীরের বিভিন্ন অংশসহ ডান চোখের পাশে গালের উপরের অংশে লাগিয়া মারাত্মক বেদনাদায়ক নীলা ফুলা ফাটা রক্তজমাট জখম হয়।
সহিংস সংঘর্ষের সময়ে ৩ নং আসামী বাদীর গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্নের চেইন যাহার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা, ৪ নং আসামী বাদীর পকেটে থাকা দোকানের মালামাল কেনাবেচার নগদ ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৫/৬ নং আসামী ১ নং স্বাক্ষীর পকেটে থাকা দোকানের মালামাল বিক্রির নগদ ৮৫ হাজার টাকাসহ সাকূল্যে প্রায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ ছিনাইয়া নিয়া পালাইয়া যায়। ৩-৬ নং আসামীরা স্বাক্ষীগনকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারিয়া আহত করিয়া চলিয়া যাওয়ার সময় বাদী ও স্বাক্ষীগনকে এই বলিয়া হুমকি দেয় যে আদালতে চলমান মামলা তুলিয়া না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হইতে হইবে।

অত:পর স্বাক্ষীরা বাদীকে উদ্ধার করিয়া শেবাচিম হাসপাতালে নিয়া MSU-।।। ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়া সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।চিকিৎসা শেষে বাদী কিছুটা সুস্থ হইলে পর্যাপ্ত স্বাক্ষী প্রমান সংগ্রহত্তোর  ০৯/১২/২০২৫ তারিখে বেলা ১১ টায় কেতয়ালী থানায় মামলা করিতে গেলে থানা পুলিশ মামলা না নিয়া বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দেওয়ায় অত্র আদালতে মোকদ্দমা আনায়নে কিছুটা বিলম্ব হইল।”

প্রকাশ্য যে, মোঃ লোকমান হোসেন কোতয়ালী থানার মামলা নম্বর জিআর-২২/২০২৫ এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ কুদ্দুস মোল্লাকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে মামলাটির দফারফা ও চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের তথ্য লোকমানের স্ত্রী বিতর্কিত ডাকাতি মামলার বাদী মিম আক্তার প্রকাশ করে দিলে তা ওই মামলার বাদী আখি আক্তারের বাবা আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে রেকর্ড  করার ঘটনা নিয়েও তাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এসি প্রনয়ের বদলীর জন্য তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কুদ্দুস মোল্লা দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস অপেক্ষা করেছিলেন প্রতিবেদন দিতে। এসব বিষয়ে বাদী আখি লিখিতভাবে বিএমপি কমিশনারের কাছে জানালে ওই দিনই ফাইনাল রিপোর্ট দেন কুদ্দুস মোল্লা।

এদিকে ধর্ষণ মামলার বাদীপক্ষের আশঙ্কা, গ্রেফতারকৃত ওই দুধর্ষ আসামীরা জেলহাজত থেকে জামিনে ছাড়া পেলে চলমান মামলার তদন্তকার্যে বিভিন্ন মহল থেকে প্রভাব খাটাবে। বাদীর জীবনের ওপরও রয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতা। ইতোপূর্বেও আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় আদালতের গ্রেফতার আদেশ থাকলেও আসামীরা দীর্ঘদিন পলাতক থাকার অজুহাতে কাউনিয়া থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৬) ও মোঃ লোকমান ফরাজী(৩৮) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র, মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের বেলতলা এলাকার চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা এবং মোঃ ফয়সাল(৪২) চর আবদানীর মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর পুত্র।

ইতোপূর্বেও এসব ঘটনার আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর, ৩০ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী হ্যান্ডকাপসহ ছিনতাইয়ের চেষ্টা : প্রতিহতের ঘটনায় আসামীপক্ষের সাজানো ডাকাতি মামলার জবাবে বাদীপক্ষের কাউন্টার মামলা!

নিজস্ব প্রতিনিধি ::

স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তালাকের কথা গোপণ করে টানা ৯৯ দিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একই সাথে থেকে ঘর সংসার করায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে সাবেক স্ত্রী মামলা করলে বরিশাল নগরীর দক্ষিন চকবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে স্ত্রীকে পেটানো ভাইরাল হওয়া সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমান সু হাউজ‘র কর্নধার মোঃ সোলাইমান ফরাজী ও তার বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজত পাঠানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে লোকমানের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে ডাকাতি মামলা করেন।

গত ৩০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামী সোলাইমান ও লোকমানকে নগরীর দক্ষিণ চকবাজারের জেলা পুলিশের বরাদ্দকৃত স্টল লোকমান সু হাউজ থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এসময়ে আসামীদের দোকান কর্মচারী ও লালিত সন্ত্রাসীরা হ্যান্ডকাপসহ আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে আসামীদের সনাক্তকরণে সহযোগিতার জন্য পুলিশের সাথে থাকা ধর্ষণ মামলার বাদীনি আখি আক্তারের মামা মোঃ ফয়সাল বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর সহিংস হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অত:পর ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা ফয়সালের ওপর অতর্কিত হামলা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার ফয়সাল(৪২) মারাত্মক ফুলাজখম আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সাথে থাকা বন্ধুরা ফয়সালকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দেন।

