অনুসন্ধান ডেস্ক ::

দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতার সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত, বর্ষীয়ান সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে উদ্ধারের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজসহ সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমের হুমকি ও অব্যাহত চাপকে দায়ী করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে তাঁকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো এবং ক্রমাগত হুমকির মুখে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তাঁর লেখা একটি খোলা চিঠিতেও তিনি উল্লেখ করে গেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ আগস্ট। দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় সিপিবি নেতা মযহারুল ইসলাম বাবলার ‘ইতিহাসের ঘটনাবহুল আগস্ট’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন বিভুরঞ্জন সরকার। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত নিবন্ধে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত থাকায় ক্ষুব্ধ হন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম।

অভিযোগ অনুযায়ী, শফিকুল আলম এরপর আজকের পত্রিকার সম্পাদককে সরাসরি ফোন করে পত্রিকার লাইসেন্স বাতিল ও গোয়েন্দা সংস্থা লেলিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর হুমকি দেন। একইসঙ্গে তিনি আটজন সাংবাদিকের একটি তালিকা দিয়ে তাদের ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

এই চাপের মুখেই পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বর্ষীয়ান সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় এবং অনলাইন সংস্করণ থেকে নিবন্ধটি সরিয়ে ফেলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভুরঞ্জন সরকারের একজন সহকর্মী বলেন, “বিভু দা (বিভুরঞ্জন সরকার) ছিলেন একজন আপাদমস্তক পেশাদার সাংবাদিক। শেষ দিনগুলোতে তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তাঁকে যেভাবে অপমান করে ছুটিতে পাঠানো হলো এবং হুমকি দেওয়া হলো, সেটা তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা শুধু একটা মৃত্যু নয়, এটা একটা ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।”

প্রয়াত সাংবাদিকের লেখা খোলা চিঠি থেকে জানা যায়, ছুটিতে পাঠানোর পরও তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে করণীয় জানতে চেয়ে তিনি সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর কিছুদিন পরই মেঘনা নদী থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হলো।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার মতো ঘটনা। যদি একটি নিবন্ধ ছাপানোর জন্য একজন বর্ষীয়ান সাংবাদিককে এভাবে জীবন দিতে হয়, তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। আজ বিভুরঞ্জন গেছেন, কাল আমাদের পালা আসবে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।”

একই সুরে একজন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী বলেন, “বিভুরঞ্জন সরকারের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। এটি দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চলমান আক্রমণের একটি ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত। যখন গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়, তখন পুরো সমাজই অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এই মৃত্যু রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। আমরা অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে, সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সাংবাদিক ইউনিয়নের একজন নেতা বলেন, “আমরা এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন সাংবাদিককে নিবন্ধ প্রকাশের জেরে হুমকি দেওয়া হবে এবং তাঁর লাশ নদীতে পাওয়া যাবে—এটা কোনো সভ্য দেশে চলতে পারে না।

প্রয়াত বিভুরঞ্জন সরকারের ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবা কোনো অন্যায় করেননি। তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যারা ফোনে হুমকি দিয়েছে, যারা বাবাকে চাকরি থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে, তারাই আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। আমরা আর কিছু চাই না, শুধু এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। প্রধান উপদেষ্টার কাছে আমাদের আকুল আবেদন, তিনি যেন এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করেন।”
#সাংবাদিকহত্যাবন্ধকর #সংবাদমাধ্যমেরস্বাধীনতা
#গণমাধ্যমেরকণ্ঠরোধচলবেনা
#কলমেরমৃত্যু
#সাংবাদিকসুরক্ষাচাই
#BangladeshCrisis

[সূত্র: আজকের কন্ঠ]

হুমকির পরেই প্রথিতযশা সাংবাদিক বিভূরঞ্জন’র লাশ মেঘনায় : অভিযোগের তীর প্রেস সেক্রেটারি শফিকের দিকে

মাসুদ চাকলা
লেখক,সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক 
বাংলাদেশের ইতিহাসের বুকে দুটি নাম সূর্যের মতো দীপ্ত—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
একজন জাতির জনক, স্বাধীনতার স্থপতি; অপরজন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক, যিনি রণাঙ্গনে লড়াইকে বিজয়ের দিকে নিয়ে গেছেন। দুজনের অবদান ভিন্ন হলেও দুজনই বাঙালি জাতির গর্ব, ইতিহাসের মহীরূহ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির স্বপ্নের আকাশ, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাবাস, শোষণ-অত্যাচার, অগণিত নিপীড়ন সয়ে গেছেন অথচ পিছু হটেননি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উত্তাপে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা, ১৯৬৬ সালের ছয় দফায় তিনি জাতিকে দিলেন মুক্তির সনদ, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে পেলেন “বঙ্গবন্ধু” উপাধি, আর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চে তিনি হলেন জাতির অবিসংবাদিত নেতা।
পাকিস্তানি শাসকরা তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি করলেও, তার নামেই মুক্তিকামী মানুষ হাতে নিয়েছিল অস্ত্র, তার ডাকেই জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তিনি ছিলেন বজ্রকণ্ঠ, যিনি বলেছিলেন—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই কণ্ঠই ছিল জাতির মুক্তির মন্ত্র।
অন্যদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন রণক্ষেত্রের গর্জন। মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তার নেতৃত্ব, সাহস ও কৌশল মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার থেকে তার কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষণা যেন আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বাংলার প্রতিটি গ্রামে। তিনি ছিলেন তরবারির ঝলক, যিনি রক্তক্ষেত্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান—একজন রাজনৈতিক আন্দোলনের অগ্রনায়ক, অপরজন সামরিক বীর।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখিয়েছেন,মাঠে ফসল বুনেছেন আর সেই ফসল ঘরে তুলেছেন জিয়াউর রহমান এবং সেই স্বপ্নের মাটিতে বীরত্বের অক্ষরে লিখেছেন বিজয়ের নাম। একজন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, অন্যজন সেই জাতির হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু পরাস্ত করেছেন।
ইতিহাসে এ দুই নায়কের অবদান তাই তুলনাহীন হলেও একে অপরের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধুর প্রতি জিয়াউর রহমানের শ্রদ্ধা ছিল অবিচল। জীবদ্দশায় তিনি কখনো বঙ্গবন্ধুর সামনে সমকক্ষ আসনে বসেননি। ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যখন দুষ্কৃতকারীরা তার ছবি নামাতে চাইলো, তখন জিয়া বলেছিলেন—
“আমার শয়নকক্ষে আমার নেতার ছবি মাথার ওপরে ঝুলছে, এই ছবি খোলার সাধ্য কারো নেই।”
এই উক্তি শুধু আনুগত্য নয়, বরং হৃদয়ের ভক্তি, ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা। উপসংহারে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের আকাশে এক অবিনাশী নক্ষত্র—তিনি জাতির জনক, স্বাধীনতার স্থপতি।
শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, বীর সেনানায়ক। তাদের অবদান ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হলেও মিলেছে এক স্রোতে-বাংলার মুক্তি। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম আর জিয়ার বীরত্ব মিলেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তাই বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা মানেই ইতিহাসকে অসম্মান করা। আর জিয়াউর রহমানের অবদান মানে মুক্তিযুদ্ধের রণক্ষেত্রের গৌরবকে সম্মান জানানো।
তাই সব বিভেদ ভুলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এক হয়ে এক সুন্দর সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ জিয়াউর রহমান ইতিহাসের দুই মহীরূহ

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
নির্লোভ ও ত্যাগী এক বরেণ্য রাজনীতিকের প্রতিকৃতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। রাষ্ট্রীয় পদক ও সম্মান সবারই আরাধ্য থাকলেও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করাটাই ছিল তাঁর কাছে প্রধান দায়িত্ব। তাই তো, ২০১৫ সালে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ গ্রহণ করার প্রস্তাব। তাঁর মত ছিল, “রাজনীতির অর্থ দেশসেবা, মানুষের সেবা। পদ বা পদবির জন্য কখনো রাজনীতি করিনি। পদক দিলে বা নিলেই সম্মানিত হয়, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস করি না আমি।”
তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি ।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
(১৪ এপ্রিল ১৯২২-২৩ আগস্ট ২০১৯)
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কেয়াম উদ্দিন ভূইয়া আর মায়ের নাম আফজারুন্নেছা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন
করেন এবং ইউনেস্কো থেকে একটি ডিপ্লোমা লাভ করেন। মোজাফফর আহমদ এর বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ১৯৩৭ সালে। ছাত্রাবস্থায় বৃট্রিশবিরোধী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেন ১৯৫২ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত। অধ্যাপনা ছেড়ে পুরোপুরিভাবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিজ জেলা কুমিল্লার দেবিদ্বার আসনে মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রীকে পরাজিত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল প্রাদেশিক পরিষদে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। ১৯৫৭ সালে ২৭ জুলাই মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাপ’ গঠন প্রক্রিয়ায়ও যুক্ত ছিলেন তিনি।
কুখ্যাত সামরিক শাসক আইয়ুব খান সরকার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ১৯৫৮ সালে। তাঁকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার প্রাপ্তির ঘোষণা পর্যন্ত দেওয়া হয়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও পাকিস্তানি শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করেন। দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে থাকার পর ১৯৬৬ সালে তিনি প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফিরে আসেন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন। অবিভক্ত পাকিস্তান ন্যাপেরও তিনি ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। ১৯৬৯ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে তিনি কারাজীবন ভোগ করেন।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কালীন বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। উপদেষ্টা পরিষদ এর অন্যান্য
সদস্য্যের মধ্যে ছিলেন কমরেড মণি সিংহ, মাওলানা ভাসানী ও মনোরঞ্জন ধর। মোজাফফর আহমদ স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। সে সময় তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন ন্যাপ-সিপিবি-ছাত্র ইউনিয়ন এর সমন্বয়ে বিশেষ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাবাহিনী সংগঠনে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়।
১৯৭৯ সালে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে তিনি ন্যাপ, সিপিবি এবং প্রগতিশীল শক্তির পক্ষে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের শুরুতে মোজাফফর আহমদ কারারুদ্ধ হন। রাজনৈতিক কারণে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, দক্ষিণ ইয়েমেন, লিবিয়া, আফগানিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মি সৃষ্টির প্রয়াসে মদনপুরে প্রতিষ্ঠা করেন উপমহাদেশের একমাত্র শিক্ষায়তন “সামাজিক বিজ্ঞান পরিষদ”। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইসমূহ হচ্ছে- ‘সমাজতন্ত্র কি এবং কেন’, ‘প্রকৃত গণতন্ত্র তথা সমাজতন্ত্র সম্পর্কে জানার কথা’, ‘মাওবাদী সমাজতন্ত্র ও কিছু কথা’ ইত্যাদি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়ার ঘোষণা দিলে তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।
বয়সের দিকে জীবনের সেঞ্চুরি তিনি পূরণ করতে পারেননি একটুর জন্য। কিন্তু, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাখা ও পালন করা তাঁর ভূমিকা দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে তাঁকে চির-স্মরণীয় করে রাখবে।