এ সহিংস ঘটনাটিকে ডাকাতি মামলা সাজিয়ে গত ২ ডিসেম্বর ২ নম্বর আসামী মোঃ লোকমান হোসেনের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার ৬ জন স্বাক্ষীকে আসামী করে দন্ড বিধি আইনের ৩৯৫/৩৯৭/১০৯ ধারায় বরিশালের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি. আর২৬১৫/২০২৫ (কোতয়ালী) নম্বর মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামীরা হলেন, আখির বাবা মোঃ আলমগীর হেসেন(৫০), আখি ভগ্নপতি মোঃ ফিরোজ(৩২), অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক পরিমল মজুমদার শিশির(৬২), আখির মামা মোঃ ফয়সাল(৪২), আখির নানা মোঃ শাহআলম হাওলাদার(৮৩) এবং শেবাচিম কর্মচারী মোঃ বাহাদুর (৩৫)।

বিজ্ঞ বিচারক মামলার বিষয়ে তদন্তের জন্য বিএমপি কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, আখি আক্তার সোলাইমান সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ ডিসেম্বর বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় এমপি কেস নং-৪৮৭/২০২৫ মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ রকিবুল ইসলাম এর নির্দেশে বিএমপি কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ ইসমাইল হেসেন এজাহার হিসেবে গণ্য করে ৩০ নভেম্বর থানার মামলা নম্বর ২৭ নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে উপ পরিদর্শক(এসআই) উজ্জল ভক্তকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

এ ছাড়াও সোলাইমান গংদের বিরুদ্ধে বরিশালের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ফৌ: কা: বি: ১০৭/১১৭(গ) ধারায় এমপি মোকদ্দমা নং-৬৪২/২০২৪ (কাউনিয়া) এবং এমপি নং -৮০২/২০২৪ (কোতয়ালী), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা নং-৩৬৪/২০২৫, বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর কেস নং-৫৮/২০২৫(কাউনিয়া), কোতয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ এবং কাউনিয়া থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫ রেকর্ডভূক্ত ও বিচারাধীন।

প্রকাশ্য যে, মোঃ লোকমান হোসেন কোতয়ালী থানার মামলা নম্বর জিআর-২২/২০২৫ এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ কুদ্দুস মোল্লাকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে মামলাটির দফারফা ও চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের তথ্য লোকমানের স্ত্রী বিতর্কিত ডাকাতি মামলার বাদী মিম আক্তার প্রকাশ করে দিলে তা ওই মামলার বাদী আখি আক্তারের বাবা আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে রেকর্ড  করার ঘটনা নিয়েও তাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

ইতোপূর্বেও এসব ঘটনার আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর এবং ৩০ নভেম্বর সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ধর্ষণ মামলা ঠেকাতে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীসহ ৬ স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে সাজানো ডাকাতি মামলা!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা ::
ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা, শেখ রেহানার সাত বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা এবং রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

গত ২৫ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আরো দুই আসামিসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এই মামলায় ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

হাসিনার ৫, রেহানার ৭ ও টিউলিপের ২ বছর কারাদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ  বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধে  ধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের। অবশেষে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার মূল আসামী সোলাইমান এবং এসব অপকর্মে সরাসরি সহযোগিতায় যুক্ত থাকার কারণে সোলাইমানের বড় ভাই লোকমান ফরাজীকে আজ রোববার রাত সাড়ে ৮ টায় নগরীর দক্ষিণ চকবাজারস্থ নিজ নিজ দোকান থেকে কাউনিয়া থানার এসআই উজ্জল ভক্ত’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করে।

এসময়ে আসামীদের দোকান কর্মচারী ও লালিত সন্ত্রাসীরা হ্যান্ডকাপসহ আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে আসামীদের সনাক্তকরণে সহযোগিতার জন্য পুলিশের সাথে থাকা ধর্ষণ মামলার বাদীনি আখি আক্তারের মামা মোঃ ফয়সাল বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর সহিংস হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়ে দ্রুত

ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অত:পর ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা ফয়সালের ওপর অতর্কিত হামলা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার ফয়সাল(৪২) মারাত্মক ফুলাজখম আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সাথে থাকা বন্ধুরা ফয়সালকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দেন।