নি:স্বার্থ দেশপ্রেমিক বরেণ্য রাজনীতিক অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ 

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
[সাংবাদিক আপন তারিক ভাইয়ের ওয়াল থেকে নেয়া]
বিভুরঞ্জন সরকারের খোলা চিঠিটা পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেছি! মনটা যেন হঠাৎই জমে গেছে শূন্যতায়! কিছু বলার ভাষা নেই, অনুভবগুলো যেন জড়িয়ে গেছে এক নিঃশব্দ যন্ত্রণায়।
এই চিঠি শুধু বিভুদার নয়-এটা হয়ে উঠেছে হাজারো সৎ, আপসহীন সাংবাদিকের অস্ফুট চিৎকার, একান্ত আত্মকথা। নামটা শুধু পাল্টাবে, গল্পটা হয়ে যাবে আপনার-আমার পরিচিত কোনো সৎ মানুষের। কারণ এই সমাজ, এই রাষ্ট্র, এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা একইভাবে সবাইকে ভেঙে ফেলে!
আজ নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার। যাওয়ার আগে রেখে গেছেন এক খোলা চিঠি-যেটা শুধু লেখা নয়, একটা গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শেষ আর্তনাদ।
চিঠিটা পড়ুন। অনুভব করুন-কীভাবে আমরা একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, একটি সমাজ মিলে মেরে ফেলি একজন সৎ মানুষকে।
সততার এত বড় শাস্তি হয়?
খোলা চিঠি
বিভুরঞ্জন সরকার:
আমি বিভুরঞ্জন সরকার, ‘আজকের পত্রিকা’র সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করি। সাংবাদিকতার সঙ্গে আমার সম্পর্ক পাঁচ দশকের বেশি সময়ের। দেশের নানা পরিবর্তন, আন্দোলন, গণআন্দোলন এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতন প্রত্যক্ষ করেছি। এই দীর্ঘ সময় আমি লিখেছি সত্যের পক্ষে, মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে। কিন্তু আজ, যখন নিজের জীবনকে দেখি, অনুভব করি—সত্য লিখে বাঁচা সহজ নয়।
আমার পেশা আমাকে শিখিয়েছে—সত্য প্রকাশ করা মানে সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি নেবার নাম। ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে করতে শিখেছি, কখনো কখনো নাম গোপন রাখতেই হয়। সত্য প্রকাশ করতে গেলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা প্রয়োজন হয়। এরশাদের আমল, নানা রাজনৈতিক আন্দোলন-সবক্ষেত্রে সাহস ছাড়া লেখা সম্ভব ছিল না। আমরা, আমার মতো সাংবাদিকরা, গোপন নাম ব্যবহার করেছি, তাতে স্বার্থের কিছু নেই, বরং নিরাপত্তার জন্য।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার অবস্থান স্পষ্ট ছিল-স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। আমার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান না রেখেও মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বাগিয়ে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, নিচ্ছেন। আমি ও পথে হাঁটিনি।
স্কুল ছাত্র থাকতেই সাংবাদিকতার পেশায় জড়িয়েছি। দৈনিক আজাদের মফস্বল সাংবাদিক। স্কুলে পড়ার সময় আমাদের নামে আজাদে বড় বড় লেখা ছাপা হয়েছে। আবার বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াও সেই স্কুল থেকেই। রাজনৈতিক আদর্শবোধ ও সাংবাদিকতার নৈতিক সততা আমাকে ব্যক্তিগত সুখভোগের জন্য তাড়িত করেনি। একটাই তাড়না-দায়িত্ববোধ। আমি জ্ঞানত কখনো দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিনি। নিজের কাজে ফাঁকি দেইনি। খুব সাহসী মানুষ হয়তো আমি নই, কিন্তু চোখ রাঙিয়ে কেউ আমাকে দিয়ে কিছু লেখাতে পারিনি। অবশ্য বছর কয়েক আগে কথায় পটিয়ে আমাকে দিয়ে নাঈমুল ইসলাম খান তার স্ত্রী মন্টি আপার সুখ্যাতি লিখিয়ে নিয়েছিলেন!
আজকের সময়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ অন্যরূপ। অনেকেই সুবিধা, স্বার্থ, সামাজিক মর্যাদা বা আর্থিক স্বার্থের জন্য সত্যকে আড়াল করে লেখেন। আমি নাম আড়াল করলেও সত্য গোপন করিনি। তাই হয়তো দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় এই পেশায় কাটিয়ে সম্মানজনক বেতন-ভাতা পাই না। এখন আমার যা বেতন তা বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। তবে শুনেছি, আমার বিভাগীয় প্রধানের বেতন আমার প্রায় দ্বিগুণ। আহা, যদি ওই বেতনের একটি চাকরি পেতাম তাহলেও হয়তো সংসার চালানোর জন্য নিয়মিত ধার-দেনা করার পেশাটি আমাকে বেছে নিতে হতো না! অন্যসব খরচের হিসাব বাদ দিয়ে মাসে আমার একার ওষুধের ব্যয় ২০-২২ হাজার টাকা। বাড়িয়ে নয়, একটুবকমিয়েই হয়তো বললাম! আমার আর্থরাইটিস, লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ কত যে রোগ! আর্থরাইটিস ও লিভারের চিকিৎসার জন্য কত যে ধারদেনা করতে হয়েছে। আমার ছেলেও অসুস্থ, ওরও নিয়মিত চিকিৎসাব্যয় আছে। তাই ধার-দেনা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা পরিচয়ে অনেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। একপর্যায়ে লাজলজ্জা ভুলে আমিও শেখ হাসিনার দরবারে সাহায্যের আবেদন করে কোনো ফল পাইনি। অনেক সাংবাদিক প্লট পেয়েছেন। আমি দুইবার আবেদন করেও সফল হইনি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বই লিখেও নাকি কতজন ভাগ্য বদলেছেন। অথচ আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত দুটি বইয়ের জন্য আমি দুই টাকাও রয়্যালিটি পাইনি। একেই বলে কপাল! তবে হ্যাঁ, একবার শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। ওই সফরের জন্য কিছু হাত খরচের টাকা আমি পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা তো ওই কোটপ্যান্টজুতো কিনতেই শুধু শেষ হয়, আরও দেনা হয়েছে। ওই সুবাদে আমার কোট-টাই জুতা কেনা! সারাজীবন তো স্যান্ডেল পরেই কাটল।
শুধু মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে অবিচল অবস্থানের কারণে আমাকে আজও ‘আওয়ামী ট্যাগ’ দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী আমলেও কোনো বাস্তব পুরস্কার পাইনি। আমি পেলাম না একটি প্লট, না একটি ভালো চাকরি। বরং দীর্ঘ সময় চাকরিহীন থেকে ঋণের বোঝা বেড়েছে। স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে পরিবারের দায়বদ্ধতা আমাকে প্রতিনিয়ত চাপের মধ্যে রাখে।
‘আজকের পত্রিকা’য় কাজ করছি ৪ বছর হলো। এই সময়ে না হলো পদোন্নতি, না বাড়ল বেতন। অথচ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। সংবাদপত্র আর কীভাবে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে, ঘরের মধ্যেই যেখানে অনিয়ম।
সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যাদের লেখার কারণে তাদের একজন তারিখ ইব্রাহিম। ওই নামে আমিই লিখতাম এরশাদের কোপানল থেকে রক্ষা পেতে। ক্ষমতা ছাড়ার পর দু-একবার দেখা হলে অবশ্য এরশাদও ‘দেশি’ হিসেবে আমাকে খাতির করেছেন।
আমি চাকরি করেছি দৈনিক সংবাদে, সাপ্তাহিক একতায়, দৈনিক রূপালীতে। নিজে সম্পাদনা করেছি সাপ্তাহিক ‘চলতিপত্র’। নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি ‘মৃদুভাষণ’ নামের সাপ্তাহিকে। ‘দৈনিক মাতৃভূমি’ নামের একটি দৈনিকের সম্পাদনার দায়িত্বও আমি পালন করেছি। দেশের প্রায় সবগুলো দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইনে আমার লেখা একসময় নিয়মিত ছাপা হতো। দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তখন প্রথম পৃষ্ঠায় আমার লেখা মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপা হতো।
অথচ এখন কোনো কোনো পত্রিকায় লেখা পাঠিয়ে ছাপার জন্য অনুরোধ করেও ফল পাই না। আমার লেখা নাকি পাঠক আর সেভাবে ‘খায়’ না।
এক সময় কত খ্যাতিমান লোকেরা আমার লেখা পড়ে ফোন করে তারিফ করেছেন। অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানের প্রশংসাও আমি পেয়েছি। রাজনীতিবিদ অলি আহাদ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, লেখক অধ্যাপক শওকত ওসমান, ড. রংগলাল সেন, অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের মতো কতজনের প্রশংসা পেয়েছি। বিএনপির এক সময়ের মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়াও আমাকে লেখার জন্য স্নেহ করতেন। ওহ হ্যাঁ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অন্তত দুবার নিজে আমাকে ফোন করে আমার লেখার কথা বলেছেন। এখন অবশ্য এত সাধারণ বিষয় তার মনে থাকার কথা নয়। আজ আমার লেখা নাকি পাঠক টানে না। হতেই পারে, বয়সের ভারে বুঝি লেখা হালকা হয়ে গেছে।