সহিংস সংঘর্ষের সময়ে সন্ত্রাসীরা ফয়সালের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের একটি স্বর্নের চেইন, হাতে পরিহিত বারো আনা ওজনের একটি স্বর্নের ব্রসলেট ও পকেটে থাকা দোকানের মালামাল বিক্রির নগদ দের লক্ষ টাকা এবং আখির বাবা মোঃ আলমগীর হেসেনের পকেটে থাকা দোকানের মালামাল বিক্রির নগদ ৮৫ হাজার টাকাসহ প্রায় ৬ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

এদিক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ফয়সালকে শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর দায়িত্বরত
চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে ভিকটিমকে অক্সিজেন ব্যবহারের মাধ্যমে তার শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে এনে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
সন্ত্রাসী ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে এসআই উজ্জল ভক্ত বলেন, আসামী সনাক্তকরণের কাজে সহায়তা করার কারণে গ্রফতারকৃত আসামীদের সমর্থকরা ফয়সালের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ওরা ভয়ঙ্কর শ্রেনীর
লোক। আসামীদেরও ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। ওই মূহুর্তে গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে আসাই ছিল আমাদের মূল দায়িত্ব। তবে আমাদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরের ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বেও গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সোলাইমান ফরাজী আখি আক্তারকে ফায়ার সার্ভিসের সামনে রাস্তার ওপর ফেলে প্রকাশ্যে লাথি ঘুষি মেরে মারাত্মক জখম

করলে বিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রনয় রায় গাড়ী থামিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আখিকে উদ্ধার করে লঞ্চঘাট ফাঁড়ির এসআই মাহবুবের মাধ্যমে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেন। ওই সময়ে এ প্রতিবেদকের সামনেই লোকমান ফরাজী কতিপয় সন্ত্রাসী নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে থানা ঘেরাও করার হুমকি দিলে পুলিশ ভয়ে আসমীর হ্যান্ডকাপ খুলে দিয়ে মামলা না নিয়ে ১৬৯৮ নম্বর জিডি করে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, কোতয়ালী থানার মামলা নম্বর জিআর-২২/২০২৫ এর তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের দাখিল করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে আখির দায়েরকৃত যৌতুক মামলা বিজ্ঞ আদালতে খারিজ হওয়ার পর গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর  আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) দীর্ঘ শুনানী শেষে এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি’র তদন্তাদীন এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫ (কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৬) ও মোঃ লোকমান ফরাজী(৩৮) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ইতোপূর্বেও এসব ঘটনার আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর এবং ২৭ নভেম্বর চারটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানসহ পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা! গ্রেফতার ২ : হামলায় আহত ফয়সাল শেবাচিমে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি [২৭ নভেম্বর, রাত ১২.১৫ মি:] ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ  বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু
হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের।
স্ত্রীকে ঘরে রেখেই ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে গোপন করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর  আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিচারক প্রশিক্ষণে বরিশালের বাহিরে অবস্থান করার কারণে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) তদন্তে এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও দ: বি: ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫(কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৫) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মো: সোলাইমানের মোবাইল ফোনে (01719541613 ও 01919079090 নম্বরে) বারং বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বেও এসব ঘটনাবলীর আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর এবং ১২ অক্টোবর তিনটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা দায়ের!

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে মাদক মামলায় তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ২৮ অক্টোবর বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর বিচারক মোঃ জহির উদ্দিন সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলো রাজাপুর উপজেলার চর হাইলাকাঠি গ্রামের সুলতান মোল্লার ছেলে সোহাগ মোল্লা(৩৫) ৪ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড নগদ ১০ হাজার টাকা অনাদায়ে ১ মাসের কারাদন্ড , নাপতার হাটের রহিম হাওলাদার এর ছেলে নাইম(২৭),দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড নগদ ১০ হাজার টাকা অনাদায়ে ১ মাসের কারাদন্ড এবং সদর উপজেলার দক্ষিন কিস্তাকাঠি মজিবর বেপারীর ছেলে তহিদুল ইসলাম টিটু(৩০) তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড নগদ দশ হাজার টাকা অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড। বেঞ্চ সহকারী আঃ রহমান জানান, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২১ সালে বরিশাল দোতলা লঞ্চঘাট থেকে রাত সাড়ে ৩ টার সময় বরিশাল ডিবি ৪ কেজি সহ তিনজনকে আটক করে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারনি১১ (ক)/৪০ ধারায় চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন হুমায়ুন কবির ও রাস্ট্র পক্ষে ছিলেন এপিপি অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু।