নামে-বেনামে হাজার হাজার লেখা লিখেছি। সম্মানী কিন্তু পেয়েছি খুবই কম। কোনো কোনো পত্রিকা তো কয়েক বছর লেখার পরও একটা টাকা দেওয়ার গরজ বোধ করেনি। সেদিক থেকে অনলাইনগুলো অনেক ভালো। একটি বড় অনলাইনের কাছেও আমার মোটা টাকা এখনো পাওনা আছে।
অথচ এখন আমার দৈনন্দিন জীবন শুরু হয় ওষুধ খেয়ে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিয়ে এবং ওষুধ কেনার টাকার চিন্তায়।
এর মধ্যে গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমের অবস্থা আরও কাহিল হয়েছে। মন খুলে সমালোচনা করার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। কিন্তু তার প্রেস বিভাগ তো মনখোলা নয়। মিডিয়ার যারা নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন তারা সবাই আতঙ্কে থাকেন সব সময়। কখন না কোন খবর বা লেখার জন্য ফোন আসে। তুলে নিতে হয় লেখা বা খবর! এর মধ্যে আমার একটি লেখার জন্য ‘আজকের পত্রিকা’র অনলাইন বিভাগকে লালচোখ দেখানো হয়েছে। মাজহারুল ইসলাম বাবলার একটি লেখার জন্যও চোটপাট করা হয়েছে। আপত্তিকর কি লিখেছেন বাবলা? লিখেছেন, সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে সামরিক হেলিকপ্টারে দিল্লি পাঠিয়েছে। আর শুধু পুলিশের গুলিতে নয়, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে জঙ্গিরাও মানুষ হত্যা করেছে। এখানে অসত্য তথ্য কোথায়? শেখ হাসিনা কি হেলিকপ্টার ভাড়া করে গোপনে পালিয়েছেন? হাসিনার পুলিশ না হয় ছাত্র জনতাকে হত্যা করলো কিন্তু পুলিশ হত্যা করলো কে বা কারা? এইটুকু লেখার জন্য পত্রিকার বিরুদ্ধে তোপ দাগা একেবারেই অনুচিত।
সব মিলিয়ে পত্রিকায় আমার অবস্থা তাই খুবই নাজুক। সজ্জন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চাপ সইতে না পেরে আমার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করেছেন।
আমি এখন কী করি? কোন পথে হাঁটি?
আমি লিখি, কারণ আমি জানতাম সাংবাদিকতা মানে সাহস। সত্য প্রকাশ মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়ার নাম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, সত্য লিখতে হলে কখনো কখনো ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য হারাতে হয়। আমি তেমন স্বাচ্ছন্দ্য চাইনি কখনো। তবে সারাজীবন হাত পেতে চলতে হবে এটাও চাইনি।
আমার সাংবাদিক বন্ধু মাহবুব কামাল মনে করেন, আমার কোনো বড় ধরনের সমস্যা আছে। না হলে তিনি এখন অনেকটা নিরাপদ জীবন কাটালেও আমার অনিশ্চয়তা কেন দূর হলো না? আসলে তাই তো? আমার অভাব কেন দূর হয় না? মাহবুব ভাই শেখ হাসিনার কাছ থেকে জমি পেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য দুই দফায় নগদ টাকাও পেয়েছেন। তারপর পৃথিবীজুড়ে তার অগণিত ভক্তকুল তাকে কত উপলক্ষেই না মুক্তহস্তে দান করেন। চিকিৎসার জন্য লাগবে লাখ কয়েক তিনি পেয়ে যান কোটি খানেক। আমার তো কপাল মন্দ। কোনো ভক্ত নেই। তবে আমিও একেবারে ঋণধার পাই না, সেটা বললে অসত্য বলা হবে। আমারও কিছু খুচরা দরদি আছে বলেই না এখনো বেঁচেবর্তে আছি।
আবার দেখুন, মাহবুব কামালের দুই পুত্র সন্তান। তারাও পিতার মতো সাফল্যের পরীক্ষায় পাস করে দেশে বিদেশে ভালো চাকরি করছে। আর আমার এক কন্যা ও এক পুত্র। ছাত্র হিসেবে মেধাবী কিন্তু…
এত এত মানুষ থাকতে মাহবুব কামালের কথাই কেন লিখছি? কারণ তার আজকের অবস্থানের পেছনে খুব সামান্য হলেও আমি ভূমিকা রেখেছিলাম! ‘যায়যায়দিনে’ কাজের জন্য পাটগ্রাম থেকে ঢাকা নিয়ে আসার জন্য শফিক রেহমানকে প্রভাবিত করেছিলাম। ‘যায়যায়দিনে’ লিখেই তো এখন বিশ্বসেরা সাংবাদিক।
আমি ক্ষুদ্র মানুষ। মনটাও সংকীর্ণ। সেজন্য আমার প্রতি সবাই বিদ্বেষ পোষণ করতেই পারে। আমি কিন্তু কারও প্রতি সামান্য বিদ্বিষ্ট নই। উপকার করার ক্ষমতা নেই বলে কারও অপকারের কথা স্বপ্নেও ভাবি না। নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। আমি যে খুব কম জানাবোঝা একজন মানুষ, সেটা আমি খুব ভালো জানি।
আমার সংসারে স্ত্রী ছাড়া দুই সন্তান। এক মেয়ে, এক ছেলে। ছেলেমেয়েরাও আমার মতো একটু বোকাসোকা। বর্তমান সময়ের সঙ্গে বেমানান। মেয়ে বড়। জীবনে কখনো কোনো পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেনি। ডাক্তার হয়েছে। বিসিএস পাস করে চাকরিও পেয়েছে। গ্যাসট্রোএনটোরোলোজিতে এমডি করতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে ধরা খেল। সরকার বদলের পর বিভাগীয় প্রধানের কোপানলে পড়ে আমার মেধাবী মেয়েটি থিসিস পরীক্ষায় অসফল হলো। অথচ ও কোনো রাজনীতির সাতে-পাঁচে নেই। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অবশ্য পাস করেছে, এখন থিসিসের জন্য আবার অপেক্ষা। এর মধ্যে আবার কোন নিভৃত অঞ্চলে পোস্টিং দিয়ে দেবে, কে জানে!
আমার ছেলেটি বুয়েট থেকে এমএমইতে পাস করেছে। আমেরিকায় একটি বৃত্তি পেয়েও শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে সময়মতো যেতে পারেনি। আমার ছেলেটি চার বছর বয়সে গুলেনবারি সিনডর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনমৃত্যুর সঙ্গে কয়েক মাস পাঞ্জা লড়ে তবে বেঁচেছে। ওর ব্যয়বহুল চিকিৎসার ধকল আমি সয়েছি। বুয়েট পাস হয়ে দেশে কত চাকরির পরীক্ষা দিয়ে পাস করেও এখন পর্যন্ত নিয়োগ নিশ্চিত হলো না। অপরাধ কি ওর নাম, নাকি বাবা হিসেবে আমি, বুঝতে পারছি না।
আমি কেন এই খোলা চিঠি লিখছি, সেটাও যে খুব ভালো বুঝতে পারছি তা নয়। তবে কয়দিন ধরে আমার কান কেন যেন কু ডাক শুনছে। মনটাও কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। মাহবুব কামাল কিছু অর্থ সাহায্য করতে চেয়েও আমার কোনো ব্যবহারে কুপিত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
শেষে ‘প্রথম আলো’ সম্পাদক মতিউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছি না। আমি একতায় মতি ভাইয়ের সহযোগী ছিলাম। তিনিই আমাকে শফিক রেহমানকে বলে ‘যায়যায়দিন’র সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে স্নেহ করতেন, বিশ্বাস করতেন। তার পত্রিকায় (তখন ভোরের কাগজ) আমাকে যোগ দিতে বলেছিলেন। আমার বাসায়ও এসেছিলেন। কিন্তু আমি তখন ‘যায়যায়দিন’ ছাড়তে চাইনি। জীবনে এর চেয়ে বড় ভুল আর আমার কোনোটা নয়। মতি ভাই, পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন।
আমার জীবনে কোনো সাফল্যের গল্প নেই। সাংবাদিক হিসেবেও এ-ডাল ও-ডাল করে কোনো শক্ত ডাল ধরতে পারিনি। আমার কোথাও না কোথাও বড় ঘাটতি আছে। এই ঘাটতি আর কাটিয়ে ওঠা হলো না।
দুঃখই হোক আমার জীবনের শেষ সঙ্গী। আর পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক।
২১ অগাস্ট, ভোর ৫টা। সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা।
[জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।]
জীবনের শেষ লেখাটি বিশ্লেষণে সুস্পষ্ট-
যে কারনে বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকারের মৃতদেহ পাওয়া গেলো মেঘনা নদীতে! খুন হওয়ার পুর্বেই তার লেখায় উঠে এসেছে-
“এর মধ্যে গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমের অবস্থা আরও কাহিল হয়েছে। মন খুলে সমালোচনা করার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। কিন্তু তার প্রেসবিভাগ তো মনখোলা নয়। মিডিয়ার যারা নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন তারা সবাই আতঙ্কে থাকেন সব সময়। কখন না কোন খবর বা লেখার জন্য ফোন আসে। তুলে নিতে হয় লেখা বা খবর!
এর মধ্যে আমার একটি লেখার জন্য ‘আজকের পত্রিকা’র অনলাইন বিভাগকে লালচোখ দেখানো হয়েছে। মাজহারুল ইসলাম বাবলার একটি লেখার জন্যও চোটপাট করা হয়েছে। আপত্তিকর কি লিখেছেন বাবলা? লিখেছেন, সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে সামরিক হেলিকপ্টারে দিল্লি পাঠিয়েছে। আর শুধু পুলিশের গুলিতে নয়, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে জঙ্গিরাও মানুষ হত্যা করেছে। এখানে অসত্য তথ্য কোথায়? শেখ হাসিনা কি হেলিকপ্টার ভাড়া করে গোপনে পালিয়েছেন? হাসিনার পুলিশ না হয় ছাত্র জনতাকে হত্যা করলো কিন্তু পুলিশ হত্যা করলো কে বা কারা? এইটুকু লেখার জন্য পত্রিকার বিরুদ্ধে তোপ দাগা একেবারেই অনুচিত।
সব মিলিয়ে পত্রিকায় আমার অবস্থা তাই খুবই নাজুক। সজ্জন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চাপ সইতে না পেরে আমার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করেছেন।
আমি এখন কি করি? কোন পথে হাঁটি?”
#Bangladesh #UNHRC #HumanRightsViolations #FreeJournalism #journalism #UNHRC_TakeAction
[সূত্র: কার্তিক দাস, একুশে টিভি)