বরিশাল নগরীতে মাদক মামলায় তিন জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কিশোরী রীমা রানী সরকার (১৫)-কে নিখোঁজের প্রায় ২৪ দিন পর পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রিমাকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। এই কাজে জড়িত থাকার অভি
যোগে ভিকটিমের ধর্মান্তরিত আপন মাসিসহ তার
স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা ও এর সাথে কাজ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোড দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলী দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রীমা রানী সরকার। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মতিলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং–০৮, তারিখ: ০৫/১০/২০২৫) রুজু করা হয়। অপহরণের পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এর দিকনির্দেশনায়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।
ঘটনা ক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ ও ১১ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বদরুল আলম (২৫) ও শহিদ মিয়া (৩২)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও প্রসারিত করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভিকটিমের খালা প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেই সূত্র ধরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটক করে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, শিল্পী সরকার (ওরফে শিল্পী বেগম) ভিকটিমের আপন খালা (তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম)। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মোবারক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুলিশের দাবি,ঘটনার দিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে অঞ্জলী শেষে ফেরার পথে কিশোরী রীমাকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ধরাধরপুর এলাকায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এমনকি ঘটনার পর ভিকটিমের মা জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগমের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। গতকাল (২৪ অক্টোবর) তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিকটিম রীমা রানী সরকারকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত রিমা রানী সরকারের ঘটনাটি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপন না অপহরণ এ বিষয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, অনেকেই অপহরণ দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিসোর কিশোরীকে যদি কেহ ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে সেটি অপহরণ হিসেবেই গণ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি আরও তদন্তের দাবি সাধারণ জনগণের। এর পিছনে মূল রহস্য কি এবং কেন শুধুমাত্র একটি বিষয়কেই হাইলাইট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে ভাইরাল করা হয়েছে,যেহেতু শ্রীমঙ্গল থানায় এরূপ আরো হাফ ডজনের ও অধিক নিখোঁজ ও অপহরণ অভিযোগ এই মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে। এছাড়া পূর্ব যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেটিজেনরা।বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে নজর রাখুন।
 #শ্রীমঙ্গলের রীমা সিলেট থেকে উদ্ধার:ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আপন খালা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার
#সংগ্রহ #শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের রীমা রানী সিলেট থেকে উদ্ধার : ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধর্মান্তরিত আপন মাসী গ্রেফতার

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
প্রতারণামূলকভাবে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এবং তা গোপন রেখে তালাকের কপি রেজি: ডাকযোগে ভুয়া ঠিকানায় পাঠিয়ে তালাক দেয়া স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে রেখে দীর্ঘ ৯৮ দিন দাম্পত্য জীবন পার করার পরেও ওই  বিতর্কিত তালাকনামার কাগজপত্রের জোরে বিচারককে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এবং বাদীর নিযুক্ত আইনজীবী মো: হুমায়ুন কবির-১ এবং তাঁর সহযোগী অন্যান্য আইনজীবীদের রহস্যজনক অনুপস্থিতির সুযোগে আসামীপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বরিশাল ম্যাট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট ১ম বিচার আদালতের বিচারক নূরুন নাজনীন’র আদালত থেকে যৌতুক মামলায় অব্যাহতি নেন বাদীর প্রতারক স্বামী মোঃ সোলাইমান(৩৬) এবং শশুর মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী(৬০)। অব্যহতিপ্রাপ্ত আসামীরা বিএমপি কাউনিয়া থানা এলাকার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, যৌতুুক নিরোধ আইন ২০১৮ সনের ৩ ধারায় গত ৪ মার্চ ওই ২ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে সিআর ৫৮/২০২৫(কাউনিয়া) নং মোকদ্দমা দায়ের করেন বিএমপি কাউনিয়া থানাধীন চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডস্থ চর আবদানীর বাসিন্দা চটজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর হোসেনের কন্যা মোসাঃ আখি আক্তার(২২)। আজ মামলাটির চার্জশুনানীর জন্য তারিখ ধার্য ছিল।
কোনো স্বাক্ষী প্রমান গ্রহণ ছাড়াই ওই আসামীদের বিরূদ্ধে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জিআর-২২/২৫ (কোতয়ালী) মামলায় মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এসআই আবদুল কুদ্দুস মোল্লার দাখিলকৃত চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিজ্ঞ বিচারক নূরুন নাজনীন মামলাটি খরিজ করে আসামীদের অব্যহতি দেয়ায় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে বিচারকের ওপর বাদী ক্ষিপ্ত মমোভাব প্রকাশ করলেও এ মামলায় রিভিশন না করে প্রতারক সোলাইমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষন মামলা করবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।
অপরদিকে, নারী নির্যাতন মামলায় পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরূদ্ধেও আপত্তি দেয়ায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশুকেস নং-৩৬৪/২০২৫ মামলায় জুডিশিয়াল তদন্ত করছেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের চৌকস এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনসহ প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়াও সোলাইমানসহ ৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং- ৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) এবং ৬২/২০২৫ (কাউনিয়া) মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বরিশাল নগরীর নির্যাতিত সেই আখির যৌতুক মামলা স্বাক্ষী প্রমান গ্রহণ ছাড়াই খারিজ! বাদীর পরবর্তী টার্গেট রিভিশন নয় সরাসরি ধর্ষণ মামলা