আত্মভোলা সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার : খোলা চিঠিতে প্রমান করে গেলেন তিনি অনন্য

নির্বাহী সম্পাদক ::

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেনাবাহিনীর ভূমিকা সবসময়ই নির্ণায়ক। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে দমননীতি চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্ম দেয়। স্বাধীনতার পরও সেনাপ্রধানদের ভূমিকা সরাসরি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করেছে। জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধানের পদ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, এরশাদও একইভাবে সামরিক শাসন কায়েম করেন। আবার নব্বইয়ের গণআন্দোলনে সেনাপ্রধানের নিরপেক্ষ অবস্থান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়।
অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলছে—বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলে সেনাপ্রধানরা শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন।

শেখ হাসিনার শাসন ও সেনাপ্রধান নিয়োগ:
শেখ হাসিনা দুই দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে দেশকে বিশাল উন্নয়নের পথে নিয়ে যান। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ খাতে অগ্রগতি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ—এসব তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তবে একইসঙ্গে তিনি সবসময় সমালোচিত হয়েছেন স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ ও দলীয় লোক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগ করে দেওয়ার জন্য।
দলীয় মনোনয়ন বণ্টনে যেখানে যোগ্য ও জনবান্ধব নেতাদের বাদ দিয়ে দুর্বল, লোভী কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়েছেন—তা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের পতনের পথ তৈরি করে। সেনাপ্রধান নিয়োগেও সেই একই ধারা স্পষ্ট ছিল।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২৩ জুন ২০২৪ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেন, যদিও নিয়োগের আগে গোয়েন্দা সংস্থার কিছু আপত্তি ছিল (The Daily Star, 23 June 2024)।

আন্দোলনের সময় সেনাপ্রধানের অবস্থান:
আগস্ট ২০২৪ সালে চলমান আন্দোলনের সময় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান হঠাৎই ভিন্ন অবস্থান নেন। যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তিনি উত্তরার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন (Reuters, 7 August 2024)। ফলে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

এখানেই প্রশ্ন উঠে—তিনি কি সত্যিই পেশাদারিত্বের কারণে জনগণের পাশে দাঁড়ালেন, নাকি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ করে সরকারকে দুর্বল করে দিলেন? অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, তাঁর অবস্থানে কোন এক সংঘটনের প্রতি তার ছায়া দেখা যায়, কারণ আন্দোলনে ঐ সংগঠন মাষ্টার মাইন্ড হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে ওঠে।

শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় এসএসএফ ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট:
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যদি শেষ মুহূর্তে এসএসএফ সিকিউরিটি ফোর্স) ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট দায়িত্ব না নিতো, তবে শেখ হাসিনার পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারতো। আন্দোলনকারীরা সেদিন গণভবনে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে ছিল। সেনাপ্রধান নিজে জনগণের সঙ্গে সংঘর্ষে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপেই শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনাই তাঁর পতনকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত করে, নইলে তা হতো একদম বিশৃঙ্খল ও সহিংস।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন:
শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন সেনাপ্রধান। তিনি ঘোষণা দেন, “যা-ই হোক না কেন, সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে থাকবে।” (Reuters, 24 September 2024)।

অর্থাৎ, যাঁর প্রতি আস্থা রেখে শেখ হাসিনা তাঁকে সেনাপ্রধান করেছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত তাঁর পতনের পথ সুগম করেন। তবে এখানে সেনা প্রধানকে ধন্যবাদ দিতে হয়।কারণ তিনি আর কোন রক্তপাত চাননি।এটাও তার দূরদর্শিতার ফসল। কিন্তুু পরবর্তী পরিস্হিতি সামাল দিতে তিনি এতো ডিপ্লোমেটিক ছিলেন,যা তার দূরদর্শিতা কে সফল হতে দেয়নি। একজন সেনা বাহিনী কখনোই দেশের ভাবমূর্তি কে ভুলন্ঠিত করেন না।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সেনাপ্রধানের অবস্থান:

মার্চ ২০২৫-এ তিনি বলেন, ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে, নইলে সংকট গভীর হবে (The Daily Asian Age, 22 May 2025)। আগস্ট ২০২৫-এ তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগিতা করবে (Dhaka Tribune, 10 August 2025)।

সেনাপ্রধানের কিছু দুর্বলতা:
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে যতই পেশাদারিত্বের কথা বলা হোক, বাস্তবে তাঁর কিছু স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে—

দ্বিধাগ্রস্ত নেতৃত্ব: সংকটময় মুহূর্তে তিনি একদিকে সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখান, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আপস করেন। এতে সেনাবাহিনীর অবস্থান অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

জামাতপ্রীতির অভিযোগ: আন্দোলন এবং পরবর্তী সময় জামাত-শিবিরকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

কৌশলগত অস্পষ্টতা: জনগণের ওপর সেনা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হলেও, তা সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করে; অনেকেই এটাকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলে মনে করেন।

নেতৃত্বের অভাব: তিনি স্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক রোডম্যাপ দিতে পারেননি; ফলে দেশের সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক অস্বচ্ছই থেকে গেছে।
দ্বিমুখী নীতি ও প্রশ্নবিদ্ধতা

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের চরিত্রে দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট। একদিকে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়ে সেনাপ্রধানের পদে বসা, অন্যদিকে আন্দোলনের মুখে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত তাঁর পতন নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাঁকে “conservative but professional soldier” আখ্যা দিয়েছে—যিনি সামরিক শাসনের পক্ষে নন, তবে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য মাঝে মাঝে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন (India Today, 27 March 2025)।

উপসংহার:
বাংলাদেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একদিকে পেশাদার কর্মকর্তা, অন্যদিকে দ্বিমুখী নীতির প্রতীক। শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও দীর্ঘ শাসনকাল সত্ত্বেও তাঁর স্বজনপ্রীতি ও দুর্বল মনোনয়ন রাজনীতির পতন ডেকে আনে। ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা সেই পতনকে ত্বরান্বিত করে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো—যদি এসএসএফ ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট শেষ মুহূর্তে দায়িত্ব না নিতো, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সমাপ্তি হতো আরও ভয়াবহ রূপে। সব মিলিয়ে সেনাপ্রধানের ভূমিকা দেশকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড় করালেও তাঁর দুর্বলতা ও দ্বিমুখী নীতি আজও প্রশ্নবিদ্ধ—এটি কি সত্যিই পেশাদারিত্ব, নাকি জামাতপ্রীতি-প্রভাবিত দুর্বল নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ?
মোদ্দা কথা,,এই সংকটময় সময়ে।একমাত্র তিনিই দেশটাকে আরো সুন্দরময় গতীময় সাম্প্রদায়িক হানাহানি থেকে মুক্ত করতে পারেন।তাতে লাভ দুটো।এক, তিনি জাতির কাছে এক স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবেন।
দুই, জাতি হিসাবে আমরা সংঘাতময় পরিবেশ থেকে মুক্ত থাকবো।

বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান : পেশাদারিত্ব নাকি দ্বিমুখী নীতি?